ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলা করবে টিকটক!
jugantor
ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলা করবে টিকটক!

  অনলাইন ডেস্ক  

০৭ আগস্ট ২০২০, ২১:১৫:৪০  |  অনলাইন সংস্করণ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
ছবি: সংগৃহীত

ভিডিও শেয়ারিং অ্যাপ টিকটক ইউএসের মালিক কোম্পানি বাইটড্যান্স ও উইচ্যাটের মালিক টেনসেন্টের সঙ্গে সব ধরনের আর্থিক লেনদেনে নিষেধাজ্ঞা জারি করে নির্বাহী আদেশে সই করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেয়ার হুমকি দিয়েছে টিকটক মালিক কোম্পাসি বাইটড্যান্স।খবর বিবিসি ও এপির। 

বৃহস্পতিবার রাতে জারি করা ট্রাম্পের এই নির্বাহী আদেশে বলা হয়েছে, ‘দেশের নিরাপত্তার সুরক্ষায় টিকটক ও তার স্বত্বাধিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে আমেরিকা।’ নির্বাহী আদেশটি কার্যকর হবে ৪৫ দিন পর। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রে বাইটড্যান্স এবং টেনসেন্টের সঙ্গে যে কোনো ধরনের লেনদেন নিষিদ্ধ হয়ে যাবে। এর ফলে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ল আমেরিকা-চীন সম্পর্কে।

ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে ক্ষোভে ফুঁসছে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সরকার। সরাসরি হুশিয়ারি দিয়ে বলেছে, চরম ভুল করছে আমেরিকা। তাদেরকে এখনই ভুল সংশোধন করতে হবে।  

যুক্তরাষ্ট্রে দারুণ জনপ্রিয় হয়ে ওঠা টিকটকের মাধ্যমে মার্কিন নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেয়া হতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন মার্কিন বিশেষজ্ঞরা। তবে এই অ্যাপের ওপর চীন সরকারের নিয়ন্ত্রণ বা সরকারকে তথ্য জোগানোর অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে টিকটক। 

বাণিজ্য যুদ্ধ, হংকংয়ে চীনের আধিপত্য, দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি এবং করোনাভাইরাস মহামারীর মতো বিষয় নিয়ে সম্প্রতি বেইজিংয়ের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্কের অবনতির মধ্যে গত ১ আগস্টে টিকটক নিষিদ্ধ করার ইঙ্গিত দেন ট্রাম্প। তারই ধারাবাহিকতায় গত সপ্তাহেই কোনো মার্কিন কোম্পানির কাছে টিকটক ইউএস বিক্রি করে দেয়ার ৪৫ দিনের আল্টিমেটাম দেন তিনি। বলেন, এই সময়ের মধ্যে বিক্রি না করলে অ্যাপটি বন্ধ করে দেয়া হবে।   

এবার টিকটকের সঙ্গে চীনের জনপ্রিয় অ্যাপ উইচ্যাটের বিরুদ্ধে দুটি আলাদা নির্বাহী আদেশ দেন ট্রাম্প। নির্দেশে স্পষ্টই বলা হয়েছে, ‘মার্কিন মুলুকে বসবাসকারীদের কেউই আগামী সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে বাইটড্যান্সের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক রাখতে পারবেন না। কোনো রকম ব্যবসায়িক লেনদেনও করা যাবে না।’ 

আরও বলা হয়েছে, মার্কিন মুলুকে বসবাসকারীদের যাবতীয় গোপনীয় তথ্যাদি, ব্যবসা, বাণিজ্য ও তথ্যপ্রযুক্তির সুরক্ষার জন্যই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।  ট্রাম্পের দাবি, অ্যাপ ব্যবহারকারীদের যেসব তথ্য টিকটক নেয়, তার মাধ্যমে তারা যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ‘ট্র্যাক’ করতে পারবে, তাদের ‘ব্ল্যাকমেইল’ করার জন্য ব্যক্তিগত তথ্য জড়ো করতে পারবে কিংবা ‘কর্পোরেট গুপ্তচরবৃত্তি’ চালাতে পারবে। হংকংয়ের বিক্ষোভ কিংবা উইঘুরের মুসলমানদের ওপর নিপীড়নের মতো ‘স্পর্শকাতর রাজনৈতিক’ বিষয়গুলো টিকটক ‘সেন্সর’ করে- এমন খবর পাওয়ার কথাও ট্রাম্প তার আদেশে বলেছেন।

ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্তে ভীষণভাবে ক্ষুব্ধ হয়েছে চীন। জিনপিং প্রশাসনের পক্ষ থেকে রীতিমতো আমেরিকাকে সতর্ক করে বলা হয়েছে ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ট্রাম্প। অবিলম্বে এই ভুল সংশোধন করা উচিত তাদের। আমেরিকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যনীতি লঙ্ঘন করছে বলে পাল্টা অভিযোগও করেছে বেইজিং। 

আর টিকটক স্বত্বাধিকারী কোম্পানি বাইটড্যান্স বলেছে, ট্রাম্পের এই নির্বাহী আদেশে তারা ‘শকড’ হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের হুমকিও দিয়েছে কোম্পানিটি। আইনের শাসন নিশ্চিত করতে যা কিছু সম্ভব তার সবই করা হবে বলেও প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে। উইচ্যাট মালিক টেনসেন্ট বলেছে, নির্বাহী আদেশটি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। 

কানাডার অ্যালুমিনিয়ামে ১০ শতাংশ শুল্কারোপ : কানাডা থেকে আমদানি করা অ্যালুমিনিয়ামের ওপর নতুন করে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। 

বৃহস্পতিবার এক নির্দেশে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেন ট্রাম্প। মার্কিন শিল্পরক্ষার জন্য এটি করা হয়েছে বলে জানান তিনি। বিবিসি জানায়, এর আগে জাতীয় সুরক্ষার কথা বলে ২০১৮ সালে ইস্পাতের ওপর ২৫ শতাংশ ও অ্যালুমিনিয়ামের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিলেন ট্রাম্প। 

পরে গত বছর ওই শুল্ক উঠিয়ে নেয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছায় কানাডা। প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্র–ডো সম্প্রতি বলেন, নতুন শুল্ক আরোপের কোনো যৌক্তিকতা নেই। তবে বৃহস্পতিবার নতুন করে শুল্কারোপের সাফাই গেয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘মার্কিন অ্যালুমিনিয়াম শিল্পকে রক্ষার জন্য শুল্কের প্রয়োজনীয়তা ছিল। কারণ কানাডার উৎপাদকেরা সস্তা পণ্য দিয়ে মার্কিন বাজারে সয়লাব না করার যে প্রতিশ্র“তি দিয়েছিল, তা ভঙ্গ করেছেন।’ 
 

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলা করবে টিকটক!

 অনলাইন ডেস্ক 
০৭ আগস্ট ২০২০, ০৯:১৫ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
ছবি: সংগৃহীত

ভিডিও শেয়ারিং অ্যাপ টিকটক ইউএসের মালিক কোম্পানি বাইটড্যান্স ও উইচ্যাটের মালিক টেনসেন্টের সঙ্গে সব ধরনের আর্থিক লেনদেনে নিষেধাজ্ঞা জারি করে নির্বাহী আদেশে সই করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেয়ার হুমকি দিয়েছে টিকটক মালিক কোম্পাসি বাইটড্যান্স।খবর বিবিসি ও এপির।

বৃহস্পতিবার রাতে জারি করা ট্রাম্পের এই নির্বাহী আদেশে বলা হয়েছে, ‘দেশের নিরাপত্তার সুরক্ষায় টিকটক ও তার স্বত্বাধিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে আমেরিকা।’ নির্বাহী আদেশটি কার্যকর হবে ৪৫ দিন পর। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রে বাইটড্যান্স এবং টেনসেন্টের সঙ্গে যে কোনো ধরনের লেনদেন নিষিদ্ধ হয়ে যাবে। এর ফলে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ল আমেরিকা-চীন সম্পর্কে।

ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে ক্ষোভে ফুঁসছে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সরকার। সরাসরি হুশিয়ারি দিয়ে বলেছে, চরম ভুল করছে আমেরিকা। তাদেরকে এখনই ভুল সংশোধন করতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রে দারুণ জনপ্রিয় হয়ে ওঠা টিকটকের মাধ্যমে মার্কিন নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেয়া হতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন মার্কিন বিশেষজ্ঞরা। তবে এই অ্যাপের ওপর চীন সরকারের নিয়ন্ত্রণ বা সরকারকে তথ্য জোগানোর অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে টিকটক।

বাণিজ্য যুদ্ধ, হংকংয়ে চীনের আধিপত্য, দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি এবং করোনাভাইরাস মহামারীর মতো বিষয় নিয়ে সম্প্রতি বেইজিংয়ের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্কের অবনতির মধ্যে গত ১ আগস্টে টিকটক নিষিদ্ধ করার ইঙ্গিত দেন ট্রাম্প। তারই ধারাবাহিকতায় গত সপ্তাহেই কোনো মার্কিন কোম্পানির কাছে টিকটক ইউএস বিক্রি করে দেয়ার ৪৫ দিনের আল্টিমেটাম দেন তিনি। বলেন, এই সময়ের মধ্যে বিক্রি না করলে অ্যাপটি বন্ধ করে দেয়া হবে।

এবার টিকটকের সঙ্গে চীনের জনপ্রিয় অ্যাপ উইচ্যাটের বিরুদ্ধে দুটি আলাদা নির্বাহী আদেশ দেন ট্রাম্প। নির্দেশে স্পষ্টই বলা হয়েছে, ‘মার্কিন মুলুকে বসবাসকারীদের কেউই আগামী সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে বাইটড্যান্সের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক রাখতে পারবেন না। কোনো রকম ব্যবসায়িক লেনদেনও করা যাবে না।’

আরও বলা হয়েছে, মার্কিন মুলুকে বসবাসকারীদের যাবতীয় গোপনীয় তথ্যাদি, ব্যবসা, বাণিজ্য ও তথ্যপ্রযুক্তির সুরক্ষার জন্যই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ট্রাম্পের দাবি, অ্যাপ ব্যবহারকারীদের যেসব তথ্য টিকটক নেয়, তার মাধ্যমে তারা যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ‘ট্র্যাক’ করতে পারবে, তাদের ‘ব্ল্যাকমেইল’ করার জন্য ব্যক্তিগত তথ্য জড়ো করতে পারবে কিংবা ‘কর্পোরেট গুপ্তচরবৃত্তি’ চালাতে পারবে। হংকংয়ের বিক্ষোভ কিংবা উইঘুরের মুসলমানদের ওপর নিপীড়নের মতো ‘স্পর্শকাতর রাজনৈতিক’ বিষয়গুলো টিকটক ‘সেন্সর’ করে- এমন খবর পাওয়ার কথাও ট্রাম্প তার আদেশে বলেছেন।

ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্তে ভীষণভাবে ক্ষুব্ধ হয়েছে চীন। জিনপিং প্রশাসনের পক্ষ থেকে রীতিমতো আমেরিকাকে সতর্ক করে বলা হয়েছে ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ট্রাম্প। অবিলম্বে এই ভুল সংশোধন করা উচিত তাদের। আমেরিকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যনীতি লঙ্ঘন করছে বলে পাল্টা অভিযোগও করেছে বেইজিং।

আর টিকটক স্বত্বাধিকারী কোম্পানি বাইটড্যান্স বলেছে, ট্রাম্পের এই নির্বাহী আদেশে তারা ‘শকড’ হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের হুমকিও দিয়েছে কোম্পানিটি। আইনের শাসন নিশ্চিত করতে যা কিছু সম্ভব তার সবই করা হবে বলেও প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে। উইচ্যাট মালিক টেনসেন্ট বলেছে, নির্বাহী আদেশটি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

কানাডার অ্যালুমিনিয়ামে ১০ শতাংশ শুল্কারোপ : কানাডা থেকে আমদানি করা অ্যালুমিনিয়ামের ওপর নতুন করে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

বৃহস্পতিবার এক নির্দেশে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেন ট্রাম্প। মার্কিন শিল্পরক্ষার জন্য এটি করা হয়েছে বলে জানান তিনি। বিবিসি জানায়, এর আগে জাতীয় সুরক্ষার কথা বলে ২০১৮ সালে ইস্পাতের ওপর ২৫ শতাংশ ও অ্যালুমিনিয়ামের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিলেন ট্রাম্প।

পরে গত বছর ওই শুল্ক উঠিয়ে নেয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছায় কানাডা। প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্র–ডো সম্প্রতি বলেন, নতুন শুল্ক আরোপের কোনো যৌক্তিকতা নেই। তবে বৃহস্পতিবার নতুন করে শুল্কারোপের সাফাই গেয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘মার্কিন অ্যালুমিনিয়াম শিল্পকে রক্ষার জন্য শুল্কের প্রয়োজনীয়তা ছিল। কারণ কানাডার উৎপাদকেরা সস্তা পণ্য দিয়ে মার্কিন বাজারে সয়লাব না করার যে প্রতিশ্র“তি দিয়েছিল, তা ভঙ্গ করেছেন।’

 

ঘটনাপ্রবাহ : চীন-মার্কিন সম্পর্কের অবনতি