মার্কিন নির্বাচনে জরিপ কতটা প্রভাব ফেলে?
jugantor
মার্কিন নির্বাচনে জরিপ কতটা প্রভাব ফেলে?

  তোফাজ্জল লিটন, নিউইয়র্ক থেকে  

৩১ অক্টোবর ২০২০, ১২:১৮:২৮  |  অনলাইন সংস্করণ

মার্কিন নির্বাচনের শেষ সময়ে প্রার্থীদের চোখ যেন দোদুল্যমান রাজ্য ছাড়া আর কিছুই দেখছে না। ডেমোক্রেট ও রিপাবলিকান দুই দলই চাইছে অনিশ্চয়তাপূর্ণ রাজ্যগুলো তাদের নিয়ন্ত্রণে আনতে।

কোনো অঞ্চলে জরিপে ট্রাম্প এগিয়ে তো কোনো রাজ্যে বাইডেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা ইতোমধ্যে জানিয়েছেন এই নির্বাচন হবে ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল প্রতিযোগিতামূলক। তাই প্রার্থী দুজনেই আছেন দৌড়ে। দোদুল্যমান গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে এগিয়ে আছেন বাইডেন। তবে জরিপ কি সব সময় সত্য বলে?

সাংবাদিক ও লেখক শামীম আল আমিন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন বিশ্লেষণ করে বলেন, নির্বাচন সব সময় সঠিক কথা বলে না। ১৯৮২ সালে ডেমোক্রেট প্রার্থী আফ্রিকান আমেরিকান টম ব্রেডলি জরিপে ব্যাপক এগিয়ে থেকেও পরাজিত হয়ে ছিলেন। তারপর থেকে আমেরিকান নির্বাচনে এটি ব্রেডলি ইফেক্ট নামে পরিচিতি পায়। ২০১৬ সালে হিলারি ক্লিনটন জরিপে দারুণভাবে এগিয়ে থাকলেও বিশ্বকে অবাক করে দিয়ে ট্রাম্প হয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট।

শামীম আল আমিন আরও বলেন, জরিপে অনেক ভোটার সত্য বলেন না। বিশেষ করে ট্রাম্পের ভোটাররা জরিপ এড়িয়ে চলেন। শ্বেতাঙ্গ ভোটাররাও তাদের মতামত মিডিয়ায় প্রকাশ করতে অনীহা দেখান। অনেক ভোটার শেষ মুহূর্তে মতামত পাল্টান। এজন্য বলা যায় জরিপ দিয়ে একটি ধারণা পাওয়া যায় মাত্র। কোনো ভাবেই পূর্ণ আস্থা রাখা যায় না।

তারপরেও জরিপ দেখে প্রার্থী ও ভোটাররা সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবারের এনবিসি নিউজের জরিপে ফ্লোরিডায় ৫১ এবং ৪৭ শতাংশে পিছিয়ে ছিলেন। রিপাবলিকানদের অন্যতম ভরসার এই রাজ্যে জয় নিশ্চিত করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন ট্রাম্প ও তার দল রিপাবলিকান। দেশের অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার করার আশ্বাস দেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট।

ডেমোক্র্যাটদের উদ্দেশ্য করে টাম্পায় ট্রাম্প বলেছিলেন, তারা আপনাকে কিছুই করতে দেবে না। তারা সব কিছু বন্ধ করে দেওয়ার পক্ষে। আমরা অর্থনীতির চাকা সচল রাখবো সব সময়। আমরা আর কখনও লকডাউনে ফিরে যাবো না। আমরা ব্যবসায়ের জন্য উন্মুক্ত করে দিব সব কিছু।

বাইডেন বৃহস্পতিবার মায়ামির উত্তরে ব্রোভার্ড কাউন্টিতে এক পথসমাবেশে বক্তব্য রাখেন। ডেমোক্রেট দলের প্রাক্তন ভাইস প্রেসিডেন্ট বাইডেন বলেছিলেন, আমি অর্থনীতির চাকা অচল করতে যাচ্ছি না। আমি দেশটিও বন্ধ করতে যাচ্ছি না। তবে আমি ভাইরাসটি বন্ধ করতে চাই।

ট্রাম্প ২০১৬ সালে ফ্লোরিডায় হিলারি ক্লিনটনকে খুব কাছাকাছি ভোটে পরাজিত করেছিলেন। তবে এবারের সানসাইন রাজ্যের জরিপে দেখা গেছে বাইডেন সর্বাত্মক এগিয়ে আছেন। ট্রাম্প ও বাইডেন যথাক্রমে কৃষ্ণাঙ্গ (৮৪-৪১)। নারী (৫৭ -৪১)। স্বনির্ভরদের মধ্যে (৫৫-৪১)। সিনিয়ররাও (৫৩-৪৬) শতাংশ ভোটারের সমর্থন পেয়েছেন।

ওয়াশিংটন ডিসি নির্বাচনে কোনো রাজ্য নয়। তাই ৫০টি রাজ্যে মোট ইলেকটোরাল ভোট আছে ৫৩৮টি। যেকোনো প্রার্থীকে জয়ী হতে হলে ২৭০টি ইলেকটোরাল ভোট পেতে হবে। ফ্লোরিডা ও নিউইয়র্ক যৌথভাবে তৃতীয় স্থানে রয়েছেন ইলেকটোরাল ভোটের সংখ্যার দিকে থেকে। এর মধ্যে ফ্লোরিডায় আছে ২৯টি ভোট। কোনো রাজ্যে যে প্রার্থী বিজয়ী হবেন সেই রাজ্যের সমস্ত ইলেকটোরাল ভোট হয়ে যাবে তার।

ট্রাম্প পুনরায় বিজয়ী হতে হলে ফ্লোরিডায় জয়লাভ করতে হবে। দেখা গেছে ফ্লোরিডায় না জিতে কোনো রিপাবলিকান প্রার্থী প্রেসিডেন্ট হতে পারেননি। ভোটাযুদ্ধক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত পেনসিলভেনিয়া এবং ওহিওতেও বাইডেন এগিয়ে আছেন ভালো ব্যবধানে। ২০টি ইলেকটোরাল ভোট নিয়ে পেনসিলভেনিয়া ও ইলিনয়ন রাজ্য সমানভাবে পঞ্চম স্থানে আছে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. আশরাফ উদ্দিন আহমেদ বলেন, আমি বিশ্বাস করি এবারের জরিপ সত্য হবে। তবে আমি মনে করি বাইডেনের প্রেসিডেন্ট হওয়া উচিত। তিনি সর্বসাধারণের জন্য চিন্তা করেন এবং মানুষের জন্য যা অপরিহার্য সেই অনুযায়ী পরিকল্পনা করেন। যেমন- শিক্ষা, স্বাস্থ্য, গ্লোবাল ওয়ার্মিং বিষয়ে ব্যাপক সচেতনভাবে তিনি কাজ করবেন। সর্বোপরি সর্ব শ্রেণীর মানুষকে মানুষ হিসেবে মূল্যায়ন করেন।

তিনি বলেন, ট্রাম্প যেভাবে মানুষকে অবজ্ঞা করে কথা বলেন এবং নিজের অহংবোধ প্রকাশ করেন তা একজন প্রেসিডেন্টের কাছে কাম্য নয়। তারপরেও তিনি নির্বাচনে ব্যাপক প্রতিদ্বন্দ্বী অবস্থানে থাকবেন। কারণ এদেশের অপেক্ষাকৃত অল্পশিক্ষিত খ্রিস্টান, এমন কী বিভিন্ন মুসলিম দেশের আমেরিকান নাগরিকরাও তাকে ভোট দিবে। বয়স্ক নাগরিক, বণিক শ্রেণীর লোকেরা তাকে অন্ধভাবে ভোট দিবে।

মার্কিন নির্বাচনে জরিপ কতটা প্রভাব ফেলে?

 তোফাজ্জল লিটন, নিউইয়র্ক থেকে 
৩১ অক্টোবর ২০২০, ১২:১৮ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

মার্কিন নির্বাচনের শেষ সময়ে প্রার্থীদের চোখ যেন দোদুল্যমান রাজ্য ছাড়া আর কিছুই দেখছে না। ডেমোক্রেট ও রিপাবলিকান দুই দলই চাইছে অনিশ্চয়তাপূর্ণ রাজ্যগুলো তাদের নিয়ন্ত্রণে আনতে।  

কোনো অঞ্চলে জরিপে ট্রাম্প এগিয়ে তো কোনো রাজ্যে বাইডেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা ইতোমধ্যে জানিয়েছেন এই নির্বাচন হবে ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল প্রতিযোগিতামূলক। তাই প্রার্থী দুজনেই আছেন দৌড়ে। দোদুল্যমান গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে এগিয়ে আছেন বাইডেন। তবে জরিপ কি সব সময় সত্য বলে?

সাংবাদিক ও লেখক শামীম আল আমিন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন বিশ্লেষণ করে বলেন, নির্বাচন সব সময় সঠিক কথা বলে না। ১৯৮২ সালে ডেমোক্রেট প্রার্থী আফ্রিকান আমেরিকান টম ব্রেডলি জরিপে ব্যাপক এগিয়ে থেকেও পরাজিত হয়ে ছিলেন। তারপর থেকে আমেরিকান নির্বাচনে এটি ব্রেডলি ইফেক্ট নামে পরিচিতি পায়। ২০১৬ সালে হিলারি ক্লিনটন জরিপে দারুণভাবে এগিয়ে থাকলেও বিশ্বকে অবাক করে দিয়ে ট্রাম্প হয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট।

শামীম আল আমিন আরও বলেন, জরিপে অনেক ভোটার সত্য বলেন না। বিশেষ করে ট্রাম্পের ভোটাররা জরিপ এড়িয়ে চলেন। শ্বেতাঙ্গ ভোটাররাও তাদের মতামত মিডিয়ায় প্রকাশ করতে অনীহা দেখান। অনেক ভোটার শেষ মুহূর্তে মতামত পাল্টান। এজন্য বলা যায় জরিপ দিয়ে একটি ধারণা পাওয়া যায় মাত্র। কোনো ভাবেই পূর্ণ আস্থা রাখা যায় না।

তারপরেও জরিপ দেখে প্রার্থী ও ভোটাররা সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবারের এনবিসি নিউজের জরিপে ফ্লোরিডায় ৫১ এবং ৪৭ শতাংশে পিছিয়ে ছিলেন। রিপাবলিকানদের অন্যতম ভরসার এই রাজ্যে জয় নিশ্চিত করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন ট্রাম্প ও তার দল রিপাবলিকান। দেশের অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার করার আশ্বাস দেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট।

ডেমোক্র্যাটদের উদ্দেশ্য করে টাম্পায় ট্রাম্প বলেছিলেন, তারা আপনাকে কিছুই করতে দেবে না। তারা সব কিছু বন্ধ করে দেওয়ার পক্ষে। আমরা অর্থনীতির চাকা সচল রাখবো সব সময়। আমরা আর কখনও লকডাউনে ফিরে যাবো না। আমরা ব্যবসায়ের জন্য উন্মুক্ত করে দিব সব কিছু।

বাইডেন বৃহস্পতিবার মায়ামির উত্তরে ব্রোভার্ড কাউন্টিতে এক পথসমাবেশে বক্তব্য রাখেন। ডেমোক্রেট দলের প্রাক্তন ভাইস প্রেসিডেন্ট বাইডেন বলেছিলেন, আমি অর্থনীতির চাকা অচল করতে যাচ্ছি না। আমি দেশটিও বন্ধ করতে যাচ্ছি না। তবে আমি ভাইরাসটি বন্ধ করতে চাই।

ট্রাম্প ২০১৬ সালে ফ্লোরিডায় হিলারি ক্লিনটনকে খুব কাছাকাছি ভোটে পরাজিত করেছিলেন। তবে এবারের সানসাইন রাজ্যের জরিপে দেখা গেছে বাইডেন সর্বাত্মক এগিয়ে আছেন। ট্রাম্প ও বাইডেন যথাক্রমে কৃষ্ণাঙ্গ (৮৪-৪১)। নারী (৫৭ -৪১)। স্বনির্ভরদের মধ্যে (৫৫-৪১)। সিনিয়ররাও (৫৩-৪৬) শতাংশ ভোটারের সমর্থন পেয়েছেন।

ওয়াশিংটন ডিসি নির্বাচনে কোনো রাজ্য নয়। তাই ৫০টি রাজ্যে মোট ইলেকটোরাল ভোট আছে ৫৩৮টি। যেকোনো প্রার্থীকে জয়ী হতে হলে ২৭০টি ইলেকটোরাল ভোট পেতে হবে। ফ্লোরিডা ও  নিউইয়র্ক যৌথভাবে তৃতীয় স্থানে রয়েছেন ইলেকটোরাল ভোটের সংখ্যার দিকে থেকে। এর মধ্যে ফ্লোরিডায় আছে ২৯টি ভোট। কোনো রাজ্যে যে প্রার্থী বিজয়ী হবেন সেই রাজ্যের সমস্ত ইলেকটোরাল ভোট হয়ে যাবে তার।

ট্রাম্প পুনরায় বিজয়ী হতে হলে ফ্লোরিডায় জয়লাভ করতে হবে। দেখা গেছে ফ্লোরিডায় না জিতে কোনো রিপাবলিকান প্রার্থী প্রেসিডেন্ট হতে পারেননি। ভোটাযুদ্ধক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত পেনসিলভেনিয়া এবং ওহিওতেও বাইডেন এগিয়ে আছেন ভালো ব্যবধানে। ২০টি ইলেকটোরাল ভোট নিয়ে পেনসিলভেনিয়া ও ইলিনয়ন রাজ্য সমানভাবে পঞ্চম স্থানে আছে।  

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. আশরাফ উদ্দিন আহমেদ বলেন, আমি বিশ্বাস করি এবারের জরিপ সত্য হবে। তবে আমি মনে করি বাইডেনের প্রেসিডেন্ট হওয়া উচিত। তিনি সর্বসাধারণের জন্য চিন্তা করেন এবং মানুষের জন্য যা অপরিহার্য সেই অনুযায়ী পরিকল্পনা করেন। যেমন- শিক্ষা, স্বাস্থ্য, গ্লোবাল ওয়ার্মিং বিষয়ে ব্যাপক সচেতনভাবে তিনি কাজ করবেন। সর্বোপরি সর্ব শ্রেণীর মানুষকে মানুষ হিসেবে মূল্যায়ন করেন।

তিনি বলেন, ট্রাম্প যেভাবে মানুষকে অবজ্ঞা করে কথা বলেন এবং নিজের অহংবোধ প্রকাশ করেন তা একজন প্রেসিডেন্টের কাছে কাম্য নয়। তারপরেও তিনি নির্বাচনে ব্যাপক প্রতিদ্বন্দ্বী অবস্থানে থাকবেন। কারণ এদেশের অপেক্ষাকৃত অল্পশিক্ষিত খ্রিস্টান, এমন কী বিভিন্ন মুসলিম দেশের আমেরিকান নাগরিকরাও তাকে ভোট দিবে। বয়স্ক নাগরিক, বণিক শ্রেণীর লোকেরা তাকে অন্ধভাবে ভোট দিবে।

 

ঘটনাপ্রবাহ : মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন-২০২০

আরও খবর