যুদ্ধে যেতে চাচ্ছেন না আর্মেনীয় সেনা সদস্যরা! 
jugantor
যুদ্ধে যেতে চাচ্ছেন না আর্মেনীয় সেনা সদস্যরা! 

  অনলাইন ডেস্ক  

২২ অক্টোবর ২০২০, ২২:৩৬:০৪  |  অনলাইন সংস্করণ

আর্মেনিয়ার সেনাবাহিনীর সদস্য

সম্প্রতি কয়েকদিন বিরোধীয় নাগোরনো-করাবাখে আজেরি সেনাবাহিনীর আক্রমণের মুখে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে আর্মেনীয় বাহিনীর। এতে ইয়েরেভেনের ৫৪৩তম রেজিমেন্টের সেনাসদস্যরা যুদ্ধে যেতে চাচ্ছেন না।

বৃহস্পতিবার আজারবাইজানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আজভিশন।

সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়, আর্মেনীয় সেনাবাহিনীর রিজার্ভ ইউনিটের ৫৪৩তম রেজিমেন্টের সেনাসদস্যরা নাগোরনো-কারাবাখে যুদ্ধে যেতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তবে আর্মেনিয়ার কর্তৃপক্ষ গ্রামবাসীদের সংঘাতে জড়িয়েছে।

কিছু গ্রামবাসী যুদ্ধে যেতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তারা তাদের সন্তানদের যুদ্ধ থেকে প্রতিরোধের জন্য যুদ্ধরত অঞ্চলের সড়কগুলোর সঙ্গে যাতায়াত ব্যবস্থা বন্ধ করে দিয়েছেন।

এছাড়া, হাদরুতের উত্তরে আঘদারার ৫তম ডেস্ট্রোয়ার রেজিমেন্টের প্রতিরক্ষা অঞ্চলে সেনাসদস্যদের অস্ত্র রেখে এবং পিছুহটতে তাদের আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতজনরা আহ্বান জানিয়েছেন।

ইতিমধ্যেই আর্মেনীয় ওই ইউনিট তাদের খাদ্য, জ্বালানী ও গোলাবারুদ স্বল্পতার কথা জানিয়েছে।

এর আগে কারাবাখের জাবরাইল প্রদেশে আজারবাইজানের সেনাবাহিনীর একের পর এক আক্রমণের মুখে যুদ্ধক্ষেত্র ছেড়ে পালিয়েছে আর্মেনিয়ার সেনাবাহিনীর ৫৫৬ রেজিমেন্ট।

যুদ্ধরত ওই অঞ্চলটিতে ব্যবহৃত বেশ কিছু ট্যাংক রেখে পালিয়ে যায় শত্রুপক্ষ। এছাড়া আরও কয়েকটি অঞ্চলে তীব্র আক্রমণের মুখে আর্মেনীয় বাহিনী সামরিক যানবহন, গোলাবারুদ, রকেট লাঞ্চার, বিভিন্ন ধরনে অস্ত্র, গুলিসহ বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জামাদি ফেলে যায়।

এছাড়া মঙ্গলবার রাত থেকে আঘদারা, ফুজুলি, জাবরাইল এবং গুবাদলি এলাকায় সম্মুখ যুদ্ধ হয়। এসব এলাকায় ব্যাপক আকারে ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়ে আর্মেনীয় বাহিনী। তাদের বেশ কিছু গোলাবারুদ ও বাহিনীর সদস্যদের প্রাণহানি ঘটে।

২৭ সেপ্টেম্বর থেকে বিরোধীয় নাগোরনো-কারাবাখ নিয়ে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান নতুন করে যুদ্ধে জড়ায়।পরবর্তীতে ১০ অক্টোবর রাশিয়ার মধ্যস্থতায় আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যে ম্যারথন আলোচনা হয়।

১১ অক্টোবর থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু যুদ্ধবিরতির কয়েক মিনিটের মধ্যেই আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান পরস্পরকে সাময়িক যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘেনের জন্য অভিযুক্ত করে।

দ্বিতীয়বারের মতো শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাত থেকে যুদ্ধবিরতির পরপরই গানজাতে আর্মেনিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৩ জন বেসামরিক লোক নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে চারজন নারী ও তিনজন শিশু রয়েছে। এ ছাড়া হামলায় আহত হয়েছেন ৫০ জন। এরপরই দুই দেশের মধ্যে তুমুল লড়াই শুরু হয়।

কারাবাখ অঞ্চলটি আন্তর্জাতিকভাবে আজারবাইজানের ভূখণ্ড হিসেবে স্বীকৃত। তবে ওই অঞ্চলটি জাতিগত আর্মেনীয়রা ১৯৯০’র দশক থেকে নিয়ন্ত্রণ করছে।ওই দশকেই আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের সঙ্গে যুদ্ধে ৩০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়।

যুদ্ধে যেতে চাচ্ছেন না আর্মেনীয় সেনা সদস্যরা! 

 অনলাইন ডেস্ক 
২২ অক্টোবর ২০২০, ১০:৩৬ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
আর্মেনিয়ার সেনাবাহিনীর সদস্য
ফাইল ছবি

সম্প্রতি কয়েকদিন বিরোধীয় নাগোরনো-করাবাখে আজেরি সেনাবাহিনীর আক্রমণের মুখে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে আর্মেনীয় বাহিনীর। এতে ইয়েরেভেনের ৫৪৩তম রেজিমেন্টের সেনাসদস্যরা যুদ্ধে যেতে চাচ্ছেন না।  

বৃহস্পতিবার আজারবাইজানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আজভিশন।   

সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়, আর্মেনীয় সেনাবাহিনীর রিজার্ভ ইউনিটের ৫৪৩তম রেজিমেন্টের সেনাসদস্যরা নাগোরনো-কারাবাখে যুদ্ধে যেতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।  তবে আর্মেনিয়ার কর্তৃপক্ষ গ্রামবাসীদের সংঘাতে জড়িয়েছে। 

কিছু গ্রামবাসী যুদ্ধে যেতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তারা তাদের সন্তানদের যুদ্ধ থেকে প্রতিরোধের জন্য যুদ্ধরত অঞ্চলের সড়কগুলোর সঙ্গে যাতায়াত ব্যবস্থা বন্ধ করে দিয়েছেন।   

এছাড়া, হাদরুতের উত্তরে আঘদারার ৫তম ডেস্ট্রোয়ার রেজিমেন্টের প্রতিরক্ষা অঞ্চলে সেনাসদস্যদের অস্ত্র রেখে এবং পিছুহটতে তাদের আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতজনরা আহ্বান জানিয়েছেন।  

ইতিমধ্যেই আর্মেনীয় ওই ইউনিট তাদের খাদ্য, জ্বালানী ও গোলাবারুদ স্বল্পতার কথা জানিয়েছে। 

এর আগে কারাবাখের জাবরাইল প্রদেশে আজারবাইজানের সেনাবাহিনীর একের পর এক আক্রমণের মুখে যুদ্ধক্ষেত্র ছেড়ে পালিয়েছে আর্মেনিয়ার সেনাবাহিনীর ৫৫৬ রেজিমেন্ট। 

যুদ্ধরত ওই অঞ্চলটিতে ব্যবহৃত বেশ কিছু ট্যাংক রেখে পালিয়ে যায় শত্রুপক্ষ। এছাড়া আরও কয়েকটি অঞ্চলে তীব্র আক্রমণের মুখে আর্মেনীয় বাহিনী সামরিক যানবহন, গোলাবারুদ, রকেট লাঞ্চার, বিভিন্ন ধরনে অস্ত্র, গুলিসহ বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জামাদি ফেলে যায়।   

এছাড়া মঙ্গলবার রাত থেকে আঘদারা, ফুজুলি, জাবরাইল এবং গুবাদলি এলাকায় সম্মুখ যুদ্ধ হয়। এসব এলাকায় ব্যাপক আকারে ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়ে আর্মেনীয় বাহিনী।  তাদের বেশ কিছু গোলাবারুদ ও বাহিনীর সদস্যদের প্রাণহানি ঘটে। 

২৭ সেপ্টেম্বর থেকে বিরোধীয় নাগোরনো-কারাবাখ নিয়ে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান নতুন করে যুদ্ধে জড়ায়।পরবর্তীতে ১০ অক্টোবর রাশিয়ার মধ্যস্থতায় আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যে ম্যারথন আলোচনা হয়।

১১ অক্টোবর থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু যুদ্ধবিরতির কয়েক মিনিটের মধ্যেই আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান পরস্পরকে সাময়িক যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘেনের জন্য অভিযুক্ত করে।

দ্বিতীয়বারের মতো শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাত থেকে যুদ্ধবিরতির পরপরই গানজাতে আর্মেনিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৩ জন বেসামরিক লোক নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে চারজন নারী ও তিনজন শিশু রয়েছে। এ ছাড়া হামলায় আহত হয়েছেন ৫০ জন। এরপরই দুই দেশের মধ্যে তুমুল লড়াই শুরু হয়। 

কারাবাখ অঞ্চলটি আন্তর্জাতিকভাবে আজারবাইজানের ভূখণ্ড হিসেবে স্বীকৃত। তবে ওই অঞ্চলটি জাতিগত আর্মেনীয়রা ১৯৯০’র দশক থেকে নিয়ন্ত্রণ করছে।ওই দশকেই আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের সঙ্গে যুদ্ধে ৩০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়। 

 

ঘটনাপ্রবাহ : আর্মেনিয়া-আজারবাইজান সংঘাত