পশ্চিমবঙ্গে কার সুবিধার জন্য ৮ দফায় ভোট?
jugantor
পশ্চিমবঙ্গে কার সুবিধার জন্য ৮ দফায় ভোট?

  অনলাইন ডেস্ক  

২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২১:১৪:০০  |  অনলাইন সংস্করণ

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফাইল ছবি

ভারতের বিহারে ২৩৪ আসনে যদি ৩ দফায় ভোট হয়, তাহলে পশ্চিমবঙ্গে ২৯৪ আসনে ৮ দফায় কেন ভোট করতে হবে?

দেশটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত নিয়ে শুক্রবার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এর পেছনে বিজেপি সরকারের ইন্ধন রয়েছে বলে সরাসরি অভিযোগ করে মমতা বলেন, ‘আমি শক্ড!’ ‘বিশেষ’ কাউকে বাংলায় সুবিধা পাইয়ে দিতেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কি না? ভোটের আগে এজেন্সির অপব্যবহার বন্ধ করুন। নির্বাচন কমিশনকে বলছি, টাকার খেলা বন্ধ করুন! আমরা কিন্তু সব বুঝতে পারছি।’

এদিকে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে বিজেপি।

বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয়ও বলেছেন, ‘আমরা চাই, বাংলার মানুষ যাকেই ভোট দিন, শান্তিতে ভোট দিন। ভোট ঘিরে যেন কোনও হিংসাত্মক ঘটনা না ঘটে।’

কংগ্রেস নেতা মনোজ চক্রবর্তী বলেন, ‘যেভাবে অতীতে এ রাজ্যে নির্বাচন হয়েছেন, তাতে ৮ নয়, ১২ দফায় ভোট করানো উচিত ছিল কমিশনের।’

শুক্রবার বিকালে দিল্লির বিজ্ঞান ভবন থেকে পশ্চিমবঙ্গসহ চারটি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পুদুচেরির নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে কমিশন।

সবাইকে অবাক করে দিয়ে নির্বাচন কমিশনের ঘোষণায় জানানো হয়, পশ্চিমবঙ্গে মোট ৮ দফায় ভোটগ্রহণ হবে। ২৭ মার্চ থেকে ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত মোট ৮ দফায় বাংলায় ভোটগ্রহণ এবং ২ মে ফল ঘোষণা হবে বলে জানানো হয়।

কমিশনের এই ঘোষণার পরই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মমতা।

মমতা বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাচ্ছি। কিন্তু আসাম, কেরালা এবং তামিলনাড়ুতে এক দফায় ভোট হলে, পশ্চিমবঙ্গে ৮ দফায় ভোট কেন? গত বছর বিহারে ২৩৪ আসনে ৩ দফায় ভোট হয়েছিল। কাদের সুবিধা করে দিতে এখানে ৮ দফায় ভোট?’

এদিকে নির্বাচন কমিশনের পর্যবেক্ষক বিবেক দুবেকে নিয়েও আপত্তি তুলে মমতা বলেন, ‘আমি এবং আমরা জানি উনি কী করে থাকেন!’

তিনি বলেন, ‘বিজেপির হাতে এজেন্সি রয়েছে। ভোটের আগে এজেন্সিগুলির অপব্যবহার করছে তারা। ভোটের আগে বাংলায় টাকা পাঠাচ্ছে। আমরা সব বুঝতে পারছি। কমিশনকে বলছি, টাকার খেলা বন্ধ করুন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশের কাজ করুন। কিন্তু তিনি তার ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন। প্রধানমন্ত্রীও তার ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন। সব দল মিলে যদি মনে করে বাংলাকে (পশ্চিমবঙ্গকে) ধ্বংস করবে, বাংলার (পশ্চিমবঙ্গের) মানুষ তার জবাব দেবেন। এক মাসে ৮ দফায় ভোট কি নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহ ঠিক করে দিয়েছে?’

মমতা তার ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘মিস্টার নরেন্দ্র মোদি, মিস্টার অমিত শাহ, আপনাদের বলে দিচ্ছি, বাংলার মানুষ এর জবাব দেবেন। আমিই একমাত্র মহিলা মুখ্যমন্ত্রী। এক মহিলাকে এত ভয়!’

আগামী ১ এপ্রিল দ্বিতীয় দফায়, ৬ এপ্রিল তৃতীয় দফায় এবং ১০ এপ্রিল চতুর্থ দফায় দক্ষিণ ২৪ পরগনায় মোট ৩ দফায় ভোট হবে বলে জানিয়েছে কমিশন। তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মমতা।

মমতা বলেন, ‘‘দক্ষিণ ২৪ পরগনায় আমাদের জোর বেশি। তাই ওখানে ৩ দফায় ভোট করছে। একজন মহিলাকে এত ভয় যে, বাইরে থেকে নেতা আনতে হচ্ছে। যতই ইচ্ছা নেতা আনুক। আমরা নেতা নই, ঘর মোছার ন্যাতা। খেলা হবেই। হারিয়ে ভূত করে দেব। বাংলাকে (পশ্চিমবঙ্গকে) অসম্মান করার উত্তর দেবেন মানুষ।’

পশ্চিমবঙ্গে কার সুবিধার জন্য ৮ দফায় ভোট?

 অনলাইন ডেস্ক 
২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০৯:১৪ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফাইল ছবি
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফাইল ছবি

ভারতের বিহারে ২৩৪ আসনে যদি ৩ দফায় ভোট হয়, তাহলে পশ্চিমবঙ্গে ২৯৪ আসনে ৮ দফায় কেন ভোট করতে হবে? 

দেশটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত নিয়ে শুক্রবার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। 

এর পেছনে বিজেপি সরকারের ইন্ধন রয়েছে বলে সরাসরি অভিযোগ করে মমতা বলেন, ‘আমি শক্ড!’ ‘বিশেষ’ কাউকে বাংলায় সুবিধা পাইয়ে দিতেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কি না? ভোটের আগে এজেন্সির অপব্যবহার বন্ধ করুন। নির্বাচন কমিশনকে বলছি, টাকার খেলা বন্ধ করুন! আমরা কিন্তু সব বুঝতে পারছি।’

এদিকে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে বিজেপি। 

বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয়ও বলেছেন, ‘আমরা চাই, বাংলার মানুষ যাকেই ভোট দিন, শান্তিতে ভোট দিন। ভোট ঘিরে যেন কোনও হিংসাত্মক ঘটনা না ঘটে।’

কংগ্রেস নেতা মনোজ চক্রবর্তী বলেন, ‘যেভাবে অতীতে এ রাজ্যে নির্বাচন হয়েছেন, তাতে ৮ নয়, ১২ দফায় ভোট করানো উচিত ছিল কমিশনের।’

শুক্রবার বিকালে দিল্লির বিজ্ঞান ভবন থেকে পশ্চিমবঙ্গসহ চারটি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পুদুচেরির নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে কমিশন।

সবাইকে অবাক করে দিয়ে নির্বাচন কমিশনের ঘোষণায় জানানো হয়, পশ্চিমবঙ্গে মোট ৮ দফায় ভোটগ্রহণ হবে।  ২৭ মার্চ থেকে ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত মোট ৮ দফায় বাংলায় ভোটগ্রহণ এবং ২ মে ফল ঘোষণা হবে বলে জানানো হয়। 

কমিশনের এই ঘোষণার পরই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মমতা।

মমতা বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাচ্ছি। কিন্তু আসাম, কেরালা এবং তামিলনাড়ুতে এক দফায় ভোট হলে, পশ্চিমবঙ্গে ৮ দফায় ভোট কেন? গত বছর বিহারে ২৩৪ আসনে ৩ দফায় ভোট হয়েছিল। কাদের সুবিধা করে দিতে এখানে ৮ দফায় ভোট?’

এদিকে নির্বাচন কমিশনের পর্যবেক্ষক বিবেক দুবেকে নিয়েও আপত্তি তুলে মমতা বলেন, ‘আমি এবং আমরা জানি উনি কী করে থাকেন!’

তিনি বলেন, ‘বিজেপির হাতে এজেন্সি রয়েছে। ভোটের আগে এজেন্সিগুলির অপব্যবহার করছে তারা। ভোটের আগে বাংলায় টাকা পাঠাচ্ছে। আমরা সব বুঝতে পারছি। কমিশনকে বলছি, টাকার খেলা বন্ধ করুন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশের কাজ করুন। কিন্তু তিনি তার ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন। প্রধানমন্ত্রীও তার ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন। সব দল মিলে যদি মনে করে বাংলাকে (পশ্চিমবঙ্গকে) ধ্বংস করবে, বাংলার (পশ্চিমবঙ্গের) মানুষ তার জবাব দেবেন। এক মাসে ৮ দফায় ভোট কি নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহ ঠিক করে দিয়েছে?’

মমতা তার ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘মিস্টার নরেন্দ্র মোদি, মিস্টার অমিত শাহ, আপনাদের বলে দিচ্ছি, বাংলার মানুষ এর জবাব দেবেন। আমিই একমাত্র মহিলা মুখ্যমন্ত্রী। এক মহিলাকে এত ভয়!’

আগামী ১ এপ্রিল দ্বিতীয় দফায়, ৬ এপ্রিল তৃতীয় দফায় এবং ১০ এপ্রিল চতুর্থ দফায় দক্ষিণ ২৪ পরগনায় মোট ৩ দফায় ভোট হবে বলে জানিয়েছে কমিশন। তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মমতা। 

মমতা বলেন, ‘‘দক্ষিণ ২৪ পরগনায় আমাদের জোর বেশি। তাই ওখানে ৩ দফায় ভোট করছে। একজন মহিলাকে এত ভয় যে, বাইরে থেকে নেতা আনতে হচ্ছে। যতই ইচ্ছা নেতা আনুক। আমরা নেতা নই, ঘর মোছার ন্যাতা। খেলা হবেই। হারিয়ে ভূত করে দেব। বাংলাকে (পশ্চিমবঙ্গকে) অসম্মান করার উত্তর দেবেন মানুষ।’

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচন ২০২১