ফরাসি বিপ্লবকে স্মরণীয় করে রেখেছে প্যারিসের আইফেল টাওয়ার 
jugantor
ফরাসি বিপ্লবকে স্মরণীয় করে রেখেছে প্যারিসের আইফেল টাওয়ার 

  তাইজুল ফয়েজ, ফ্রান্স থেকে   

১৮ জানুয়ারি ২০২১, ২১:৩৬:২৪  |  অনলাইন সংস্করণ

শিল্প-সাহিত্যে সমৃদ্ধশালী দেশ ফ্রান্স। বিশ্ব স্বীকৃত মানবতাকামী ও মুক্তচিন্তার অধিকারী, সভ্য জাতির দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী উন্নত বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন নগরী প্যারিস। পৃথিবীতে ২০০টি দেশ রয়েছে, তার মধ্যে বিশ্বের সপ্তম ধনী দেশটির আয়তন ৬ লাখ ৪০ হাজার ৬৩৯ বর্গ কিলোমিটার আর জনসংখ্যা ৬ কোটি ৭২ লাখের বেশি।

শুধু আইফেল টাওয়ার নয়, নানান কারণে বিশ্বের দরবারে দেশটির সুনাম খ্যাতির ধারা অব্যাহত রেখেছে। শিক্ষা, সাহিত্য, চিকিৎসা বিজ্ঞান, তথ্য ও প্রযুক্তি নিরাপত্তায় বিশ্বে প্রথম স্থানে রয়েছে তারা। জলবায়ু পরিবর্তনের আবিষ্কারক এবং সমাধানের পথ খুঁজে বের করার দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে ফ্রান্স।

বিশ্বসেরা ফুটবলার জিনেদিন জিদানের দেশ ফ্রান্স দুইবার বিশ্বসেরা হয়েছে। প্রতি ১২ জন নাগরিকের একটি করে প্রাইভেট কোম্পানি রয়েছে এবং ১৫টি নোবেল অর্জন করেছে, পৃথিবীতে ২৬টি দেশ ফ্রান্স থেকে স্বাধীনতা লাভ করেছে। বিশ্বে অনেক স্থাপনা রয়েছে যে স্থাপনাগুলো নিজ নিজ দেশের ইতিহাস ঐতিহ্য বহন করে এবং জাতীয় সুনাম অর্জনের পাশাপাশি জাতীয় আয়ের এর উৎস হিসেবে রূপান্তরিত হয়।

আইফেল টাওয়ার তার ব্যতিক্রম নয়। ভালোবাসার নগরী প্যারিসের শোইন নদীর তীরে আন্তর্জাতিক মেলার প্রবেশদ্বারে আইফেল টাওয়ার। ফরাসি ভাষায় বলা হয় লা তুর্ ইফেল্। ১৮৮৭ সালে ফ্রান্স সরকার ফরাসি বিপ্লবের (শতবার্ষিকী) স্মৃতিকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য প্রতীকী মিনার তৈরির সিদ্ধান্ত নেন আর এ দায়িত্ব পালন করেন বিখ্যাত সেতু প্রকৌশলী আলেকজান্ডার গাসটেভ্ আইফেল এবং তার নাম অনুসারে এ স্থাপনাটির নামকরণ করা হয় আইফেল টাওয়ার।

১৮ হাজার লোহার কাঠামো ব্যবহার করে ৭০০০ টন ওজন, ৩২০ মিটার বা ১০৫০ ফুট উচ্চতায় আইফেল টাওয়ার। এ টাওয়ারের সৌন্দর্য অবলোকন করার জন্য টুরিস্টের সুবিধার্থে ১৭৯২ সিঁড়ি ও লিফট ব্যবস্থা রয়েছে। পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ টাওয়ারের ওপর থেকে ৭৫ কিলোমিটার পর্যন্ত প্যারিসের সৌন্দর্য এক নজরে দেখতে পারেন। ১৮৮৯ সালের ৩১ মার্চ দুই বছর, দুই মাস, দুই দিনে ২ একর জমির ওপর চারটি পিলারের সমন্বয়ে একটি মিনার অর্থাৎ আইফেল টাওয়ার নির্মাণ করা হয়। রাতের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য ২৫ হাজার লাইট ব্যবহার করা হয়েছে। ৭ বৎসর পরপর ১৩৫০ কেজি রং ব্যবহার করে এর সৌন্দর্য ধরে রাখা হয়।

১৯০৯ সালে টাওয়ারের ওপর সংযোজন করা হয় রেডিও স্টেশন, যা প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জার্মান রেডিও সিগন্যালের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছিল এবং হিটলার এটিকে বিজ্ঞাপনের জন্য ব্যবহার করেছিলেন এবং পরবর্তীকালে একটি টিভি অ্যান্টেনা সংযোজন করা হয়েছে।

১৯৯১ সালে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে আইফেল টাওয়ারকে স্বীকৃতি প্রদান করে। মজার বিষয় হচ্ছে ফ্রান্সে মৃত ব্যক্তির সঙ্গে বিবাহ আইনগত বৈধ।
জড়বস্তু আইফেল টাওয়ারকে ২০০৭ সালে বিবাহ করেছেন আমেরিকা ও ইতালির দ্বৈত নাগরিক এরিকা আয়া। তিনি ইতালিতে অবস্থান করেন, সময় পেলে এরিকা আয়া আইফেল টাওয়ারে এসে সময় কাটান।
যে কোনো জাতীয় অর্জনে আইফেল টাওয়ারের নিচে এসে জড়ো হন ফরাসিরা। আইফেল টাওয়ার সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানা যাবে অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে- TourEiffel ওয়েবসাইট লিঙ্ক https!//www.toureiffel.paris

ফরাসি বিপ্লবকে স্মরণীয় করে রেখেছে প্যারিসের আইফেল টাওয়ার 

 তাইজুল ফয়েজ, ফ্রান্স থেকে  
১৮ জানুয়ারি ২০২১, ০৯:৩৬ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

শিল্প-সাহিত্যে সমৃদ্ধশালী দেশ ফ্রান্স। বিশ্ব স্বীকৃত মানবতাকামী ও মুক্তচিন্তার অধিকারী, সভ্য জাতির দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী উন্নত বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন নগরী প্যারিস। পৃথিবীতে ২০০টি দেশ রয়েছে, তার মধ্যে বিশ্বের সপ্তম ধনী দেশটির আয়তন ৬ লাখ ৪০ হাজার ৬৩৯ বর্গ কিলোমিটার আর জনসংখ্যা ৬ কোটি ৭২ লাখের বেশি।

শুধু আইফেল টাওয়ার নয়, নানান কারণে বিশ্বের দরবারে দেশটির সুনাম খ্যাতির ধারা অব্যাহত রেখেছে। শিক্ষা, সাহিত্য, চিকিৎসা বিজ্ঞান, তথ্য ও প্রযুক্তি নিরাপত্তায় বিশ্বে প্রথম স্থানে রয়েছে তারা। জলবায়ু পরিবর্তনের আবিষ্কারক এবং সমাধানের পথ খুঁজে বের করার দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে ফ্রান্স। 

বিশ্বসেরা ফুটবলার জিনেদিন জিদানের দেশ ফ্রান্স দুইবার বিশ্বসেরা হয়েছে। প্রতি ১২ জন নাগরিকের একটি করে প্রাইভেট কোম্পানি রয়েছে এবং ১৫টি নোবেল অর্জন করেছে, পৃথিবীতে ২৬টি দেশ ফ্রান্স থেকে স্বাধীনতা লাভ করেছে। বিশ্বে অনেক স্থাপনা রয়েছে যে স্থাপনাগুলো নিজ নিজ দেশের ইতিহাস ঐতিহ্য বহন করে এবং জাতীয় সুনাম অর্জনের পাশাপাশি জাতীয় আয়ের এর উৎস হিসেবে রূপান্তরিত হয়। 

আইফেল টাওয়ার তার ব্যতিক্রম নয়। ভালোবাসার নগরী প্যারিসের শোইন নদীর তীরে আন্তর্জাতিক মেলার প্রবেশদ্বারে আইফেল টাওয়ার। ফরাসি ভাষায় বলা হয় লা তুর্ ইফেল্। ১৮৮৭ সালে ফ্রান্স সরকার ফরাসি বিপ্লবের (শতবার্ষিকী) স্মৃতিকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য প্রতীকী মিনার তৈরির সিদ্ধান্ত নেন আর এ দায়িত্ব পালন করেন বিখ্যাত সেতু প্রকৌশলী আলেকজান্ডার গাসটেভ্ আইফেল এবং তার নাম অনুসারে এ স্থাপনাটির নামকরণ করা হয় আইফেল টাওয়ার। 

১৮ হাজার লোহার কাঠামো ব্যবহার করে ৭০০০ টন ওজন, ৩২০ মিটার বা ১০৫০ ফুট উচ্চতায় আইফেল টাওয়ার। এ টাওয়ারের সৌন্দর্য অবলোকন করার জন্য টুরিস্টের সুবিধার্থে ১৭৯২ সিঁড়ি ও লিফট ব্যবস্থা রয়েছে। পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ টাওয়ারের ওপর থেকে ৭৫ কিলোমিটার পর্যন্ত প্যারিসের সৌন্দর্য এক নজরে দেখতে পারেন। ১৮৮৯ সালের ৩১ মার্চ দুই বছর, দুই মাস, দুই দিনে ২ একর জমির ওপর চারটি পিলারের সমন্বয়ে একটি মিনার অর্থাৎ আইফেল টাওয়ার নির্মাণ করা হয়। রাতের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য ২৫ হাজার লাইট ব্যবহার করা হয়েছে। ৭ বৎসর পরপর ১৩৫০ কেজি রং ব্যবহার করে এর সৌন্দর্য ধরে রাখা হয়। 

১৯০৯ সালে টাওয়ারের ওপর সংযোজন করা হয় রেডিও স্টেশন, যা প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জার্মান রেডিও সিগন্যালের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছিল এবং হিটলার এটিকে বিজ্ঞাপনের জন্য ব্যবহার করেছিলেন এবং পরবর্তীকালে একটি টিভি অ্যান্টেনা সংযোজন করা হয়েছে। 

১৯৯১ সালে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে আইফেল টাওয়ারকে স্বীকৃতি প্রদান করে। মজার বিষয় হচ্ছে ফ্রান্সে মৃত ব্যক্তির সঙ্গে বিবাহ আইনগত বৈধ।
জড়বস্তু আইফেল টাওয়ারকে ২০০৭ সালে বিবাহ করেছেন আমেরিকা ও ইতালির দ্বৈত নাগরিক এরিকা আয়া। তিনি ইতালিতে অবস্থান করেন, সময় পেলে এরিকা আয়া আইফেল টাওয়ারে এসে সময় কাটান।
যে কোনো জাতীয় অর্জনে আইফেল টাওয়ারের নিচে এসে জড়ো হন ফরাসিরা। আইফেল টাওয়ার সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানা যাবে অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে- TourEiffel ওয়েবসাইট লিঙ্ক https!//www.toureiffel.paris