হকিংয়ের মৃত্যুতে এক অকৃত্রিম বন্ধুকে হারালেন ফিলিস্তিনিরা

  যুগান্তর ডেস্ক ১৫ মার্চ ২০১৮, ১২:০২ | অনলাইন সংস্করণ

স্টিফেন হকিং

ব্রিটিশ পদার্থবিদ স্টিফেন উইলিয়াম হকিং কেবল তার যুগান্তকারী তত্ত্বের জন্যই বিখ্যাত ছিলেন না, তিনি ছিলেন ফিলিস্তিনের অকৃত্রিম বন্ধু।

তিনি সবসময় ফিলিস্তিনিদের অধিকার আন্দোলনে সমর্থন দিয়ে গেছেন।

বিরল মোটর নিউরন রোগে আক্রান্ত হকিং ফিলিস্তিনিদের পক্ষে কথা বলে প্রথম শিরোনামে আসেন ২০১৩ সালে। সে বছর তিনি ইসরাইলের নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে দেশটির একটি উচ্চপর্যায়ের সম্মেলন বর্জন ঘোষণা করেন। ওই সম্মেলনে তার বক্তৃতা দেয়ার কথা ছিল।

তখন তিনি যুক্তরাজ্যের ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ করতেন।

ইসরাইলের সাবেক প্রেসিডেন্ট সিমোন পেরেস জেরুজালেমে সম্মেলনটির আয়োজন করেছিলেন।

৩ মে আয়োজকদের চিঠি দিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান ইসরাইল সরকারের নীতি সম্ভাব্য বিপর্যয় নিয়ে আসতে পারে। আমি আয়োজকদের আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছি। আমার উদ্দেশ্য ছিল- এতে শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা নিয়ে আমি কেবল জেরুজালেমেই নিজের মত প্রকাশ করব না। আমাকে অধিকৃত পশ্চিমতীরেও বক্তৃতা দেয়ার সুযোগ দেবে।

কিন্তু ফিলিস্তিনি শিক্ষাবিদদের কাছ থেকে আমি বেশ কিছু ইমেইল পেয়েছি। তাদের সবাই একমত যে আমি এ সম্মেলন বর্জন করব। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে সম্মেলন থেকে আমি নিজের নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছি।

চিঠিতে তিনি বলেন, যদি আমি সেখানে যোগ দিতাম, তবে আমি যে কথাগুলো বলতাম, তা হচ্ছে- ইসরাইল সরকারের বর্তমান নীতি বিপর্যয় নিয়ে আসতে যাচ্ছে।

ইসরাইলকে অ্যাকাডেমিকভাবে বর্জনে হকিংয়ের সিদ্ধান্তের সমর্থনে যুক্তরাজ্যভিত্তিক শিক্ষাবিদদের সংগঠন ব্রিটিশ কমিটি ফর ইউনিভার্সিটিজ অফ প্যালেস্টাইন এক বিবৃতিতে বলেছে, জেরুজালেমের সম্মেলন বর্জন একান্তই তার নিজস্ব স্বাধীন সিদ্ধান্ত। ফিলিস্তিনের ওপর নিজের জানাশোনার ওপর ভর করেই তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

ফিলিস্তিনি শিক্ষাবিদ ও অ্যাক্টিভিস্টরা হকিংয়ের এ সিদ্ধান্তকে ব্যাপকভাবে উদযাপন করেছিলেন।

তবে কেবল ইসরাইলের সম্মেলন বর্জনেই তার তৎপরতা সীমাবদ্ধ ছিল না। গত বছর তিনি তার লাখ লাখ ফেসবুক ফলোয়ারের কাছে প্যালিস্টিনিয়ান অ্যাডভান্সড ফিজিক্স স্কুলের জন্য আর্থিক সহায়তা চেয়েছেন।

তিনি বলেন, আমি সর্বত্র বিজ্ঞানীদের স্বাধীনভাবে চলাচল, প্রকাশনা ও সহযোগিতার অধিকার সমর্থন করি।

২০১৬ সালে হানান আল হারুব নামে এক ফিলিস্তিনি নারী বিশ্ব শিক্ষক পুরস্কার পেলে তাকে শুভেচ্ছা জানিয়ে হকিং নিজের ফেসবুক পেজে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন।

হকিং বলেন, আপনি সব মানুষের জন্য অনুপ্রেরণা। সংঘাতে ছিন্নভিন্ন হয়ে যাওয়া একটি সমাজ, যেখানে শিশুদের নিয়মিত সহিংসতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে, সেখানে আপনি শিশুদের মধ্যে আস্থা প্রতিষ্ঠা ও মানসিক বৈকল্যে ভোগা শিশুদের সহায়তা করে যাচ্ছেন। নিজের হৃদয় থেকে শ্রেণিকক্ষে তিনি শিক্ষার্থীদের সহায়তা করেন।

ঘটনাপ্রবাহ : স্টিফেন হকিং আর নেই

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×