ভ্রমণের জন্য ইইউ মানচিত্রে ভিন্ন রঙে নির্ধারণ
jugantor
ভ্রমণের জন্য ইইউ মানচিত্রে ভিন্ন রঙে নির্ধারণ

  ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারী, পর্তুগাল থেকে  

১৪ অক্টোবর ২০২০, ২২:৩৮:৪২  |  অনলাইন সংস্করণ

ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে- সীমান্তবিহীন কোনো প্রকার ইমিগ্রেশন ছাড়াই এক দেশ থেকে অন্য দেশে অবাধ ভ্রমণ, করোনা মহামারীর প্রথম আঘাত আসার পর কিছু কিছু দেশের সীমান্ত বন্ধ করা হয়। এর ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রধান বৈশিষ্ট্য বাধাগ্রস্ত হয়।
ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উর্সুলা ভন ডের লেয়েন বলেছেন, এটা আমাদের একটা শক্তি যখন আমরা ইউরোপীয় ইউনিয়ন একক হিসেবে কাজ করি এবং আমাদের নাগরিকদের স্বার্থ, স্বাধীনতা, স্বাস্থ্য সুরক্ষা করি। আজকের চুক্তি এটি একটি ভালো উদাহরণ।
যার পরিপেক্ষিতে ১৩ অক্টোবর ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে করোনাভাইরাস মহামারীতে অবাধ ভ্রমণের জন্য একটি সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। ইউরোপিয়ান সেন্টার ফর ডিজিজ প্রিভেনশন অ্যান্ড কন্ট্রোলের দ্বারা প্রতি সপ্তাহে একটি একেক মানচিত্র প্রকাশ করা হবে, যাতে ইউরোপের দেশ বা অঞ্চলগুলির কোভিড-১৯ ঝুঁকির মাত্রা প্রদর্শন করবে। অঞ্চলগুলো সবুজ, কমলা, লাল এবং ধূসর রং দিয়ে নির্ধারিত হবে।

এ প্রক্রিয়াটি প্রতিটি দেশের গত ১৪ দিনের মোট আক্রান্ত সংখ্যা, করোনা পজিটিভ শনাক্তের অনুপাত এবং পরীক্ষার হার এ তিনটি ব্যবস্থার ভিত্তিতে উক্ত অঞ্চলগুলোর বা দেশগুলোর মানচিত্রের রং নির্ধারণ করা হবে।
এ মানচিত্রের ভিত্তিতে সদস্য দেশগুলো তখন সিদ্ধান্ত নিবে তারা নির্দিষ্ট অঞ্চলগুলো থেকে আগত ভ্রমণকারীদের জন্য কী ধরনের ব্যবস্থা যেমন কোয়ারেন্টিন বা কোভিড-১৯ পরীক্ষা প্রবর্তন করবেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের সম্মত হয়েছেন যে সবুজ অঞ্চল থেকে আগত ভ্রমণকারীদের ওপর কোভিড-১৯ পরীক্ষা বা আলাদা কোনো বিধিনিষেধ থাকবে না। সবুজ অঞ্চলগুলোর বাসিন্দারা কোনোপ্রকার বিধি-নিষেধ ছাড়াই ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্য দেশে ভ্রমণ করতে পারবেন।

ভ্রমণকারীরা যখন কমলা এবং লাল চিহ্নিত অঞ্চল থেকে অন্যান্য অঞ্চলে ভ্রমণ করবেন তখন তারা ভ্রমণের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা বা নির্দিষ্ট বিধান মেনে চলতে হবে। প্রস্তাবনা অনুসারে সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে কমলা এবং লাল রঙের অঞ্চলগুলোর মধ্যে পার্থক্য নির্ধারণ করতে হবে।
এ মানচিত্রটি ভ্রমণকারীদের গ্রহণকারী অঞ্চলের কোভিড-১৯ সংক্রমণ ঝুঁকির স্তর সম্পর্কিত সাধারণ তথ্য সরবরাহ করবে, এই মানচিত্রের পাশাপাশি পূর্বে প্রকাশিত "রি-ওপেন ইউ" ওয়েব প্লাটফর্মের সন্নিবেশিত তথ্যের হালনাগাদ পথের মাধ্যমে গ্রহণকারী জানতে পারবেন তার ভ্রমণ অঞ্চলে তাকে কী ধরনের নিয়মনীতি বা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

ইউরোপিয়ান কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী আত্মকর্মসংস্থান ও জরুরি পেশার সাথে জড়িত কর্মী, স্বাস্থ্যসেবা কর্মী, সীমান্ত কর্মী, মৌসুমি কাজে নিয়োজিত কর্মী, পণ্য ও মালবাহী যানবাহনের চালক এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট পরিবহন বা পরিষেবা কর্মী, অপরিহার্য চিকিৎসার কারণে রোগী, শিক্ষার্থী এবং প্রশিক্ষণার্থীরা প্রতিদিনই বিদেশ ভ্রমণ করেন, অপরিহার্য পরিবার বা ব্যবসায়িক কারণে ভ্রমণকারী ব্যক্তি, কূটনৈতিক, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কর্মীরা এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো দ্বারা আমন্ত্রিত ব্যক্তি, সামরিক বাহিনী এবং পুলিশ অফিসার, মানবিক সহায়তা কর্মী, নাগরিক সুরক্ষা কর্মী, ট্রানজিটে ভ্রমণকারী, সাংবাদিক- এসব ভ্রমণকারীর ক্ষেত্রে কোন প্রকার কোয়ারেন্টিন মানার প্রয়োজন হবে না; সে যে জোন থেকেই ভ্রমণ করুক না কেন।

বিশ্বায়নের যুগে মানুষকে প্রতিনিয়ত ভ্রমণ করতে হয় আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো একক একটি অর্থনৈতিক অঞ্চলে এটি অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পূর্বের re-open ওয়েবসাইট এবং বর্তমান নতুন বিধি-বিধান প্রবর্তনের কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভ্যন্তরে বা ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন অভিমুখী ভ্রমণের বিষয়ে অচলাবস্থা নিরসন হবে এবং ভ্রমণকারী সঠিক তথ্য প্রাপ্তির মাধ্যমে ভ্রমণ সহায়ক হবে বলে সবাই আশা প্রকাশ করছেন।

ভ্রমণের জন্য ইইউ মানচিত্রে ভিন্ন রঙে নির্ধারণ

 ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারী, পর্তুগাল থেকে 
১৪ অক্টোবর ২০২০, ১০:৩৮ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে- সীমান্তবিহীন কোনো প্রকার ইমিগ্রেশন ছাড়াই এক দেশ থেকে অন্য দেশে অবাধ ভ্রমণ, করোনা মহামারীর প্রথম আঘাত আসার পর কিছু কিছু দেশের সীমান্ত বন্ধ করা হয়। এর ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রধান বৈশিষ্ট্য বাধাগ্রস্ত হয়।
ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উর্সুলা ভন ডের লেয়েন বলেছেন, এটা আমাদের একটা শক্তি যখন আমরা ইউরোপীয় ইউনিয়ন একক হিসেবে কাজ করি এবং আমাদের নাগরিকদের স্বার্থ, স্বাধীনতা, স্বাস্থ্য সুরক্ষা করি। আজকের চুক্তি এটি একটি ভালো উদাহরণ।
যার পরিপেক্ষিতে ১৩ অক্টোবর ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে করোনাভাইরাস মহামারীতে অবাধ ভ্রমণের জন্য একটি সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। ইউরোপিয়ান সেন্টার ফর ডিজিজ প্রিভেনশন অ্যান্ড কন্ট্রোলের দ্বারা প্রতি সপ্তাহে একটি একেক মানচিত্র প্রকাশ করা হবে, যাতে ইউরোপের দেশ বা অঞ্চলগুলির কোভিড-১৯ ঝুঁকির মাত্রা প্রদর্শন করবে। অঞ্চলগুলো সবুজ, কমলা, লাল এবং ধূসর রং দিয়ে নির্ধারিত হবে।

এ প্রক্রিয়াটি প্রতিটি দেশের গত ১৪ দিনের মোট আক্রান্ত সংখ্যা, করোনা পজিটিভ শনাক্তের অনুপাত এবং পরীক্ষার হার এ তিনটি ব্যবস্থার ভিত্তিতে উক্ত অঞ্চলগুলোর বা দেশগুলোর মানচিত্রের রং নির্ধারণ করা হবে।
এ মানচিত্রের ভিত্তিতে সদস্য দেশগুলো তখন সিদ্ধান্ত নিবে তারা নির্দিষ্ট অঞ্চলগুলো থেকে আগত ভ্রমণকারীদের জন্য কী ধরনের ব্যবস্থা যেমন কোয়ারেন্টিন বা কোভিড-১৯ পরীক্ষা প্রবর্তন করবেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের সম্মত হয়েছেন যে সবুজ অঞ্চল থেকে আগত  ভ্রমণকারীদের ওপর কোভিড-১৯ পরীক্ষা বা আলাদা কোনো বিধিনিষেধ থাকবে না।  সবুজ অঞ্চলগুলোর বাসিন্দারা কোনোপ্রকার বিধি-নিষেধ ছাড়াই ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্য দেশে ভ্রমণ করতে পারবেন।

ভ্রমণকারীরা যখন কমলা এবং লাল চিহ্নিত অঞ্চল থেকে অন্যান্য অঞ্চলে ভ্রমণ করবেন তখন তারা ভ্রমণের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা বা নির্দিষ্ট বিধান মেনে চলতে হবে। প্রস্তাবনা অনুসারে সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে কমলা এবং লাল রঙের অঞ্চলগুলোর মধ্যে পার্থক্য নির্ধারণ করতে হবে।
এ মানচিত্রটি ভ্রমণকারীদের গ্রহণকারী অঞ্চলের কোভিড-১৯ সংক্রমণ ঝুঁকির স্তর সম্পর্কিত সাধারণ তথ্য সরবরাহ করবে, এই মানচিত্রের পাশাপাশি পূর্বে প্রকাশিত "রি-ওপেন ইউ" ওয়েব প্লাটফর্মের সন্নিবেশিত তথ্যের হালনাগাদ পথের মাধ্যমে গ্রহণকারী জানতে পারবেন তার ভ্রমণ অঞ্চলে তাকে কী ধরনের নিয়মনীতি বা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

ইউরোপিয়ান কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী আত্মকর্মসংস্থান ও জরুরি পেশার সাথে জড়িত কর্মী, স্বাস্থ্যসেবা কর্মী, সীমান্ত কর্মী, মৌসুমি কাজে নিয়োজিত কর্মী, পণ্য ও মালবাহী যানবাহনের চালক এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট পরিবহন বা পরিষেবা কর্মী, অপরিহার্য চিকিৎসার কারণে রোগী, শিক্ষার্থী এবং প্রশিক্ষণার্থীরা প্রতিদিনই বিদেশ ভ্রমণ করেন, অপরিহার্য পরিবার বা ব্যবসায়িক কারণে ভ্রমণকারী ব্যক্তি, কূটনৈতিক, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কর্মীরা এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো দ্বারা আমন্ত্রিত ব্যক্তি, সামরিক বাহিনী এবং পুলিশ অফিসার, মানবিক সহায়তা কর্মী, নাগরিক সুরক্ষা কর্মী, ট্রানজিটে ভ্রমণকারী, সাংবাদিক- এসব ভ্রমণকারীর ক্ষেত্রে কোন প্রকার কোয়ারেন্টিন মানার প্রয়োজন হবে না; সে যে জোন থেকেই ভ্রমণ করুক না কেন।

বিশ্বায়নের যুগে মানুষকে প্রতিনিয়ত ভ্রমণ করতে হয় আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো একক একটি অর্থনৈতিক অঞ্চলে এটি অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পূর্বের re-open ওয়েবসাইট এবং বর্তমান নতুন বিধি-বিধান প্রবর্তনের কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভ্যন্তরে বা ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন অভিমুখী ভ্রমণের বিষয়ে অচলাবস্থা নিরসন হবে এবং ভ্রমণকারী সঠিক তথ্য প্রাপ্তির মাধ্যমে ভ্রমণ সহায়ক হবে বলে সবাই আশা প্রকাশ করছেন।
 

 
আরও খবর