কাশ্মীরে জয়ের পথে এগিয়ে ফারুক আবদুল্লাহর জোট
jugantor
কাশ্মীরে জয়ের পথে এগিয়ে ফারুক আবদুল্লাহর জোট

  অনলাইন ডেস্ক  

২৩ ডিসেম্বর ২০২০, ১০:১৩:১৮  |  অনলাইন সংস্করণ

বিশেষ মর্যাদা বাতিলের পর প্রথমবারের মতো নির্বাচন হলো ভারতশাসিত কাশ্মীরে।

বর্তমানে কেন্দ্রশাসিত জম্মু-কাশ্মীরে জেলা উন্নয়ন পরিষদের (ডিডিসি) নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন দখল করল ফারুক আবদুল্লাহর নেতৃত্বাধীন গুপকর জোট। খবর এনডিটিভির।

২৮০ আসনের মধ্যে রাত পর্যন্ত ২৫১টির ফল ঘোষণা করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত গুপকর জোট ৯৯ আসন জিতেছে। ৭৭ আসন পেয়ে একক বৃহত্তম দল হয়েছে বিজেপি।

জম্মুতে প্রত্যাশামতোই ভালো ফল করেছে তারা। এ উপত্যকায় জিতেছে তিনটি আসন। ৪৫টি আসন পেয়েছেন নির্দলীয়রা। কংগ্রেস জিতেছে ২২টিতে। ফারুক আবদুল্লাহর দল ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স পেয়েছে ৫৬টি আসন।

জম্মু-কাশ্মীর মিলিয়ে ডিডিসির ২৮০ আসনে ২৮ নভেম্বর থেকে আট দফায় ভোট হয়েছে। এ ছাড়া কাশ্মীরে ৯৩৫টি পঞ্চায়েত ও সরপঞ্চের ১১ হাজার ৮১৪টি শূন্যপদে ভোট হয়েছে। জম্মুতেও ভোট হয়েছে ১৩৫টি পঞ্চায়েত ও ৩৩৯টি সরপঞ্চের শূন্যপদে।

বিভিন্ন জেলা সদরে কড়া নিরাপত্তায় মধ্যে চলছে ভোট গণনা। স্বচ্ছতা বজায় রাখতে রেকর্ড করা হচ্ছে গোটা প্রক্রিয়া। শ্রীনগরে একটি ও বান্দিপোরায় দুটি আসনে জিতেছে বিজেপি। এই প্রথম উপত্যকায় আসন পেল তারা।

দীর্ঘদিন বন্দি রাখার পর এখন ফারুকসহ গুপকর জোটের একাধিক নেতার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা চালানো হচ্ছে। আচমকা ভোট ঘোষণার ফলে প্রস্তুতির তেমন সুযোগও পায়নি বিরোধী দলগুলো। ফারুক, ওমর ও পিডিপি নেত্রী মেহবুবা মুফতি প্রচারও করেননি। তার পরও এই ফল জোটের কাছে বড় সাফল্য।

দক্ষিণ কাশ্মীরে সবচেয়ে ভালো ফল করেছে গুপকর জোট। এখনও পর্যন্ত ৪৫টি আসনে জিতছে তারা। ১০টি আসনে এগিয়ে নির্দলীয়রা। ৫টিতে এগিয়ে কংগ্রেস।

উত্তর কাশ্মীরে ১৩টি আসনে এগিয়ে জোট প্রার্থীরা। ১১টিতে নির্দলীয়রা। শ্রীনগর জেলায় ১৪টি ডিডিসি আসনের মধ্যে সাতটিতে জিতেছেন নির্দলীয়রা। নরেন্দ্র মোদি সরকারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত আপনি পার্টি জিতেছে ৩টিতে।

একটি করে আসন পেয়েছে বিজেপি, পিডিপি, ন্যাশনাল কনফারেন্স ও জম্মু-কাশ্মীর পিপলস মুভমেন্ট। গুপকর জোটের এই জয় তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনীতিকরা।

সকালে জম্মু-কাশ্মীরে ভোটের দায়িত্বে থাকা বিজেপি নেতা অনুরাগ ঠাকুর দাবি করেন, বিজেপি খুবই ভালো ফল করবে। কারণ জম্মু-কাশ্মীরের বাসিন্দারা নয়া নেতৃত্ব খুঁজছেন।

ভোটের চিত্র কিছুটা স্পষ্ট হতে গুপকর জোটের শরিক ন্যাশনাল কনফারেন্সের নেতা ওমর আবদুল্লাহ বলেন, আমাদের কাছে এই জয়ের তাৎপর্য কী, বলে বোঝানো যাবে না।

তিনি বলেন, ২০১৯ সালের ৫ আগস্ট থেকে জম্মু-কাশ্মীরে যা ঘটেছে তা বাসিন্দারা সমর্থন করেন না। সেটিই তারা ভোটের মাধ্যমে বুঝিয়ে দিয়েছেন।

মনোনয়ন পেশ করার পরেই জঙ্গি-যোগের অভিযোগে পিডিপির যুবনেতা ওয়াহিদ প্যারাকে হেফাজতে নিয়েছিল এনআইএ। বন্দি অবস্থাতেই জিতেছেন তিনি। গুপকর জোটের নেতাদের দাবি, জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা লোপ, নেতাকর্মীসহ বাসিন্দাদের বন্দি করার মতো পদক্ষেপকে প্রত্যাখ্যান করেছেন মানুষ।

কাশ্মীরে জয়ের পথে এগিয়ে ফারুক আবদুল্লাহর জোট

 অনলাইন ডেস্ক 
২৩ ডিসেম্বর ২০২০, ১০:১৩ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

বিশেষ মর্যাদা বাতিলের পর প্রথমবারের মতো নির্বাচন হলো ভারতশাসিত কাশ্মীরে।

বর্তমানে কেন্দ্রশাসিত জম্মু-কাশ্মীরে জেলা উন্নয়ন পরিষদের (ডিডিসি) নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন দখল করল ফারুক আবদুল্লাহর নেতৃত্বাধীন গুপকর জোট। খবর এনডিটিভির।

২৮০ আসনের মধ্যে রাত পর্যন্ত ২৫১টির ফল ঘোষণা করা হয়েছে।  এখন পর্যন্ত গুপকর জোট ৯৯ আসন জিতেছে। ৭৭ আসন পেয়ে একক বৃহত্তম দল হয়েছে বিজেপি।

জম্মুতে প্রত্যাশামতোই ভালো ফল করেছে তারা। এ উপত্যকায় জিতেছে তিনটি আসন। ৪৫টি আসন পেয়েছেন নির্দলীয়রা। কংগ্রেস জিতেছে ২২টিতে। ফারুক আবদুল্লাহর দল ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স পেয়েছে ৫৬টি আসন।

জম্মু-কাশ্মীর মিলিয়ে ডিডিসির ২৮০ আসনে ২৮ নভেম্বর থেকে আট দফায় ভোট হয়েছে। এ ছাড়া কাশ্মীরে ৯৩৫টি পঞ্চায়েত ও সরপঞ্চের ১১ হাজার ৮১৪টি শূন্যপদে ভোট হয়েছে। জম্মুতেও ভোট হয়েছে ১৩৫টি পঞ্চায়েত ও ৩৩৯টি সরপঞ্চের শূন্যপদে।

বিভিন্ন জেলা সদরে কড়া নিরাপত্তায় মধ্যে চলছে ভোট গণনা। স্বচ্ছতা বজায় রাখতে রেকর্ড করা হচ্ছে গোটা প্রক্রিয়া। শ্রীনগরে একটি ও বান্দিপোরায় দুটি আসনে জিতেছে বিজেপি। এই প্রথম উপত্যকায় আসন পেল তারা।

দীর্ঘদিন বন্দি রাখার পর এখন ফারুকসহ গুপকর জোটের একাধিক নেতার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা চালানো হচ্ছে। আচমকা ভোট ঘোষণার ফলে প্রস্তুতির তেমন সুযোগও পায়নি বিরোধী দলগুলো। ফারুক, ওমর ও পিডিপি নেত্রী মেহবুবা মুফতি প্রচারও করেননি। তার পরও এই ফল জোটের কাছে বড় সাফল্য।

দক্ষিণ কাশ্মীরে সবচেয়ে ভালো ফল করেছে গুপকর জোট। এখনও পর্যন্ত ৪৫টি আসনে জিতছে তারা। ১০টি আসনে এগিয়ে নির্দলীয়রা। ৫টিতে এগিয়ে কংগ্রেস।

উত্তর কাশ্মীরে ১৩টি আসনে এগিয়ে জোট প্রার্থীরা। ১১টিতে নির্দলীয়রা। শ্রীনগর জেলায় ১৪টি ডিডিসি আসনের মধ্যে সাতটিতে জিতেছেন নির্দলীয়রা। নরেন্দ্র মোদি সরকারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত আপনি পার্টি জিতেছে ৩টিতে।

একটি করে আসন পেয়েছে বিজেপি, পিডিপি, ন্যাশনাল কনফারেন্স ও জম্মু-কাশ্মীর পিপলস মুভমেন্ট। গুপকর জোটের এই জয় তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনীতিকরা।

সকালে জম্মু-কাশ্মীরে ভোটের দায়িত্বে থাকা বিজেপি নেতা অনুরাগ ঠাকুর দাবি করেন, বিজেপি খুবই ভালো ফল করবে। কারণ জম্মু-কাশ্মীরের বাসিন্দারা নয়া নেতৃত্ব খুঁজছেন।

ভোটের চিত্র কিছুটা স্পষ্ট হতে গুপকর জোটের শরিক ন্যাশনাল কনফারেন্সের নেতা ওমর আবদুল্লাহ বলেন, আমাদের কাছে এই জয়ের তাৎপর্য কী, বলে বোঝানো যাবে না।

তিনি বলেন, ২০১৯ সালের ৫ আগস্ট থেকে জম্মু-কাশ্মীরে যা ঘটেছে তা বাসিন্দারা সমর্থন করেন না। সেটিই তারা ভোটের মাধ্যমে বুঝিয়ে দিয়েছেন।

মনোনয়ন পেশ করার পরেই জঙ্গি-যোগের অভিযোগে পিডিপির যুবনেতা ওয়াহিদ প্যারাকে হেফাজতে নিয়েছিল এনআইএ। বন্দি অবস্থাতেই জিতেছেন তিনি। গুপকর জোটের নেতাদের দাবি, জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা লোপ, নেতাকর্মীসহ বাসিন্দাদের বন্দি করার মতো পদক্ষেপকে প্রত্যাখ্যান করেছেন মানুষ।

 

ঘটনাপ্রবাহ : কাশ্মীর সংকট