যেভাবে হত্যা করা হয় কৃষ্ণাঙ্গ যুবক ব্রুকসকে, দেখুন ভিডিও

  অনলাইন ডেস্ক ১৪ জুন ২০২০, ১৫:২০:৫৩ | অনলাইন সংস্করণ

কৃষ্ণাঙ্গ যুবক জর্জ ফ্লয়েডকে হত্যার ঘটনায় বিক্ষোভের আগুনে জ্বলছে গোটা যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যেই জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের দক্ষিণ-পূর্ব আটলান্টায় আরেক কৃষ্ণাঙ্গ যুবককে গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটল।

পুলিশের গুলিতে নিহত ওই ব্যক্তির নাম রেশার্ড ব্রুকস (২৭)।

শুক্রবার রাতে স্থানীয় সময় সাড়ে ১০টার দিকে ওয়েন্ডিজ নামে একটি ফাস্টফুড রেস্তোরাঁর সামনে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

রেশার্ড ব্রুকসকে গুলি করে হত্যার একটি ভিডিও এরইমধ্যে সামাজিকমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

ভিডিওতে ব্রুকসের সঙ্গে দুই পুলিশকর্মীকে ধস্তাধস্তি করতে দেখা গেছে। তাদের হাত ছাড়িয়ে পালাতেও দেখা গেছে ব্রুকসকে। তাতে তাকে লক্ষ্য করে পুলিশের গুলি ছোড়ার শব্দও শোনা গেছে।

তবে ব্রুকস পুলিশের দিকে টেজার তাক করলেও, তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া পুলিশের উচিত হয়নি বলে জানিয়েছেন আটলান্টার মেয়র কেইশা ল্যান্স বটমস।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, রেস্তরাঁর সামনে গাড়িতে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন ২৭ বছরের রেশার্ড ব্রুকস। রেস্তরাঁর সামনে রাস্তায় এমন ভাবে তার গাড়িটি দাঁড়িয়েছিল, যাতে অন্য গাড়ির যাতায়াত সমস্যা হচ্ছিল। পুলিশকে ফোন করে গোটা বিষয়টি জানান রেস্তরাঁর এক কর্মী।

ফোন পাওয়ার কিছু ক্ষণের মধ্যেই ঘটনাস্থলে এসে হাজির হয় আটলান্টা পুলিশের একটি দল। গাড়ি থেকে ব্রুকসকে টেনে বার করেন তারা। ব্রুকস নেশাগ্রস্ত কি না, তা পরীক্ষা করে দেখা হয়।

কিন্তু তাতে উত্তীর্ণ হতে না পেরে পুলিশের হাত ছাড়িয়ে পালানোর চেষ্টা করেন ব্রুকস। তাতেই দুপক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। সেইসময় টেজার নামক বিশেষ অস্ত্রের সাহায্যে ব্রুকসকে অবশ করে দেয়ার চেষ্টা করেন এক পুলিশকর্মী।

ওই পুলিশকর্মীর হাত থেকে অবশ করার অস্ত্রটি ছিনিয়ে নেন ব্রুকস। সেটি নিয়ে পালাতে গেলে তাকে তাড়া করেন দুই পুলিশকর্মী। সেইসময় ঘুরে তাদের দিকে ওই অবশ করার অস্ত্রটি তাক করেন ব্রুকস। তাতেই তাকে লক্ষ্য করে পর পর তিন বার গুলি ছোড়ে পুলিশ। গুলিবিদ্ধ হয়ে রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন ব্রুকস। তড়িঘড়ি আটলান্টা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। সেখানেই তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত দুই পুলিশকর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। যদিও তাদের নাম ও পরিচয় এখনও প্রকাশ করা হয়নি।

আটলান্টার পুলিশ প্রধান এরিকা শিল্ডস এই ঘটনার দায় নিয়ে পদত্যাগ করেছেন। তার জায়গায় অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্বে এসেছেন রোডনি ব্রায়ান্ট।

পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে খুনের মামলা দায়ের হওয়া উচিত বলে দাবি তুলেছেন ব্রুকসের পারিবারিক আইনজীবী ক্রিস স্টুয়ার্ট।

এদিকে এ ঘটনার পর থেকে আটলান্টায় বিক্ষোভ প্রদর্শিত হয়েছে। আন্দোলনকারীরা ব্রুকসের নিহতের ঘটনায় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সরকারে প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

শনিবার দিনভর আটলান্টার বিভিন্ন জায়গায় প্রতিবাদে শামিল হন হাজার হাজার মানুষ। রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান তারা। তাদের হটাতে কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করেছে পুলিশ।

গত ২৫ মে মিনেসোটার মিনিয়াপোলিস শহরে জর্জ ফ্লয়েড হত্যাকে কেন্দ্র করে ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার’ প্রতিবাদ শুরু হয়। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে চলমান বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে বিশ্বজুড়ে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ এখনও চলছে।

ঘটনাপ্রবাহ : কৃষ্ণাঙ্গ হত্যায় অগ্নিগর্ভ যুক্তরাষ্ট্র

আরও

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত