কোথায় গেল নাজিব রাজাকের লোপাট করা কয়েকশ কোটি ডলার
jugantor
কোথায় গেল নাজিব রাজাকের লোপাট করা কয়েকশ কোটি ডলার

  অনলাইন ডেস্ক  

০৫ আগস্ট ২০২০, ১২:১৭:১২  |  অনলাইন সংস্করণ

মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাকের ১২ বছরের কারাদণ্ড হয়েছে কয়েকশ কোটি ডলারের অর্থ কেলেঙ্কারিতে।

রাজাকের বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত আনা দুর্নীতির সাতটি অভিযোগেই তিনি দোষী প্রমাণিত হয়েছেন। এ দুর্নীতি বলা হচ্ছে– বিশ্বের সবচেয়ে বড় আর্থিক কেলেঙ্কারিগুলোর অন্যতম, যার জাল জড়িয়ে পড়েছিল এশিয়া থেকে হলিউড পর্যন্ত। খবর বিবিসির।

ওয়ান মালয়েশিয়ান ডেভেলপমেন্ট বেরহাদ বা ওয়ানএমডিবি একটি রাষ্ট্রীয় তহবিল, যা গঠন করা হয় ২০০৯ সালে যখন নাজিব রাজাক দেশটির প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।

মালয়েশিয়ার অর্থনৈতিক উন্নতির জন্য তহবিল সংগ্রহের লক্ষ্যে এই প্রকল্প নেয়া হয়েছিল। মালয়েশিয়ার জনগণকে সাহায্য করার জন্য গঠিত এ তহবিল থেকে কয়েকশ কোটি ডলার অর্থ হাওয়া হয়ে যায়, বিশ্ব অর্থনীতির কালো গহ্বরে কোথায় হারিয়ে যায় সেই বিপুল পরিমাণ অর্থ।

আমেরিকান ও মালয়েশীয় কৌঁসুলিরা বলেছেন, এই অর্থ কিছু ক্ষমতাশালী ব্যক্তির পকেটে গেছে। এ ছাড়া তা দিয়ে কেনা হয়েছে বিলাসবহুল ভবন, ব্যক্তিগত জেটবিমান, ভ্যান গগ এবং মনের মতো বিখ্যাত চিত্রশিল্পীদের চিত্রকর্ম ও নির্মাণ করা হয়েছে হলিউডের ব্লকবাস্টার হিট ছবি।

কৌঁসুলিরা জানিয়েছেন, তহবিল থেকে সরানো হয়েছে ৪৫০ কোটি ডলার, যা গেছে বিভিন্ন ব্যক্তির পকেটে।

এই ওয়ানএমডিবি কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িয়ে আছে অন্তত ছয়টি দেশ। বিপুল পরিমাণ অর্থের লেনদেনের সন্ধানে তদন্ত চালানো হয়েছে সুইস ব্যাংক থেকে শুরু করে যেসব বিভিন্ন দ্বীপরাষ্ট্র কর মওকুফের স্বর্গরাজ্য সেসব দ্বীপের ব্যাংকগুলোতে এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মূল কেন্দ্রে।

এ কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে থাকা চরিত্র এবং গল্পের প্লট ধারাবাহিক রোমহর্ষক কাহিনির মতো মুখরোচক।

আন্তর্জাতিক পরিসরে যেসব ক্ষমতাশালী এই অর্থে লাভবান হয়েছেন বলে অভিযোগ, তাদের কাছে কীভাবে এই অর্থ পৌঁছল তার ওপর ধৈর্য ধরে নজর রেখেছিলেন যেসব সাংবাদিক, তাদের রিপোর্টে উঠে এসেছে এই রোমাঞ্চকর গল্প।
 
গল্পের মূল নায়ক মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক। মালয়েশিয়ার অর্থনৈতিক উন্নতির জন্য ২০০৯ সালে 'দৃঢ় ও সাহসী' পদক্ষেপ নিয়ে তিনি একটি রাষ্ট্রীয় তহবিল গঠন করেছিলেন।

একসময় ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকা এই ব্যক্তির ওই সাহসী পদক্ষেপই নয় বছর পর তাকে কালিমালিপ্ত করে এবং তার রাজনৈতিক পতনের কারণ হয়।

নাজিব রাজাককে বুঝতে হলে তার শিকড়ের দিকে আগে দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন। তিনি মালয়েশিয়ার দ্বিতীয় প্রধানমন্ত্রী আবদুল রাজাকের বড় ছেলে এবং দেশটির তৃতীয় প্রধানমন্ত্রীর ভাইপো।

রাজনৈতিক পরিবারে তার বেড়ে ওঠা। ২০০৯ সালে তিনি যখন প্রধানমন্ত্রী হন এবং মালয়েশিয়ার রাজনীতিতে ৫০ বছরের ওপর আধিপত্য করা দলের প্রধানের দায়িত্ব নেন তখন কেউ-ই বিস্মিত হয়নি। বরং সবাই জানত রাজনৈতিক বংশ পরম্পরায় এটিই ছিল তার ভবিতব্য।

নাজিব তার মাধ্যমিক স্কুলশিক্ষা শেষ করেন যুক্তরাজ্যের নামকরা বেসরকারি স্কুল মালর্ভান কলেজে। এর পর তিনি ইংল্যান্ডের নটিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিল্প খাতের অর্থনীতি নিয়ে পড়াশোনা করেন।

ইসলামের 'মধ্যপন্থাকে' গুরুত্ব দিয়ে তার কথাবার্তার কারণে তিনি ডেভিড ক্যামেরন এবং বারাক ওবামার মতো পশ্চিমা নেতাদের আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন।

এ বছরের জুলাইয়ের ২৮ তারিখে ওয়ানএমডিবি কেলেঙ্কারিতে জড়িত প্রথম সাতটি দুর্নীতির মামলায় ক্ষমতা অপব্যবহারের দায়ে তাকে ১২ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। অর্থ সাদা করা ও বিশ্বাস ভঙ্গের দায়ে ছয়টি মামলার প্রত্যেকটির জন্য ১০ বছর করে তাকে জেল দেয়া হয়।

সব কারাদণ্ডাদেশ একসঙ্গে প্রযোজ্য হবে, তবে আপিল না করা পর্যন্ত এসব সাজা খাটা স্থগিত রাখা হচ্ছে।

কুয়ালালামপুর হাইকোর্টের বিচারক মোহামেদ নাজলান মোহামেদ ঘাজালি বলেছেন, সব সাক্ষ্যপ্রমাণ বিবেচনা করে দেখা যাচ্ছে প্রসিকিউশন সন্দেহাতীতভাবে তার বিরুদ্ধে সব অভিযোগ প্রমাণ করতে সমর্থ হয়েছে।

নাজিব রায়ের পর সাংকাদিকদের বলেছেন, আমি অবশ্যই রায়ে সন্তুষ্ট নই। এটিই চূড়ান্ত রায় নয়, আপিল প্রক্রিয়ার পথ রয়েছে এবং আমাদের আশা আপিলে আমরা সফল হব।
 

কোথায় গেল নাজিব রাজাকের লোপাট করা কয়েকশ কোটি ডলার

 অনলাইন ডেস্ক 
০৫ আগস্ট ২০২০, ১২:১৭ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাকের ১২ বছরের কারাদণ্ড হয়েছে কয়েকশ কোটি ডলারের অর্থ কেলেঙ্কারিতে।

রাজাকের বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত আনা দুর্নীতির সাতটি অভিযোগেই তিনি দোষী প্রমাণিত হয়েছেন। এ দুর্নীতি বলা হচ্ছে– বিশ্বের সবচেয়ে বড় আর্থিক কেলেঙ্কারিগুলোর অন্যতম, যার জাল জড়িয়ে পড়েছিল এশিয়া থেকে হলিউড পর্যন্ত। খবর বিবিসির।

ওয়ান মালয়েশিয়ান ডেভেলপমেন্ট বেরহাদ বা ওয়ানএমডিবি একটি রাষ্ট্রীয় তহবিল, যা গঠন করা হয় ২০০৯ সালে যখন নাজিব রাজাক দেশটির প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।

মালয়েশিয়ার অর্থনৈতিক উন্নতির জন্য তহবিল সংগ্রহের লক্ষ্যে এই প্রকল্প নেয়া হয়েছিল। মালয়েশিয়ার জনগণকে সাহায্য করার জন্য গঠিত এ তহবিল থেকে কয়েকশ কোটি ডলার অর্থ হাওয়া হয়ে যায়, বিশ্ব অর্থনীতির কালো গহ্বরে কোথায় হারিয়ে যায় সেই বিপুল পরিমাণ অর্থ।

আমেরিকান ও মালয়েশীয় কৌঁসুলিরা বলেছেন, এই অর্থ কিছু ক্ষমতাশালী ব্যক্তির পকেটে গেছে। এ ছাড়া তা দিয়ে কেনা হয়েছে বিলাসবহুল ভবন, ব্যক্তিগত জেটবিমান, ভ্যান গগ এবং মনের মতো বিখ্যাত চিত্রশিল্পীদের চিত্রকর্ম ও নির্মাণ করা হয়েছে হলিউডের ব্লকবাস্টার হিট ছবি।

কৌঁসুলিরা জানিয়েছেন, তহবিল থেকে সরানো হয়েছে ৪৫০ কোটি ডলার, যা গেছে বিভিন্ন ব্যক্তির পকেটে।

এই ওয়ানএমডিবি কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িয়ে আছে অন্তত ছয়টি দেশ। বিপুল পরিমাণ অর্থের লেনদেনের সন্ধানে তদন্ত চালানো হয়েছে সুইস ব্যাংক থেকে শুরু করে যেসব বিভিন্ন দ্বীপরাষ্ট্র কর মওকুফের স্বর্গরাজ্য সেসব দ্বীপের ব্যাংকগুলোতে এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মূল কেন্দ্রে।

এ কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে থাকা চরিত্র এবং গল্পের প্লট ধারাবাহিক রোমহর্ষক কাহিনির মতো মুখরোচক।

আন্তর্জাতিক পরিসরে যেসব ক্ষমতাশালী এই অর্থে লাভবান হয়েছেন বলে অভিযোগ, তাদের কাছে কীভাবে এই অর্থ পৌঁছল তার ওপর ধৈর্য ধরে নজর রেখেছিলেন যেসব সাংবাদিক, তাদের রিপোর্টে উঠে এসেছে এই রোমাঞ্চকর গল্প।

গল্পের মূল নায়ক মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক। মালয়েশিয়ার অর্থনৈতিক উন্নতির জন্য ২০০৯ সালে 'দৃঢ় ও সাহসী' পদক্ষেপ নিয়ে তিনি একটি রাষ্ট্রীয় তহবিল গঠন করেছিলেন।

একসময় ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকা এই ব্যক্তির ওই সাহসী পদক্ষেপই নয় বছর পর তাকে কালিমালিপ্ত করে এবং তার রাজনৈতিক পতনের কারণ হয়।

নাজিব রাজাককে বুঝতে হলে তার শিকড়ের দিকে আগে দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন। তিনি মালয়েশিয়ার দ্বিতীয় প্রধানমন্ত্রী আবদুল রাজাকের বড় ছেলে এবং দেশটির তৃতীয় প্রধানমন্ত্রীর ভাইপো।

রাজনৈতিক পরিবারে তার বেড়ে ওঠা। ২০০৯ সালে তিনি যখন প্রধানমন্ত্রী হন এবং মালয়েশিয়ার রাজনীতিতে ৫০ বছরের ওপর আধিপত্য করা দলের প্রধানের দায়িত্ব নেন তখন কেউ-ই বিস্মিত হয়নি। বরং সবাই জানত রাজনৈতিক বংশ পরম্পরায় এটিই ছিল তার ভবিতব্য।

নাজিব তার মাধ্যমিক স্কুলশিক্ষা শেষ করেন যুক্তরাজ্যের নামকরা বেসরকারি স্কুল মালর্ভান কলেজে। এর পর তিনি ইংল্যান্ডের নটিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিল্প খাতের অর্থনীতি নিয়ে পড়াশোনা করেন।

ইসলামের 'মধ্যপন্থাকে' গুরুত্ব দিয়ে তার কথাবার্তার কারণে তিনি ডেভিড ক্যামেরন এবং বারাক ওবামার মতো পশ্চিমা নেতাদের আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন।

এ বছরের জুলাইয়ের ২৮ তারিখে ওয়ানএমডিবি কেলেঙ্কারিতে জড়িত প্রথম সাতটি দুর্নীতির মামলায় ক্ষমতা অপব্যবহারের দায়ে তাকে ১২ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। অর্থ সাদা করা ও বিশ্বাস ভঙ্গের দায়ে ছয়টি মামলার প্রত্যেকটির জন্য ১০ বছর করে তাকে জেল দেয়া হয়।

সব কারাদণ্ডাদেশ একসঙ্গে প্রযোজ্য হবে, তবে আপিল না করা পর্যন্ত এসব সাজা খাটা স্থগিত রাখা হচ্ছে।

কুয়ালালামপুর হাইকোর্টের বিচারক মোহামেদ নাজলান মোহামেদ ঘাজালি বলেছেন, সব সাক্ষ্যপ্রমাণ বিবেচনা করে দেখা যাচ্ছে প্রসিকিউশন সন্দেহাতীতভাবে তার বিরুদ্ধে সব অভিযোগ প্রমাণ করতে সমর্থ হয়েছে।

নাজিব রায়ের পর সাংকাদিকদের বলেছেন, আমি অবশ্যই রায়ে সন্তুষ্ট নই। এটিই চূড়ান্ত রায় নয়, আপিল প্রক্রিয়ার পথ রয়েছে এবং আমাদের আশা আপিলে আমরা সফল হব।