কাতারের ওপর অবরোধ প্রত্যাহার কাদের বিজয়?
jugantor
কাতারের ওপর অবরোধ প্রত্যাহার কাদের বিজয়?

  সরোয়ার আলম, আঙ্কারা, তুরস্ক থেকে  

০৫ জানুয়ারি ২০২১, ২১:৪৪:৩৭  |  অনলাইন সংস্করণ

২০১৭ সালের ৫ জুন কাতারের ওপর জল, স্থল ও আকাশপথে অবরোধ দেয় সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন চার দেশ। ফাইল ছবি

অবশেষে কাতারের বিরুদ্ধে প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে চলতে থাকা অবৈধ এবং অনৈতিক অবরোধ তুলে নিল সৌদি জোট।

সন্ত্রাসবাদে সমর্থন ও অর্থায়নের অভিযোগ এনে ২০১৭ সালের ৫ জুন কাতারের ওপর জল-স্থল-আকাশপথে অবরোধ নিয়ে আসে সৌদি আরবসহ সংযুক্ত আরব অমিরাত, বাহরাইন এবং মিশর। এ অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে কাতার। সৌদি জোট এখন পর্যন্ত কাতারের বিরুদ্ধে একটি প্রমাণও পেশ করতে পারেনি।

সন্ত্রাসবাদ, সন্ত্রাসবাদে সমর্থন, সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন, শব্দগুলো অনেক গুরুতর অপরাধগুলোকে বুঝাতে ব্যবহার করা হয়। এগুলো শক্তিশালীরা অপেক্ষাকৃত কম দুর্বলকে ঘায়েল করতে ব্যবহার করে। এমনকি সরাসরি সন্ত্রাসবাদে সাহায্য, সমর্থন অর্থায়ন করা দেশও অপেক্ষাকৃত কম শক্তিশালী দেশের ওপর চড়াও হওয়ার জন্য হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে।

যেমন যদি জিজ্ঞেস করি, পৃথিবীতে কোন দেশটি সবচেয়ে বেশি সন্ত্রাস ছড়াচ্ছে। নিঃসন্দেহে বেশিরভাগ লোকই বলবেন আমেরিকা ও ইসরাইল। অথচ এই দুটি দেশের বিরুদ্ধে কেউ সন্ত্রাসবাদে সমর্থন ও অর্থায়নের অভিযোগ তুলতে পারে না। তুললেও তা কখনও হালে পানি পায় না।

ইয়েমেনে লক্ষ লক্ষ নিরীহ মানুষ হত্যা করায় সৌদি আরব এবং আরব আমিরাত সরাসরি যুক্ত থাকার পরেও কেউ তাদের কিছুই বলতে পারল না। উপরন্তু সন্ত্রাসবাদের দোষ দেওয়া হল কাতার ওপর।

দোষ দিন, সমস্যা নেই। সন্দেহের ভিত্তিতে দোষ দেবে, তথ্য উপাত্ত উপস্থাপন করবে, পরীক্ষা-নিরীক্ষা হবে, সিদ্ধান্ত হবে। এগুলো কিছুই না করে ঘটা করে বলে দেওয়া হল, কাতার তুমি সন্ত্রাসবাদে সমর্থন দিচ্ছ। কিন্তু প্রমাণ কী?

কোনও প্রমাণ নাই। প্রমাণ লাগবেই বা কেন? সৌদি আরব বলেছে, ট্রাম্প সায় দিয়েছে। আমিরাত, বাহরাইন, মিশর এক সুরে জ্বী হুজুর বলে পাশে দাঁড়িয়েছে। এগুলোই তো যথেষ্ট। জোর যার মুলুক তার। এটাই তো চলছে দুনিয়াতে।

আসলে তো মূল পরিকল্পনা ছিল কাতারকে অর্থনৈতিকভাবে ধ্বংস করে দেয়া, খাদ্য সংকটে ফেলে দেশের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা এবং সর্বোপরি সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশটির নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করা। আর কাতারকে দুর্বল করার মাধ্যমে তুরস্ক-কাতার-ইরান বলয়ে ভাঙন ধরিয়ে তুরস্ক এবং ইরানকে একঘরে করে রাখা। এই পরিকল্পনায় বাস্তবায়ন করতে কাতারের বিরুদ্ধে ঠুনকো অজুহাত দাঁড় করানো হলো। কাতার সন্ত্রাসের মদদদাতা। দাও অবরোধ!

অবরোধ প্রত্যাহারে ১৩ শর্ত

ওই সময় অবরোধ প্রত্যাহারের জন্য ১৩টি শর্ত জুড়ে দেওয়া হল কাতারের সামনে। তুরস্ক এবং ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা, কাতার থেকে তুরস্কের সামরিক ঘাঁটি তুলে নেওয়া এবং আলজাজিরা টেলিভিশন বন্ধ করা ছিল তাদের মধ্যে অন্যতম।

নীতি কথার ফেরিওয়ালারা বোবা হয়ে রইল। কেউ প্রশ্নটুকু পর্যন্ত করার সাহস পেল না যে এই শর্তগুলোর সঙ্গে সন্ত্রাসবাদের সম্পর্ক কী?
আর বিবেক বিক্রিত সুশীলরা সৌদি আমেরিকার বুলিতেই বুলি আওড়াতে থাকল। তার পরে অনেক পানি গড়িয়েছে। তুরস্ক এবং ইরান কাতারকে আরো বেশি সহযোগিতা করেছে। প্রয়োজনীয় সব পণ্য সরবরাহ করেছে। তুরস্ক কাতারে সামরিক শক্তি আরো বৃদ্ধি করেছে। আলজাজিরা আরো বেশি জনপ্রিয়তা পেয়েছে। কাতারের আরেকটি টেলিভিশন চ্যানেল শক্তি সঞ্চার করেছে। তুরস্কের টিআরটি ওয়ার্ল্ড বিশ্বে নিজের অবস্থানকে পাকাপোক্ত করেছে।

কাতার এরই মধ্যে আমেরিকা থেকে অস্ত্র কেনার মাধ্যমে ওয়াশিংটনের সঙ্গেও সম্পর্ক দৃঢ় করেছে। আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য এ যাবৎকালের সবচেয়ে সাহসী এবং গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে দোহা। তালেবান এবং আমেরিকার মাঝে শান্তি চুক্তির জন্য বৈঠকের ব্যবস্থা করেছে। আলোচনা সফল হলে এটিই হবে স্মরণকালের যুগান্তকারী শান্তি চুক্তি।

ইরান তার নিউক্লিয়ার সমৃদ্ধি নিয়ে যে চাপে ছিল তা থেকেও বেরিয়ে এসেছে। তুরস্ক আরও শক্তিশালী হয়ে আবির্ভূত হয়েছে।

অন্যদিকে ইয়েমেন সৌদি জোট খুব সহজে ‘বিজয়’ পাবে বলে যে ধারণা ছিল তাও ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে।এ সব দিক দিয়ে সৌদি যে উদ্দেশ্যে কাতারে অবরোধ দিয়েছিল তার আসল কাজের কাজ কিছুই হয়নি।

যে দুই কারণে পিছপা হয় সৌদি আরব

আসলে সৌদির পরিকল্পনায় বড় ধাক্কা দুটি এসেছিল দুই ভিন্ন দিক দিয়ে।

এক. ইস্তানবুলে সৌদি কনস্যুলেটে সাংবাদিক জামাল খাসোগিকে হত্যা করে তুর্কি গোয়েন্দাদের কাছে ধরা পড়া।

দুই. করোনার কারণে সৌদির বড় দুই অর্থ উপার্জনের খাতে (তেল ও হজ্জ-উমারাহ) ধস নামা।

কাতারের ওপর সৌদির অবরোধ প্রত্যাহার কাদের বিজয়?

খাসোগি হত্যায় সৌদি রাজপুত্র ট্রাম্পের নৈতিকতা বিবর্জিত, নির্লজ্জ সমর্থনের বদৌলতে কিছু দিনের জন্য পার পেলেও তুরস্কের হাতে যতদিন তথ্যপ্রমাণ থাকবে ততদিন প্রিন্স সালমানের ঘুম হারাম হবে। এখন জো বাইডেন ক্ষমতায় এসে এ বিষয়ে সৌদিকে চাপে ফেলবে সন্দেহ নেই। খাসোগি বাগদত্তা ইতিমধ্যে আমেরিকা আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন। তুরস্ক নিশ্চয়ই তথ্য-উপাত্ত দিয়ে সহযোগিতা করবে। তুরস্কের আদালত একটি রায় দিয়েছে। এর প্রভাব নেহায়েত কম নয়।

আর করোনার প্রভাব তো সারা বিশ্বেই।

এই সবগুলো বিষয়ই কাতার-সৌদি সমঝোতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। যাইহোক, শেষ পর্যন্ত এই সমঝোতা কাতারের সঙ্গে কাতার-তুরস্ক-ইরান বলয়েরও একটি বিজয়।কিন্তু আমরা এখনও জানি না এজন্য এই বলয় কি কি ছাড় দিয়েছে।

বিশেষ করে তুরস্ক এবং ইরানের বিরুদ্ধে সৌদি জোট নমনীয় হবে কি না? আরব আমিরাতের শাসক গোষ্ঠী এবং মিডিয়া তুরস্কের বিরুদ্ধে যে আক্রমণাত্মক ভূমিকায় ছিল তা থেকে সরে আসবে কি না? আমিরাত তুরস্কবিরোধী প্রোপাগান্ডার জন্য আর কত টাকা ঢালবে? মিশর-তুরস্ক সম্পর্ক কোন দিকে গড়াবে।

কঠিন দুঃসময়ে কাতারকে সামরিক সহায়তা দিয়ে বন্ধুত্বের হাত বাড়ায় তুরস্ক। ফাইল ছবি

ইতিমধ্যে গ্রিসের গণমাধ্যমে খবর বেরিয়েছে যে, সৌদি প্রিন্স সালমান তুরস্কের একেবারে নাগের ডগায় গ্রিসের একটি সামরিক মহড়ায় অংশ নেওয়ার জন্য যুদ্ধবিমান পাঠিয়েছে। যদি এ ঘটনা সত্য হয়, তাহলে আবার নতুন করে তুরস্ক-সৌদি উত্তেজনা দেখা দেবে।

তবে এই চুক্তিতে হাঁফ ছেড়ে বাঁচবে কুয়েত এবং জর্ডান। সেই সঙ্গে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলবে মুসলিম বিশ্ব।

কাতারের ওপর অবরোধ প্রত্যাহার কাদের বিজয়?

 সরোয়ার আলম, আঙ্কারা, তুরস্ক থেকে 
০৫ জানুয়ারি ২০২১, ০৯:৪৪ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
২০১৭ সালের ৫ জুন কাতারের ওপর জল, স্থল ও আকাশপথে অবরোধ দেয় সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন চার দেশ। ফাইল ছবি
২০১৭ সালের ৫ জুন কাতারের ওপর জল, স্থল ও আকাশপথে অবরোধ দেয় সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন চার দেশ। ফাইল ছবি

অবশেষে কাতারের বিরুদ্ধে প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে চলতে থাকা অবৈধ এবং অনৈতিক অবরোধ তুলে নিল সৌদি জোট। 

সন্ত্রাসবাদে সমর্থন ও অর্থায়নের অভিযোগ এনে ২০১৭ সালের ৫ জুন কাতারের ওপর জল-স্থল-আকাশপথে অবরোধ নিয়ে আসে সৌদি আরবসহ সংযুক্ত আরব অমিরাত, বাহরাইন এবং মিশর।  এ অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে কাতার।  সৌদি জোট এখন পর্যন্ত কাতারের বিরুদ্ধে একটি প্রমাণও পেশ করতে পারেনি। 

সন্ত্রাসবাদ, সন্ত্রাসবাদে সমর্থন, সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন, শব্দগুলো অনেক গুরুতর অপরাধগুলোকে বুঝাতে ব্যবহার করা হয়।  এগুলো শক্তিশালীরা অপেক্ষাকৃত কম দুর্বলকে ঘায়েল করতে ব্যবহার করে।  এমনকি সরাসরি সন্ত্রাসবাদে সাহায্য, সমর্থন অর্থায়ন করা দেশও অপেক্ষাকৃত কম শক্তিশালী দেশের ওপর চড়াও হওয়ার জন্য হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে। 

যেমন যদি জিজ্ঞেস করি, পৃথিবীতে কোন দেশটি সবচেয়ে বেশি সন্ত্রাস ছড়াচ্ছে।  নিঃসন্দেহে বেশিরভাগ লোকই বলবেন আমেরিকা ও ইসরাইল।  অথচ এই দুটি দেশের বিরুদ্ধে কেউ সন্ত্রাসবাদে সমর্থন ও অর্থায়নের অভিযোগ তুলতে পারে না। তুললেও তা কখনও হালে পানি পায় না। 

ইয়েমেনে লক্ষ লক্ষ নিরীহ মানুষ হত্যা করায় সৌদি আরব এবং আরব আমিরাত সরাসরি যুক্ত থাকার পরেও কেউ তাদের কিছুই বলতে পারল না। উপরন্তু সন্ত্রাসবাদের দোষ দেওয়া হল কাতার ওপর। 

দোষ দিন, সমস্যা নেই।  সন্দেহের ভিত্তিতে দোষ দেবে, তথ্য উপাত্ত উপস্থাপন করবে, পরীক্ষা-নিরীক্ষা হবে, সিদ্ধান্ত হবে। এগুলো কিছুই না করে ঘটা করে বলে দেওয়া হল, কাতার তুমি সন্ত্রাসবাদে সমর্থন দিচ্ছ। কিন্তু প্রমাণ কী? 

কোনও প্রমাণ নাই।  প্রমাণ লাগবেই বা কেন? সৌদি আরব বলেছে, ট্রাম্প সায় দিয়েছে। আমিরাত, বাহরাইন, মিশর এক সুরে জ্বী হুজুর বলে পাশে দাঁড়িয়েছে।  এগুলোই তো যথেষ্ট। জোর যার মুলুক তার। এটাই তো চলছে দুনিয়াতে।

আসলে তো মূল পরিকল্পনা ছিল কাতারকে অর্থনৈতিকভাবে ধ্বংস করে দেয়া, খাদ্য সংকটে ফেলে দেশের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা এবং সর্বোপরি সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশটির নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করা। আর কাতারকে দুর্বল করার মাধ্যমে তুরস্ক-কাতার-ইরান বলয়ে ভাঙন ধরিয়ে তুরস্ক এবং ইরানকে একঘরে করে রাখা। এই পরিকল্পনায় বাস্তবায়ন করতে কাতারের বিরুদ্ধে ঠুনকো অজুহাত দাঁড় করানো হলো।  কাতার সন্ত্রাসের মদদদাতা।  দাও অবরোধ!

অবরোধ প্রত্যাহারে ১৩ শর্ত

ওই সময় অবরোধ প্রত্যাহারের জন্য ১৩টি শর্ত জুড়ে দেওয়া হল কাতারের সামনে।  তুরস্ক এবং ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা, কাতার থেকে তুরস্কের সামরিক ঘাঁটি তুলে নেওয়া এবং আলজাজিরা টেলিভিশন বন্ধ করা ছিল তাদের মধ্যে অন্যতম। 

নীতি কথার ফেরিওয়ালারা বোবা হয়ে রইল। কেউ প্রশ্নটুকু পর্যন্ত করার সাহস পেল না যে এই শর্তগুলোর সঙ্গে সন্ত্রাসবাদের সম্পর্ক কী? 
আর বিবেক বিক্রিত সুশীলরা সৌদি আমেরিকার বুলিতেই বুলি আওড়াতে থাকল। তার পরে অনেক পানি গড়িয়েছে। তুরস্ক এবং ইরান কাতারকে আরো বেশি সহযোগিতা করেছে।  প্রয়োজনীয় সব পণ্য সরবরাহ করেছে। তুরস্ক কাতারে সামরিক শক্তি আরো বৃদ্ধি করেছে।  আলজাজিরা আরো বেশি জনপ্রিয়তা পেয়েছে। কাতারের আরেকটি টেলিভিশন চ্যানেল শক্তি সঞ্চার করেছে। তুরস্কের টিআরটি ওয়ার্ল্ড বিশ্বে নিজের অবস্থানকে পাকাপোক্ত করেছে। 

কাতার এরই মধ্যে আমেরিকা থেকে অস্ত্র কেনার মাধ্যমে ওয়াশিংটনের সঙ্গেও সম্পর্ক দৃঢ় করেছে। আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য এ যাবৎকালের সবচেয়ে সাহসী এবং গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে দোহা।  তালেবান এবং আমেরিকার মাঝে শান্তি চুক্তির জন্য বৈঠকের ব্যবস্থা করেছে।  আলোচনা সফল হলে এটিই হবে স্মরণকালের যুগান্তকারী শান্তি চুক্তি।

ইরান তার নিউক্লিয়ার সমৃদ্ধি নিয়ে যে চাপে ছিল তা থেকেও বেরিয়ে এসেছে। তুরস্ক আরও শক্তিশালী হয়ে আবির্ভূত হয়েছে। 

অন্যদিকে ইয়েমেন সৌদি জোট খুব সহজে ‘বিজয়’ পাবে বলে যে ধারণা ছিল তাও ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে।এ সব দিক দিয়ে সৌদি যে উদ্দেশ্যে কাতারে অবরোধ দিয়েছিল তার আসল কাজের কাজ কিছুই হয়নি। 

যে দুই কারণে পিছপা হয় সৌদি আরব

আসলে সৌদির পরিকল্পনায় বড় ধাক্কা দুটি এসেছিল দুই ভিন্ন দিক দিয়ে। 

এক. ইস্তানবুলে সৌদি কনস্যুলেটে সাংবাদিক জামাল খাসোগিকে হত্যা করে তুর্কি গোয়েন্দাদের কাছে ধরা পড়া। 

দুই. করোনার কারণে সৌদির বড় দুই অর্থ উপার্জনের খাতে (তেল ও হজ্জ-উমারাহ) ধস নামা। 

কাতারের ওপর সৌদির অবরোধ প্রত্যাহার কাদের বিজয়?

খাসোগি হত্যায় সৌদি রাজপুত্র ট্রাম্পের নৈতিকতা বিবর্জিত, নির্লজ্জ সমর্থনের বদৌলতে কিছু দিনের জন্য পার পেলেও তুরস্কের হাতে যতদিন তথ্যপ্রমাণ থাকবে ততদিন প্রিন্স সালমানের ঘুম হারাম হবে।  এখন জো বাইডেন ক্ষমতায় এসে এ বিষয়ে সৌদিকে চাপে ফেলবে সন্দেহ নেই। খাসোগি বাগদত্তা ইতিমধ্যে আমেরিকা আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন। তুরস্ক নিশ্চয়ই তথ্য-উপাত্ত দিয়ে সহযোগিতা করবে। তুরস্কের আদালত একটি রায় দিয়েছে। এর প্রভাব নেহায়েত কম নয়। 

আর করোনার প্রভাব তো সারা বিশ্বেই। 

এই সবগুলো বিষয়ই কাতার-সৌদি সমঝোতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।  যাইহোক, শেষ পর্যন্ত এই সমঝোতা কাতারের সঙ্গে কাতার-তুরস্ক-ইরান বলয়েরও একটি বিজয়। কিন্তু আমরা এখনও জানি না এজন্য এই বলয় কি কি ছাড় দিয়েছে।

বিশেষ করে তুরস্ক এবং ইরানের বিরুদ্ধে সৌদি জোট নমনীয় হবে কি না? আরব আমিরাতের শাসক গোষ্ঠী এবং মিডিয়া তুরস্কের বিরুদ্ধে যে আক্রমণাত্মক ভূমিকায় ছিল তা থেকে সরে আসবে কি না? আমিরাত তুরস্কবিরোধী প্রোপাগান্ডার জন্য আর কত টাকা ঢালবে? মিশর-তুরস্ক সম্পর্ক কোন দিকে গড়াবে। 

কঠিন দুঃসময়ে কাতারকে সামরিক সহায়তা দিয়ে বন্ধুত্বের হাত বাড়ায় তুরস্ক। ফাইল ছবি

ইতিমধ্যে গ্রিসের গণমাধ্যমে খবর বেরিয়েছে যে, সৌদি প্রিন্স সালমান তুরস্কের একেবারে নাগের ডগায় গ্রিসের একটি সামরিক মহড়ায় অংশ নেওয়ার জন্য যুদ্ধবিমান পাঠিয়েছে।  যদি এ ঘটনা সত্য হয়, তাহলে আবার নতুন করে তুরস্ক-সৌদি উত্তেজনা দেখা দেবে। 

তবে এই চুক্তিতে হাঁফ ছেড়ে বাঁচবে কুয়েত এবং জর্ডান।  সেই সঙ্গে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলবে মুসলিম বিশ্ব।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : সৌদি-কাতার সংকট