নেপালে বিমান বিধ্বস্তের আগ মুহূর্তের ভিডিও প্রকাশ

  যুগান্তর ডেস্ক ১৫ মার্চ ২০১৮, ১৯:২৭ | অনলাইন সংস্করণ

ইউএস-বাংলা

নেপালের ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাংলাদেশের বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউএস-বাংলার উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হওয়ার আগ মুহূর্তের একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার নেপালের একটি স্থানীয় নিউজ পোর্টাল শেখরনিউজ ডটকমে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, একটি উড়োজাহাজকে মাটি থেকে প্রায় ২০০ ফুট ওপর দিয়ে দিয়ে উড়ে যাচ্ছে। এটি মাটি থেকে খুব কাছ দিয়ে বাঁক খেয়ে খেয়ে উপরে ওঠছে ও নামছে। এ সময় বিমানটির ল্যান্ডিং গিয়ারও ডাউন করাছিল, যেটি অবতরণ করার ইঙ্গিত।

ভিডিওটির ব্যাপারে কাঠমান্ডু পোস্টের ভাষ্য, ভিডিওতে দেখা যাওয়া বিমানটি ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বিএস ২১১। বিমানটি বিধ্বস্তের আগ মুহূর্তের দৃশ্য এটি। তবে ভিডিওটির সত্যতার বিষয়ে অন্য কোনো মাধ্যম থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর বেঁচে যাওয়া যাত্রীদের মধ্যে অনেকেই বলেছেন, বিধ্বস্তের আগে তারা জানালা থেকে গাছ ও ঝোপ দেখেছেন।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে নেপালের সংবাদমাধ্যম বলছে, ভিডিওতে দেখা বিমানটি যখন বিমানবন্দরের কাছে উড়ছিল তখন স্থানীয়রা বলছিল- বিমানটি মনে হয় তার পথ হারিয়ে ফেলেছে, এটি উড়ছে, আর উড়ছে।

এদিকে ওই দুর্ঘটনায় প্রাণে বেঁচে যাওয়া বাংলাদেশে আসা নেপালের একটি ট্রাভেল এজেন্সির অপারেটর কেশব পান্ডে বলেন, যখন বিমানটি কাঠমান্ডু ভ্যালিতে প্রবেশ করল তখন এটি অবতরণের জন্য কোটেশ্বরের দিকের রুটটি ব্যবহারের কথা ছিল। কিন্তু এটি অন্য আরেকটি রুটে গেল এবং বিমানবন্দর খুঁজে পাচ্ছিলেন না। আমরা ভাবলাম, পাইলট এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল টাওয়ারের নির্দেশনাই অনুসরণ করছে।

কেশব জানান, বুধানিলকণ্ঠ এবং বৌদ্ধ এলাকাগুলোতে অবস্থিত পাহাড়ের ওপর দিয়ে চালিয়ে নিয়ে এরপর বিমানটিকে বিমানবন্দরের দিকে ঘোরান পাইলট। বিমানটি ঘরবাড়ি এবং গাছের খুব কাছ দিয়ে উড়ছিল। এতে যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিল। আমরা তখনই অনুভব করলাম আমাদের জীবন ঝুঁকিতে আছে। তবে পাইলট যখন বিমানটিকে দিশাহীন পথ থেকে বের করে বিমানবন্দরের দিকে ঘোরালো তখন আমরা ভাবলাম প্রাণে বেঁচে যাব।

কেশব বলেন, সে আশা মুহূর্তের মধ্যে নিভে গেল। অবতরণের দুই মিনিট আগে আমরা আশাবাদী হয়ে উঠলাম। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যেই বিমানটি ঝাঁকুনি খেল এবং বিকট এক শব্দ হলো।

উল্লেখ্য, নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলার বিমানটি সোমবার স্থানীয় সময় বেলা ২টা ২০ মিনিটে অবতরণের কথা ছিল। নামার আগেই এটি বিধ্বস্ত হয়ে বিমানবন্দরের পাশের একটি খেলার মাঠে পড়ে যায়। বিমানটিতে চারজন ক্রু ও ৬৭ যাত্রী ছিল। উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় ২৬ বাংলাদেশিসহ ৫১ জন নিহত হন। আহত হয়ে হাসপাতালে রয়েছেন ১০ বাংলাদেশিসহ ২১ জন।

এর মধ্যে কাঠমান্ডু মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-কেএমসিতে চিকিৎসাধীন শাহরিন আহমেদ, আলমুন নাহার অ্যানি, কামরুন্নেসা স্বর্ণা ও মেহেদী হাসানকে বাংলাদেশে আনার ব্যাপারে অনাপত্তি দেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই শেহরিন আহমেদকে বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টা ৪৮ মিনিটে বাংলাদেশ বিমানের বিজি০০৭২ ফ্লাইটে ঢাকায় আনা হয়েছে। তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে।

ঘটনাপ্রবাহ : নেপালে ইউএস বাংলা বিধ্বস্ত

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter