আন্দোলনকারীদের ছবি দিয়ে ব্যানার, আদালতে মুখ পুড়ল যোগী সরকারের
jugantor
আন্দোলনকারীদের ছবি দিয়ে ব্যানার, আদালতে মুখ পুড়ল যোগী সরকারের

  অনলাইন ডেস্ক  

০৯ মার্চ ২০২০, ১৮:০৯:৪৪  |  অনলাইন সংস্করণ

ছবি: পিটিআই

বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইন নিয়ে প্রতিবাদকারীদের ছবি টাঙিয়ে আদালতের তোপের মুখে পড়েছে উত্তরপ্রদেশের হিন্দুত্ববাদী মূখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সরকার। প্রশাসনের এমন উদ্যোগকে ‘নির্লজ্জ’ কর্মকাণ্ড বলেও মন্তব্য করেছেন বিচারপতিরা।

আনন্দবাজার পত্রিকার খবরে বলা হয়, সোমবার ওই বিলবোর্ডগুলো সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেয় ইলাহাবাদ হাইকোর্ট। পাশাপাশি আগামী ১৬ মার্চের মধ্যে হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে এ বিষয়ে রিপোর্ট প্রদানের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ।

গত বৃহস্পতিবার লক্ষ্মৌ শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ৫৩ জনের ছবি, নাম, ঠিকানা দিয়ে বিলবোর্ড টাঙায় যোগীর প্রশাসন। তাদের মধ্যে ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত আইপিএস অফিসার এস আর দারাপুরি, সমাজকর্মী মোহাম্মদ শোয়েব, কবি দীপক কবীরের মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। এছাড়া কংগ্রেসের স্থানীয় নারী নেত্রী সাদাফ জাফরের নাম-ছবিও দেয়া হয়েছে তাতে।

যোগী আদিত্যনাথ সরকারের উদ্যোগেই বিলবোর্ডগুলো লাগানো হয়। সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুরের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালাতে এমন ব্যবস্থা নেয় হয়েছে বলে দাবি উত্তরপ্রদেশ সরকারের।

সিএএ বিরোধী আন্দোলনে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুরের জেরে বিপুল সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি হয়েছিল। সেই ক্ষতিপূরণ এসব অভিযুক্তদের কাছ থেকে আদায় করা হবে বলেও প্রশাসন ঘোষণা দিয়েছিল।

যোগী সরকারের এ ধরনের পদক্ষেপে উত্তরপ্রদেশ হাইকোর্ট স্বতঃপ্রণোদিতভাবে মামলা করে। রোববার নজিরবিহীনভাবে ছুটির দিন শুনানি করেন হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি গোবিন্দ মাথুর। সরকারের এ ধরনের পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।
প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, এভাবে সরকার ব্যক্তিগত পরিসর এবং স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করতে পারে না।

সোমবারের শুনানিতে সরকারের বিরুদ্ধে কার্যত খড়গহস্ত ছিলেন ইলাহাবাদ হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি গোবিন্দ মাথুর। সরকার পক্ষের আইনজীবীর উদ্দেশে তিনি বলেন, এসব ছবি টাঙিয়ে আপনারা গোপনীয়তা, শ্রদ্ধা ও স্বাধীনতা নষ্ট করেছেন। আপনাদের উচিত ওই হোর্ডিংগুলো সরিয়ে ভুল সংশোধন করা।

রায়ে বলা হয়েছে, এই মামলা এমন নয় যে, কোনও ব্যক্তি অন্য কারও ব্যক্তিগত ক্ষতি করেছে যাদের ব্যক্তিগত তথ্য ব্যানারে দেয়া হয়েছে। বরং সাংবিধানিক মূল্যবোধে আঘাত করেছে এবং প্রশাসনের নির্লজ্জতা প্রদর্শন হয়েছে। এটা সরকারের অগণতান্ত্রিক কাজ, যাদের দায়িত্ব হল সব সময় জনগণের সঙ্গে সম্মান ও সৌজন্যমূলক আচরণ করা যা সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষিত হয়।

আন্দোলনকারীদের ছবি দিয়ে ব্যানার, আদালতে মুখ পুড়ল যোগী সরকারের

 অনলাইন ডেস্ক 
০৯ মার্চ ২০২০, ০৬:০৯ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
ছবি: পিটিআই
ছবি: পিটিআই

বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইন নিয়ে প্রতিবাদকারীদের ছবি টাঙিয়ে আদালতের তোপের মুখে পড়েছে উত্তরপ্রদেশের হিন্দুত্ববাদী মূখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সরকার। প্রশাসনের এমন উদ্যোগকে ‘নির্লজ্জ’ কর্মকাণ্ড বলেও মন্তব্য করেছেন বিচারপতিরা।

আনন্দবাজার পত্রিকার খবরে বলা হয়, সোমবার ওই বিলবোর্ডগুলো সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেয় ইলাহাবাদ হাইকোর্ট। পাশাপাশি আগামী ১৬ মার্চের মধ্যে হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে এ বিষয়ে রিপোর্ট প্রদানের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ।

গত বৃহস্পতিবার লক্ষ্মৌ শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ৫৩ জনের ছবি, নাম, ঠিকানা দিয়ে বিলবোর্ড টাঙায় যোগীর প্রশাসন। তাদের মধ্যে ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত আইপিএস অফিসার এস আর দারাপুরি, সমাজকর্মী মোহাম্মদ শোয়েব, কবি দীপক কবীরের মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। এছাড়া কংগ্রেসের স্থানীয় নারী নেত্রী সাদাফ জাফরের নাম-ছবিও দেয়া হয়েছে তাতে। 

যোগী আদিত্যনাথ সরকারের উদ্যোগেই বিলবোর্ডগুলো লাগানো হয়। সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুরের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালাতে এমন ব্যবস্থা নেয় হয়েছে বলে দাবি উত্তরপ্রদেশ সরকারের।

সিএএ বিরোধী আন্দোলনে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুরের জেরে বিপুল সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি হয়েছিল। সেই ক্ষতিপূরণ এসব অভিযুক্তদের কাছ থেকে আদায় করা হবে বলেও প্রশাসন ঘোষণা দিয়েছিল। 

যোগী সরকারের এ ধরনের পদক্ষেপে  উত্তরপ্রদেশ হাইকোর্ট স্বতঃপ্রণোদিতভাবে মামলা করে। রোববার নজিরবিহীনভাবে ছুটির দিন শুনানি করেন হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি গোবিন্দ মাথুর। সরকারের এ ধরনের পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।   
প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, এভাবে সরকার ব্যক্তিগত পরিসর এবং স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করতে পারে না। 

সোমবারের শুনানিতে সরকারের বিরুদ্ধে কার্যত খড়গহস্ত ছিলেন ইলাহাবাদ হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি গোবিন্দ মাথুর। সরকার পক্ষের আইনজীবীর উদ্দেশে তিনি বলেন, এসব ছবি টাঙিয়ে আপনারা গোপনীয়তা, শ্রদ্ধা ও স্বাধীনতা নষ্ট করেছেন। আপনাদের উচিত ওই হোর্ডিংগুলো সরিয়ে ভুল সংশোধন করা।

রায়ে বলা হয়েছে, এই মামলা এমন নয় যে, কোনও ব্যক্তি অন্য কারও ব্যক্তিগত ক্ষতি করেছে যাদের ব্যক্তিগত তথ্য ব্যানারে দেয়া হয়েছে। বরং সাংবিধানিক মূল্যবোধে আঘাত করেছে এবং প্রশাসনের নির্লজ্জতা প্রদর্শন হয়েছে। এটা সরকারের অগণতান্ত্রিক কাজ, যাদের দায়িত্ব হল সব সময় জনগণের সঙ্গে সম্মান ও সৌজন্যমূলক আচরণ করা যা সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষিত হয়।

  

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : ভারতে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল বিতর্ক