জার্মানিতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের পরিচয়পত্র পেশ 
jugantor
জার্মানিতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের পরিচয়পত্র পেশ 

  হাবিবুল্লাহ আল বাহার, জার্মানি থেকে  

১৮ নভেম্বর ২০২০, ০০:০২:৫২  |  অনলাইন সংস্করণ

জার্মানিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রদূত মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া এনডিসি জার্মান রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবনে এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ফেডারেল রাষ্ট্রপতি ফ্রাঙ্ক-ভাল্টার স্টাইনমায়ারের কাছে তার পরিচয়পত্র পেশ করেন।
এই জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে ছিল সীমিত পরিসরে গার্ড অব অনার, দর্শনার্থী বইয়ে স্বাক্ষর, জার্মান রাষ্ট্রপতির কাছে পরিচয়পত্র হস্তান্তর, তার সঙ্গে সস্ত্রীক ফটোসেশন, বন্ধুত্বের নিদর্শনস্বরূপ বাংলাদেশ ও জার্মানির পতাকা উত্তোলন এবং জার্মান রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দশ মিনিট- দীর্ঘ একান্ত বৈঠক। এ সময় রাষ্ট্রদূত মো. মোশারফ হোসেন ভূঁইয়ার সঙ্গে তার সহধর্মিণীও উপস্থিত ছিলেন।

একান্ত বৈঠকে জার্মান রাষ্ট্রপতি নতুন রাষ্ট্রদূতকে এ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানান। রাষ্ট্রদূত জার্মান রাষ্ট্রপতিকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানান এবং এখানে তার অবস্থানকালে জার্মান সরকারের সকল ধরনের সমর্থন কামনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, জার্মানি ইউরোপের অন্যতম প্রধান দেশ হিসেবে স্বাধীনতার পরপরই বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় এবং তখন থেকেই বাংলাদেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।

জার্মান রাষ্ট্রপতি বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে আর্থ-সামাজিক খাতে বাংলাদেশের অসাধারণ অগ্রগতি, বিশেষত ঈর্ষণীয় হারে জিডিপির প্রবৃদ্ধি এবং অর্থনীতির অন্যান্য সূচকসমূহের অব্যাহত ঊর্ধ্বমুখী গতির প্রশংসা করেন। রাষ্ট্রদূত আইসিটি, ফার্মাসিউটিক্যালস, চামড়া ও পাটজাত পণ্য, জাহাজ নির্মাণ, পর্যটন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ইত্যাদিসহ বিভিন্ন সম্ভাবনাময় খাতসমূহকে তুলে ধরেন। এছাড়াও বিদেশি বিনিয়োগ ও ব্যবসাকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপ ও প্রণোদনাসমূহের ব্যাপারে রাষ্ট্রদূত জার্মান রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।

রোহিঙ্গা সংকটের বর্তমান পরিস্থিতি সংক্ষিপ্তভাবে অবহিত করার পরে রাষ্ট্রদূত এ সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য জার্মান সরকার কর্তৃক ইতোমধ্যে প্রদত্ত রাজনৈতিক এবং আর্থিক সমর্থনের জন্য বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। এ সমস্যার কার্যকরী সমাধানের লক্ষ্যে, রাষ্ট্রদূত ভবিষ্যতে দ্বিপক্ষীয় সমর্থনের পাশাপাশি, বিভিন্ন বহুপক্ষীয় ফোরামে জার্মানির সহযোগিতা লাভের আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি রাষ্ট্রপতিকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণও জানান।

নতুন রাষ্ট্রদূত কর্তৃক উত্থাপিত ইস্যুগুলোর জবাবে, জার্মান রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশ রাষ্ট্রদূতকে তার মেয়াদকালে তার পুরোপুরি সমর্থন এবং সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে জার্মানিতে তার সাফল্য কামনা করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, তার আমলে দু’দেশের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার হবে। তিনি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অভাবনীয় সাফল্যের প্রশংসা করেন এবং দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান ব্যবসা ও বিনিয়োগের ব্যাপারে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। তিনি বর্তমান কোভিড-১৯ মহামারী নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন। জার্মান রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে তাদের সুস্বাস্থ্য এবং বাংলাদেশের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

জার্মানিতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের পরিচয়পত্র পেশ 

 হাবিবুল্লাহ আল বাহার, জার্মানি থেকে 
১৮ নভেম্বর ২০২০, ১২:০২ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

জার্মানিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রদূত মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া এনডিসি জার্মান রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবনে এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ফেডারেল রাষ্ট্রপতি ফ্রাঙ্ক-ভাল্টার স্টাইনমায়ারের কাছে তার পরিচয়পত্র পেশ করেন। 
এই জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে ছিল সীমিত পরিসরে গার্ড অব অনার, দর্শনার্থী বইয়ে স্বাক্ষর, জার্মান রাষ্ট্রপতির কাছে পরিচয়পত্র হস্তান্তর, তার সঙ্গে সস্ত্রীক ফটোসেশন, বন্ধুত্বের নিদর্শনস্বরূপ বাংলাদেশ ও জার্মানির পতাকা উত্তোলন এবং জার্মান রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দশ মিনিট- দীর্ঘ একান্ত বৈঠক। এ সময় রাষ্ট্রদূত মো. মোশারফ হোসেন ভূঁইয়ার সঙ্গে তার সহধর্মিণীও উপস্থিত ছিলেন।

একান্ত বৈঠকে জার্মান রাষ্ট্রপতি নতুন রাষ্ট্রদূতকে এ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানান। রাষ্ট্রদূত জার্মান রাষ্ট্রপতিকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানান এবং এখানে তার অবস্থানকালে জার্মান সরকারের সকল ধরনের সমর্থন কামনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, জার্মানি ইউরোপের অন্যতম প্রধান দেশ হিসেবে স্বাধীনতার পরপরই বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় এবং তখন থেকেই বাংলাদেশের উন্নয়নে  গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।

জার্মান রাষ্ট্রপতি বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে আর্থ-সামাজিক খাতে বাংলাদেশের অসাধারণ অগ্রগতি, বিশেষত ঈর্ষণীয় হারে জিডিপির প্রবৃদ্ধি এবং অর্থনীতির অন্যান্য সূচকসমূহের অব্যাহত ঊর্ধ্বমুখী গতির প্রশংসা করেন। রাষ্ট্রদূত আইসিটি, ফার্মাসিউটিক্যালস, চামড়া ও পাটজাত পণ্য, জাহাজ নির্মাণ, পর্যটন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ইত্যাদিসহ বিভিন্ন সম্ভাবনাময় খাতসমূহকে তুলে ধরেন। এছাড়াও বিদেশি বিনিয়োগ ও ব্যবসাকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপ ও প্রণোদনাসমূহের ব্যাপারে রাষ্ট্রদূত জার্মান রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।

রোহিঙ্গা সংকটের বর্তমান পরিস্থিতি সংক্ষিপ্তভাবে অবহিত করার পরে রাষ্ট্রদূত এ সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য জার্মান সরকার কর্তৃক ইতোমধ্যে প্রদত্ত রাজনৈতিক এবং আর্থিক সমর্থনের জন্য বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। এ সমস্যার কার্যকরী সমাধানের লক্ষ্যে, রাষ্ট্রদূত ভবিষ্যতে দ্বিপক্ষীয় সমর্থনের পাশাপাশি, বিভিন্ন বহুপক্ষীয় ফোরামে জার্মানির সহযোগিতা লাভের আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি রাষ্ট্রপতিকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণও জানান।

নতুন রাষ্ট্রদূত কর্তৃক উত্থাপিত ইস্যুগুলোর জবাবে, জার্মান রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশ রাষ্ট্রদূতকে তার মেয়াদকালে তার পুরোপুরি সমর্থন এবং সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে জার্মানিতে তার সাফল্য কামনা করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, তার আমলে দু’দেশের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার হবে। তিনি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অভাবনীয় সাফল্যের প্রশংসা করেন এবং দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান ব্যবসা ও বিনিয়োগের ব্যাপারে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। তিনি বর্তমান কোভিড-১৯ মহামারী নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন। জার্মান রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে তাদের সুস্বাস্থ্য এবং বাংলাদেশের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।