লেবাননে কেমন সরকার চায় ফ্রান্স?
jugantor
লেবাননে কেমন সরকার চায় ফ্রান্স?

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক  

১৪ আগস্ট ২০২০, ২১:৪৭:০৮  |  অনলাইন সংস্করণ

ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর লেবানন সফর করেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ।
ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর লেবানন সফর করেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। ফাইল ছবি

সরকারের সীমাহীন দুর্নীতি ও অদক্ষতাকে দায়ী করে বিস্ফোরণের পর নতুন করে বিক্ষোভের মধ্যে চলতি সপ্তাহে পদত্যাগ করে লেবানন সরকার। তবে নতুন সরকার গঠন না হওয়া পর্যন্ত ওই সরকারই দায়িত্ব পালন করবে। ইতোমধ্যে নতুন সরকার গঠনে আলাপ-আলোচনা শুরু হয়েছে।

চলতি মাসের শুরুর দিকে (৪ আগস্ট) লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ভয়াবহ রাসায়নিক বিস্ফোরণে বৈরুত বন্দরনগরী ও এর আশপাশের পুরো এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। এতে ঘরবাড়ি হারিয়ে উদ্বাস্তু হয়েছেন অন্তত ৩ লাখ অধিবাসী। ফলে আগে থেকে নানা সংকটে ধুঁকতে থাকা লেবানন অর্থনৈতিকভাবে এখন কার্যত পঙ্গু। ওই বিস্ফোরণের দু’দিন পরই প্রথম কোনো রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে বৈরুত সফর করেন ম্যাক্রো।

লেবাননকে উদ্ধারে একটি টেকনোক্র্যাট সরকার চান ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। নতুন ধরনের সরকার গঠনে দেশটির রাজনৈতিক নেতাদের বারবার তাগিদ দিচ্ছেন তিনি। শাসন ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কার করা, সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং দেশের পুনর্গঠনে বিদেশি দাতাগোষ্ঠীগুলোর দেয়া সহায়তার অর্থের সুষ্ঠু ও যথার্থ ব্যবহারের লক্ষ্যে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সরকার গঠন চাচ্ছেন ম্যাক্রো।

নতুন এ সরকারের প্রধান হিসেবে সাবেক দু’বারের প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরিকে ফিরিয়ে আনার প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। তবে তার এ প্রস্তাব মানতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট মিশেল আউন ও খ্রিস্টান দলগুলো।

ফরাসি কূটনৈতিক সূত্র ও লেবাননের সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে রয়টার্স।

ফ্রান্সের কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স বলেছে, ওই সফরেই লেবাননে পুনর্গঠনে দেশটির নেতাদের নতুন ধরনের সরকার গঠনের ব্যাপারে বার্তা দেন তিনি।


লেবানন সরকারের অন্তত তিনটি সূত্র জানিয়েছে, প্রধানত যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সের নেতৃত্বে লেবাননের সংকটের সমাধানে এগিয়ে আসছে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন দাতাগোষ্ঠী। আর এই প্রচেষ্টার কেন্দ্রে রয়েছেন ম্যাক্রো।

লেবাননের ব্যাপারে ম্যাক্রোর মনোভাব ও দৃষ্টিভঙ্গির ব্যাপারে অবগত ফ্রান্সের কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলেছে, ‘প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রো লেবাননে একটা টেকনোক্র্যাট সরকার চান। তাদের কাজ হবে, জরুরিভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সংস্কার সাধন, বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার জরুরি ত্রান-সহায়তার সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণে সাড়া দেয়া।’

সূত্রগুলো আরও বলছে, এ মুহূর্তে লেবাননের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন আন্তর্জাতিক সহায়তা। আর সে কাজটিই সহজ করে দিতে চান ম্যাক্রো। সেই লক্ষ্যে প্রথমে একেবারেই নতুন একটি প্রশাসনিক ব্যবস্থা চান তিনি। মূলত যাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ নেই এবং বিদেশি দাতাগোষ্ঠীগুলো যাদের যোগ্য মনে করে, তাদের নিয়েই নতুন প্রশাসন গড়ে তোলা হবে। লেবাননের একজন
সিনিয়র রাজনীতিক বলছেন, ‘বৈরুত সফরের পর থেকে ম্যাক্রোই যেন লেবাননের প্রেসিডেন্ট।’

ওই রাজনীতিক আরও বলেন, তিনিই ব্যক্তিগতভাবে লেবাননের প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোকে এক টেবিলে বসার আহ্বান জানাচ্ছেন। দাতাগোষ্ঠীগুলোকেও সহযোগিতার হাত বাড়াতে বলছেন তিনি। ম্যাক্রোর এ দৌড়ঝাঁপকে ইতিবাচকভাবেই দেখছেন ওই রাজনীতিক। তার ভাষায়, ‘এটা খারাপ কিছু নয়। কারণ দেশে এ ভূমিকা পালন করার মতো এখন কেউ নেই। কারও প্রতিই বিশ্বাস নেই।’  

রয়টার্স জানায়, বিধ্বস্ত বৈরুতের পুনর্নির্মাণেই ব্যয় হবে অন্তত ৩ হাজার কোটি ডলার। বিশাল পরিমাণ এ অর্থের জোগান দেয়ার সক্ষমতা লেবাননের নেই। তবে সময়ের সঠিক ব্যবহার ও উপযুক্ত সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দেশটি এই অর্থ সহজেই জোগাড় করতে পারে বলে মনে করছেন ফরাসি কর্মকর্তারা।

লেবাননে কেমন সরকার চায় ফ্রান্স?

 আন্তর্জাতিক ডেস্ক 
১৪ আগস্ট ২০২০, ০৯:৪৭ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর লেবানন সফর করেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ।
ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর লেবানন সফর করেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। ফাইল ছবি

সরকারের সীমাহীন দুর্নীতি ও অদক্ষতাকে দায়ী করে বিস্ফোরণের পর নতুন করে বিক্ষোভের মধ্যে চলতি সপ্তাহে পদত্যাগ করে লেবানন সরকার। তবে নতুন সরকার গঠন না হওয়া পর্যন্ত ওই সরকারই দায়িত্ব পালন করবে। ইতোমধ্যে নতুন সরকার গঠনে আলাপ-আলোচনা শুরু হয়েছে।

চলতি মাসের শুরুর দিকে (৪ আগস্ট) লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ভয়াবহ রাসায়নিক বিস্ফোরণে বৈরুত বন্দরনগরী ও এর আশপাশের পুরো এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। এতে ঘরবাড়ি হারিয়ে উদ্বাস্তু হয়েছেন অন্তত ৩ লাখ অধিবাসী। ফলে আগে থেকে নানা সংকটে ধুঁকতে থাকা লেবানন অর্থনৈতিকভাবে এখন কার্যত পঙ্গু। ওই বিস্ফোরণের দু’দিন পরই প্রথম কোনো রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে বৈরুত সফর করেন ম্যাক্রো।

লেবাননকে উদ্ধারে একটি টেকনোক্র্যাট সরকার চান ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। নতুন ধরনের সরকার গঠনে দেশটির রাজনৈতিক নেতাদের বারবার তাগিদ দিচ্ছেন তিনি। শাসন ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কার করা, সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং দেশের পুনর্গঠনে বিদেশি দাতাগোষ্ঠীগুলোর দেয়া সহায়তার অর্থের সুষ্ঠু ও যথার্থ ব্যবহারের লক্ষ্যে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সরকার গঠন চাচ্ছেন ম্যাক্রো।

নতুন এ সরকারের প্রধান হিসেবে সাবেক দু’বারের প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরিকে ফিরিয়ে আনার প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। তবে তার এ প্রস্তাব মানতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট মিশেল আউন ও খ্রিস্টান দলগুলো।

ফরাসি কূটনৈতিক সূত্র ও লেবাননের সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে রয়টার্স।

ফ্রান্সের কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স বলেছে, ওই সফরেই লেবাননে পুনর্গঠনে দেশটির নেতাদের নতুন ধরনের সরকার গঠনের ব্যাপারে বার্তা দেন তিনি।


লেবানন সরকারের অন্তত তিনটি সূত্র জানিয়েছে, প্রধানত যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সের নেতৃত্বে লেবাননের সংকটের সমাধানে এগিয়ে আসছে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন দাতাগোষ্ঠী। আর এই প্রচেষ্টার কেন্দ্রে রয়েছেন ম্যাক্রো।

লেবাননের ব্যাপারে ম্যাক্রোর মনোভাব ও দৃষ্টিভঙ্গির ব্যাপারে অবগত ফ্রান্সের কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলেছে, ‘প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রো লেবাননে একটা টেকনোক্র্যাট সরকার চান। তাদের কাজ হবে, জরুরিভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সংস্কার সাধন, বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার জরুরি ত্রান-সহায়তার সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণে সাড়া দেয়া।’

সূত্রগুলো আরও বলছে, এ মুহূর্তে লেবাননের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন আন্তর্জাতিক সহায়তা। আর সে কাজটিই সহজ করে দিতে চান ম্যাক্রো। সেই লক্ষ্যে প্রথমে একেবারেই নতুন একটি প্রশাসনিক ব্যবস্থা চান তিনি। মূলত যাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ নেই এবং বিদেশি দাতাগোষ্ঠীগুলো যাদের যোগ্য মনে করে, তাদের নিয়েই নতুন প্রশাসন গড়ে তোলা হবে। লেবাননের একজন
সিনিয়র রাজনীতিক বলছেন, ‘বৈরুত সফরের পর থেকে ম্যাক্রোই যেন লেবাননের প্রেসিডেন্ট।’

ওই রাজনীতিক আরও বলেন, তিনিই ব্যক্তিগতভাবে লেবাননের প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোকে এক টেবিলে বসার আহ্বান জানাচ্ছেন। দাতাগোষ্ঠীগুলোকেও সহযোগিতার হাত বাড়াতে বলছেন তিনি। ম্যাক্রোর এ দৌড়ঝাঁপকে ইতিবাচকভাবেই দেখছেন ওই রাজনীতিক। তার ভাষায়, ‘এটা খারাপ কিছু নয়। কারণ দেশে এ ভূমিকা পালন করার মতো এখন কেউ নেই। কারও প্রতিই বিশ্বাস নেই।’

রয়টার্স জানায়, বিধ্বস্ত বৈরুতের পুনর্নির্মাণেই ব্যয় হবে অন্তত ৩ হাজার কোটি ডলার। বিশাল পরিমাণ এ অর্থের জোগান দেয়ার সক্ষমতা লেবাননের নেই। তবে সময়ের সঠিক ব্যবহার ও উপযুক্ত সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দেশটি এই অর্থ সহজেই জোগাড় করতে পারে বলে মনে করছেন ফরাসি কর্মকর্তারা।

 
আরও খবর