বাংলা গানে ও উর্দু কবিতায় দিল্লির সেই বিচারপতিকে বিদায়
jugantor
বাংলা গানে ও উর্দু কবিতায় দিল্লির সেই বিচারপতিকে বিদায়

  অনলাইন ডেস্ক  

০৬ মার্চ ২০২০, ১১:১৩:২৬  |  অনলাইন সংস্করণ

বাংলা গানে ও উর্দু কবিতায় দিল্লির সেই বিচারপতিকে বিদায়
বিচারপতি মুরলিধরকে বিদায় জানাতে দিল্লি হাইকোর্টে আইনজীবীদের ভিড়। ছবি: সংগৃহীত

আপ্লুত হয়ে সব প্রথা ভেঙে বাংলা গান গেয়ে ও উর্দু কবিতা  আওড়িয়ে দিল্লির সেই আলোচিত বিচারপতিকে বিদায় জানালেন দিল্লি হাইকোর্টের সহকর্মীরা।

বৃহস্পতিবার এমন এক বিরল ঘটনার সাক্ষী হয়ে গেল দিল্লি হাইকোর্ট।

এদিন সরকারের আইনজীবী রাহুল মেহরা হাইকোর্টের ভেতরই উর্দু কবিতা শোনান, ‘ম্যায় আকেলা হি চলা থা জানিব-এ-মঞ্জিল মাগর লোগ সাথ আতে গয়ে অউর কারবাঁ বনতা গয়া’।

এ ছাড়া প্রিয় বিচারপতির হঠাৎ বদলিতে তিনি বাংলায় গাইলেন  ‘একলা চলো রে’।

এ সময় কানায় কানায় পূর্ণ ছিল হাইকোর্টের বিরাট হলঘর। তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। সিঁড়ি ও ব্যালকনিজুড়ে শুধুই কালো ব্লেজার পরিহিত আইনজীবীতে ঠাসাঠাসি।

কোনো বিচারপতির বিদায় সংবর্ধনায় এত লোকের সমাগম ও বাংলায় গান আর উর্দুতে কবিতা পাঠ করা হয়নি।

বিদায় সংবর্ধনার আগে প্রধান বিচারপতির এজলাসে সব বিচারপতি একত্র হয়ে মুরলিধরকে সম্মান জানাতে জানাতে বলতে থাকেন– দিল্লি হাইকোর্টের ‘কোহিনুর’-ই চলে যাচ্ছেন।

প্রসঙ্গত দিল্লিতে হিন্দুত্ববাদী তাণ্ডব বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকার ও দিল্লি পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে কড়া ভাষায় তিরস্কার করেছিলেন বিচারপতি এস মুরালিধর ।

দিল্লি সহিংসতা নিয়ে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি মুরলিধর বলেছিলেন– ‘আমরা আরেকটা ১৯৮৪-র মতো ঘটনা হতে দিতে পারি না দেশে।’

এ সহিংসতা নিরসনে কেন্দ্রীয় সরকার ও দিল্লি সরকার উভয়কেই একসঙ্গে কাজ করতে নির্দেশ দেন তিনি।

চার বিজেপি নেতা কপিল মিশ্র, অনুরাগ ঠাকুর, অভয় ভার্মা ও পরবেশ ভার্মার উসকানিমূলক ভাষণের ভিডিও কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া পিটিশনের শুনানিতে বিচারপতি মুরলিধর এ নির্দেশ দিয়েছিলেন।

কেন ওই চার বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়নি জানতে চেয়ে দিল্লির পুলিশপ্রধানকে প্রশ্ন করেছিলেন বিচারপতি মুরলিধর।

জবাবে কেন্দ্রের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা সঠিক সময়েই এফআইআর দায়ের হবে জানালে বিচারপতি পাল্টা প্রশ্ন করেছিলেন– ‘কোনটা সঠিক সময়, মিস্টার মেহতা? দিল্লি তো জ্বলছে।’

এর পর এফআইআর না করার পরিণতি কঠোর হতে পারে বলেও সতর্কবার্তা দেন মুরলিধর।

আর এমন বিচারকার্য চলাকালীন সে রাতেই কেন্দ্রীয় সরকার বিচারপতি মুরলিধরকে পাঞ্জাব-হরিয়ানা হাইকোর্টে বদলির নির্দেশ দেয়।

এ নির্দেশের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় ভারত সরকার ও দেশটির বিচারব্যবস্থা তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে।

এবার সেই মুরলিধরকে অভূতপূর্ব বিদায় সংবর্ধনা দিলেন দিল্লি হাইকোর্টে তার সহকর্মীরা।

সূত্র: আনন্দবাজার

 

 

 

বাংলা গানে ও উর্দু কবিতায় দিল্লির সেই বিচারপতিকে বিদায়

 অনলাইন ডেস্ক 
০৬ মার্চ ২০২০, ১১:১৩ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ
বাংলা গানে ও উর্দু কবিতায় দিল্লির সেই বিচারপতিকে বিদায়
বিচারপতি মুরলিধরকে বিদায় জানাতে দিল্লি হাইকোর্টে আইনজীবীদের ভিড়। ছবি: সংগৃহীত

আপ্লুত হয়ে সব প্রথা ভেঙে বাংলা গান গেয়ে ও উর্দু কবিতা আওড়িয়ে দিল্লির সেই আলোচিত বিচারপতিকে বিদায় জানালেন দিল্লি হাইকোর্টের সহকর্মীরা।

বৃহস্পতিবার এমন এক বিরল ঘটনার সাক্ষী হয়ে গেল দিল্লি হাইকোর্ট।

এদিন সরকারের আইনজীবী রাহুল মেহরা হাইকোর্টের ভেতরই উর্দু কবিতা শোনান, ‘ম্যায় আকেলা হি চলা থা জানিব-এ-মঞ্জিল মাগর লোগ সাথ আতে গয়ে অউর কারবাঁ বনতা গয়া’।

এ ছাড়া প্রিয় বিচারপতির হঠাৎ বদলিতে তিনি বাংলায় গাইলেন ‘একলা চলো রে’।

এ সময় কানায় কানায় পূর্ণ ছিল হাইকোর্টের বিরাট হলঘর। তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। সিঁড়ি ও ব্যালকনিজুড়ে শুধুই কালো ব্লেজার পরিহিত আইনজীবীতে ঠাসাঠাসি।

কোনো বিচারপতির বিদায় সংবর্ধনায় এত লোকের সমাগম ও বাংলায় গান আর উর্দুতে কবিতা পাঠ করা হয়নি।

বিদায় সংবর্ধনার আগে প্রধান বিচারপতির এজলাসে সব বিচারপতি একত্র হয়ে মুরলিধরকে সম্মান জানাতে জানাতে বলতে থাকেন– দিল্লি হাইকোর্টের ‘কোহিনুর’-ই চলে যাচ্ছেন।

প্রসঙ্গত দিল্লিতে হিন্দুত্ববাদী তাণ্ডব বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকার ও দিল্লি পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে কড়া ভাষায় তিরস্কার করেছিলেন বিচারপতি এস মুরালিধর ।

দিল্লি সহিংসতা নিয়ে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি মুরলিধর বলেছিলেন– ‘আমরা আরেকটা ১৯৮৪-র মতো ঘটনা হতে দিতে পারি না দেশে।’

এ সহিংসতা নিরসনে কেন্দ্রীয় সরকার ও দিল্লি সরকার উভয়কেই একসঙ্গে কাজ করতে নির্দেশ দেন তিনি।

চার বিজেপি নেতা কপিল মিশ্র, অনুরাগ ঠাকুর, অভয় ভার্মা ও পরবেশ ভার্মার উসকানিমূলক ভাষণের ভিডিও কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া পিটিশনের শুনানিতে বিচারপতি মুরলিধর এ নির্দেশ দিয়েছিলেন।

কেন ওই চার বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়নি জানতে চেয়ে দিল্লির পুলিশপ্রধানকে প্রশ্ন করেছিলেন বিচারপতি মুরলিধর।

জবাবে কেন্দ্রের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা সঠিক সময়েই এফআইআর দায়ের হবে জানালে বিচারপতি পাল্টা প্রশ্ন করেছিলেন– ‘কোনটা সঠিক সময়, মিস্টার মেহতা? দিল্লি তো জ্বলছে।’

এর পর এফআইআর না করার পরিণতি কঠোর হতে পারে বলেও সতর্কবার্তা দেন মুরলিধর।

আর এমন বিচারকার্য চলাকালীন সে রাতেই কেন্দ্রীয় সরকার বিচারপতি মুরলিধরকে পাঞ্জাব-হরিয়ানা হাইকোর্টে বদলির নির্দেশ দেয়।

এ নির্দেশের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় ভারত সরকার ও দেশটির বিচারব্যবস্থা তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে।

এবার সেই মুরলিধরকে অভূতপূর্ব বিদায় সংবর্ধনা দিলেন দিল্লি হাইকোর্টে তার সহকর্মীরা।

সূত্র: আনন্দবাজার

 

ঘটনাপ্রবাহ : ভারতে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল বিতর্ক