যেভাবে প্রাসাদ ষড়যন্ত্রে সিংহাসনের উত্তরসূরি হলেন যুবরাজ
jugantor
যেভাবে প্রাসাদ ষড়যন্ত্রে সিংহাসনের উত্তরসূরি হলেন যুবরাজ

  যুগান্তর ডেস্ক  

০৭ মার্চ ২০২০, ১০:৫২:২০  |  অনলাইন সংস্করণ

যেভাবে প্রাসাদ ষড়যন্ত্রে সিংহাসনের উত্তরসূরি হলেন যুবরাজ

২০১৭ সালের প্রাসাদ ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে নায়েফকে সরিয়ে সিংহাসনের উত্তরসূরি হন সৌদি আরবের মোহাম্মদ বিন সালমান। তখন ক্ষমতা হস্তান্তর না করা পর্যন্ত চাচাতো ভাইকে মক্কায় রাজকীয় প্রসাদের ভেতরে আটকে রেখেছিলেন তিনি।

নিউইয়র্কের টাইমসের খবরে বলা হয়েছে, সৌদি জ্যেষ্ঠ যুবরাজরা গোপন ব্রিফিংয়ে বলেন– নায়েফকে বাদশাহ হওয়ার ক্ষেত্রে অযোগ্য ঘোষণা করতে তাকে ব্যথানাশক আসক্ত বলে আখ্যায়িত করা হয়েছিল।- খবর টেলিগ্রাফের

সৌদি সরকার তখন দেখাতে চেয়েছে, এই চাচাতো ভাইদের মধ্যে ক্ষমতা হস্তান্তর নিয়ে কোনো ধরনের ক্ষোভ নেই। পথের কাঁটা নায়েফকে সরিয়ে দেয়ার পর থেকেই দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের নামে বেশ কয়েকজন রাজপুত্রকে গ্রেফতার করেন পাশ্চাত্যে এমবিএস নামে পরিচিত মোহাম্মদ বিন সালমান।

ক্ষমতা হস্তান্তরের সময় এমনভাবে সবকিছু উপস্থাপন করা হয়েছিল যে সেখানে অপ্রীতিকর কিছুই ঘটেনি।

বিন নায়েফ এমবিএন নামেই পরিচিত ছিলেন। ২০১৭ সালের ২০ জুন সন্ধ্যায় তাকে সাফা প্রাসাদে ডেকে নেয়া হয়। বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠকের অংশ হিসেবেই এই ডাক বলে তিনি ধরে নিয়েছিলেন।

কিন্তু তাকে পাশের একটি কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তার মোবাইল ফোন কেড়ে নেন রাজকীয় কর্মকর্তারা। তাকে সিংহাসনের উত্তরসূরি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ ছাড়তে বলা হয়েছে।

কিন্তু নায়েফ প্রথমে ক্ষমতা ছাড়তে অস্বীকৃতি জানান। কিন্তু রাত পার হয়ে ভোরের সূর্য ওঠার সময় তিনি আত্মসমর্পণ করেন।

২০০৯ সালে আল-কায়েদার আত্মঘাতী হামলা থেকে অল্পের জন্য বেঁচে যান বিন নায়েফ। হামলার পর গুজব ছড়ানো হয় যে তিনি ব্যথানাশক গ্রহণ শুরু করেছেন, এরপর তাতে আসক্ত হয়ে পড়েছেন। কিন্তু এই অভিযোগ নিয়ে তিনি প্রকাশ্যে কখনো কথা বলেননি।

প্রতিবেশী কাতারের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক অবরোধেরও বিরোধিতা করেন বিন নায়েফ। এতে তার এই পদাবনতি সহজ করে দিয়েছে।

২০১৫ সালে বাদশাহ আবদুল্লাহ মারা যান। তখন তার সৎ ভাই সালমান বিন আবদুল আজিজ বাদশাহ হিসেবে অভিষিক্ত হন। এরপর প্রথমবারের মতো পরবর্তী প্রজন্ম থেকে মোহাম্মদ বিন নায়েফকে সিংহাসনের উত্তরসূরি নিয়োগ দেন তিনি।

আর ডেপুটি ক্রাউন প্রিন্স হিসেবে ঘোষণা করেন নিজের ছেলে মোহাম্মদ বিন সালমানের নাম। কর্মকর্তারা বলেন, জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় রেখেই বিন নায়েফকে ক্ষমতা থেকে সরানো হয়েছে। এখানে কোনো খারাপ অভিজ্ঞতার বিষয় নেই।

রয়টার্সকে এক সৌদি কর্মকর্তা বলেন, এখানে যেসব গল্প সাজানো হয়েছে, তা কল্পনাবিলাস। হলিউডের চলচ্চিত্রের মতোই।

তবে সূত্র জানায়, আকস্মিকভাবে পদ থেকে সরে দাঁড়াতে বলায় বিন নায়েফ প্রথমে অবাক হয়ে যান। এটা ছিল তার জন্য খুবই বেদনাদায়ক। এটা ছিল তার বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান, যার জন্য তিনি মোটেও প্রস্তুত ছিলেন না।

নায়েফের সঙ্গে মার্কিন গোয়েন্দা বাহিনীগুলোর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের সময়েই তিনি এই সম্পর্ক গড়ে তোলেন। বলা হচ্ছে, ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকেই সাবেক এই ক্রাউন প্রিন্স গৃহবন্দি রয়েছেন। তার ছোট ভাই প্রিন্স নওয়াফ বিন নায়েফকেও আটক রাখা হয়েছে।

যেভাবে প্রাসাদ ষড়যন্ত্রে সিংহাসনের উত্তরসূরি হলেন যুবরাজ

 যুগান্তর ডেস্ক 
০৭ মার্চ ২০২০, ১০:৫২ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ
যেভাবে প্রাসাদ ষড়যন্ত্রে সিংহাসনের উত্তরসূরি হলেন যুবরাজ
ছবি: টেলিগ্রাফ

২০১৭ সালের প্রাসাদ ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে নায়েফকে সরিয়ে সিংহাসনের উত্তরসূরি হন সৌদি আরবের মোহাম্মদ বিন সালমান। তখন ক্ষমতা হস্তান্তর না করা পর্যন্ত চাচাতো ভাইকে মক্কায় রাজকীয় প্রসাদের ভেতরে আটকে রেখেছিলেন তিনি।

নিউইয়র্কের টাইমসের খবরে বলা হয়েছে, সৌদি জ্যেষ্ঠ যুবরাজরা গোপন ব্রিফিংয়ে বলেন– নায়েফকে বাদশাহ হওয়ার ক্ষেত্রে অযোগ্য ঘোষণা করতে তাকে ব্যথানাশক আসক্ত বলে আখ্যায়িত করা হয়েছিল।- খবর টেলিগ্রাফের

সৌদি সরকার তখন দেখাতে চেয়েছে, এই চাচাতো ভাইদের মধ্যে ক্ষমতা হস্তান্তর নিয়ে কোনো ধরনের ক্ষোভ নেই। পথের কাঁটা নায়েফকে সরিয়ে দেয়ার পর থেকেই দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের নামে বেশ কয়েকজন রাজপুত্রকে গ্রেফতার করেন পাশ্চাত্যে এমবিএস নামে পরিচিত মোহাম্মদ বিন সালমান।

ক্ষমতা হস্তান্তরের সময় এমনভাবে সবকিছু উপস্থাপন করা হয়েছিল যে সেখানে অপ্রীতিকর কিছুই ঘটেনি।

বিন নায়েফ এমবিএন নামেই পরিচিত ছিলেন। ২০১৭ সালের ২০ জুন সন্ধ্যায় তাকে সাফা প্রাসাদে ডেকে নেয়া হয়। বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠকের অংশ হিসেবেই এই ডাক বলে তিনি ধরে নিয়েছিলেন।

কিন্তু তাকে পাশের একটি কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তার মোবাইল ফোন কেড়ে নেন রাজকীয় কর্মকর্তারা। তাকে সিংহাসনের উত্তরসূরি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ ছাড়তে বলা হয়েছে।

কিন্তু নায়েফ প্রথমে ক্ষমতা ছাড়তে অস্বীকৃতি জানান। কিন্তু রাত পার হয়ে ভোরের সূর্য ওঠার সময় তিনি আত্মসমর্পণ করেন।

২০০৯ সালে আল-কায়েদার আত্মঘাতী হামলা থেকে অল্পের জন্য বেঁচে যান বিন নায়েফ। হামলার পর গুজব ছড়ানো হয় যে তিনি ব্যথানাশক গ্রহণ শুরু করেছেন, এরপর তাতে আসক্ত হয়ে পড়েছেন। কিন্তু এই অভিযোগ নিয়ে তিনি প্রকাশ্যে কখনো কথা বলেননি।

প্রতিবেশী কাতারের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক অবরোধেরও বিরোধিতা করেন বিন নায়েফ। এতে তার এই পদাবনতি সহজ করে দিয়েছে।

২০১৫ সালে বাদশাহ আবদুল্লাহ মারা যান। তখন তার সৎ ভাই সালমান বিন আবদুল আজিজ বাদশাহ হিসেবে অভিষিক্ত হন। এরপর প্রথমবারের মতো পরবর্তী প্রজন্ম থেকে মোহাম্মদ বিন নায়েফকে সিংহাসনের উত্তরসূরি নিয়োগ দেন তিনি।

আর ডেপুটি ক্রাউন প্রিন্স হিসেবে ঘোষণা করেন নিজের ছেলে মোহাম্মদ বিন সালমানের নাম। কর্মকর্তারা বলেন, জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় রেখেই বিন নায়েফকে ক্ষমতা থেকে সরানো হয়েছে। এখানে কোনো খারাপ অভিজ্ঞতার বিষয় নেই।

রয়টার্সকে এক সৌদি কর্মকর্তা বলেন, এখানে যেসব গল্প সাজানো হয়েছে, তা কল্পনাবিলাস। হলিউডের চলচ্চিত্রের মতোই।

তবে সূত্র জানায়, আকস্মিকভাবে পদ থেকে সরে দাঁড়াতে বলায় বিন নায়েফ প্রথমে অবাক হয়ে যান। এটা ছিল তার জন্য খুবই বেদনাদায়ক। এটা ছিল তার বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান, যার জন্য তিনি মোটেও প্রস্তুত ছিলেন না।

নায়েফের সঙ্গে মার্কিন গোয়েন্দা বাহিনীগুলোর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের সময়েই তিনি এই সম্পর্ক গড়ে তোলেন। বলা হচ্ছে, ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকেই সাবেক এই ক্রাউন প্রিন্স গৃহবন্দি রয়েছেন। তার ছোট ভাই প্রিন্স নওয়াফ বিন নায়েফকেও আটক রাখা হয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন