অনিশ্চিত তিন রাজ্যে ট্রাম্প-বাইডেন কে এবং কেন এগিয়ে
jugantor
মার্কিন নির্বাচন
অনিশ্চিত তিন রাজ্যে ট্রাম্প-বাইডেন কে এবং কেন এগিয়ে

  তোফাজ্জল লিটন, নিউইয়র্ক থেকে  

২৬ অক্টোবর ২০২০, ১৫:৩১:৩৮  |  অনলাইন সংস্করণ

শতাব্দীর সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষ অগ্রিম ভোট প্রদান করছে যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন নির্বাচনে। মহাশূন্য থেকে শুরু করে পৃথিবীর যে কোন রাষ্ট্র থেকে ভোটে অংশগ্রহণ করছেন আমেরিকান নাগরিকেরা।

তবে সবার চোখ এখন অনিশ্চয়তাপূর্ণ রাজ্য সমূহে। ফ্লোরিডা, জর্জিয়া এবং উত্তর ক্যারোলিনার এই তিন ভোটযুদ্ধক্ষেত্রে ট্রাম্প-বাইডেন কে কার চেয়ে কোন বিষয়ে এগিয়ে আছেন? এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে সিবিএস নিউজ ব্যাটলগ্রাউন্ড ট্র্যাকার জরিপ পরিচালনা করেছে।

প্রচারের চূড়ান্ত প্রান্তে জরিপে দেখা যায় ফ্লোরিডায় ডেমোক্রেট দলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী জো বাইডেন রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চেয়ে মাত্র দুই-পয়েন্ট এগিয়ে। উত্তর ক্যারোলিনায় বাইডেন চার পয়েন্ট এবং জর্জিয়াতে দুজনেই আছেন সমানে সামান প্রতিযোগিতায়। বৈচিত্র্যময় বিষয়ে ভোটারদের প্রশ্ন করা হয়েছিল। তার মধ্যে করোনা, অর্থনীতি, নেতৃত্বের ধরণ, প্রার্থীর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায় বেশিরভাগ ট্রাম্প সমর্থকরা মনে করেন বাইডেন জিতলে দেশটি সমাজতান্ত্রিক ভাবধারার হয়ে উঠবে। বাইডেনের ভোটাররা আশঙ্কা করেন এবার ট্রাম্প আবার বিজয়ী হলে যে দেশটি তিনি স্বৈরাচারীভাবে পরিচালনা করবেন।

তিন রাজ্যে বিষয়ের জরিপে দেখা যায় বাইডেন করোনাভাইরাস প্রশ্নে দারুণভাবে এগিয়ে আছেন। অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির প্রেক্ষিতে ফ্লোরিডায় ট্রাম্পে আস্থা রাখেন ৫০ ভাগ মানুষ। সেখানে বাইডেনের পক্ষে আছেন ৪৩ শতাংশ। ফ্লোরিডায় ট্রাম্পকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেখতে চায় ৪৮ ভাগ ভোটার। বাইডেনকে চায় ৫০ ভাগ। জর্জিয়ায় সমান সমান। নর্থ ক্যারোলিনায় বাইডেন ৫১ এবং ট্রাম্প ৪৭।

সিবিএস নিউজ সাংবাদিক কাবির খান্না ২০১৬ সাল থেকে ভোটারদের মধ্যে কী বিষয়ে পরিবর্তন এসেছে এমন প্রশ্নের বিশ্লেষণে জানান, বাইডেনের পক্ষে শ্বেতাঙ্গ ভোটার বেড়েছে ২০১৬ সালে হিলারি ক্লিনটনের প্রাপ্ত ভোটারের চেয়ে। সেই সময় ট্রাম্প এই তিনটি রাজ্যেই দ্বিগুণ শ্বেতাঙ্গ ভোট পেয়েছিলেন। এখন বাইডেন উত্তর ক্যারোলিনায় এগিয়ে আছেন।

ফ্লোরিডায় চলছে হাড্ডা-হাড্ডি লড়াই। জর্জিয়ার ট্রাম্পের শ্বেতাঙ্গ ভোট নাটকীয়ভাবে হ্রাস পেয়েছে। বাইডেন বর্তমানে ফ্লোরিডা এবং উত্তর ক্যারোলাইনাতে কলেজ ডিগ্রিধারী শ্বেতাঙ্গ নারীদের শীর্ষে রয়েছেন। জর্জিয়াতে কলেজ ডিগ্রিবিহীন শ্বেতাঙ্গ ভোটার, পুরুষ এবং নারী উভয়েই ট্রাম্পকে পছন্দ করে।

সিবিএস নিউজ সাংবাদিক এলেনা কক্স কৃষ্ণাঙ্গ ও হিস্পানিক ভোটারদের জরিপ বিশ্লেষণ করে জানান, ফ্লোরিডায়, কালো ভোটারদের মধ্যে বাইডেনের সমর্থন ৯২ শতাংশ। জর্জিয়া ও উত্তর ক্যারোলাইনে বাইডেন পাচ্ছেন হিলারি ক্লিনটনের মতো কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের সমর্থন। বাইডেন ক্লিনটনের মতোই সমর্থন পাবেন ফ্লোরিডার স্পেনিশ ভাষী ভোটারদের থেকে।

সাংবাদিক এলেনা কক্স সিনিয়র এবং তরুণ ভোটার জরিপ বিশ্লেষণ করে বলেন, বাইডেনের ফ্লোরিডা এবং জর্জিয়ায় সিনিয়র ভোটারদের সঙ্গে ২০১৬ সালের তুলনায় দূরত্ব অনেকটা কেটেছে। উত্তর ক্যারোলাইনাতে বাইডেনের সিনিয়রদের সাথে দুই পয়েন্ট। সেখানে ট্রাম্প ২০১৬ সালে ২৩ পয়েন্টে জিতেছিলেন।

ফ্লোরিডায় তরুণ ভোটারদের মধ্যে ডেমোক্র্যাটিক কলামে আরও বড় পরিবর্তন রয়েছে। ৩০ বছরের কম বয়সী ভোটারদের মধ্যে বাইডেন ৩৯ পয়েন্ট নিয়ে এগিয়ে আছেন। চার বছর আগে এখানে হিলারি ক্লিনটন পেয়েছিলেন ১৮ পয়েন্ট।

এলেনা কক্স জানান, এই রাজ্যসমূহের শহুরে অঞ্চলগুলো বাইডেনের পক্ষে। অপেক্ষাকৃত গ্রামীণ অঞ্চলগুলো ট্রাম্পের পক্ষে। শহরতলির কম বয়সী এবং অশ্বেতাঙ্গরা বেশিরভাগ জো বাইডেনকে ভোট দিচ্ছেন এবং প্রবীণ শ্বেতাঙ্গ ভোটাররা আগের মতোই ট্রাম্পের পক্ষে ভোট দিচ্ছেন।

ট্রাম্পের আইনশৃঙ্খলা বিষয়ে অনেক শ্বেতাঙ্গ ভোটার আশা দেখছেন। তবে কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের তার বক্তব্যে আস্থা রাখে না। ট্রাম্প যখন "আইনশৃঙ্খলা" সম্পর্কে কথা বলেন, উত্তর ক্যারোলিনার অর্ধেক শ্বেতাঙ্গ এবং জর্জিয়ায় প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ লোক মনে করেন যে তিনি তাদের রক্ষা করার চেষ্টা করছেন। তবে ১০ জন কালো ভোটারের মধ্যে সাতজনেরও বেশি মনে করেন যে ট্রাম্প তাদের জন্য বিপজ্জনক হবেন।

নিউইয়র্ক স্টেট ইউনিভার্সিটির রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক রহমান শফিক বলেন, আগাম ভোট এবং ভোট রেজিস্ট্রেশনের সময় নানা প্রশ্ন বিশ্লেষণ করে এই জরিপ পরিচালনা করা হয়েছে। সাম্প্রতিক বিষয় নিয়েও মানুষের মতামত জানতে চাওয়া হয়েছে। এবার প্রচুর অগ্রিম ভোট পড়লেও অর্ধেকের মতো মানুষ এখনো ভোট প্রদানে করেনি। তাই এই জরিপের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত মনে করার কিছু নাই। এই তিন রাজ্য সম্পর্কে আগে ধারনা করা খুব কঠিন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এবার যিনি প্রেসিডেন্ট হবেন তিনি খুব অল্প ব্যবধান নিয়ে হোয়াইট হাউজে যাবেন।

মার্কিন নির্বাচন

অনিশ্চিত তিন রাজ্যে ট্রাম্প-বাইডেন কে এবং কেন এগিয়ে

 তোফাজ্জল লিটন, নিউইয়র্ক থেকে 
২৬ অক্টোবর ২০২০, ০৩:৩১ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

শতাব্দীর সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষ অগ্রিম ভোট প্রদান করছে যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন নির্বাচনে। মহাশূন্য থেকে শুরু করে পৃথিবীর যে কোন রাষ্ট্র থেকে ভোটে অংশগ্রহণ করছেন আমেরিকান নাগরিকেরা। 

তবে সবার চোখ এখন অনিশ্চয়তাপূর্ণ রাজ্য সমূহে। ফ্লোরিডা, জর্জিয়া এবং উত্তর ক্যারোলিনার এই তিন ভোটযুদ্ধক্ষেত্রে ট্রাম্প-বাইডেন কে কার চেয়ে কোন বিষয়ে এগিয়ে আছেন? এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে সিবিএস নিউজ ব্যাটলগ্রাউন্ড ট্র্যাকার জরিপ পরিচালনা করেছে। 

প্রচারের চূড়ান্ত প্রান্তে জরিপে দেখা যায় ফ্লোরিডায় ডেমোক্রেট দলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী জো বাইডেন রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চেয়ে মাত্র দুই-পয়েন্ট এগিয়ে। উত্তর ক্যারোলিনায় বাইডেন চার পয়েন্ট এবং জর্জিয়াতে দুজনেই আছেন সমানে সামান প্রতিযোগিতায়। বৈচিত্র্যময় বিষয়ে ভোটারদের প্রশ্ন করা হয়েছিল। তার মধ্যে করোনা, অর্থনীতি, নেতৃত্বের ধরণ, প্রার্থীর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য। 

উদাহরণ হিসেবে বলা যায় বেশিরভাগ ট্রাম্প সমর্থকরা মনে করেন বাইডেন জিতলে দেশটি সমাজতান্ত্রিক ভাবধারার হয়ে উঠবে। বাইডেনের ভোটাররা আশঙ্কা করেন এবার ট্রাম্প আবার বিজয়ী হলে যে দেশটি তিনি স্বৈরাচারীভাবে পরিচালনা করবেন। 

তিন রাজ্যে বিষয়ের জরিপে দেখা যায় বাইডেন করোনাভাইরাস প্রশ্নে দারুণভাবে এগিয়ে আছেন। অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির প্রেক্ষিতে ফ্লোরিডায় ট্রাম্পে আস্থা রাখেন ৫০ ভাগ মানুষ। সেখানে বাইডেনের পক্ষে আছেন ৪৩ শতাংশ। ফ্লোরিডায় ট্রাম্পকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেখতে চায় ৪৮ ভাগ ভোটার। বাইডেনকে চায় ৫০ ভাগ। জর্জিয়ায় সমান সমান। নর্থ ক্যারোলিনায় বাইডেন ৫১ এবং ট্রাম্প ৪৭। 

সিবিএস নিউজ সাংবাদিক কাবির খান্না ২০১৬ সাল থেকে ভোটারদের মধ্যে কী বিষয়ে পরিবর্তন এসেছে এমন প্রশ্নের বিশ্লেষণে জানান, বাইডেনের পক্ষে শ্বেতাঙ্গ ভোটার বেড়েছে ২০১৬ সালে হিলারি ক্লিনটনের প্রাপ্ত ভোটারের চেয়ে। সেই সময় ট্রাম্প এই তিনটি রাজ্যেই দ্বিগুণ শ্বেতাঙ্গ ভোট পেয়েছিলেন। এখন বাইডেন উত্তর ক্যারোলিনায় এগিয়ে আছেন।  

ফ্লোরিডায় চলছে হাড্ডা-হাড্ডি লড়াই। জর্জিয়ার ট্রাম্পের শ্বেতাঙ্গ ভোট নাটকীয়ভাবে হ্রাস পেয়েছে। বাইডেন বর্তমানে ফ্লোরিডা এবং উত্তর ক্যারোলাইনাতে কলেজ ডিগ্রিধারী শ্বেতাঙ্গ নারীদের শীর্ষে রয়েছেন। জর্জিয়াতে কলেজ ডিগ্রিবিহীন শ্বেতাঙ্গ ভোটার, পুরুষ এবং নারী উভয়েই ট্রাম্পকে পছন্দ করে।

সিবিএস নিউজ সাংবাদিক এলেনা কক্স কৃষ্ণাঙ্গ ও হিস্পানিক ভোটারদের জরিপ বিশ্লেষণ করে জানান, ফ্লোরিডায়, কালো ভোটারদের মধ্যে বাইডেনের সমর্থন ৯২ শতাংশ।  জর্জিয়া ও উত্তর ক্যারোলাইনে বাইডেন পাচ্ছেন হিলারি ক্লিনটনের মতো কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের সমর্থন। বাইডেন ক্লিনটনের মতোই সমর্থন পাবেন ফ্লোরিডার স্পেনিশ ভাষী ভোটারদের থেকে। 

সাংবাদিক এলেনা কক্স সিনিয়র এবং তরুণ ভোটার জরিপ বিশ্লেষণ করে বলেন, বাইডেনের ফ্লোরিডা এবং জর্জিয়ায় সিনিয়র ভোটারদের সঙ্গে ২০১৬ সালের তুলনায় দূরত্ব অনেকটা কেটেছে। উত্তর ক্যারোলাইনাতে বাইডেনের সিনিয়রদের সাথে দুই পয়েন্ট। সেখানে ট্রাম্প ২০১৬ সালে ২৩ পয়েন্টে জিতেছিলেন।  

ফ্লোরিডায় তরুণ ভোটারদের মধ্যে ডেমোক্র্যাটিক কলামে আরও বড় পরিবর্তন রয়েছে। ৩০ বছরের কম বয়সী ভোটারদের মধ্যে বাইডেন ৩৯ পয়েন্ট নিয়ে এগিয়ে আছেন। চার বছর আগে এখানে হিলারি ক্লিনটন পেয়েছিলেন ১৮ পয়েন্ট।

এলেনা কক্স জানান, এই রাজ্যসমূহের শহুরে অঞ্চলগুলো বাইডেনের পক্ষে। অপেক্ষাকৃত গ্রামীণ অঞ্চলগুলো ট্রাম্পের পক্ষে। শহরতলির কম বয়সী এবং অশ্বেতাঙ্গরা বেশিরভাগ জো বাইডেনকে ভোট দিচ্ছেন এবং প্রবীণ শ্বেতাঙ্গ ভোটাররা আগের মতোই  ট্রাম্পের পক্ষে ভোট দিচ্ছেন। 

ট্রাম্পের আইনশৃঙ্খলা বিষয়ে অনেক শ্বেতাঙ্গ ভোটার আশা দেখছেন। তবে কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের তার বক্তব্যে আস্থা রাখে না। ট্রাম্প যখন "আইনশৃঙ্খলা" সম্পর্কে কথা বলেন, উত্তর ক্যারোলিনার অর্ধেক শ্বেতাঙ্গ এবং জর্জিয়ায় প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ লোক মনে করেন যে তিনি তাদের রক্ষা করার চেষ্টা করছেন। তবে ১০ জন কালো ভোটারের মধ্যে সাতজনেরও বেশি মনে করেন যে ট্রাম্প তাদের জন্য বিপজ্জনক হবেন।

নিউইয়র্ক স্টেট ইউনিভার্সিটির রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক রহমান শফিক বলেন, আগাম ভোট এবং ভোট রেজিস্ট্রেশনের সময় নানা প্রশ্ন বিশ্লেষণ করে এই জরিপ পরিচালনা করা হয়েছে। সাম্প্রতিক বিষয় নিয়েও মানুষের মতামত জানতে চাওয়া হয়েছে। এবার প্রচুর অগ্রিম ভোট পড়লেও অর্ধেকের মতো মানুষ এখনো ভোট প্রদানে করেনি। তাই এই জরিপের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত মনে করার কিছু নাই। এই তিন রাজ্য সম্পর্কে আগে ধারনা করা খুব কঠিন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এবার যিনি প্রেসিডেন্ট হবেন তিনি খুব অল্প ব্যবধান নিয়ে হোয়াইট হাউজে যাবেন।