অস্ট্রেলিয়ায় মুসলিম স্বাস্থ্যকর্মীদের রোজা পালনে সহযোগিতা করেন সহকর্মীরা

  অনলাইন ডেস্ক ১৬ মে ২০২০, ১১:২০:০৯ | অনলাইন সংস্করণ

ছবি: এবিসি নিউজ

অস্ট্রেলিয়ার অনেক মুসলমান স্বাস্থ্যকর্মী রোজা রাখার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত আছেন।

ব্রিসবেনে ওয়েসলে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের একজন রেজিস্ট্রার ডায়াং ইস্কান্দার বলেন, শিশু ওয়ার্ডে রোগী ভর্তির পরিমাণ কমে যাওয়ায় সেখানে তার ডিউটি কমিয়ে দিয়ে কর্তৃপক্ষ তাকে করোনা রোগীদের চিকিৎসার ভার দিয়েছেন।

তিন সন্তানের জননী ডা. ইস্কান্দারকে মাঝে মাঝে আইসিইউতেও ডিউটি করতে হচ্ছে। তিনি বলেন, আমার একটাই ভয়- করোনা রোগীদের সেবা দিতে গিয়ে যদি আমিও আক্রান্ত হয়ে পরিবারের কাছে ফিরে যেতে না পারি!

বয়স্কদের সেবায় নিয়োজিত আরেকজন কর্মী সারি বুই বলেন, আমি আমার অধীনস্থদের নিয়ে সংক্রমণের আশংকায় রয়েছি। তাই আমি কাজে আসার সময় সতর্কতামূলক সবসময় বাসা থেকে নিজের তাপমাত্রা মেপে আসি।

এভাবে নিজের স্বাস্থ্যসচেতনতার মাধ্যমে আমি তাদেরকেও সংক্রমণ থেকে নিরাপদ রাখতে পারছি।

রোজা ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের অন্যতম। এ মাসে মুসলমানরা সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত রোজা পালন করে। তবে অসুস্থ, গর্ভবতী ও অপারগদের জন্য ছাড় রয়েছে।

আত্মসংযমের এই পবিত্র মাসে মুসলমানরা সিয়াম সাধনা পালন করার মাধ্যমে ধৈর্য্য ও তাকওয়া অবলম্বন করতে শেখে।

মেলবোর্নের একটি সরকারি হাসপাতালের নার্স রাইসিয়াদ আবমার তার দায়িত্ব ও রোজার মধ্যকার সাদৃশ্য তুলে ধরে বলেন, নার্সিং ও রোজা- দুটির উদ্দেশ্যই অভিন্ন।

তিনি বলেন, নার্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যেরকম রোগীদের প্রতি সমবেদনা থাকতে হয়, তেমনি রোজার উদ্দেশ্যও হলো গরীব-অসহায়দের প্রতি সমবেদনাসম্পন্ন হওয়া।

এদিকে মিস বুই বলেন, বয়স্কদের সেবা করার প্রধান যোগ্যতা হলো ধৈর্য্যশীল হওয়া। ধৈর্য্যশীল না হলে, বয়স্কদের দেখাশোনা করা অসম্ভব।

তিনি বলেন, আমি মনে করি, মুসলিম হিসেবে বয়স্কদের সেবা করা ও বাড়ি ফিরে এসে পরিবারের জন্য খাবার বানানো এবং বাচ্চাদের সঙ্গে সময় কাটানোও একটা ইবাদাত।

মিস বুই বলেন, এক্ষেত্রে আমাকে দ্বিগুণ ধৈর্যের পরিচয় দিতে হয়। কেননা একে তো আমি বয়স্কদের সেবায় নিয়োজিত, অন্যদিকে তাদের অনেকেই স্মৃতিভ্রংশ জটিলতায় ভুগছেন।

তিনি আরও বলেন, নিজের পিতামাতার মতো মনে না করলে এধরনের বয়স্কদের দেখাশোনা করা সম্ভব নয়। তাদের সেবা করার সময় আমি মনে করি যেনো নিজের পিতামাতারই সেবা করছি। আর তাই আমি তাদের সঙ্গে যথাযথ শ্রদ্ধাবোধ বজায় রেখে সহানুভূতিশীল আচরণ করি।

সহকর্মীদের সার্বিক সহযোগিতা

করোনা মহামারীতে চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত অনেক মুসলমান স্বাস্থ্যকর্মী রোজা রেখে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নিজেদের যত্ন নিতে হিমশিম খাচ্ছেন।

আবমার জানান, এই প্রথমবার তিনি রোজা রেখে দায়িত্ব পালন করছেন।

তিনি বলেন, কাজ শেষে ক্লান্ত হয়ে বাড়ি ফিরে আমি ঘুমিয়ে পড়ি।

‘করোনার কারণে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে বাড়ি ফিরেও আমি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে পারি না। এটি অত্যন্ত কঠিন একটি ব্যাপার। সত্যিই আমি আমার পরিবারকে ভীষণ মিস করি’।

তিনি আরো বলেন, বাড়ি ফিরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ইফতারে অংশগ্রহণ করতে পারি না। ফলে নিজে নিজেই ইফতার সেরে নিতে হয়।

কিন্তু আবমার তার সহকর্মীদেরকে অত্যন্ত সহায়ক উল্লেখ করে বলেন, আমি আমার সহকর্মীদের সবসময় পাশে পাই। যেকোনো পরিস্থিতিতে তারাই আমাকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়।

ডা. ইস্কান্দারও একই রকম অভিজ্ঞতার কথা বলেছেন।

তিনি বলেন, সেহরির সময় আমি যখন আইসিইউতে ডিউটি করতে যাই, তখন আমার সহকর্মীরা আমাকে দ্রুত খাবার তৈরি করতে সহযোগিতা করে। যার ফলে আমি সময়মতো সেহরি সম্পন্ন করতে পারি।

ডা. ইস্কান্দার জানান, আমি তাদের কাছ থেকে এরকম সহানুভূতিশীল আচরণ আশা করিনি। আসলেই আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ।

এবিসি নিউজ থেকে ফরহাদ খান নাঈমের অনুবাদ

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস

আরও
 

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত