যে কারণে ফের দ্বন্দ্বে গ্রিস-তুরস্ক 
jugantor
যে কারণে ফের দ্বন্দ্বে গ্রিস-তুরস্ক 

  অনলাইন ডেস্ক  

২৫ জুলাই ২০২০, ১০:১১:৪৫  |  অনলাইন সংস্করণ

তুরস্কের সঙ্গে আজকাল ঘন ঘন নানা বিষয়ে ইউরোপের মতবিরোধ দেখা দিচ্ছে। সম্প্রতি গ্রিস-তুরস্ক দ্বন্দ্ব চরমে পৌছেঁছে।এর কারণ জলসীমা নিয়ে বিরোধ।


তুরস্ক ঘোষণা করেছে, ভূমধ্যসাগরের একটি এলাকায় গ্যাস ড্রিলিং জরিপের জন্য তারা একটি জাহাজ পাঠাচ্ছে। এ কথা ঘোষণার পরই গ্রিসের সঙ্গে তাদের তীব্র দ্বন্দ্ব তৈরি হয় এবং ব্যাপারটা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নও। খবর বিবিসির।

নানা বিষয় নিয়ে দ্বন্দ্বের কারণে এমনিতেই তুরস্ক ও গ্রিসের সম্পর্ক ভালো নয়। তার ওপর তুরস্কের এই জাহাজ পাঠানোর খবরে গ্রিসের সামরিক বাহিনীর মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি হয় । কারণ তুরস্কের দক্ষিণ উপকূলের কাছাকাছি ওই জায়গাটি গ্রিসেরও একটি দ্বীপের নিকটবর্তী।

সাগরের ওই এলাকাটিতে টহল জোরদার করতে মঙ্গলবার থেকেই দুই দেশেরই নৌবাহিনীর জাহাজগুলো তৈরি হচ্ছে।

এ পরিস্থিতিতে ফরাসী প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রন বলেছেন, পূর্ব ভুমধ্যসাগরে উসকানির ব্যাপারে চুপ করে থাকাটা ইউরোপীয় ইউনিয়নের জন্য ভুল হবে। 

ইউরোপীয় পার্লামেন্টে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার সময় রক্ষণশীল ব্লকের প্রধান ম্যানফ্রেড ওয়েবার বলেন, তুরস্কের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার সময় এসেছে।

ইউরোপের নেতারা বলছেন, পূর্ব ভূমধ্যসাগরে তুরস্ক এবং রাশিয়া তাদের তৎপরতা ক্রমশই বাড়িয়ে চলেছে এবং এতে তারা উদ্বিগ্ন।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন বলেছে, তুরস্ক যে সতর্কবার্তা ইস্যু করেছে; তা অনভিপ্রেত এবং ভুল বার্তা দিচ্ছে।

গ্রিস বলছে, তুরস্ক গ্যাস অনুসন্ধান জাহাজ সংক্রান্ত যে সতর্কবার্তা দিয়েছে - তা অবৈধ।

কিন্তু তুরস্ক বলছে, যে তাদের জরিপ জাহাজটি তাদের উপকূলবর্তী সামুদ্রিক এলাকার মধ্যেই কাজ করছিল।

গ্রিস ও তুরস্কের মধ্যে সম্পর্ক এমনিতেই ভালো নয়। নৌকায় করে ভূমধ্যসাগর পার হয়ে-আসা অভিবাসীদের নিয়ে গ্রিস ও তুরস্কের দ্বন্দ্ব হয়েছে।

এ মাসের প্রথম দিকে ইস্তাম্বুলের আয়া সোফিয়া জাদুঘরকে মসজিদে পরিণত করার কথা ঘোষণাও গ্রিসকে মর্মাহত করে।

সবশেষ এ ঘটনার ক্ষেত্রে গ্রিস বলেছে, তুরস্কে নৌবাহিনীর এই পদক্ষেপ গ্রিসের সার্বভৌম অধিকারের লংঘন। গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিৎসোতাকিস এ নিয়ে জার্মানর চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেলের সঙ্গে কথা বলেছেন।

পরিস্থিতি নিয়ে গ্রিসের অন্য রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গেও কথা বলার উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। ওরুচ রেইস নামে তুর্কি জরিপ জাহাজটি এখনো তুরস্কের আন্তালিয়া বন্দরেই আছে।

যে এলাকাটিতে জরিপ চালানো হবে বলে তুরস্কের সতর্কবার্তায় বলা হয় - তা সাইপ্রাস এবং ক্রিট দ্বীপের মাঝখানে।

গ্রিসের সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে, তুরস্ক এবং গ্রিস দুই দেশেরই নৌবাহিনীর জাহাজগুলো গ্রিসের কাস্তেলোরিজো দ্বীপের কাছাকাছি একটি এলাকার দিকে যাচ্ছে - যা আবার তুরস্কের মূলভূমি থেকে অল্প কিছু দূরে।

তুরস্ক এবং গ্রিস দুটি দেশই ন্যাটোর সদস্য। কিন্তু পূর্ব ভূমধ্যসাগর এলাকা থেকে জ্বালানি আহরণের প্রতিযোগিতায় তারা হয়ে উঠেছে পরস্পরের প্রতিপক্ষ।

সম্প্রতি সাইপ্রাস দ্বীপের উপকূলে সাগরে বিশাল গ্যাসের মজুত আবিষ্কৃত হয়। এর পরই সিপ্রিয়ট সরকার, গ্রিস, ইসরায়েল এবং মিসর এই সম্পদ আহরণের জন্য একসঙ্গে কাজ করতে উদ্যোগী হয়।
 

যে কারণে ফের দ্বন্দ্বে গ্রিস-তুরস্ক 

 অনলাইন ডেস্ক 
২৫ জুলাই ২০২০, ১০:১১ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

তুরস্কের সঙ্গে আজকাল ঘন ঘন নানা বিষয়ে ইউরোপের মতবিরোধ দেখা দিচ্ছে। সম্প্রতি গ্রিস-তুরস্ক দ্বন্দ্ব চরমে পৌছেঁছে।এর কারণ জলসীমা নিয়ে বিরোধ।


তুরস্ক ঘোষণা করেছে, ভূমধ্যসাগরের একটি এলাকায় গ্যাস ড্রিলিং জরিপের জন্য তারা একটি জাহাজ পাঠাচ্ছে। এ কথা ঘোষণার পরই গ্রিসের সঙ্গে তাদের তীব্র দ্বন্দ্ব তৈরি হয় এবং ব্যাপারটা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নও। খবর বিবিসির।

নানা বিষয় নিয়ে দ্বন্দ্বের কারণে এমনিতেই তুরস্ক ও গ্রিসের সম্পর্ক ভালো নয়। তার ওপর তুরস্কের এই জাহাজ পাঠানোর খবরে গ্রিসের সামরিক বাহিনীর মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি হয় । কারণ তুরস্কের দক্ষিণ উপকূলের কাছাকাছি ওই জায়গাটি গ্রিসেরও একটি দ্বীপের নিকটবর্তী।

সাগরের ওই এলাকাটিতে টহল জোরদার করতে মঙ্গলবার থেকেই দুই দেশেরই নৌবাহিনীর জাহাজগুলো তৈরি হচ্ছে।

এ পরিস্থিতিতে ফরাসী প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রন বলেছেন, পূর্ব ভুমধ্যসাগরে উসকানির ব্যাপারে চুপ করে থাকাটা ইউরোপীয় ইউনিয়নের জন্য ভুল হবে।

ইউরোপীয় পার্লামেন্টে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার সময় রক্ষণশীল ব্লকের প্রধান ম্যানফ্রেড ওয়েবার বলেন, তুরস্কের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার সময় এসেছে।

ইউরোপের নেতারা বলছেন, পূর্ব ভূমধ্যসাগরে তুরস্ক এবং রাশিয়া তাদের তৎপরতা ক্রমশই বাড়িয়ে চলেছে এবং এতে তারা উদ্বিগ্ন।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন বলেছে, তুরস্ক যে সতর্কবার্তা ইস্যু করেছে; তা অনভিপ্রেত এবং ভুল বার্তা দিচ্ছে।

গ্রিস বলছে, তুরস্ক গ্যাস অনুসন্ধান জাহাজ সংক্রান্ত যে সতর্কবার্তা দিয়েছে - তা অবৈধ।

কিন্তু তুরস্ক বলছে, যে তাদের জরিপ জাহাজটি তাদের উপকূলবর্তী সামুদ্রিক এলাকার মধ্যেই কাজ করছিল।

গ্রিস ও তুরস্কের মধ্যে সম্পর্ক এমনিতেই ভালো নয়। নৌকায় করে ভূমধ্যসাগর পার হয়ে-আসা অভিবাসীদের নিয়ে গ্রিস ও তুরস্কের দ্বন্দ্ব হয়েছে।

এ মাসের প্রথম দিকে ইস্তাম্বুলের আয়া সোফিয়া জাদুঘরকে মসজিদে পরিণত করার কথা ঘোষণাও গ্রিসকে মর্মাহত করে।

সবশেষ এ ঘটনার ক্ষেত্রে গ্রিস বলেছে, তুরস্কে নৌবাহিনীর এই পদক্ষেপ গ্রিসের সার্বভৌম অধিকারের লংঘন। গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিৎসোতাকিস এ নিয়ে জার্মানর চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেলের সঙ্গে কথা বলেছেন।

পরিস্থিতি নিয়ে গ্রিসের অন্য রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গেও কথা বলার উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। ওরুচ রেইস নামে তুর্কি জরিপ জাহাজটি এখনো তুরস্কের আন্তালিয়া বন্দরেই আছে।

যে এলাকাটিতে জরিপ চালানো হবে বলে তুরস্কের সতর্কবার্তায় বলা হয় - তা সাইপ্রাস এবং ক্রিট দ্বীপের মাঝখানে।

গ্রিসের সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে, তুরস্ক এবং গ্রিস দুই দেশেরই নৌবাহিনীর জাহাজগুলো গ্রিসের কাস্তেলোরিজো দ্বীপের কাছাকাছি একটি এলাকার দিকে যাচ্ছে - যা আবার তুরস্কের মূলভূমি থেকে অল্প কিছু দূরে।

তুরস্ক এবং গ্রিস দুটি দেশই ন্যাটোর সদস্য। কিন্তু পূর্ব ভূমধ্যসাগর এলাকা থেকে জ্বালানি আহরণের প্রতিযোগিতায় তারা হয়ে উঠেছে পরস্পরের প্রতিপক্ষ।

সম্প্রতি সাইপ্রাস দ্বীপের উপকূলে সাগরে বিশাল গ্যাসের মজুত আবিষ্কৃত হয়। এর পরই সিপ্রিয়ট সরকার, গ্রিস, ইসরায়েল এবং মিসর এই সম্পদ আহরণের জন্য একসঙ্গে কাজ করতে উদ্যোগী হয়।