যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচন: প্রেসিডেন্ট নির্ধারণ করবে ৮ অঙ্গরাজ্য
jugantor
যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচন: প্রেসিডেন্ট নির্ধারণ করবে ৮ অঙ্গরাজ্য

  তোফাজ্জল লিটন, নিউইয়র্ক থেকে  

২৭ অক্টোবর ২০২০, ১৫:৩৩:৪০  |  অনলাইন সংস্করণ

এবারের নির্বাচনে ৮টি অঙ্গ রাজ্য নির্ধারণ করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট কে হবেন। দেশটির ৫০টি স্টেটে একসঙ্গে ভোট হলেও সবার দৃষ্টি থাকে ভোটযুদ্ধক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত গোটাকয়েক অঙ্গরাজ্যের দিকে। এগুলোকে দোদুল্যমান রাজ্য বলা হয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা এবারে এমন আটটি অঙ্গরাজ্যকে চিহ্নিত করেছেন যেগুলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ফ্লোরিডা, পেনসিলভানিয়া, ওহাইও, মিশিগান, উইসকনসিন, আইওয়া, অ্যারিজোনা ও নর্থ ক্যারোলাইনারই এবারে হোয়াইট হাউজের বাসিন্দা নির্ধারণ করে দিবে।

ওয়াল স্টিট জার্নালের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, রিপাবলিকান ও ডেমোক্রেট সমর্থনের ওপর ভিত্তি করে আমেরিকার রাজ্যগুলো লাল ও নীলে বিভক্ত। যেসব রাজ্যে ভোটার দুই দলেরই প্রায় সমানে সমান। সেখানে ভোটাররা সাধারণত প্রার্থী ও অন্যান্য পারিপার্শ্বিকতার ওপর নির্ভর করে ভোট প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন। এবারে নির্ধারিত এমন আট দোদুল্যমান রাজ্যে ১২৫টি ইলেকটোরাল ভোট রয়েছে। স্টেটগুলোর মধ্যে পাঁচটিতে সুস্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে আছেন ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থী জো বাইডেন। দুটিতে ট্রাম্পের অবস্থান ভালো।

বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, ফ্লোরিডায় দুই প্রার্থী অনেকটা সমানে সমান লড়ছেন। ফ্লোরিডায় ইলেকটোরাল কলেজের ভোট ২৯টি। নির্বাচনে যা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে পেনসিলভানিয়া, মিশিগান ও উইসকনসিনে বাইডেনের অবস্থা বেশ ভালো। ওহাইও ও আইওয়াতে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন ট্রাম্প। এর বাইরে এবার জর্জিয়া ও মিনেসোটাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সম্প্রতি একটি জরিপে লালদূর্গ বলে পরিচিত টেক্সাসে জো বাইডেনের এগিয়ে থাকাও বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছে। গত ১০০ বছরে কোনো রিপাবলিকান প্রার্থীর পক্ষে এই ফ্লোরিডায় জয়লাভ ছাড়া প্রেসিডেন্ট হওয়া সম্ভব হয়নি। ২০১৬ সালে তিনি ১ পয়েন্টের বেশি ব্যবধানে হিলারি ক্লিনটনকে হারিয়েছিলেন। ফলে এবারের নির্বাচনেও ফ্লোরিডায় জয় পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী ট্রাম্প। কিছু জরিপে বাইডেন এগিয়ে তো কয়েকটিতে ট্রাম্প।

ফ্লোরিডার এক গ্যাস স্টেশনে কাজ করেন শাওন প্রজা। তিনি বলেন, ট্রাম্প ফ্লোরিডার ভোটার। এখানকার বেশিরভাগ প্রকৃত আমেরিকানরা ট্রাম্পকে পছন্দ করে। তারা এই রাষ্ট্রটিকে তৃতীয় বিশ্বের কোনো রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায় না। তাই তারা ট্রাম্পকেই ভোট দিবে। ১৪ ঘণ্টা দৈনিক কাজ করি। বেশিরভাগই ট্রাম্পের সমর্থক দেখি। অধিকাংশ সুইং স্টেটে ট্রাম্পের জয় হবে বলে মনে করি, কারণ সেখানকার মানুষ যোগ্যতা দেখে ভোট দিবেন।

নিউইয়র্কের বাইডেন সমর্থক ব্যাংক কর্মকর্তা সুজন আফজাল বলেন, যদি কোন কারণে ফ্লোরিডা না পাওয়া যায়, তবু বিরাট জয় পাবেন বাইডেন। তিনি এবার রেড স্টেট বলে পরিচিত টেক্সাসেও জয়ী হবেন। পেন্সিলভেনিয়া, মিশিগান, উইসকনসিন নিশ্চিতভাবে জয় পাবেন বাইডেন। এই স্টেটগুলোর ইলেকটোরাল কলেজ ভোটের সংখ্যা যথাক্রমে ২০, ১৬ এবং ১০টি।

ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাসের জরিপ অনুযায়ী টেক্সাসে ৩ পয়েন্টে এগিয়ে বাইডেন। ধারণা করা হচ্ছে হিস্পানিকদের ভোটে এগিয়ে গেছেন বাইডেন। ১৯৭৬ সালে প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারের পর সেখানে আর কোন ডেমোক্রেট জয় পাননি।

কে হবেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট? দেশটির খ্যাতিমান ইতিহাসবিদ অধ্যাপক অ্যালেন লিখটম্যান জানিয়েছেন তার পূর্বাভাস। এবার তিনি বলছেন, প্রেসিডেন্ট হতে যাচ্ছেন ডেমোক্রেটিক প্রার্থী জো বাইডেন। ওয়াশিংটন ডিসির আমেরিকান ইউনিভার্সিটির এই ইতিহাসের অধ্যাপক ১৯৮৪ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত প্রায় প্রতিটি নির্বাচনের ফল আগে থেকেই বলে দিয়েছেন।

২০০০ সালের নির্বাচন বাদে সবগুলো একেবারে সঠিক হয়েছে। যদিও ওই বছরের নির্বাচনটি সুপ্রিম কোর্টের রায়ে সমাধান হয়েছিল। আল গোর হেরেছিলেন রিপাবলিকান জর্জ বুশের কাছে। অ্যালেন লিখটম্যানের এই বিশ্লেষণ ভোটারদের ওপরে প্রভাব ফেলবে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। প্রেসিডেন্ট হবার জন্য ২৭০টি ইলেকটোরাল কলেজ ভোটের প্রয়োজন। সেখানে তিনি মনে করেন বাইডেন পাবেন ৩০৭ থেকে ৩১০টি।

যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচন: প্রেসিডেন্ট নির্ধারণ করবে ৮ অঙ্গরাজ্য

 তোফাজ্জল লিটন, নিউইয়র্ক থেকে 
২৭ অক্টোবর ২০২০, ০৩:৩৩ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

এবারের নির্বাচনে ৮টি অঙ্গ রাজ্য নির্ধারণ করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট কে হবেন। দেশটির ৫০টি স্টেটে একসঙ্গে ভোট হলেও সবার দৃষ্টি থাকে ভোটযুদ্ধক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত গোটাকয়েক অঙ্গরাজ্যের দিকে। এগুলোকে দোদুল্যমান রাজ্য বলা হয়। 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা এবারে এমন আটটি অঙ্গরাজ্যকে চিহ্নিত করেছেন যেগুলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ফ্লোরিডা, পেনসিলভানিয়া, ওহাইও, মিশিগান, উইসকনসিন, আইওয়া, অ্যারিজোনা ও নর্থ ক্যারোলাইনারই এবারে হোয়াইট হাউজের বাসিন্দা নির্ধারণ করে দিবে।

ওয়াল স্টিট জার্নালের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, রিপাবলিকান ও ডেমোক্রেট সমর্থনের ওপর ভিত্তি করে আমেরিকার রাজ্যগুলো লাল ও নীলে বিভক্ত। যেসব রাজ্যে ভোটার দুই দলেরই প্রায় সমানে সমান। সেখানে ভোটাররা সাধারণত প্রার্থী ও অন্যান্য পারিপার্শ্বিকতার ওপর নির্ভর করে ভোট প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন। এবারে নির্ধারিত এমন আট দোদুল্যমান রাজ্যে ১২৫টি ইলেকটোরাল ভোট রয়েছে। স্টেটগুলোর মধ্যে পাঁচটিতে সুস্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে আছেন ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থী জো বাইডেন। দুটিতে ট্রাম্পের অবস্থান ভালো।

বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, ফ্লোরিডায় দুই প্রার্থী অনেকটা সমানে সমান লড়ছেন। ফ্লোরিডায় ইলেকটোরাল কলেজের ভোট ২৯টি। নির্বাচনে যা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে পেনসিলভানিয়া, মিশিগান ও উইসকনসিনে বাইডেনের অবস্থা বেশ ভালো। ওহাইও ও আইওয়াতে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন ট্রাম্প। এর বাইরে এবার জর্জিয়া ও মিনেসোটাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। 

সম্প্রতি একটি জরিপে লালদূর্গ বলে পরিচিত টেক্সাসে জো বাইডেনের এগিয়ে থাকাও বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছে। গত ১০০ বছরে কোনো রিপাবলিকান প্রার্থীর পক্ষে এই ফ্লোরিডায় জয়লাভ ছাড়া প্রেসিডেন্ট হওয়া সম্ভব হয়নি। ২০১৬ সালে তিনি ১ পয়েন্টের বেশি ব্যবধানে হিলারি ক্লিনটনকে হারিয়েছিলেন। ফলে এবারের নির্বাচনেও ফ্লোরিডায় জয় পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী ট্রাম্প। কিছু জরিপে বাইডেন এগিয়ে তো কয়েকটিতে ট্রাম্প।

ফ্লোরিডার এক গ্যাস স্টেশনে কাজ করেন শাওন প্রজা। তিনি বলেন, ট্রাম্প ফ্লোরিডার ভোটার। এখানকার বেশিরভাগ প্রকৃত আমেরিকানরা ট্রাম্পকে পছন্দ করে। তারা এই রাষ্ট্রটিকে তৃতীয় বিশ্বের কোনো রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায় না। তাই তারা ট্রাম্পকেই ভোট দিবে। ১৪ ঘণ্টা দৈনিক কাজ করি। বেশিরভাগই ট্রাম্পের সমর্থক দেখি। অধিকাংশ সুইং স্টেটে ট্রাম্পের জয় হবে বলে মনে করি, কারণ সেখানকার মানুষ যোগ্যতা দেখে ভোট দিবেন।

নিউইয়র্কের বাইডেন সমর্থক ব্যাংক কর্মকর্তা সুজন আফজাল বলেন, যদি কোন কারণে ফ্লোরিডা না পাওয়া যায়, তবু বিরাট জয় পাবেন বাইডেন। তিনি এবার রেড স্টেট বলে পরিচিত টেক্সাসেও জয়ী হবেন। পেন্সিলভেনিয়া, মিশিগান, উইসকনসিন নিশ্চিতভাবে জয় পাবেন বাইডেন। এই স্টেটগুলোর ইলেকটোরাল কলেজ ভোটের সংখ্যা যথাক্রমে ২০, ১৬ এবং ১০টি। 

ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাসের জরিপ অনুযায়ী টেক্সাসে ৩ পয়েন্টে এগিয়ে বাইডেন। ধারণা করা হচ্ছে হিস্পানিকদের ভোটে এগিয়ে গেছেন বাইডেন। ১৯৭৬ সালে প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারের পর সেখানে আর কোন ডেমোক্রেট জয় পাননি।  

কে হবেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট? দেশটির খ্যাতিমান ইতিহাসবিদ অধ্যাপক অ্যালেন লিখটম্যান জানিয়েছেন তার পূর্বাভাস। এবার তিনি বলছেন, প্রেসিডেন্ট হতে যাচ্ছেন ডেমোক্রেটিক প্রার্থী জো বাইডেন। ওয়াশিংটন ডিসির আমেরিকান ইউনিভার্সিটির এই ইতিহাসের অধ্যাপক ১৯৮৪ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত প্রায় প্রতিটি নির্বাচনের ফল আগে থেকেই বলে দিয়েছেন। 

২০০০ সালের নির্বাচন বাদে সবগুলো একেবারে সঠিক হয়েছে। যদিও ওই বছরের নির্বাচনটি সুপ্রিম কোর্টের রায়ে সমাধান হয়েছিল। আল গোর হেরেছিলেন রিপাবলিকান জর্জ বুশের কাছে। অ্যালেন লিখটম্যানের এই বিশ্লেষণ ভোটারদের ওপরে প্রভাব ফেলবে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। প্রেসিডেন্ট হবার জন্য ২৭০টি ইলেকটোরাল কলেজ ভোটের প্রয়োজন। সেখানে তিনি মনে করেন বাইডেন পাবেন ৩০৭ থেকে ৩১০টি।