‘ট্রাম্পের রাজনীতির শেষ, নাকি শুরু’ শীর্ষক ভার্চুয়াল আলোচনা
jugantor
‘ট্রাম্পের রাজনীতির শেষ, নাকি শুরু’ শীর্ষক ভার্চুয়াল আলোচনা

  রাজীব আহসান, কানাডা থেকে  

১৫ জানুয়ারি ২০২১, ২২:২৮:১২  |  অনলাইন সংস্করণ

ট্রাম্প নয়, ট্রাম্পোইজম নিয়ে আলোচনা অধিক জরুরি। ট্রাম্পের চেয়ে আমেরিকায় ট্রাম্পোইজম অধিক শক্তিশালী। আমেরিকার রাজনীতি নিয়ে আলোচনায় ব্যক্তি ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কেন্দ্রবিন্দুতে রাখলে মূল পরিস্থিতি আড়ালেই থেকে যাবে। আমেরিকায় ব্যক্তি ট্রাম্পের চেয়েও ট্রাম্পোইজম বা ট্রাম্পের রাজনীতি অনেক বেশি শক্তিশালী। ট্রাম্পের রাজনীতির উপাদানগুলোর দিকে মনোযোগ না দিলে ঘুরেফিরে ট্রাম্পের রাজনীতিই আমেরিকায় প্রধান হয়ে উঠবে।

বুধবার স্থানীয় সময় রাতে টরন্টো থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচারিত ‘শওগাত আলী সাগর লাইভ’ অনুষ্ঠানে ‘ট্রাম্পের রাজনীতির শেষ নাকি শুরু’ শীর্ষক আলোচনায় উত্তর আমেরিকার রাজনীতি বিজ্ঞানী, বিশ্লেষকরা এ অভিমত প্রকাশ করেছেন।

কানাডার বাংলা পত্রিকা ‘নতুনদেশ’ এর প্রধান সম্পাদক শওগাত আলী সাগরের সঞ্চালনায় এতে আলোচনায় অংশ নেন- কানাডার ম্যাকমাস্টার ইউনিভার্সিটির রাজনীতি বিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. আহমেদ শফিকুল হক, টেক্সাসের এঅ্যান্ডএম ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির রাজনীতি বিজ্ঞানের সহযোগী অধ্যাপক ড.মেহনাজ মোমেন এবং কানাডাভিত্তিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম পর্যবেক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মূল্যায়ন সম্পাদক, গণমাধ্যম বিশ্লেষক ও সাংবাদিক সৈকত রুশদী।

টেক্সাসের এঅ্যান্ডএম ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির রাজনীতি বিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. মেহনাজ মোমেন আলোচনায় অংশ নিয়ে বলেন, আমেরিকার সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ এবং রাজনীতি নিয়ে আলোচনায় মিডিয়া থেকে শুরু করে বুদ্ধিজীবীরা খালি চোখে যা দেখা যায় তা নিয়েই কথা বলছেন। কিন্তু এর বাইরে আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে; যা আমেরিকা বর্তমান পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পেছনে ভূমিকা রেখেছে। তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পের চেয়েও তার রাজনীতি (ট্রাম্পোইজম) অনেক বেশি শক্তিশালী উল্লেখ করে বলেন, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক দিকটাকে আলোচনায় আনতে হবে।

কানাডার ম্যাকমাষ্টার ইউনিভার্সিটির রাজনীতি বিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. আহমেদ শফিকুল হক তার আলোচনায় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিদায়ের মধ্য দিয়ে আমেরিকার রাজনীতিতে ভদ্রতা এবং সৌজন্যতা তৈরি হবে। রাজনৈতিক দলগুলো তাদের প্রার্থী মনোনয়নের ব্যাপারে আরো যত্নশীল হবেন। ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিজ্ঞতা রাজনৈতিক দলগুলোকে রাজনীতিতে আরো যত্নবান হতে সহায়তা করবে।

গণমাধ্যম বিশ্লেষক ও সাংবাদিক সৈকত রুশদী তার বক্তৃতায় বলেন, কানাডা ও নিউজিল্যান্ডসহ হাতেগোনা কয়েকটি দেশ বাদ দিলেই বিশ্বব্যাপী এখন ডানপন্থী রক্ষণশীলদের উত্থান পর্ব চলছে। ট্রাম্পের বিদায়ের মধ্য দিয়ে আমেরিকার রাজনীতি থেকে ডানপন্থীদের প্রভাব কমে যাবে-তেমনটা ভাবার সুযোগ কম। তিনি বলেন, লিবারেলরা অল্পতেই সন্তুষ্ট হয়ে হাত গুটিয়ে বসে থাকে। কিন্তু রক্ষণশীলরা সহজে কিছুতেই সন্তুষ্ট হয় না, তাদের পরিপূর্ণ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত তারা সক্রিয় থাকে।

নতুন দেশের প্রধান সম্পাদক শওগাত আলী সাগর বলেন, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক বৈষম্যকে কাজে লাগিয়ে অভিবাসীপ্রধান দেশগুলোয় রক্ষণশীল রাজনীতির বিকাশ ঘটানো হচ্ছে। উদারপন্থী রাজনৈতিক দল এবং সরকারগুলো এ বৈষ্যম দূরীকরণের উদ্যোগ না নিলে ইউরোপ আমেরিকার দেশগুলোতে চরমপন্থার বিকাশের মাধ্যমে অভিবাসীবিরোধী মনোভাব প্রকট হয়ে উঠবে।

‘ট্রাম্পের রাজনীতির শেষ, নাকি শুরু’ শীর্ষক ভার্চুয়াল আলোচনা

 রাজীব আহসান, কানাডা থেকে 
১৫ জানুয়ারি ২০২১, ১০:২৮ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

ট্রাম্প নয়, ট্রাম্পোইজম নিয়ে আলোচনা অধিক জরুরি। ট্রাম্পের চেয়ে আমেরিকায় ট্রাম্পোইজম অধিক শক্তিশালী। আমেরিকার রাজনীতি নিয়ে আলোচনায় ব্যক্তি ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কেন্দ্রবিন্দুতে রাখলে মূল পরিস্থিতি আড়ালেই থেকে যাবে। আমেরিকায় ব্যক্তি ট্রাম্পের চেয়েও ট্রাম্পোইজম বা ট্রাম্পের রাজনীতি অনেক বেশি শক্তিশালী। ট্রাম্পের রাজনীতির উপাদানগুলোর দিকে মনোযোগ না দিলে ঘুরেফিরে ট্রাম্পের রাজনীতিই আমেরিকায় প্রধান হয়ে উঠবে। 

বুধবার স্থানীয় সময় রাতে টরন্টো থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচারিত ‘শওগাত আলী সাগর লাইভ’ অনুষ্ঠানে ‘ট্রাম্পের রাজনীতির শেষ নাকি শুরু’ শীর্ষক আলোচনায় উত্তর আমেরিকার রাজনীতি বিজ্ঞানী, বিশ্লেষকরা এ অভিমত প্রকাশ করেছেন। 

কানাডার বাংলা পত্রিকা ‘নতুনদেশ’ এর প্রধান সম্পাদক শওগাত আলী সাগরের সঞ্চালনায় এতে আলোচনায় অংশ নেন- কানাডার ম্যাকমাস্টার ইউনিভার্সিটির রাজনীতি বিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. আহমেদ শফিকুল হক, টেক্সাসের এঅ্যান্ডএম ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির রাজনীতি বিজ্ঞানের সহযোগী অধ্যাপক ড.মেহনাজ মোমেন এবং কানাডাভিত্তিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম পর্যবেক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মূল্যায়ন সম্পাদক, গণমাধ্যম বিশ্লেষক ও সাংবাদিক সৈকত রুশদী।

টেক্সাসের এঅ্যান্ডএম ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির রাজনীতি বিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. মেহনাজ মোমেন আলোচনায় অংশ নিয়ে বলেন, আমেরিকার সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ এবং রাজনীতি নিয়ে আলোচনায় মিডিয়া থেকে শুরু করে বুদ্ধিজীবীরা খালি চোখে যা দেখা যায় তা নিয়েই কথা বলছেন। কিন্তু এর বাইরে আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে; যা আমেরিকা বর্তমান পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পেছনে ভূমিকা রেখেছে। তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পের চেয়েও তার রাজনীতি (ট্রাম্পোইজম) অনেক বেশি শক্তিশালী উল্লেখ করে বলেন, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক দিকটাকে আলোচনায় আনতে হবে।

কানাডার ম্যাকমাষ্টার ইউনিভার্সিটির রাজনীতি বিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. আহমেদ শফিকুল হক তার আলোচনায় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিদায়ের মধ্য দিয়ে আমেরিকার রাজনীতিতে ভদ্রতা এবং সৌজন্যতা তৈরি হবে। রাজনৈতিক দলগুলো তাদের প্রার্থী মনোনয়নের ব্যাপারে আরো যত্নশীল হবেন। ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিজ্ঞতা রাজনৈতিক দলগুলোকে রাজনীতিতে আরো যত্নবান হতে সহায়তা করবে। 

গণমাধ্যম বিশ্লেষক ও সাংবাদিক সৈকত রুশদী তার বক্তৃতায় বলেন, কানাডা ও নিউজিল্যান্ডসহ হাতেগোনা কয়েকটি দেশ বাদ দিলেই বিশ্বব্যাপী এখন ডানপন্থী রক্ষণশীলদের উত্থান পর্ব চলছে। ট্রাম্পের বিদায়ের মধ্য দিয়ে আমেরিকার রাজনীতি থেকে ডানপন্থীদের প্রভাব কমে যাবে-তেমনটা ভাবার সুযোগ কম। তিনি বলেন, লিবারেলরা অল্পতেই সন্তুষ্ট হয়ে হাত গুটিয়ে বসে থাকে। কিন্তু রক্ষণশীলরা সহজে কিছুতেই সন্তুষ্ট হয় না, তাদের পরিপূর্ণ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত তারা সক্রিয় থাকে।

নতুন দেশের প্রধান সম্পাদক শওগাত আলী সাগর বলেন, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক বৈষম্যকে কাজে লাগিয়ে অভিবাসীপ্রধান দেশগুলোয় রক্ষণশীল রাজনীতির বিকাশ ঘটানো হচ্ছে। উদারপন্থী রাজনৈতিক দল এবং সরকারগুলো এ বৈষ্যম দূরীকরণের উদ্যোগ না নিলে ইউরোপ আমেরিকার দেশগুলোতে চরমপন্থার বিকাশের মাধ্যমে অভিবাসীবিরোধী মনোভাব প্রকট হয়ে উঠবে।