এবার মানচিত্র থেকে নিশ্চিহ্ন সেই রোহিঙ্গা গ্রাম
jugantor
এবার মানচিত্র থেকে নিশ্চিহ্ন সেই রোহিঙ্গা গ্রাম

  অনলাইন ডেস্ক  

১১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৫:১০:২৬  |  অনলাইন সংস্করণ

এবার মানচিত্র থেকে নিশ্চিহ্ন সেই রোহিঙ্গা গ্রাম

আগুন ধরিয়ে দেয়ার পর পুরো গ্রাম বুলডোজার দিয়ে মাটিতে মিশিয়ে দেয়ার পর এবার মিয়ানমারের সরকারি মানচিত্র থেকেও সেটিকে মুছে ফেলা হয়েছে।

জাতিসংঘ জানিয়েছে, গত বছর মিয়ানমার সরকার দেশের নতুন যে মানচিত্র তৈরি করেছে সেখানে কান কিয়া গ্রামের অস্তিত্ব নেই।

নাফ নদী থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে কান কিয়া গ্রামে কয়েকশ’ মানুষ বসবাস করতেন।

২০১৭ সালে রাখাইনের রোহিঙ্গা অধ্যুষিত গ্রামগুলোতে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর গণহত্যার সময় কান কিয়ায় আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়।

প্রাণ বাঁচাতে সেখানকার বাসিন্দারা গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যান। পুরো গ্রাম আগুনে পুড়ে যায়। পোড়া শরীর নিয়ে গ্রামের যেটুকু চিহ্ন দাঁড়িয়ে ছিল সেটাও বুলডোজার দিয়ে মিশিয়ে দেয়া হয়।

রাখাইনে সেনা ‍অভিযানের সময় প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে প্রতিবেশী বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। তাদের অনেকের শরীরে গুলি বা আগুনে পোড়া ক্ষত ছিল।

ওই শরণার্থীদের বর্ণনায় মিয়ানমার সেনাদের সাধারণ মানুষের উপর ভয়াবহ নিপীড়নের চিত্র ফুটে উঠে। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক আদালতে মিয়ানমারের সেনাদের বিরদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে শুনানি চলছে।

কান কিয়া গ্রামটি আগে যেখানে ছিল সেখানে এখন ডজনের বেশি সরকারি ও সামরিক ভবন গড়ে উঠেছে। এমনকি ভূউপগ্রহের ছবিতে পুলিশ ঘাঁটির জন্য দেয়া আঁকাবাঁকা বেড়াও দেখতে পাওয়া যায়।

গুগল আর্থে ওই ছবিগুলো দেখতে পাওয়া যায়। প্ল্যানেট ল্যাব থেকে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের কাছেও কয়েকটি ছবি পাঠানো হয়েছে।

প্রত্যন্ত অঞ্চলের ওই গ্রামটিতে আগে থেকেই বিদেশিদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা ছিল। মিয়ানমারে জাতিসংঘের ম্যাপিং ইউনিট ২০২০ ‍সালে দেশটির নতুন ম্যাপ বানিয়েছে।

মিয়ানমারের সরকারি মানচিত্রের ভিত্তিতে জাতিসংঘের ম্যাপিং ইউনিট নিজেদের ম্যাপ তৈরি করে। জাতিসংঘের অধীনে নানা সংস্থা ওই ম্যাপ ব্যবহার করে।

তারা জানান, নতুন ‍মানচিত্রে গুঁড়িয়ে ফেলা গ্রামের নাম আর নেই। বরং ওই জায়গাটিকে এখন কাছের মংডু শহরের বর্ধিত অংশ বলা হচ্ছে।

এবার মানচিত্র থেকে নিশ্চিহ্ন সেই রোহিঙ্গা গ্রাম

 অনলাইন ডেস্ক 
১১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৩:১০ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
এবার মানচিত্র থেকে নিশ্চিহ্ন সেই রোহিঙ্গা গ্রাম
ছবি: সংগৃহীত

আগুন ধরিয়ে দেয়ার পর পুরো গ্রাম বুলডোজার দিয়ে মাটিতে মিশিয়ে দেয়ার পর এবার মিয়ানমারের সরকারি মানচিত্র থেকেও সেটিকে মুছে ফেলা হয়েছে।

জাতিসংঘ জানিয়েছে, গত বছর মিয়ানমার সরকার দেশের নতুন যে মানচিত্র তৈরি করেছে সেখানে কান কিয়া গ্রামের অস্তিত্ব নেই। 

নাফ নদী থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে কান কিয়া গ্রামে কয়েকশ’ মানুষ বসবাস করতেন।

২০১৭ সালে রাখাইনের রোহিঙ্গা অধ্যুষিত গ্রামগুলোতে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর গণহত্যার সময় কান কিয়ায় আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়।

প্রাণ বাঁচাতে সেখানকার বাসিন্দারা গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যান। পুরো গ্রাম আগুনে পুড়ে যায়। পোড়া শরীর নিয়ে গ্রামের যেটুকু চিহ্ন দাঁড়িয়ে ছিল সেটাও বুলডোজার দিয়ে মিশিয়ে দেয়া হয়।

রাখাইনে সেনা ‍অভিযানের সময় প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে প্রতিবেশী বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। তাদের অনেকের শরীরে গুলি বা আগুনে পোড়া ক্ষত ছিল। 

ওই শরণার্থীদের বর্ণনায় মিয়ানমার সেনাদের সাধারণ মানুষের উপর ভয়াবহ নিপীড়নের চিত্র ফুটে উঠে। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক আদালতে মিয়ানমারের সেনাদের বিরদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে শুনানি চলছে।

কান কিয়া গ্রামটি আগে যেখানে ছিল সেখানে এখন ডজনের বেশি সরকারি ও সামরিক ভবন গড়ে উঠেছে। এমনকি ভূউপগ্রহের ছবিতে পুলিশ ঘাঁটির জন্য দেয়া আঁকাবাঁকা বেড়াও দেখতে পাওয়া যায়। 

গুগল আর্থে ওই ছবিগুলো দেখতে পাওয়া যায়। প্ল্যানেট ল্যাব থেকে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের কাছেও কয়েকটি ছবি পাঠানো হয়েছে।

প্রত্যন্ত অঞ্চলের ওই গ্রামটিতে আগে থেকেই বিদেশিদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা ছিল। মিয়ানমারে জাতিসংঘের ম্যাপিং ইউনিট ২০২০ ‍সালে দেশটির নতুন ম্যাপ বানিয়েছে। 

মিয়ানমারের সরকারি মানচিত্রের ভিত্তিতে জাতিসংঘের ম্যাপিং ইউনিট নিজেদের ম্যাপ তৈরি করে। জাতিসংঘের অধীনে নানা সংস্থা ওই ম্যাপ ব্যবহার করে।

তারা জানান, নতুন ‍মানচিত্রে গুঁড়িয়ে ফেলা গ্রামের নাম আর নেই। বরং ওই জায়গাটিকে এখন কাছের মংডু শহরের বর্ধিত অংশ বলা হচ্ছে।

 

ঘটনাপ্রবাহ : রোহিঙ্গা বর্বরতা