মার্কিন নির্বাচনে প্রচারণার শেষ দৌড়ে কে কোন দিকে?
jugantor
মার্কিন নির্বাচনে প্রচারণার শেষ দৌড়ে কে কোন দিকে?

  তোফাজ্জল লিটন, নিউইয়র্ক থেকে  

২৮ অক্টোবর ২০২০, ১৫:৩৬:৪২  |  অনলাইন সংস্করণ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের শেষ সপ্তাহে ট্রাম্প এবং বাইডেন দুইজন ছুটছেন এক রাজ্য থেকে আরেক রাজ্যে। করো যেন কোনো নাওয়া-খাওয়া নাই। তাদের পরিকল্পনায় মানুষকে আশ্বস্থ এবং বিরোধীকে সমালোচনা করে বক্তব্য দিচ্ছেন। নানা জরিপে বাইডেনকে এগিয়ে থাকতে দেখো গেলেও সেই ব্যবধান গড়ে দুই থেকে চার শতাংশ। তাই এবারের নির্বাচনের স্মরণকালের অন্যতম প্রতিদন্ধিতামূলক হবে বলে বিশ্লেষকরা বর্ণনা করেছেন।

ট্রাম্প বলেছেন, আপনি যখন প্রেসিডেন্ট হবেন তখন আপনি একদিনও ছুটি নিতে পারবেন না। আপনাকে কাজ করতে হবে। আমি কাজ করে যাচ্ছি। আপনি অ্যাথলিটদের জানেন, তারা বলে যে তারা সবকিছু মাঠে রেখে যায়। আমিও তেমনভাবে বিশ্বাস করি, আমি দেশের জন্য যা করেছি তা সবাই মনে রেখে আমাকে আবার বিজয়ী করবে।

বাইডেন বলেছেন, আমি কোনো দলের প্রেসিডেন্ট নয় পুরো জাতীর প্রেসিডেন্ট হতে চাই। আমি একজন গর্বিত ডেমোক্র্যাট হিসাবে কাজ চালাচ্ছি। তবে আমি আমেরিকান প্রেসিডেন্ট হিসাবে শাসন করব। আমি ডেমোক্র্যাটস এবং রিপাবলিকান সবার সঙ্গে কাজ করব। যারা আমাকে সমর্থন করেন না তাদের পক্ষে আমিও কঠোর পরিশ্রম করব।

সিবিএস নিউজ সাংবাদিক বো এরিকসন জানিয়েছেন, ডেমোক্রেট দলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী বাইডেন মঙ্গলবার ওয়ার্ম স্প্রিংস, জর্জিয়া এবং আটলান্টায় যাত্রা করছেন। ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থী কমলা হ্যারিস পশ্চিমে রেনো, নেভাদা এবং লাস ভেগাসে।

বুধবারের জন্য ডেমোক্র্যাটসের দলের এখনো কোনো পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়নি। তবে বৃহস্পতিবার বাইডেন ব্রোভার্ড কাউন্টি, ফ্লোরিডা এবং ট্যাম্পায় প্রচার চালাবেন। সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাও মঙ্গলবার ফ্লোরিডার অরল্যান্ডোতে প্রচার করছেন বাইডেনের পক্ষে। তিনি গত সপ্তাহে পেনসিলভেনিয়ায় একটি ড্রাইভ-ইন সমাবেশের মাধ্যমে বাইডেনের পক্ষে ব্যক্তিগতভাবে প্রচার শুরু করেছিলেন।

দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট এবং রিপাবলিকান দলের প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার ল্যানসিং, মিশিগান; ওয়েস্ট সেলাম, উইসকনসিন; ওমাহা, নেব্রাস্কা শহরে প্রচারণা চালিয়েছেন। বুধবার যাবেন অ্যারিজোনার বুলহেড সিটিতে। এরপরে লাফলিন, নেভাদা এবং ফিনিক্স। ট্রাম্প নির্বাচনের দিন দেশটির রাজধানী ওয়াশিংটন, ডিসিতে থাকবেন।

সিবিএস নিউজের পোলিংয়ে দেখা গেছে যে বাইডেন নেভাদায় ৫৩% থেকে ৪৪% শীর্ষে আছেন। জর্জিয়ার দুই দলের সমান জনপ্রিয়তা। তবে ১৯৯২ সাল থেকে এখানে কখনও ডেমোক্র্যাট জিততে পারেনি। হিলারি ক্লিনটন নেভাদাকে প্রায় দুই পয়েন্টে জিতেছিলেন তবে জর্জিয়াতে হেরে গেছেন।

তরুণ রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী বাহার খন্দকার সবুজ বলেন, ডেমোক্রেটরা গরীবদেরকে গরীব করে রাখার পক্ষে কাজ করে। খাবার চিকিৎসা এবং নানান ভাতা দিয়ে মানুষকে পরনির্ভর করে রাখে। আমাদের টাকা আমাদেরই দিচ্ছে। সাধারণ মানুষ তা পছন্দ করে। তবে আমি মনে করি রিপাবলিকানরা দেশের মানুষের প্রকৃত উন্নয়ন করে। তারা বিশ্বব্যাপী ব্যবসার প্রসার ঘটায়। নতুন কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করে। করোনা মহামারির সময়ে আরেকজন নতুন প্রেসিডেন্ট এসে খুব ভালো কিছু করতে পারবেন বলে মনে হয় না।

অধ্যাপক নাদের আলী বলেন, ট্রাম্প দেশটিকে দিনকে দিন অধঃপতনের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। অভিবাসনের এই দেশকে তিনি শ্বেতাঙ্গের দেশ বানাতে চান। সাম্প্রদায়িকতাকে পুঁজি করে উনি বিজয়ের যে স্বপ্ন দেখছেন তা কোনো দিন বাস্তবায়িত হবে না। এ দেশের মানুষ বোকা না। তারা বাইডেনের মতো যোগ্য মানুষকে রেখে হাস্যকর ট্রাম্পকে ভোট দিবে না।

মার্কিন নির্বাচনে প্রচারণার শেষ দৌড়ে কে কোন দিকে?

 তোফাজ্জল লিটন, নিউইয়র্ক থেকে 
২৮ অক্টোবর ২০২০, ০৩:৩৬ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের শেষ সপ্তাহে ট্রাম্প এবং বাইডেন দুইজন ছুটছেন এক রাজ্য থেকে আরেক রাজ্যে। করো যেন কোনো নাওয়া-খাওয়া নাই। তাদের  পরিকল্পনায় মানুষকে আশ্বস্থ এবং বিরোধীকে সমালোচনা করে বক্তব্য দিচ্ছেন। নানা জরিপে বাইডেনকে এগিয়ে থাকতে দেখো গেলেও সেই ব্যবধান গড়ে দুই থেকে চার শতাংশ। তাই এবারের নির্বাচনের স্মরণকালের অন্যতম প্রতিদন্ধিতামূলক হবে বলে বিশ্লেষকরা বর্ণনা করেছেন।

ট্রাম্প বলেছেন, আপনি যখন প্রেসিডেন্ট হবেন তখন আপনি একদিনও ছুটি নিতে পারবেন না। আপনাকে কাজ করতে হবে। আমি কাজ করে যাচ্ছি। আপনি অ্যাথলিটদের জানেন, তারা বলে যে তারা সবকিছু মাঠে রেখে যায়। আমিও তেমনভাবে বিশ্বাস করি, আমি দেশের জন্য যা করেছি তা সবাই মনে রেখে আমাকে আবার বিজয়ী করবে।

বাইডেন বলেছেন, আমি কোনো দলের প্রেসিডেন্ট নয় পুরো জাতীর প্রেসিডেন্ট হতে চাই। আমি একজন গর্বিত ডেমোক্র্যাট হিসাবে কাজ চালাচ্ছি। তবে আমি আমেরিকান প্রেসিডেন্ট হিসাবে শাসন করব। আমি ডেমোক্র্যাটস এবং রিপাবলিকান সবার সঙ্গে কাজ করব। যারা আমাকে সমর্থন করেন না তাদের পক্ষে আমিও কঠোর পরিশ্রম করব।

সিবিএস নিউজ সাংবাদিক বো এরিকসন জানিয়েছেন, ডেমোক্রেট দলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী বাইডেন মঙ্গলবার ওয়ার্ম স্প্রিংস, জর্জিয়া এবং আটলান্টায় যাত্রা করছেন। ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থী কমলা হ্যারিস পশ্চিমে রেনো, নেভাদা এবং লাস ভেগাসে। 

বুধবারের জন্য ডেমোক্র্যাটসের দলের এখনো কোনো পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়নি। তবে বৃহস্পতিবার বাইডেন ব্রোভার্ড কাউন্টি, ফ্লোরিডা এবং ট্যাম্পায় প্রচার চালাবেন। সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাও মঙ্গলবার ফ্লোরিডার অরল্যান্ডোতে প্রচার করছেন বাইডেনের পক্ষে। তিনি গত সপ্তাহে পেনসিলভেনিয়ায় একটি ড্রাইভ-ইন সমাবেশের মাধ্যমে বাইডেনের পক্ষে ব্যক্তিগতভাবে প্রচার শুরু করেছিলেন।

দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট এবং রিপাবলিকান দলের প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার ল্যানসিং, মিশিগান; ওয়েস্ট সেলাম, উইসকনসিন; ওমাহা, নেব্রাস্কা শহরে প্রচারণা চালিয়েছেন। বুধবার যাবেন অ্যারিজোনার বুলহেড সিটিতে। এরপরে লাফলিন, নেভাদা এবং ফিনিক্স। ট্রাম্প নির্বাচনের দিন দেশটির রাজধানী ওয়াশিংটন, ডিসিতে থাকবেন।

সিবিএস নিউজের পোলিংয়ে দেখা গেছে যে বাইডেন নেভাদায় ৫৩% থেকে ৪৪% শীর্ষে আছেন। জর্জিয়ার দুই দলের সমান জনপ্রিয়তা। তবে ১৯৯২ সাল থেকে এখানে কখনও ডেমোক্র্যাট জিততে পারেনি। হিলারি ক্লিনটন নেভাদাকে প্রায় দুই পয়েন্টে জিতেছিলেন তবে জর্জিয়াতে হেরে গেছেন।

তরুণ রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী বাহার খন্দকার সবুজ বলেন, ডেমোক্রেটরা গরীবদেরকে গরীব করে রাখার পক্ষে কাজ করে। খাবার চিকিৎসা এবং নানান ভাতা দিয়ে মানুষকে পরনির্ভর করে রাখে। আমাদের টাকা আমাদেরই দিচ্ছে। সাধারণ মানুষ তা পছন্দ করে। তবে আমি মনে করি রিপাবলিকানরা দেশের মানুষের প্রকৃত উন্নয়ন করে। তারা বিশ্বব্যাপী ব্যবসার প্রসার ঘটায়। নতুন কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করে। করোনা মহামারির সময়ে আরেকজন নতুন প্রেসিডেন্ট এসে খুব ভালো কিছু করতে পারবেন বলে মনে হয় না।  

অধ্যাপক নাদের আলী বলেন, ট্রাম্প দেশটিকে দিনকে দিন অধঃপতনের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। অভিবাসনের এই দেশকে তিনি শ্বেতাঙ্গের দেশ বানাতে চান। সাম্প্রদায়িকতাকে পুঁজি করে উনি বিজয়ের যে স্বপ্ন দেখছেন তা কোনো দিন বাস্তবায়িত হবে না। এ দেশের মানুষ বোকা না। তারা বাইডেনের মতো যোগ্য মানুষকে রেখে হাস্যকর ট্রাম্পকে ভোট দিবে না।