তাবলিগ জামাত নিয়ে মোদি সরকারের কড়া সমালোচনা মুম্বাই হাইকোর্টের
jugantor
তাবলিগ জামাত নিয়ে মোদি সরকারের কড়া সমালোচনা মুম্বাই হাইকোর্টের

  অনলাইন ডেস্ক  

২২ আগস্ট ২০২০, ২২:৫৩:০৪  |  অনলাইন সংস্করণ

তাবলিগ জামাত নিয়ে মোদি সরকারের কড়া সমালোচনা মুম্বাই হাইকোর্টের

করোনাকালে তাবলিগ জামাত সদস্যদের সঙ্গে কেন্দ্র সরকারের আচরণের কড়া সমালোচনা করেছে মুম্বাই হাইকোর্ট। সে সময় মহারাষ্ট্র পুলিশ যন্ত্রচালিত পুতুলের মতো কাজ করেছে বলেও পর্যবেক্ষণে মত দিয়েছেআদালত।

শুক্রবার ২৯ জন বিদেশি তাবলিগ জামাত সদস্য এবং ৭ জন ভারতীয় সদস্যের বিরুদ্ধে মহারাষ্ট্রে দায়ের হওয়া এফআইআর বাতিল করে মুম্বাই হাইকোর্ট জানিয়ে দেয়, করোনাকালে তাদের ‘বলির পাঁঠা’ করা হয়েছিল। খবর এনডিটিভি ও আনন্দবাজার পত্রিকার।

নিজামুদ্দিন মার্কাজে যারা গিয়েছিলো, তাদের নিয়ে বড় ধরনের অপপ্রচার চালানো হয়েছিল বলেও মনে করে আদালত। নিরীহ ইসলাম প্রচারকদের নাজেহাল করা হলেও অন্য ধর্মের বিষয়ে চুপ থাকার বিষয়ও আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে।

পর্যটন ভিসায় এসে ধর্মপ্রচার, করোনা সংক্রান্ত নিয়মবিধি লঙ্ঘনের মতো একাধিক অভিযোগে কয়েক মাস আগে ৪০টি দেশের ২ হাজার ৫৫০ তাবলিগ জামাত সদস্যকে কালো তালিকাভুক্ত করে নরেন্দ্র মোদির সরকার।

দেশটির বিভিন্ন রাজ্যে তাদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়।

আনন্দবাজার জানিয়েছে, নিজামুদ্দিন মার্কাজে যোগ দেওয়ায় ওই ২৯ জন বিদেশি নাগরিকের বিরুদ্ধে জাতীয় মহামারী, বিপর্যয় মোকাবেলা এবং বিদেশি নাগরিক আইনে এফআইআর দায়ের হয়েছিল। তাদের বিরুদ্ধে মুম্বাই হাইকোর্টে একটি পিটিশন জমা পড়ে।

বিচারপতি এমডি সেওলিকর এবং টিভি নালাওয়াড়ের ডিভিশন বেঞ্চে শুক্রবার সেটির শুনানি হয়।

আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, ‘পুরো ঘটনায় যন্ত্রচালিত পুতুলের মতো কাজ করেছে মহারাষ্ট্র পুলিশ। রাজনৈতিক চাপে পড়ে জামাত সদস্যদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিয়েছে রাজ্য সরকার। নিজামুদ্দিন মার্কাজে যারা গিয়েছিলেন, তাদের নিয়ে বড় ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছিল।

দেশজুড়ে বিপর্যয় নেমে এলে, মহামারী পরিস্থিতি দেখা দিলে সরকার বলির পাঁঠা খোঁজার চেষ্টা করে। এ ক্ষেত্রে ওই বিদেশিদের বলির পাঁঠা করা হয়।’

মসজিদে এত সংখ্যক মানুষের একসঙ্গে থাকা নিয়ে শুরু থেকেই নানা প্রশ্ন উঠছে। সে প্রসঙ্গে আদালত বলে, ‘নথিপত্র ঘেঁটে দেখা গিয়েছে, ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ মার্চের মধ্যে ওই সব বিদেশি নাগরিক ভারতে এসেছিলেন। সেই সময় দেশে লকডাউন জারি হয়নি।

তাই লকডাউন জারি হওয়ার পর হোটেল-রেস্তরাঁগুলো যখন বন্ধ হয়ে যায়, সেই সময় মসজিদে কিছু মানুষকে আশ্রয় দেয়া অপরাধ নয়। তাতে আইন অমান্য করাও হয় না।

লকডাউন ঘোষণা হওয়ার পর একইভাবে পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য দরজা খুলে দিয়েছিল একাধিক গুরুদ্বার। এখানে বিতর্কের কেন্দ্র যে মসজিদ, জেলা প্রশাসনের নির্দেশে সেখানে সাধারণ মানুষের জমায়েত আগেই বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের কেউ ওই সময়ে মসজিদে নমাজ পড়তে গিয়েছেন, এমনটাও দেখা যায়নি। তাই নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ খাটে না।’

নিজামুদ্দিন মার্কাজে অংশ নেয়া তাবলিগ সদস্যদের বিরুদ্ধে সংক্রমণ ছড়ানোর অভিযোগ নিয়ে আদালত বলেন, ‘মসজিদে আশ্রয় নেয়া ওই বিদেশি নাগরিক এবং ভারতীয় মুসলিমরা কোনো উপদ্রবই করেননি। তাদের বিরুদ্ধে একটা অসন্তোষের আবহ তৈরি করার চেষ্টা চলছিল।

এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত যেসব নথিপত্র জমা পড়েছে, তাতে দেখা গিয়েছে, দিল্লির মার্কাজে আসা মুসলিমদের বিরুদ্ধেই শুধুমাত্র পদক্ষেপ করেছে কেন্দ্র। অথচ অন্য ধর্মের বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে তেমন কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি।’

তাবলিগ জামাত নিয়ে মোদি সরকারের কড়া সমালোচনা মুম্বাই হাইকোর্টের

 অনলাইন ডেস্ক 
২২ আগস্ট ২০২০, ১০:৫৩ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
তাবলিগ জামাত নিয়ে মোদি সরকারের কড়া সমালোচনা মুম্বাই হাইকোর্টের
ছবি: সংগৃহীত

করোনাকালে তাবলিগ জামাত সদস্যদের সঙ্গে কেন্দ্র সরকারের আচরণের কড়া সমালোচনা করেছে মুম্বাই হাইকোর্ট। সে সময় মহারাষ্ট্র পুলিশ যন্ত্রচালিত পুতুলের মতো কাজ করেছে বলেও পর্যবেক্ষণে মত দিয়েছে আদালত। 

শুক্রবার ২৯ জন বিদেশি তাবলিগ জামাত সদস্য এবং ৭ জন ভারতীয় সদস্যের বিরুদ্ধে মহারাষ্ট্রে দায়ের হওয়া এফআইআর বাতিল করে মুম্বাই হাইকোর্ট জানিয়ে দেয়, করোনাকালে তাদের ‘বলির পাঁঠা’ করা হয়েছিল। খবর এনডিটিভি ও আনন্দবাজার পত্রিকার। 

নিজামুদ্দিন মার্কাজে যারা গিয়েছিলো, তাদের নিয়ে বড় ধরনের অপপ্রচার চালানো হয়েছিল বলেও মনে করে আদালত। নিরীহ ইসলাম প্রচারকদের নাজেহাল করা হলেও অন্য ধর্মের বিষয়ে চুপ থাকার বিষয়ও আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে। 

পর্যটন ভিসায় এসে ধর্মপ্রচার, করোনা সংক্রান্ত নিয়মবিধি লঙ্ঘনের মতো একাধিক অভিযোগে কয়েক মাস আগে ৪০টি দেশের ২ হাজার ৫৫০ তাবলিগ জামাত সদস্যকে কালো তালিকাভুক্ত করে নরেন্দ্র মোদির সরকার। 

দেশটির বিভিন্ন রাজ্যে তাদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়। 

আনন্দবাজার জানিয়েছে, নিজামুদ্দিন মার্কাজে যোগ দেওয়ায় ওই ২৯ জন বিদেশি নাগরিকের বিরুদ্ধে জাতীয় মহামারী, বিপর্যয় মোকাবেলা এবং বিদেশি নাগরিক আইনে এফআইআর দায়ের হয়েছিল। তাদের বিরুদ্ধে মুম্বাই হাইকোর্টে একটি পিটিশন জমা পড়ে। 

বিচারপতি এমডি সেওলিকর এবং টিভি নালাওয়াড়ের ডিভিশন বেঞ্চে শুক্রবার সেটির শুনানি হয়।

আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, ‘পুরো ঘটনায় যন্ত্রচালিত পুতুলের মতো কাজ করেছে মহারাষ্ট্র পুলিশ। রাজনৈতিক চাপে পড়ে জামাত সদস্যদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিয়েছে রাজ্য সরকার। নিজামুদ্দিন মার্কাজে যারা গিয়েছিলেন, তাদের নিয়ে বড় ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছিল। 

দেশজুড়ে বিপর্যয় নেমে এলে, মহামারী পরিস্থিতি দেখা দিলে সরকার বলির পাঁঠা খোঁজার চেষ্টা করে। এ ক্ষেত্রে ওই বিদেশিদের বলির পাঁঠা করা হয়।’ 

মসজিদে এত সংখ্যক মানুষের একসঙ্গে থাকা নিয়ে শুরু থেকেই নানা প্রশ্ন উঠছে। সে প্রসঙ্গে আদালত বলে, ‘নথিপত্র ঘেঁটে দেখা গিয়েছে, ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ মার্চের মধ্যে ওই সব বিদেশি নাগরিক ভারতে এসেছিলেন। সেই সময় দেশে লকডাউন জারি হয়নি। 

তাই লকডাউন জারি হওয়ার পর হোটেল-রেস্তরাঁগুলো যখন বন্ধ হয়ে যায়, সেই সময় মসজিদে কিছু মানুষকে আশ্রয় দেয়া অপরাধ নয়। তাতে আইন অমান্য করাও হয় না। 

লকডাউন ঘোষণা হওয়ার পর একইভাবে পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য দরজা খুলে দিয়েছিল একাধিক গুরুদ্বার। এখানে বিতর্কের কেন্দ্র যে মসজিদ, জেলা প্রশাসনের নির্দেশে সেখানে সাধারণ মানুষের জমায়েত আগেই বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের কেউ ওই সময়ে মসজিদে নমাজ পড়তে গিয়েছেন, এমনটাও দেখা যায়নি। তাই নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ খাটে না।’

নিজামুদ্দিন মার্কাজে অংশ নেয়া তাবলিগ সদস্যদের বিরুদ্ধে সংক্রমণ ছড়ানোর অভিযোগ নিয়ে আদালত বলেন, ‘মসজিদে আশ্রয় নেয়া ওই বিদেশি নাগরিক এবং ভারতীয় মুসলিমরা কোনো উপদ্রবই করেননি। তাদের বিরুদ্ধে একটা অসন্তোষের আবহ তৈরি করার চেষ্টা চলছিল। 

এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত যেসব নথিপত্র জমা পড়েছে, তাতে দেখা গিয়েছে, দিল্লির মার্কাজে আসা মুসলিমদের বিরুদ্ধেই শুধুমাত্র পদক্ষেপ করেছে কেন্দ্র। অথচ অন্য ধর্মের বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে তেমন কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি।’