কানাডার ১৫৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

  রাজীব আহসান, কানাডা থেকে ০২ জুলাই ২০২০, ১০:২৮:৩৫ | অনলাইন সংস্করণ

করোনা পরিস্থিতিতে এক অন্য রকম আবহে এবার কানাডায় উদযাপন হলো দেশটির ১৫৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী।


স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা ও অকৃত্রিম ভালোবাসায় বৃহস্পতিবার কানাডাবাসী পালন করে দেশটির ১৫৩তম জন্মদিন।


বছরের বেশিরভাগ সময় বরফাচ্ছন্ন থাকা কানাডার জন্মদিনে প্রবাসী বাংলাদেশিরাও নানা আয়োজনে পালন করেন কানাডা দিবস।


কানাডার ক্যালগ্যারির স্থানীয় জেনেসিস সেন্টার, প্রেইরি উন্ডসপার্ক, রকিভিউ এলাইন্স, ডাউন টাউনসহ প্রায় প্রতিটি স্থানেই কানাডাতে প্রতি বছর থাকে উপচেপড়া ভিড়।


কিন্তু এ বছর তার ব্যতিক্রম, করোনার কারণে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে সীমিতসংখ্যক লোক সমাগম হয় বাইরের অনুষ্ঠানগুলোতে।


ক্যালগ্যারিতে বাংলাদেশ-কানাডা অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে কানাডা দিবস উপলক্ষে দেশটিকে আরও সবুজ করতে নতুন প্রজন্মের মাঝে বিভিন্ন গাছের বীজ/চারা, সার, মাটি বিতরণ করা হয়।


এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কানাডা অ্যাসোসিয়েশন অফ ক্যালগ্যারির সভাপতি মো. রশিদ রিপন, সাধারণ সম্পাদক জয়ন্ত বসু, সহসভাপতি মো. কাদির ও সহসভাপতি রিতা কর্মকার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শুভ মজুমদারসহ অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তারা।


এ সময় সভাপতি মো. রশিদ রিপন বলেন, কানাডা অন্য দেশের চাইতে সবুজ। আমাদের এই চারারোপণ কর্মসূচি কোমলমতি শিশুদের সবুজের গুরুত্ব বুঝতে সাহায্য করবে এবং কানাডাকে আরও বেশি সবুজে ভরে তুলতে অনুপ্রেরণা দেবে।

এটি একই সঙ্গে প্রকৃতিপ্রেম ও দেশপ্রেমের সংমিশ্রন। ফলে তারা সুনাগরিক হওয়ার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে।


সাধারণ সম্পাদক জয়ন্ত বসু বলেন, আমরা চাই আমাদের নতুন প্রজন্মের মানসিক ও শিক্ষা বিকাশের পাশাপাশি অন্য সব কর্মকাণ্ডে দক্ষতা অর্জনে পারদর্শী হয়ে উঠুক আর সেই লক্ষ্যেই আমাদের আজকের এ কর্মসূচি।

সহসভাপতি মো. আব্দুল কাদির বলেন, ভিন্নধর্মী এই উদ্যোগ আমাদের কোমলমতি শিশুদের আগামী দিনের পথচলায় বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবে।

সহসভাপতি রিতা কর্মকার জানান, বৈশ্বিক মহামারী করোনার এই সময়ে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চারা বীজ বিতরণের এ কর্মসূচি শিশু-কিশোরদের অবসর সময়টুকুকে আরও আনন্দময় করে তুলবে।


কানাডার জাতীয় দিবসে দুই দেশের জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে মূল অনুষ্ঠান শুরু হয়। এর পর সংক্ষিপ্ত আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ-কানাডা অ্যাসোসিয়েশন অব ক্যালগ্যারির সদস্যরা।

৯ হাজার ৯৮৫ মিলিয়ন কিলোমিটারের দেশটিতে জনসংখ্যা মাত্র ৩ কোটি ৬ লাখ। যার রয়েছে ১০টি প্রদেশ এবং ৩টি রাজ্য।

১৯৭১ সালে কানাডাই বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ঘোষণা দেয় মাল্টিকালচারিজমের, যার মূলমন্ত্র হলো– সব নাগরিকের থাকবে সমান অধিকার ও দায়িত্ব।

যার ফলস্বরূপ দেশটির জন্মলগ্ন থেকে এ পর্যন্ত ১ কোটি ৭০ লাখেরও বেশি লোক অভিবাসী হয়ে দেশটিতে এসে স্থায়ীভাবে বসবাস করছে। কানাডা শান্তি রক্ষায় সবসময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।


কানাডার ইমিগ্রেশন সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, প্রতি বছর প্রায় আড়াই লাখ অভিবাসনপ্রত্যাশী পাড়ি দেন কানাডায়।

এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, কানাডার বিচারব্যবস্থা, নির্বাচনী প্রক্রিয়া, শিক্ষাব্যবস্থা, চিকিৎসা, যোগাযোগব্যবস্থা, জীবনের নিরাপত্তা, স্থিতিশীল অর্থনীতি, শক্তিশালী ব্যাংকিংব্যবস্থার কারণে দেশ হিসেবে বিশ্বের সবার কাছে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।


দিবসটি উপলক্ষে কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো এবং আলবার্টা প্রিমিয়ার জেসন কেনি পৃথক পৃথক শুভেচ্ছা বাণী দিয়েছেন।

ক্যালগ্যারির এবিএম কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রেসিডেন্ট এবং বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী ড. মো. বাতেন বলেন, দূর প্রবাসে থাকলেও মাতৃভূমি আমাদের হৃদয়ে, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা আমাদের আশার আলো দেখায়।


বাংলাদেশ এখন বিশ্বের অন্যতম রোল মডেল। কানাডার জন্মদিনে আমাদের প্রত্যাশা প্রচুরসংখ্যক বাঙালি এ দেশে আসুক, জ্ঞানার্জন এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখুক।

ক্যালগ্যারির ফ্যামিলি ফিজিশিয়ান ডা. মো. জাকির আজম সিকদার বলেন, আমরা আনন্দিত যে কানাডায় বসে দেশটির ১৫৩তম জন্মদিনে পালন করছি।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে আরও প্রচুরসংখ্যক বাংলাদেশি এ দেশে এসে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করুক এমনটিই কামনা করছি।


বেঙ্গল ফার্মেসি ও কমিউনিটি আরএক্স বাংলাদেশি ফার্মেসি গ্রুপের চেয়ারম্যান ও স্বত্বাধিকারী ড. ইব্রাহিম খান বলেন, বিশ্ববাসী আজ বাংলাদেশ নিয়ে ভাবছে। আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধিতে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে।


প্রবাসে থেকেও আমরা বাংলাদেশকে নিয়ে গর্ব করি, অহঙ্কার করি। বাংলাদেশ আরও এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ ও কানাডার দুদেশের মধ্যে সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে। কানাডার ১৫৩তম জন্মদিনে এটিই আমার প্রত্যাশা।


ক্যালগ্যারির মাহমুদ হাসান দীপু বলেন, বাংলাদেশ যেমন আমাদের অহঙ্কার, পাশাপাশি কানাডাও আমাদের কাছে অহঙ্কার, কানাডার জন্মদিনে অনেক অনেক শুভেচ্ছা।


১৯৭১ সালে যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে যেসব দেশ স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল, তাদের মধ্য অন্যতম দেশ কানাডা।


সেই কানাডার জন্মদিনেই দেশটির আরও উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি হোক, প্রচুরসংখ্যক বাঙালি এখানে এসে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে এবং প্রবৃদ্ধিতে বিরাট ভূমিকা রাখুক এমনটিই প্রত্যাশা এখানকার প্রবাসী বাঙালিদের।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত