হঠাৎ নাক ‘সুন্দর’ করার হিড়িক দক্ষিণ কোরিয়ায়!
jugantor
হঠাৎ নাক ‘সুন্দর’ করার হিড়িক দক্ষিণ কোরিয়ায়!

  যুগান্তর ডেস্ক  

০৮ জানুয়ারি ২০২১, ২২:১৮:১৩  |  অনলাইন সংস্করণ

শ্রী হারানো নাক সুন্দর করতে কসমেটিক সার্জারি শুরু করে দিয়েছেন সে দেশের অনেকে।

বিশ্বব্যাপী করোনার থাবায় পৃথিবীর অনেক কিছু বদলে গেছে। বদলে গেছে মানুষের যাপিত জীবন। মাস্ক হয়ে উঠছে নিত্যদিনের পরিধান উপকরণ।করোনা নিয়ন্ত্রণে অনেকটা সফলদক্ষিণ কোরিয়া। স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে শুরু করেছে তারা।

তাই অচিরেই হয়তো আর মাস্ক পরতে হবে না। তারই প্রস্তুতি হিসাবে দীর্ঘ মাস্ক অভ্যাসে শ্রী হারানো নাক সুন্দর করতে কসমেটিক সার্জারি শুরু করে দিয়েছেন সে দেশের অনেকে।

২০ বছর বয়সি রিউ হান-না একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তিনি গত ডিসেম্বরের মাঝামাঝি নাকে কসমেটিক সার্জারি করিয়েছেন। তার মনে হচ্ছিল, যদি তখনই না করেন, তা হলে হয়তো আর সুযোগ পাবেন না। কারণ, এরপর মাস্ক খুলে ফেলার সময় হয়ে যাবে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে রিউ জানান, নাকের কাজটা আমি সব সময়ই করিয়ে ফেলতে চাইছিলাম। এবার ভাবলাম ২০২১ সালে ভ্যাকসিন চলে এলে তো সবাই মাস্ক খুলে ফেলবেন, তাই তার আগেই করালাম। এজন্য তার প্রায় চার হাজার মার্কিন ডলার বা সোয়া তিন লাখ টাকা খরচ হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে তিনি বলেন, ‘সার্জারির পর নাকে কিছুটা ক্ষত ও ফোলা থাকবে। কিন্তু সবাই মাস্ক পরে থাকবে তো, কেউ বুঝবে না।’ রিউর মতো করে ভাবেন দক্ষিণ কোরিয়ার অনেকেই। তাই ২০২০ সালে কসমেটিক সার্জারি সংখ্যাও বেড়েছে। এ বছর আরও বাড়তে পারে। বিশ্বের কসমেটিক সার্জারির রাজধানী হিসাবে পরিচিত দেশটি ২০২০ সালে ১০.৭ বিলিয়ন ডলার (প্রায় সাড়ে আট হাজার কোটি টাকা) আয় করেছে এ খাত থেকে, যা আগের বছরের তুলনায় ৯.২ ভাগ বেশি। ২০২১ সালে তা ১১.৮ বিলিয়ন ডলার (প্রায় সাড়ে নয় হাজার কোটি টাকা) ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে কসমেটিক সার্জারি প্ল্যাটফর্ম গ্যাংনাম উননি।

পার্ক চিওল-উ বলেন, শরীরের বাইরের অঙ্গ সম্পর্কে, বিশেষ করে চোখ, ভ্রু, নাক ও কপালে সার্জারি বা সাধারণ চিকিৎসা-সংক্রান্ত জিজ্ঞাসা আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে।

তিনি উআহইন নামের একটি প্লাস্টিক সার্জারি ক্লিনিকের সার্জন। রিউর-র নাকের প্লাস্টিক সার্জারি তিনিই করেছেন। শিন শ্যাং-হো নামের আরেক সার্জন বলেন, অনেকে করোনার সময় যে প্রণোদনার টাকা পেয়েছেন তা এসব সার্জারিতে ব্যয় করছেন। ‘মনে হচ্ছে যেন সবাই বদলা নিচ্ছেন। খদ্দেররা কসমেটিক সার্জারি করে যেন করোনার মানসিক চাপ থেকে মুক্তি পেতে চাইছেন,’ বলেন তিনি। গ্যাংনাম উনি বলছে, গত বছর তাদের সেবা ব্যবহারকারীর সংখ্যা আগের বছরের চেয়ে ৬৩% বেড়েছে। প্রায় ১০ লাখ লোক শুধু কাউন্সেলিং সেবাই নিয়েছেন, যা আগের বছরের দ্বিগুণ।

সূত্র: ডয়চে ভেলে

হঠাৎ নাক ‘সুন্দর’ করার হিড়িক দক্ষিণ কোরিয়ায়!

 যুগান্তর ডেস্ক 
০৮ জানুয়ারি ২০২১, ১০:১৮ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
শ্রী হারানো নাক সুন্দর করতে কসমেটিক সার্জারি শুরু করে দিয়েছেন সে দেশের অনেকে।
শ্রী হারানো নাক সুন্দর করতে কসমেটিক সার্জারি শুরু করে দিয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার বিভিন্ন বয়সী মানুষ। ছবি: রয়টার্স

বিশ্বব্যাপী করোনার থাবায় পৃথিবীর অনেক কিছু বদলে গেছে। বদলে গেছে মানুষের যাপিত জীবন। মাস্ক হয়ে উঠছে নিত্যদিনের পরিধান উপকরণ।করোনা নিয়ন্ত্রণে অনেকটা সফল দক্ষিণ কোরিয়া। স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে শুরু করেছে তারা।

তাই অচিরেই হয়তো আর মাস্ক পরতে হবে না। তারই প্রস্তুতি হিসাবে দীর্ঘ মাস্ক অভ্যাসে শ্রী হারানো নাক সুন্দর করতে কসমেটিক সার্জারি শুরু করে দিয়েছেন সে দেশের অনেকে।

২০ বছর বয়সি রিউ হান-না একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তিনি গত ডিসেম্বরের মাঝামাঝি নাকে কসমেটিক সার্জারি করিয়েছেন। তার মনে হচ্ছিল, যদি তখনই না করেন, তা হলে হয়তো আর সুযোগ পাবেন না। কারণ, এরপর মাস্ক খুলে ফেলার সময় হয়ে যাবে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে রিউ জানান, নাকের কাজটা আমি সব সময়ই করিয়ে ফেলতে চাইছিলাম। এবার ভাবলাম ২০২১ সালে ভ্যাকসিন চলে এলে তো সবাই মাস্ক খুলে ফেলবেন, তাই তার আগেই করালাম। এজন্য তার প্রায় চার হাজার মার্কিন ডলার বা সোয়া তিন লাখ টাকা খরচ হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে তিনি বলেন, ‘সার্জারির পর নাকে কিছুটা ক্ষত ও ফোলা থাকবে। কিন্তু সবাই মাস্ক পরে থাকবে তো, কেউ বুঝবে না।’ রিউর মতো করে ভাবেন দক্ষিণ কোরিয়ার অনেকেই। তাই ২০২০ সালে কসমেটিক সার্জারি সংখ্যাও বেড়েছে। এ বছর আরও বাড়তে পারে। বিশ্বের কসমেটিক সার্জারির রাজধানী হিসাবে পরিচিত দেশটি ২০২০ সালে ১০.৭ বিলিয়ন ডলার (প্রায় সাড়ে আট হাজার কোটি টাকা) আয় করেছে এ খাত থেকে, যা আগের বছরের তুলনায় ৯.২ ভাগ বেশি। ২০২১ সালে তা ১১.৮ বিলিয়ন ডলার (প্রায় সাড়ে নয় হাজার কোটি টাকা) ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে কসমেটিক সার্জারি প্ল্যাটফর্ম গ্যাংনাম উননি।

পার্ক চিওল-উ বলেন, শরীরের বাইরের অঙ্গ সম্পর্কে, বিশেষ করে চোখ, ভ্রু, নাক ও কপালে সার্জারি বা সাধারণ চিকিৎসা-সংক্রান্ত জিজ্ঞাসা আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে।

তিনি উআহইন নামের একটি প্লাস্টিক সার্জারি ক্লিনিকের সার্জন। রিউর-র নাকের প্লাস্টিক সার্জারি তিনিই করেছেন। শিন শ্যাং-হো নামের আরেক সার্জন বলেন, অনেকে করোনার সময় যে প্রণোদনার টাকা পেয়েছেন তা এসব সার্জারিতে ব্যয় করছেন। ‘মনে হচ্ছে যেন সবাই বদলা নিচ্ছেন। খদ্দেররা কসমেটিক সার্জারি করে যেন করোনার মানসিক চাপ থেকে মুক্তি পেতে চাইছেন,’ বলেন তিনি। গ্যাংনাম উনি বলছে, গত বছর তাদের সেবা ব্যবহারকারীর সংখ্যা আগের বছরের চেয়ে ৬৩% বেড়েছে। প্রায় ১০ লাখ লোক শুধু কাউন্সেলিং সেবাই নিয়েছেন, যা আগের বছরের দ্বিগুণ। 

সূত্র: ডয়চে ভেলে

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন