আর্মেনিয়া-আজারবাইজান ফের যুদ্ধে, প্রশ্নবানে রাশিয়া
jugantor
আর্মেনিয়া-আজারবাইজান ফের যুদ্ধে, প্রশ্নবানে রাশিয়া

  অনলাইন ডেস্ক  

১০ অক্টোবর ২০২০, ২১:০৯:৪৫  |  অনলাইন সংস্করণ

আর্মেনিয়া-আজারবাইজান

কারাবাখে সাময়িক যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে শনিবার ফের যুদ্ধে জড়িয়েছে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান। দুই প্রতিবেশী দেশ একে অপরকে যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের জন্য অভিযুক্ত করছে। দুই দেশের পাল্টাপাল্টি হামলার ফলে রাশিয়ার মধ্যাস্থতায় সাময়িক যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ খবর জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট মস্কোতে যুদ্ধবিরতির বিষয়ে উভয় দেশের সঙ্গে আলোচনা করেন। কারাবাখের জাতিগত আর্মেনীয় ও আজারবাইজানের সঙ্গে মানবিক উদ্দেশ্যে যুদ্ধবন্দিসহ অন্যান্য বন্দি ও মৃতদেহ হস্তান্তরের জন্য সাময়িক যুদ্ধবন্দের আহ্বান জানান। এতে উভয় দেশই সম্মত হয়।

রয়টার্সের খবরে বলা হয়, ২৭ সেপ্টম্বরের পর দুই দেশের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর মস্কো আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যে প্রথমবারের মতো কূটনৈতিক তৎপরতা চালায়। এই যুদ্ধে দুই দেশের কয়েকশসেনা ও নাগরিক নিহত হয়েছেন।

কারাবাখ অঞ্চলটি আন্তর্জাতিকভাবে আজারবাইজানের ভূখণ্ড। তবে ওই অঞ্চলটি জাতিগত আর্মেনীয়রা নিয়ন্ত্রণ করছে।

উভয় দেশ পাল্টাপাল্টি গোলা নিক্ষেপের পর যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জন্য একে অপরকে দায়ী করছে।

আর্মেনিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় অভিযোগ করছে, ইয়েরেভের অভ্যন্তরে বেসামরিক এলাকায় গোলাবর্ষণ করেছে আজারবাইন।

এদিকে আজারবাইজান দাবি করছে, আজারি ভূখণ্ডে শত্রুপক্ষ গোলা নিক্ষেপ করেছে।

বাকুতে এক সংবাদ সম্মেলনে আজারি প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, আজারবাইজান আশা করেছিল সময় মতো আরও অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করবে।

যুদ্ধবিরতি নিয়ে উভয় দেশের সঙ্গে ১০ ঘণ্টা আলোচনার পর রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ শনিবার এক বিবৃতিতে বলেন, মানবিক কারণে উভয় দেশ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে।

আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটি বলেছে, উভয় দেশ থেকে একই সঙ্গে মৃতদেহ হস্তান্তর ও যুদ্ধবন্দি বিনিময়ের জন্য তারা প্রস্তুত।

ল্যাভরব বলেছেন, আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান উভয়ে শান্তি আলোচনায় সম্মত। এটি মিনেস্ক গ্রুপের আওতায় অনুষ্ঠিত হবে।

তবে আজারবাইজানের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এই আলোচানার ফরম্যাটে তারা তুরস্ককে চাচ্ছে। শনিবার দেশটির পক্ষ থেকে ফ্রান্সকে নিরপেক্ষ নয় বলেও অভিযোগ করা হয়।

এদিকে শনিবার শান্তি আলোচনা নিয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানিকে ফোন করেছেন বলে ক্রেমলিন জানায়।ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাভেদ জারিফ এক টুইট বার্তায় বলেন, এই চুক্তিটি ছিল শান্তির দিকে একটি পদক্ষেপ।

নাগোরনো-কারাবাখ অঞ্চলটি নিয়ে গত ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার মধ্যে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হয়। এজন্য দুদেশ পরস্পরকে দায়ী করেছে।

আন্তর্জাতিকভাবে অঞ্চলটি আজারবাইজানের বলে স্বীকৃত, কিন্তু ১৯৯০’র দশক থেকে নৃতাত্ত্বিক আর্মেনীয়রা নিয়ন্ত্রণ করছে।

নতুন করে জড়িয়ে পড়া লড়াইয়ে দুই প্রতিবশীর সংঘর্ষে সেনা সদস্যসহ এ পর্যন্ত তিন শতাধিকের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।

আর্মেনিয়া-আজারবাইজান ফের যুদ্ধে, প্রশ্নবানে রাশিয়া

 অনলাইন ডেস্ক 
১০ অক্টোবর ২০২০, ০৯:০৯ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
আর্মেনিয়া-আজারবাইজান
ফাইল ছবি

কারাবাখে সাময়িক যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে শনিবার ফের যুদ্ধে জড়িয়েছে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান। দুই প্রতিবেশী দেশ একে অপরকে যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের জন্য অভিযুক্ত করছে। দুই দেশের পাল্টাপাল্টি হামলার ফলে রাশিয়ার মধ্যাস্থতায় সাময়িক যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ খবর জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট মস্কোতে যুদ্ধবিরতির বিষয়ে উভয় দেশের সঙ্গে আলোচনা করেন।  কারাবাখের জাতিগত আর্মেনীয় ও আজারবাইজানের সঙ্গে মানবিক উদ্দেশ্যে যুদ্ধবন্দিসহ অন্যান্য বন্দি ও মৃতদেহ হস্তান্তরের জন্য সাময়িক যুদ্ধবন্দের আহ্বান জানান।  এতে উভয় দেশই সম্মত হয়।   

রয়টার্সের খবরে বলা হয়, ২৭ সেপ্টম্বরের পর দুই দেশের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর মস্কো আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যে প্রথমবারের মতো কূটনৈতিক তৎপরতা চালায়।  এই যুদ্ধে দুই দেশের কয়েকশ সেনা ও নাগরিক নিহত হয়েছেন।

কারাবাখ অঞ্চলটি আন্তর্জাতিকভাবে আজারবাইজানের ভূখণ্ড। তবে ওই অঞ্চলটি জাতিগত আর্মেনীয়রা নিয়ন্ত্রণ করছে।  

উভয় দেশ পাল্টাপাল্টি গোলা নিক্ষেপের পর যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জন্য একে অপরকে দায়ী করছে।   

আর্মেনিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় অভিযোগ করছে, ইয়েরেভের অভ্যন্তরে বেসামরিক এলাকায় গোলাবর্ষণ করেছে আজারবাইন।  

এদিকে আজারবাইজান দাবি করছে, আজারি ভূখণ্ডে শত্রুপক্ষ গোলা নিক্ষেপ করেছে।  

বাকুতে এক সংবাদ সম্মেলনে আজারি প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, আজারবাইজান আশা করেছিল সময় মতো আরও অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করবে।

যুদ্ধবিরতি নিয়ে উভয় দেশের সঙ্গে ১০ ঘণ্টা আলোচনার পর রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ শনিবার এক বিবৃতিতে বলেন, মানবিক কারণে উভয় দেশ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। 

আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটি বলেছে, উভয় দেশ থেকে একই সঙ্গে মৃতদেহ হস্তান্তর ও যুদ্ধবন্দি বিনিময়ের জন্য তারা প্রস্তুত।  

ল্যাভরব বলেছেন, আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান উভয়ে শান্তি আলোচনায় সম্মত।  এটি মিনেস্ক গ্রুপের আওতায় অনুষ্ঠিত হবে।  

তবে আজারবাইজানের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এই আলোচানার ফরম্যাটে তারা তুরস্ককে চাচ্ছে।  শনিবার দেশটির পক্ষ থেকে ফ্রান্সকে নিরপেক্ষ নয় বলেও অভিযোগ করা হয়।  

এদিকে শনিবার শান্তি আলোচনা নিয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানিকে ফোন করেছেন বলে ক্রেমলিন জানায়। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাভেদ জারিফ এক টুইট বার্তায় বলেন, এই চুক্তিটি ছিল শান্তির দিকে একটি পদক্ষেপ।  

নাগোরনো-কারাবাখ অঞ্চলটি নিয়ে গত ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার মধ্যে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হয়। এজন্য দুদেশ পরস্পরকে দায়ী করেছে।

আন্তর্জাতিকভাবে অঞ্চলটি আজারবাইজানের বলে স্বীকৃত, কিন্তু ১৯৯০’র দশক থেকে নৃতাত্ত্বিক আর্মেনীয়রা নিয়ন্ত্রণ করছে।

নতুন করে জড়িয়ে পড়া লড়াইয়ে দুই প্রতিবশীর সংঘর্ষে সেনা সদস্যসহ এ পর্যন্ত তিন শতাধিকের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।

 

ঘটনাপ্রবাহ : আর্মেনিয়া-আজারবাইজান সংঘাত