‘ঈদ আবার আসবে, এখন শারীরিক সুস্থতাটাই গুরুত্বপূর্ণ’

সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে কানাডায় ব্যতিক্রমী ঈদ উদযাপন

  রাজীব আহসান, কানাডা থেকে ০২ আগস্ট ২০২০, ১৪:৪৩:৪৯ | অনলাইন সংস্করণ

কানাডার বিভিন্ন স্থানে পালিত হয় ঈদুল আযহা। প্রবাস জীবনের যান্ত্রিকতাময় এই ঈদের দিনে প্রবাসী বাঙালিরা এ বছর ব্যতিক্রমী উদ্যোগে বিভিন্নভাবে পালন করে ঈদুল আযহা। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে সীমিত পরিসরে মিলিত হয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন একে অপরের সঙ্গে।

অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে অনেক কানাডা প্রবাসী বলেন, ‘ঈদ আবার আসবে কিন্তু শারীরিক সুস্থতাটাই এই মুহূর্তে গুরুত্বপূর্ণ।’

কানাডা প্রবাসী বাংলাদেশিরা সাধারণত ঈদের নামাজ শেষে চলে যান কোরবানি দিতে। কিন্তু এবছর ছিল সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। কোভিড-১৯ এর কারণে প্রবাসীরা অনেকেই ঘরে ভার্চুয়ালি নামাজ আদায় করেন। শুক্রবার কানাডায় কর্মময় দিবস থাকায় অনেকেই ঘরে নামাজ পড়ে অফিসে চলে যান।

কানাডায় নির্দিষ্ট স্থানে কোরবানি দেয়া বাধ্যতামূলক। নির্ধারিত ফার্মগুলোতেই কোরবানি দিয়েছেন প্রবাসীরা। ঈদের দিনে কারো কারো কর্ম দিবস থাকায় খুব ভোরে নতুন পোশাক পরে অনেকেই আগেভাগে বের হয়ে পড়েন ঈদের নামাজ আদায় করতে। প্রবাসী বাঙ্গালীদের নিজস্ব মসজিদ ছাড়াও বিভিন্ন কমিউনিটির মসজিদে প্রবাসীরা নামাজ আদায় করেন। কানাডার বিভিন্ন মসজিদে কয়েকটি ভাগে বিভক্ত হয়ে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

মসজিদে নামাজ শেষে প্রবাসীরা পরিবার পরিজন নিয়ে বের হন। ঘুরতে যান স্বল্প পরিসরে বন্ধু বান্ধব ও আত্মীয় স্বজনের বাসায়। সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে সবাই একত্রিত হয়ে মেতে ওঠেন নানা গল্প আর আড্ডায়। উঠে আসে ঈদ আনন্দের সঙ্গে কোভিড-১৯ এর বর্তমান ও ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি। দেশের বর্তমান অবস্থা, রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সাম্প্রতিককালে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন বিষয়।

ক্যালগেরির মতোই অটোয়া, টরেন্টো, মনট্রিলসহ কানাডাজুড়ে বর্ণাঢ্য আয়োজনে ঈদ উদযাপন করলেও কোথায় যেন ছিল এক শূন্যতা। সাম্প্রতিক কোভিড-১৯ আর গত ৬ মাসে প্রিয়জন হারানোর বেদনা প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে এখনো আতঙ্ক বিরাজ করছে।

ঈদের দিনে সন্ধ্যায় বাঙালির চিরাচরিত আড্ডার পাশাপাশি চলে ঈদ উপলক্ষে নানা সুস্বাদু খাবার। বিরিয়ানি, পোলাও, কোর্মা, মাংসের চপ, রোস্ট, জর্দা আর গৃহবধূদের নিজ হাতের তৈরি দইসহ নানামাত্রিক রান্না করা খাবার। থাকছে মধু মাসের মধু ফল আমও।

প্রবাসীদের মহামিলনের পাশাপাশি প্রবাস থেকে দেশের আত্মীয় স্বজনের সঙ্গেও চলে টেলিফোনে আলাপচারিতা। এই আলাপে কারো কারো নয়ন ভেসে আসে জলে। অশ্রুসিক্ত নয়নে দেশে একসঙ্গে ঈদ না করতে পারার আক্ষেপ।

এবিএম কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রেসিডেন্ট ড. মো. বাতেন বলেন, ‘বাংলাদেশের মত আনন্দ করে এখানে ঈদ হয় না। আর তাছাড়া এ বছর দুটি ঈদই আমরা পালন করলাম এক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে। বিশ্ববাসী আজ এক কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে দিন অতিক্রম করছে । এমন ঈদ তো কখনোই কাম্য নয়। সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা।’

ঈদের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে ক্যালগেরির মইদুল অনু বলেন, ‘ঈদ আবার আসবে কিন্তু শারীরিক সুস্থতাটাই এই মুহূর্তে গুরুত্বপূর্ণ। ঘরে বসেই ঈদ পালন করছি, সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে।’ প্রয়োজন না হলে সবাইকে ঘরে থাকার ও পরামর্শ দেন তিনি।

ঈদের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে ক্যালগেরির মাহমুদ হাসান দীপু বলেন, ‘খুব মিস করি শৈশবের সেই আনন্দের ঈদকে। সেই সময় আর কখনোই ফিরে পাওয়ার নয়। ব্যস্ততময় এই প্রবাস জীবনে পরিবার আর বন্ধুবান্ধবদের নিয়ে যদিও ঈদ করি, কিন্তু সেই সময়ের ঈদ এখন কেবলই স্মৃতি।’

বেঙ্গল ফার্মেসি ও কমিউনিটি আর এক্স বাংলাদেশি ফার্মেসি গ্রুপের চেয়ারম্যান ও সত্ত্বাধিকারী ড. ইব্রাহিম খান আবেগে আপ্লুত হয়ে বলেন, ‘সবই আছে শুধু সময়টাই নেই। খুব বেশি মিস করি ওই সময়কে।’

ক্যালগেরির বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পী সোহাগ হাসান বলেন, ‘ঈদের দিন সময় বের করে বাংলাদেশের আত্মীয় স্বজন বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে ফোনে কথা হয়। শুধু এতটুকুই। সময় বড়ই নিষ্ঠুর ইচ্ছে করলেই সব কিছু হয় না। তবু প্রবাসের ঈদ পরিবার পরিজন নিয়ে উপভোগ করি আনন্দ করি।’

ঈদের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে ক্যালগেরির টমবেকার ক্যানসার সেন্টারের ক্লিনিক্যাল রিসার্চ কো-অর্ডিনেটর আহমেদ হোসেন শাহিন বলেন, ‘খুব মিস করি শৈশবের সেই আনন্দের ঈদকে। সেই দিন সময় আর কখনোই ফিরে পাবার নয়। ব্যস্ততময় এই প্রবাস জীবনে পরিবার আর বন্ধুবান্ধবের নিয়ে যদিও ঈদ করি, কিন্তু সেই সময়ের ঈদ এখন কেবলই স্মৃতি।’

প্রবাসীরা বলেন, ‘চলার পথে রাজধানী ঢাকা শহরের মতো এখানে কোনো যানজট না থাকলেও এখান থেকে ইচ্ছে করলেই বাস আর ট্রেনের টিকিট কেটে দেশের বাড়িতে যাওয়া যায় না। দেখা হয় না মমতাময়ী মা বাবা পরিবার পরিজনদের সঙ্গে। তাই তো তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে আপনজনদের খোঁজ খবর আর মোবাইল ফোনে তাদের ডিজিটাল হাসির ছবি দেখেই পালন করতে হয় প্রবাসীদের ঈদ উৎসব।’

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: jugantor.mail@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত