ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের স্মরণ
jugantor
ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের স্মরণ

  যুগান্তর ডেস্ক  

১৩ মার্চ ২০২০, ১৪:৫৮:১৯  |  অনলাইন সংস্করণ

ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের স্মরণ

এক তোড়া ফুলের দিকে আনমনে তাকিয়ে আছেন আয়া আল-উমারি। তিনি একটি বার্তা পড়ছেন। যাতে গত বছরে আল-নূর মসজিদে এক সাদা শ্রেষ্ঠত্ববাদী সন্ত্রাসীর হামলায় নিহতদের শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে।

ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে প্রাণঘাতী সন্ত্রাসী হামলার একবছর পূর্ণ হয়েছে আজ শুক্রবার।

নিহত ৫১ মুসল্লির ভেতরে আয়ার ৩৫ বছর বয়সী ভাই হুসেইনও ছিলেন। তখন জুমার নামাজ চলছিল। আল-নূর ও লিনউড মসজিদে এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে তাদের সেদিন হত্যা করা হয়।- খবর রয়টার্সের

মসজিদের বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলেন আয়া। বললেন, প্রতিটি দিন প্রতিটি মুহূর্তে তাকে আমরা স্মরণ করি। হত্যাযজ্ঞের বার্ষিকীতে ঐক্যবদ্ধ জাতি হিসেবে আমরা এখানে জড়ো হয়েছি। সেদিন বহু লোকের প্রাণ কেড়ে নেয়া হয়েছিল। যাদের মধ্যে আমার ভাইও ছিলেন।

মসজিদের বাইরে একটি শ্রদ্ধা বাণীতে লেখা ‘আমরা সম্ভবত খুব ছোট, কিন্তু আমরা শক্তিশালী,’ ‘আমরা তোমাদের ভালোবাসি।’

হামলার দায়ে ব্রেনটন ট্যারেন্ট নামের এক অস্ট্রেলীয় নাগরিকের বিরুদ্ধে ৯২টি অভিযোগ আনা হয়েছে। সে দোষ স্বীকার করে কোনো স্বীকারোক্তি দেয়নি। আগামী জুনে বিচারের মুখোমুখি হবে ওই অস্ট্রেলীয় সন্ত্রাসী।

গত সপ্তাহেও আল-নূর মসজিদে নতুন করে হামলার হুমকি এলে শুক্রবার মসজিদটি ঘিরে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

মসজিদে একটি জায়নামাজ দান করতে এসেছিলেন অ্যাডেলে ক্যারোল ও তার স্বামী ডেস। একটি ঘড়িও উপহার দেন তারা, যাতে নামাজের সময়সূচি লেখা।

ক্যারোল বললেন, আমাদের কিছু দান করা উচিত বলে মনে হয়েছে। মুসলমান ও আরব বন্ধুরা বিদেশে বসবাস করেন। আমরা সবাই এক, কোন ধর্ম কিংবা বর্ণ আমরা, তা দেখার বিষয় না। আমরা কেবল মনে করি, আমাদের ভূমিতে এমন কিছু ঘটা উচিত না।

এই নগর কেন্দ্রে নামাজে অংশ নিতে নিউজিল্যান্ডের বিভিন্ন স্থান থেকে মুসল্লিরা আসেন। প্রত্যাশার চেয়ে জমায়েত কম হয়েছে। করোনাভাইরাস আতঙ্কের কারণে মুসল্লিরা কম এসেছেন বলে মনে করা হচ্ছে।

সেদিন বন্দুকধারী সন্ত্রাসীকে মুখোমুখি রুখে দেয়ার চেষ্টা করেন আবদুল আজিজ। বললেন, একটি বছর চলে গেছে। কিন্তু আমাদের কাছে মনে হচ্ছে, ঘটনাটা গতকালের।

তাজ মোহাম্মদ কামরানের পায়ে গুলি লেগেছিল। তার বন্ধুও নিহত হন। ‘এটাকে একটি কঠিন বছর’ বলে উল্লেখ করেন তিনি। তাজ বলেন, তবে সব কিছু ছাড়িয়ে আজ নিজেকে খুব শক্তিশালী মনে হচ্ছে।

শুক্রবার নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্দা আরডান বলেন, ওই হামলার পর তার দেশ মৌলিকভাবে বদলে গেছে।

ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের স্মরণ

 যুগান্তর ডেস্ক 
১৩ মার্চ ২০২০, ০২:৫৮ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের স্মরণ
ছবি: রয়টার্স

এক তোড়া ফুলের দিকে আনমনে তাকিয়ে আছেন আয়া আল-উমারি। তিনি একটি বার্তা পড়ছেন। যাতে গত বছরে আল-নূর মসজিদে এক সাদা শ্রেষ্ঠত্ববাদী সন্ত্রাসীর হামলায় নিহতদের শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে।

ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে প্রাণঘাতী সন্ত্রাসী হামলার একবছর পূর্ণ হয়েছে আজ শুক্রবার।

নিহত ৫১ মুসল্লির ভেতরে আয়ার ৩৫ বছর বয়সী ভাই হুসেইনও ছিলেন। তখন জুমার নামাজ চলছিল। আল-নূর ও লিনউড মসজিদে এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে তাদের সেদিন হত্যা করা হয়।- খবর রয়টার্সের

মসজিদের বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলেন আয়া। বললেন, প্রতিটি দিন প্রতিটি মুহূর্তে তাকে আমরা স্মরণ করি। হত্যাযজ্ঞের বার্ষিকীতে ঐক্যবদ্ধ জাতি হিসেবে আমরা এখানে জড়ো হয়েছি। সেদিন বহু লোকের প্রাণ কেড়ে নেয়া হয়েছিল। যাদের মধ্যে আমার ভাইও ছিলেন।

মসজিদের বাইরে একটি শ্রদ্ধা বাণীতে লেখা ‘আমরা সম্ভবত খুব ছোট, কিন্তু আমরা শক্তিশালী,’ ‘আমরা তোমাদের ভালোবাসি।’

হামলার দায়ে ব্রেনটন ট্যারেন্ট নামের এক অস্ট্রেলীয় নাগরিকের বিরুদ্ধে ৯২টি অভিযোগ আনা হয়েছে। সে দোষ স্বীকার করে কোনো স্বীকারোক্তি দেয়নি। আগামী জুনে বিচারের মুখোমুখি হবে ওই অস্ট্রেলীয় সন্ত্রাসী।

গত সপ্তাহেও আল-নূর মসজিদে নতুন করে হামলার হুমকি এলে শুক্রবার মসজিদটি ঘিরে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। 

মসজিদে একটি জায়নামাজ দান করতে এসেছিলেন অ্যাডেলে ক্যারোল ও তার স্বামী ডেস। একটি ঘড়িও উপহার দেন তারা, যাতে নামাজের সময়সূচি লেখা।

ক্যারোল বললেন, আমাদের কিছু দান করা উচিত বলে মনে হয়েছে। মুসলমান ও আরব বন্ধুরা বিদেশে বসবাস করেন। আমরা সবাই এক, কোন ধর্ম কিংবা বর্ণ আমরা, তা দেখার বিষয় না। আমরা কেবল মনে করি, আমাদের ভূমিতে এমন কিছু ঘটা উচিত না।

এই নগর কেন্দ্রে নামাজে অংশ নিতে নিউজিল্যান্ডের বিভিন্ন স্থান থেকে মুসল্লিরা আসেন। প্রত্যাশার চেয়ে জমায়েত কম হয়েছে। করোনাভাইরাস আতঙ্কের কারণে মুসল্লিরা কম এসেছেন বলে মনে করা হচ্ছে।

সেদিন বন্দুকধারী সন্ত্রাসীকে মুখোমুখি রুখে দেয়ার চেষ্টা করেন আবদুল আজিজ। বললেন, একটি বছর চলে গেছে। কিন্তু আমাদের কাছে মনে হচ্ছে, ঘটনাটা গতকালের।

তাজ মোহাম্মদ কামরানের পায়ে গুলি লেগেছিল। তার বন্ধুও নিহত হন। ‘এটাকে একটি কঠিন বছর’ বলে উল্লেখ করেন তিনি। তাজ বলেন, তবে সব কিছু ছাড়িয়ে আজ নিজেকে খুব শক্তিশালী মনে হচ্ছে।

শুক্রবার নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্দা আরডান বলেন, ওই হামলার পর তার দেশ মৌলিকভাবে বদলে গেছে।

 

ঘটনাপ্রবাহ : নিউজিল্যান্ডে মসজিদে এলোপাতাড়ি গুলি