যুক্তরাষ্ট্রের ‘ভাবী’ পররাষ্ট্রমন্ত্রী কে এই ব্লিংকেন
jugantor
যুক্তরাষ্ট্রের ‘ভাবী’ পররাষ্ট্রমন্ত্রী কে এই ব্লিংকেন

  যুগান্তর ডেস্ক  

২৩ নভেম্বর ২০২০, ১৬:২২:০৭  |  অনলাইন সংস্করণ

যুক্তরাষ্ট্রের ‘ভাবী’ পররাষ্ট্রমন্ত্রী কে এই ব্লিংকেন

যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে ঝানু কূটনীতিক অ্যান্টনি ব্লিংকেনের ওপর ভরসা রাখছেন। বাইডেনের ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স, নিউইয়র্ক টাইমস ও আলজাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য দেয়া হয়েছে।

জানা গেছে, ব্লিংকেন দীর্ঘদিন মার্কিন প্রশাসনে কাজ করেছেন। তিনি বিল ক্লিনটন ও বারাক ওবামার প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। বারাক ওবামার কেবিনেটে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের দ্বিতীয় শীর্ষ কর্তাব্যক্তি ছিলেন তিনি। ব্লিংকেন ডেপুটি সেক্রেটারি অব স্টেট ছিলেন। এ ছাড়া একই প্রশাসনে ৫৮ বছর বয়সী ব্লিংকেন উপজাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার পদেও ছিলেন। কূটনীতিতে তার দক্ষতা প্রশ্নাতীত। ওবামার সেই প্রশাসনে জো বাইডেন ছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট। বাইডেনের দীর্ঘদিনের আস্থাভাজন ব্যক্তি অ্যান্টনি ব্লিংকেন।

ব্লিংকেন হার্ডার্ভ গ্র্যাজুয়েট। তিনি কলম্বিয়া ল স্কুল থেকেও স্নাতক করেছেন। অ্যান্টনি ব্লিংকেন কিছু দিন আইনচর্চা করেছেন। তিনি ১৯৮০-এর দশকের শেষভাগে ডেমোক্র্যাট রাজনীতিতে যোগ দেন। ডেমোক্র্যাটিক পার্টির হয়ে দীর্ঘসময় বিদেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক দেখভাল করেছেন।

ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের হাত ধরে হোয়াইট হাউসে প্রথম পা রাখেন অ্যান্টনি ব্লিংকেন। তিনি প্রথমে বিল ক্লিনটনের হোয়াইট হাউসে ‘স্পিচ রাইটার’ হিসেবে যোগ দেন। পরে তিনি বিল ক্লিনটনের অন্যতম জাতীয় নিরাপত্তা সহযোগী হন।

আরেক ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা আমলে অ্যান্টনি ব্লিংকেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় কাজ করেছেন্।

ওবামা প্রশাসনের বিদেশ নীতির ক্ষেত্রে তিনি কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করতেন। বিশেষ করে ২০১৪ সালে ক্রিমিয়ায় রাশিয়ার আগ্রাসনের বিষয়ে কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে যুক্তরাষ্ট্র, ২০১১ সালে ওসামা বিন লাদেন হত্যার অভিযান এবং আইএসআইএসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনার সিদ্ধান্তে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।

ওবামা প্রশাসনের আগে ব্লিংকেন যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের বৈদেশিক নীতি সম্পর্ক কমিটিতে ডেমোক্র্যাটিক স্টাফ ডিরেক্টরের দায়িত্ব পালন করেন। সেই কমিটির সভাপতি ছিলেন জো বাইডেন।

ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন ২০১৬ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছ পরাজিত হওয়ার পর অ্যান্টনি ব্লিংকেন একটি স্ট্র্যাটেজিক অ্যাডভাইজরি ফার্ম প্রতিষ্ঠা করেন।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারপর্বে বাইডেনের অন্যতম ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেন অ্যান্টনি ব্লিংকেন।

দীর্ঘদিন ধরে বাইডেনের পাশে থেকে নিষ্ঠা ও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করে তার যে অগাধ আস্থা তিনি অর্জন করেছেন, তারই পুরস্কার পেতে যাচ্ছেন অ্যান্টনি ব্লিংকেন।

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে ব্লিংকেনকে বৈশ্বিক মিত্রতার রক্ষাকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে চীনের সম্প্রসারণবাদী নীতিকে টেক্কা দিতে ব্লিংকেনকেই বেছে নিচ্ছেন বাইডেন। প্রত্যয়ী ব্লিংকেন গণমাধ্যমকে বলেছেন, আগামী দিনে বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রকেই সক্রিয় নেতৃত্ব দিতে হবে।

অ্যান্টনি ব্লিংকেনের কাজের ধরন সম্পর্কে পরিচিত লোকজন তাকে ‘কূটনীতিকদের কূটনীতি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাদের ভাষ্যমতে, তিনি সুচিন্তিত মানুষ। তিনি তুলনামূলক মৃদুভাষী। তবে পররাষ্ট্রনীতির খুঁটিনাটি দিক সম্পর্কে তিনি খুবই অভিজ্ঞ ও ঝানু।

রয়টার্স বলছে, অ্যান্টনি ব্লিংকেনকে মনোনয়নের বিষয়ে বাইডেনের ট্রানজিশন টিম কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এ বিষয়ে জানতে অ্যান্টনি ব্লিংকেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো সাড়া দেননি।

যুক্তরাষ্ট্রের ‘ভাবী’ পররাষ্ট্রমন্ত্রী কে এই ব্লিংকেন

 যুগান্তর ডেস্ক 
২৩ নভেম্বর ২০২০, ০৪:২২ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
যুক্তরাষ্ট্রের ‘ভাবী’ পররাষ্ট্রমন্ত্রী কে এই ব্লিংকেন
ফাইল ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে ঝানু কূটনীতিক অ্যান্টনি ব্লিংকেনের ওপর ভরসা রাখছেন।  বাইডেনের ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স, নিউইয়র্ক টাইমস ও আলজাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য দেয়া হয়েছে।

জানা গেছে, ব্লিংকেন দীর্ঘদিন মার্কিন প্রশাসনে কাজ করেছেন। তিনি বিল ক্লিনটন ও বারাক ওবামার প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। বারাক ওবামার কেবিনেটে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের দ্বিতীয় শীর্ষ কর্তাব্যক্তি ছিলেন তিনি। ব্লিংকেন ডেপুটি সেক্রেটারি অব স্টেট ছিলেন। এ ছাড়া একই প্রশাসনে ৫৮ বছর বয়সী ব্লিংকেন উপজাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার পদেও ছিলেন। কূটনীতিতে তার দক্ষতা প্রশ্নাতীত। ওবামার সেই প্রশাসনে জো বাইডেন ছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট। বাইডেনের দীর্ঘদিনের আস্থাভাজন ব্যক্তি অ্যান্টনি ব্লিংকেন।

ব্লিংকেন হার্ডার্ভ গ্র্যাজুয়েট। তিনি কলম্বিয়া ল স্কুল থেকেও স্নাতক করেছেন। অ্যান্টনি ব্লিংকেন কিছু দিন আইনচর্চা করেছেন। তিনি ১৯৮০-এর দশকের শেষভাগে ডেমোক্র্যাট রাজনীতিতে যোগ দেন।  ডেমোক্র্যাটিক পার্টির হয়ে দীর্ঘসময় বিদেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক দেখভাল করেছেন। 

ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের হাত ধরে হোয়াইট হাউসে প্রথম পা রাখেন অ্যান্টনি ব্লিংকেন। তিনি প্রথমে বিল ক্লিনটনের হোয়াইট হাউসে ‘স্পিচ রাইটার’ হিসেবে যোগ দেন। পরে তিনি বিল ক্লিনটনের অন্যতম জাতীয় নিরাপত্তা সহযোগী হন।

আরেক ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা আমলে অ্যান্টনি ব্লিংকেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় কাজ করেছেন্। 

ওবামা প্রশাসনের বিদেশ নীতির ক্ষেত্রে তিনি কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করতেন। বিশেষ করে ২০১৪ সালে ক্রিমিয়ায় রাশিয়ার আগ্রাসনের বিষয়ে কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে যুক্তরাষ্ট্র, ২০১১ সালে ওসামা বিন লাদেন হত্যার অভিযান এবং আইএসআইএসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনার সিদ্ধান্তে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।

ওবামা প্রশাসনের আগে ব্লিংকেন যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের বৈদেশিক নীতি সম্পর্ক কমিটিতে ডেমোক্র্যাটিক স্টাফ ডিরেক্টরের দায়িত্ব পালন করেন। সেই কমিটির সভাপতি ছিলেন জো বাইডেন।

ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন ২০১৬ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছ পরাজিত হওয়ার পর অ্যান্টনি ব্লিংকেন একটি স্ট্র্যাটেজিক অ্যাডভাইজরি ফার্ম প্রতিষ্ঠা করেন।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারপর্বে বাইডেনের অন্যতম ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেন অ্যান্টনি ব্লিংকেন।

দীর্ঘদিন ধরে বাইডেনের পাশে থেকে নিষ্ঠা ও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করে তার যে অগাধ আস্থা তিনি অর্জন করেছেন, তারই পুরস্কার পেতে যাচ্ছেন অ্যান্টনি ব্লিংকেন।

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে ব্লিংকেনকে বৈশ্বিক মিত্রতার রক্ষাকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে চীনের সম্প্রসারণবাদী নীতিকে টেক্কা দিতে ব্লিংকেনকেই বেছে নিচ্ছেন বাইডেন। প্রত্যয়ী ব্লিংকেন গণমাধ্যমকে বলেছেন,  আগামী দিনে বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রকেই সক্রিয় নেতৃত্ব দিতে হবে। 

অ্যান্টনি ব্লিংকেনের কাজের ধরন সম্পর্কে পরিচিত লোকজন তাকে ‘কূটনীতিকদের কূটনীতি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাদের ভাষ্যমতে, তিনি সুচিন্তিত মানুষ। তিনি তুলনামূলক মৃদুভাষী। তবে পররাষ্ট্রনীতির খুঁটিনাটি দিক সম্পর্কে তিনি খুবই অভিজ্ঞ ও ঝানু।

রয়টার্স বলছে, অ্যান্টনি ব্লিংকেনকে মনোনয়নের বিষয়ে বাইডেনের ট্রানজিশন টিম কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এ বিষয়ে জানতে অ্যান্টনি ব্লিংকেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো সাড়া দেননি।

 

ঘটনাপ্রবাহ : মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন-২০২০

২১ জানুয়ারি, ২০২১