বাংলাদেশ মালয়েশিয়া যৌথ উদ্যোগে ভার্চুয়াল অনুষ্ঠান
jugantor
বাংলাদেশ মালয়েশিয়া যৌথ উদ্যোগে ভার্চুয়াল অনুষ্ঠান

  আহমাদুল কবির, মালয়েশিয়া থেকে  

১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২৩:০০:২৮  |  অনলাইন সংস্করণ

বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া যৌথ উদ্যোগে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালনে দুই দিনব্যাপী ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। ১৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া দুই দিনের এ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয় ১৯ ফেব্রুয়ারি।

ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এবং অমর একুশের চেতনা সুপরিচিত করার প্রয়াসে বাংলাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতির সম্মিলনে এ আয়োজন করা হয়।

কুয়ালালামপুর বাংলাদেশ হাইকমিশন জেনোসাইড স্টাডিজ সেন্টার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল অব লিবারেল আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সেস, টেলর ইউনিভার্সিটি, মালায়া এবং পর্যটন, কলা ও সংস্কৃতি মালয়েশিয়ার (এমওএটিসি) সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে অংশ নেন- বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একেএম আবদুল মোমেন, মালয়েশিয়ার পর্যটন, কলা ও সংস্কৃতি মন্ত্রী দাতুশ্রী হাজাহ ন্যান্সি শুকরি।
অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. একে আবদুল মোমেন বলেন, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন মাতৃভাষাকে সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য বৃদ্ধি এবং আন্তঃসংস্কৃতিক সংলাপসহ সবাইকে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ধারক মনে করিয়ে দেয়ার এক উপযুক্ত উপলক্ষ।

প্রথম দিনের ইভেন্টে মন্ত্রি-পর্যায়ের বক্তব্য শেষে চলে একটি প্যানেল আলোচনা। আলোচনায় ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারির ভাষা শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে বাংলা ও মালয় ভাষায় "আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙ্গানো একুশে ফেব্রুয়ারি" শিরোনামের একটি গান পরিবেশিত হয়। মালয়েশিয়া টেলর ইউনিভার্সিটির এক্সিকিউটিভ ডিন, সামাজিক বিজ্ঞান ব্যবস্থাপনা অনুষদের প্রফেসর ডা. নীথিয়াহেন্থান এরি রগভান স্বাগত বক্তব্য রাখেন।

এছাড়া বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পাশাপাশি মালয়েশিয়ার পর্যটন, কলা ও সংস্কৃতিমন্ত্রী, দাতুশ্রী ন্যান্সি শুকরি এক ভিডিও বার্তার মাধ্যমে প্রথম দিনের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিথি হিসেবে উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন। মালয়েশিয়ারা পর্যটন, কলা ও সংস্কৃতি মন্ত্রী সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও সংরক্ষণের অনুবাদক হিসেবে ভাষা সংরক্ষণ ও সংরক্ষণের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে বিশ্বব্যাপী উদযাপনে বাংলাদেশের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন এবং এর গুরুত্বকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ফকরুল আলম, মালয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমি অব মালয় স্টাডিজের ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের অ্যাসোসিয়েট অধ্যাপক ড. সালিনা বিনতি জাফার, ইউনেস্কোর এশিয়া-প্যাসিফিক রিজিওনাল ব্যুরো অব এডুকেশনের ডিরেক্টর মি. শিগেরু আয়াগি বক্তা হিসেবে প্যানেল আলোচনায় অংশ নিয়েছিলেন। এছাড়াও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ও মানবিক বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ফিরদৌস আজিম এবং টেলর বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাডজান্ট প্রফেসর ড. ওয়ান জাওয়াই ওয়ান ইব্রাহিম আলোচক হিসেবে প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন।
ইভেন্টের দ্বিতীয় দিনে অনুষ্ঠানে অংশ নেন- মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. গোলাম সরোয়ার এবং বাংলাদেশে অবস্থিত মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার মিসেস হাজনা মো. হাশিম।

আলোচনা শেষে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার লাইভ পারফরম্যান্সের পাশাপাশি ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কা এবং মালদ্বীপের মতো দেশগুলো রেকর্ড করা ভিডিওর দ্বারা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেয়। বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার পাশাপাশি ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কা এবং মালদ্বীপের পারফরম্যান্স উপস্থাপন করা হয়। এছাড়া ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস মালয়েশিয়ায় ইউনেস্কো কর্তৃক যথাযথভাবে পালন করা হবে বলে দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে।

বাংলাদেশ মালয়েশিয়া যৌথ উদ্যোগে ভার্চুয়াল অনুষ্ঠান

 আহমাদুল কবির, মালয়েশিয়া থেকে 
১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১১:০০ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া যৌথ উদ্যোগে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালনে দুই দিনব্যাপী  ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। ১৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া দুই দিনের এ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয় ১৯ ফেব্রুয়ারি।

ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এবং অমর একুশের চেতনা সুপরিচিত করার প্রয়াসে বাংলাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতির সম্মিলনে এ আয়োজন করা হয়।

কুয়ালালামপুর বাংলাদেশ হাইকমিশন জেনোসাইড স্টাডিজ সেন্টার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল অব লিবারেল আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সেস, টেলর ইউনিভার্সিটি, মালায়া এবং পর্যটন, কলা ও সংস্কৃতি মালয়েশিয়ার (এমওএটিসি) সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে অংশ নেন-  বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একেএম আবদুল মোমেন, মালয়েশিয়ার পর্যটন, কলা ও সংস্কৃতি মন্ত্রী দাতুশ্রী হাজাহ ন্যান্সি শুকরি। 
অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. একে আবদুল মোমেন বলেন, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন মাতৃভাষাকে সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য বৃদ্ধি এবং আন্তঃসংস্কৃতিক সংলাপসহ সবাইকে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ধারক মনে করিয়ে দেয়ার  এক উপযুক্ত উপলক্ষ।

প্রথম দিনের ইভেন্টে মন্ত্রি-পর্যায়ের বক্তব্য শেষে চলে একটি প্যানেল আলোচনা। আলোচনায় ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারির ভাষা শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে বাংলা ও মালয় ভাষায় "আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙ্গানো একুশে ফেব্রুয়ারি" শিরোনামের একটি গান পরিবেশিত হয়। মালয়েশিয়া টেলর ইউনিভার্সিটির এক্সিকিউটিভ ডিন, সামাজিক বিজ্ঞান  ব্যবস্থাপনা অনুষদের প্রফেসর ডা. নীথিয়াহেন্থান এরি রগভান  স্বাগত বক্তব্য রাখেন।

এছাড়া বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পাশাপাশি মালয়েশিয়ার পর্যটন, কলা ও সংস্কৃতিমন্ত্রী, দাতুশ্রী ন্যান্সি শুকরি এক ভিডিও বার্তার মাধ্যমে প্রথম দিনের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিথি হিসেবে উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন। মালয়েশিয়ারা পর্যটন, কলা ও সংস্কৃতি মন্ত্রী সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও সংরক্ষণের অনুবাদক হিসেবে ভাষা সংরক্ষণ ও সংরক্ষণের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে বিশ্বব্যাপী উদযাপনে বাংলাদেশের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন এবং এর গুরুত্বকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ফকরুল আলম, মালয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমি অব মালয় স্টাডিজের ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের অ্যাসোসিয়েট অধ্যাপক ড. সালিনা বিনতি জাফার, ইউনেস্কোর এশিয়া-প্যাসিফিক রিজিওনাল ব্যুরো অব এডুকেশনের ডিরেক্টর মি. শিগেরু আয়াগি বক্তা হিসেবে প্যানেল আলোচনায় অংশ নিয়েছিলেন। এছাড়াও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ও মানবিক বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ফিরদৌস আজিম এবং টেলর বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাডজান্ট প্রফেসর ড. ওয়ান জাওয়াই ওয়ান ইব্রাহিম আলোচক হিসেবে প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন।
ইভেন্টের দ্বিতীয় দিনে অনুষ্ঠানে অংশ নেন- মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. গোলাম সরোয়ার এবং বাংলাদেশে অবস্থিত মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার মিসেস হাজনা মো. হাশিম।

আলোচনা শেষে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার লাইভ পারফরম্যান্সের পাশাপাশি ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কা এবং মালদ্বীপের মতো দেশগুলো রেকর্ড করা ভিডিওর দ্বারা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেয়। বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার পাশাপাশি ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কা এবং মালদ্বীপের পারফরম্যান্স উপস্থাপন করা হয়। এছাড়া ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস মালয়েশিয়ায় ইউনেস্কো কর্তৃক যথাযথভাবে পালন করা হবে বলে দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে। 
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন