ফিলিস্তিনি নারীর এক দশকের স্বপ্ন নিমিষেই গুঁড়িয়ে দিল ইসরাইলি বাহিনী
jugantor
ফিলিস্তিনি নারীর এক দশকের স্বপ্ন নিমিষেই গুঁড়িয়ে দিল ইসরাইলি বাহিনী

  অনলাইন ডেস্ক  

২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৩:৩৩:৫৪  |  অনলাইন সংস্করণ

ফিলিস্তিনি নারীর এক দশকের স্বপ্ন নিমিষেই গুঁড়িয়ে দিলেন তারা

অধিকৃত পশ্চিমতীরে পাঁচ কিলোমিটার পথ হেঁটে নিজের জমিতে এলেন খিতাম ইসমাইল। তখন ভোর ৬টা বাজে। বহু বছর ধরে তিনি রোজই এখানে আসেন এবং নিজের কাজ করতে শুরু করেন।

কাজ বলতে একখণ্ড জমিতে জলপাইগাছ রোপণ করেছেন খিতাম—সেগুলোর নিয়মিত যত্ন করেন। গত এক দশকের বেশি সময় ধরে এসব গাছ বড় করতে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন এই প্রৌঢ়।

কিন্তু সম্প্রতি বুলডোজার দিয়ে সেই গাছ মাটিতে মিশিয়ে দিয়েছেন দখলদার ইসরাইলিরা। নিজের প্রিয় গাছগুলোর শোকে তার কান্না আর থামছে না।

৬ ডিসেম্বরের কথা। ফিলিস্তিনি শহর সালফিতের উপকণ্ঠে দির বালুতের খালিদ আল-আবহারে অভিযান চালান ইসরাইলিরা। সঙ্গে নিয়ে আসেন বুলডোজার।

সেদিন প্রায় সাড়ে তিন হাজার জলপাইগাছ তারা মাটিতে মিশিয়ে দেন। স্থানীয় কাউন্সিল অফিস জানায়, ইসরাইলি বাহিনী এ সময়ে কৃষকদের আরও ব্যাপক ক্ষতি করে দিয়েছে।

অধিবাসীদের আশঙ্কা, নিকট-ভবিষ্যতে ইসরাইল এই গ্রামের বিশাল অংশ জমি দখল করে নিয়ে যেতে পারে। ২০২০ সালের আগস্টে রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি হিসেবে এই জমি দখলের সিদ্ধান্ত নেয় অবৈধ রাষ্ট্রটি।

খিতাম ইসমাইলের ৭৫০ জলপাইগাছ সেদিন উপড়ে ফেলেন দখলদাররা। কিন্তু তাকে জমিতে ফিরে যেতে কোনো কিছুই দমিয়ে রাখতে পারেননি। শূন্য থেকে আবার সব কিছু শুরু করে দিয়েছেন এই অদশ্য কিষানি।

তিনি বলেন, নিজেদের সন্তানের মতো গাছগুলোকে বড় করেছি, লালন করেছি। গত বছর এখান থেকে তিন ট্যাংক জলপাই তেল সংগ্রহ করেছিলাম। এ বছর ৫০ ট্যাংক তেল পাওয়ার আশা করেছিলাম। আগামী বছর যা কয়েকগুণ বেড়ে যেত।

এই ভূখণ্ডের ওপরই খাতিম ইসমাইলের পরিবার নির্ভরশীল। তিনি বলেন, মাত্র পাঁচঘণ্টায় তারা আমার বহু বছরের শ্রম নষ্ট করে দিয়েছে।

‘তারা গাছগুলো উপড়ে ফেলে দেয়—কুটিকুটি করে কেটে ফেলে। গাছগুলো যাতে কোনোভাবে বেড়ে উঠতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে রাসায়নিক ছিটিয়ে দেয়।’

এতে জলপাইগাছ ছাড়াও তার তিন লাখ শেকেল অর্থ ক্ষতি হয়েছে। খাতিম বলেন, তারা আমার জমিতে যা করেছেন, তার চেয়ে আমাকে মেরে ফেললেও ভালো করতেন। গাছগুলোর শোকে আমার ঘুম আসে না। এই দুঃস্বপ্ন আমার পিছু ছাড়ছে না।

ফিলিস্তিনি নারীর এক দশকের স্বপ্ন নিমিষেই গুঁড়িয়ে দিল ইসরাইলি বাহিনী

 অনলাইন ডেস্ক 
২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০১:৩৩ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
ফিলিস্তিনি নারীর এক দশকের স্বপ্ন নিমিষেই গুঁড়িয়ে দিলেন তারা
ছবি: সংগৃহীত

অধিকৃত পশ্চিমতীরে পাঁচ কিলোমিটার পথ হেঁটে নিজের জমিতে এলেন খিতাম ইসমাইল। তখন ভোর ৬টা বাজে। বহু বছর ধরে তিনি রোজই এখানে আসেন এবং নিজের কাজ করতে শুরু করেন।

কাজ বলতে একখণ্ড জমিতে জলপাইগাছ রোপণ করেছেন খিতাম—সেগুলোর নিয়মিত যত্ন করেন। গত এক দশকের বেশি সময় ধরে এসব গাছ বড় করতে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন এই প্রৌঢ়। 

কিন্তু সম্প্রতি বুলডোজার দিয়ে সেই গাছ মাটিতে মিশিয়ে দিয়েছেন দখলদার ইসরাইলিরা। নিজের প্রিয় গাছগুলোর শোকে তার কান্না আর থামছে না। 

৬ ডিসেম্বরের কথা। ফিলিস্তিনি শহর সালফিতের উপকণ্ঠে দির বালুতের খালিদ আল-আবহারে অভিযান চালান ইসরাইলিরা। সঙ্গে নিয়ে আসেন বুলডোজার।

সেদিন প্রায় সাড়ে তিন হাজার জলপাইগাছ তারা মাটিতে মিশিয়ে দেন। স্থানীয় কাউন্সিল অফিস জানায়, ইসরাইলি বাহিনী এ সময়ে কৃষকদের আরও ব্যাপক ক্ষতি করে দিয়েছে।

অধিবাসীদের আশঙ্কা, নিকট-ভবিষ্যতে ইসরাইল এই গ্রামের বিশাল অংশ জমি দখল করে নিয়ে যেতে পারে। ২০২০ সালের আগস্টে রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি হিসেবে এই জমি দখলের সিদ্ধান্ত নেয় অবৈধ রাষ্ট্রটি।

খিতাম ইসমাইলের ৭৫০ জলপাইগাছ সেদিন উপড়ে ফেলেন দখলদাররা। কিন্তু তাকে জমিতে ফিরে যেতে কোনো কিছুই দমিয়ে রাখতে পারেননি। শূন্য থেকে আবার সব কিছু শুরু করে দিয়েছেন এই অদশ্য কিষানি।

তিনি বলেন, নিজেদের সন্তানের মতো গাছগুলোকে বড় করেছি, লালন করেছি। গত বছর এখান থেকে তিন ট্যাংক জলপাই তেল সংগ্রহ করেছিলাম। এ বছর ৫০ ট্যাংক তেল পাওয়ার আশা করেছিলাম। আগামী বছর যা কয়েকগুণ বেড়ে যেত।

এই ভূখণ্ডের ওপরই খাতিম ইসমাইলের পরিবার নির্ভরশীল। তিনি বলেন, মাত্র পাঁচঘণ্টায় তারা আমার বহু বছরের শ্রম নষ্ট করে দিয়েছে। 

‘তারা গাছগুলো উপড়ে ফেলে দেয়—কুটিকুটি করে কেটে ফেলে। গাছগুলো যাতে কোনোভাবে বেড়ে উঠতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে রাসায়নিক ছিটিয়ে দেয়।’

এতে জলপাইগাছ ছাড়াও তার তিন লাখ শেকেল অর্থ ক্ষতি হয়েছে। খাতিম বলেন, তারা আমার জমিতে যা করেছেন, তার চেয়ে আমাকে মেরে ফেললেও ভালো করতেন। গাছগুলোর শোকে আমার ঘুম আসে না। এই দুঃস্বপ্ন আমার পিছু ছাড়ছে না।