এরদোগানের পর ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের কড়া সমালোচনায় ইমরান খান
jugantor
এরদোগানের পর ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের কড়া সমালোচনায় ইমরান খান

  যুগান্তর ডেস্ক  

২৬ অক্টোবর ২০২০, ১২:৫৫:০৫  |  অনলাইন সংস্করণ

এরদোগানের পর ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের কড়া সমালোচনায় ইমরান খান

ইসলাম নিয়ে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর মনোভাবের জন্য তাকে ধুয়ে দিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান। তার পথ ধরে এবার ম্যাক্রোঁর কঠোর সমালোচনা করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।

রোববার ইমরান খান বলেছেন, নবী মুহাম্মদের (সা.) ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শনকে উৎসাহিত করে ম্যাক্রোঁ ‘ইসলামকে আক্রমণ’ করছেন। তার মন্তব্য লাখ লাখ মুসলমানের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে। খবর ডয়েচে ভেলের।

মহানবী মুহাম্মদ (সা.)-এর ব্যঙ্গাত্মক কার্টুন নিয়ে আলোচনা করায় ফ্রান্সে এক শিক্ষক হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। এ ঘটনায় গোটা দেশে চরম ক্ষোভ দেখা দেয়। ফরাসি প্রেসিডেন্ট বিক্ষুব্ধদের পক্ষে অবস্থান নেন এবং ঘোষণা দেন তার দেশে ব্যঙ্গাত্মক কার্টুন প্রদর্শিত হবে।

এ বিষয়ে ইমরান খান নিজের টুইটার অ্যাকাউন্টে লিখেছেন- ‘প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রো পরিষ্কারভাবে কিছু না জেনেই ইসলাম ও আমাদের নবী হজরত মুহাম্মদকে (সা.) উদ্দেশ করে ধর্ম অবমাননার কার্টুন প্রদর্শনে উৎসাহ দেয়ার মাধ্যমে ইউরোপ ও বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ মুসলমানের অনুভূতিতে আঘাত করছেন।’

তিনি আরও লিখেছেন, ‘এটা দুর্ভাগ্য যে, যারা সহিংসতা ছড়ায় সেসব মুসলিম, শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদী বা নাৎসি আদর্শবাদীদের পরিবর্তে তিনি ইসলাম ধর্মকে আক্রমণ করে ইসলাম ভীতি ছড়ানোয় উৎসাহ দিচ্ছেন। এটি দুঃখজনক যে, প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রো তার নিজের জনগণসহ মুসলিমদের ইচ্ছা করে উসকে দেয়ার পথ বেছে নিয়েছেন।'

ইমরান খান বলেন, ম্যাক্রোঁ চরমপন্থীদের ছাড় না দেয়ার কথা বলে অপরাধের প্রতিকারের একটি পরশ বুলিয়ে দিতে পারতেন। কিন্তু তিনি সহিংসতা সৃষ্টিকারী সন্ত্রাসী- সে মুসলিম, শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদী কিংবা নাৎসি আদর্শবাদী যেই হোক না কেন- তাদের আক্রমণ না করে বরং ইসলামকে আক্রমণ করে ইসলামবিদ্বেষ উৎসাহিত করার পথ বেছে নিয়েছেন।

ফরাসি প্রেসিডেন্টের মুসলিম ও ইসলামবিদ্বেষ নিয়ে এর আগে তার এক হাত নিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান।

তিনি বলেন, মুসলিম ও ইসলাম নিয়ে ম্যাক্রোঁর সমস্যা কি? তার মানসিক চিকিৎসা দরকার।

'একটা দেশের প্রধান, যিনি বিশ্বাসের স্বাধীনতা বোঝেন না, যিনি তার দেশের ভিন্ন বিশ্বাসের লাখ লাখ মানুষের সঙ্গে এমন আচরণ করেন তাকে আমি আর কী বলতে পারি? সবার আগে তার মানসিক পরীক্ষাগুলো করা দরকার।’

এরদোগানের এমন বক্তব্যকে ‘আপত্তিকর’ বলে উল্লেখ করে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ফ্রান্স এবং তুরস্কে নিযুক্ত নিজেদের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে পাঠিয়েছে দেশটি।

প্রসঙ্গত, মহানবী মুহাম্মদ (সা.)-এর ব্যঙ্গাত্মক কার্টুন নিয়ে আলোচনা করায় ফ্রান্সে এক শিক্ষক হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। এ ঘটনায় গোটা দেশে ক্ষোভ দেখা দেয়। এর জেরে একটি মসজিদ বন্ধ করে দেয় ফ্রান্স সরকার। এ ছাড়া প্যারিসে হিজাব পরিহিত দুই নারীও ছুরিকাঘাত হন।

এ নিয়ে দেশজুড়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ার পর ম্যাক্রোঁ মৌলবাদী ইসলামের বিপরীতে দেশের ধর্মনিরপেক্ষ মূল্যবোধ সমুন্নত রাখা নিয়ে দৃঢ়কণ্ঠে কথা বলেছেন।

‘ফ্রান্স ব্যঙ্গচিত্র দেখানো বন্ধ করবে না’ বলেও জানিয়েছেন তিনি। ম্যাক্রোঁ এই শিক্ষককে ‘বীর’ আখ্যা দিয়েছেন এবং ইসলামপন্থীদের দেশের জন্য হুমকি বলে বর্ণনা করেছেন।

এরদোগানের পর ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের কড়া সমালোচনায় ইমরান খান

 যুগান্তর ডেস্ক 
২৬ অক্টোবর ২০২০, ১২:৫৫ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
এরদোগানের পর ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের কড়া সমালোচনায় ইমরান খান
এরদোগানের সঙ্গে ইমরান খান। ফাইল ছবি

ইসলাম নিয়ে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর মনোভাবের জন্য তাকে ধুয়ে দিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান।  তার পথ ধরে এবার ম্যাক্রোঁর কঠোর সমালোচনা করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।

রোববার ইমরান খান বলেছেন, নবী মুহাম্মদের (সা.) ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শনকে উৎসাহিত করে ম্যাক্রোঁ ‘ইসলামকে আক্রমণ’ করছেন।  তার মন্তব্য লাখ লাখ মুসলমানের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে।  খবর ডয়েচে ভেলের।

মহানবী মুহাম্মদ (সা.)-এর ব্যঙ্গাত্মক কার্টুন নিয়ে আলোচনা করায় ফ্রান্সে এক শিক্ষক হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। এ ঘটনায় গোটা দেশে চরম ক্ষোভ দেখা দেয়। ফরাসি প্রেসিডেন্ট বিক্ষুব্ধদের পক্ষে অবস্থান নেন এবং ঘোষণা দেন তার দেশে ব্যঙ্গাত্মক কার্টুন প্রদর্শিত হবে।

এ বিষয়ে ইমরান খান নিজের টুইটার অ্যাকাউন্টে লিখেছেন- ‘প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রো পরিষ্কারভাবে কিছু না জেনেই ইসলাম ও আমাদের নবী হজরত মুহাম্মদকে (সা.) উদ্দেশ করে ধর্ম অবমাননার কার্টুন প্রদর্শনে উৎসাহ দেয়ার মাধ্যমে ইউরোপ ও বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ মুসলমানের অনুভূতিতে আঘাত করছেন।’

তিনি আরও লিখেছেন, ‘এটা দুর্ভাগ্য যে, যারা সহিংসতা ছড়ায় সেসব মুসলিম, শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদী বা নাৎসি আদর্শবাদীদের পরিবর্তে তিনি ইসলাম ধর্মকে আক্রমণ করে ইসলাম ভীতি ছড়ানোয় উৎসাহ দিচ্ছেন। এটি দুঃখজনক যে, প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রো তার নিজের জনগণসহ মুসলিমদের ইচ্ছা করে উসকে দেয়ার পথ বেছে নিয়েছেন।'

ইমরান খান বলেন, ম্যাক্রোঁ চরমপন্থীদের ছাড় না দেয়ার কথা বলে অপরাধের প্রতিকারের একটি পরশ বুলিয়ে দিতে পারতেন। কিন্তু তিনি সহিংসতা সৃষ্টিকারী সন্ত্রাসী- সে মুসলিম, শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদী কিংবা নাৎসি আদর্শবাদী যেই হোক না কেন- তাদের আক্রমণ না করে বরং ইসলামকে আক্রমণ করে ইসলামবিদ্বেষ উৎসাহিত করার পথ বেছে নিয়েছেন।

ফরাসি প্রেসিডেন্টের মুসলিম ও ইসলামবিদ্বেষ নিয়ে এর আগে তার এক হাত নিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান।

তিনি বলেন, মুসলিম ও ইসলাম নিয়ে ম্যাক্রোঁর সমস্যা কি? তার মানসিক চিকিৎসা দরকার।

'একটা দেশের প্রধান, যিনি বিশ্বাসের স্বাধীনতা বোঝেন না, যিনি তার দেশের ভিন্ন বিশ্বাসের লাখ লাখ মানুষের সঙ্গে এমন আচরণ করেন তাকে আমি আর কী বলতে পারি? সবার আগে তার মানসিক পরীক্ষাগুলো করা দরকার।’

এরদোগানের এমন বক্তব্যকে ‘আপত্তিকর’ বলে উল্লেখ করে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ফ্রান্স এবং তুরস্কে নিযুক্ত নিজেদের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে পাঠিয়েছে দেশটি।

প্রসঙ্গত, মহানবী মুহাম্মদ (সা.)-এর ব্যঙ্গাত্মক কার্টুন নিয়ে আলোচনা করায় ফ্রান্সে এক শিক্ষক হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। এ ঘটনায় গোটা দেশে ক্ষোভ দেখা দেয়। এর জেরে একটি মসজিদ বন্ধ করে দেয় ফ্রান্স সরকার। এ ছাড়া প্যারিসে হিজাব পরিহিত দুই নারীও ছুরিকাঘাত হন।

এ নিয়ে দেশজুড়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ার পর ম্যাক্রোঁ মৌলবাদী ইসলামের বিপরীতে দেশের ধর্মনিরপেক্ষ মূল্যবোধ সমুন্নত রাখা নিয়ে দৃঢ়কণ্ঠে কথা বলেছেন।

‘ফ্রান্স ব্যঙ্গচিত্র দেখানো বন্ধ করবে না’ বলেও জানিয়েছেন তিনি।  ম্যাক্রোঁ এই শিক্ষককে ‘বীর’ আখ্যা দিয়েছেন এবং ইসলামপন্থীদের দেশের জন্য হুমকি বলে বর্ণনা করেছেন।