সিরিয়ার সেনাঘাঁটিতে মার্কিন হামলার তীব্র নিন্দা ইরানের
jugantor
সিরিয়ার সেনাঘাঁটিতে মার্কিন হামলার তীব্র নিন্দা ইরানের

  যুগান্তর ডেস্ক  

২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৬:৩৫:২৬  |  অনলাইন সংস্করণ

সিরিয়ার সেনাঘাঁটিতে মার্কিন হামলার তীব্র নিন্দা ইরানের

সিরিয়ার পূর্বাঞ্চলের দেইর আয-জাওয়ার প্রদেশে যুক্তরাষ্ট্রের চালানো বিমান হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইরান। মার্কিন এ হামলাকে সিরিয়ায় ইসরাইলি আগ্রাসনের ধারাবাহিকতা বলে উল্লেখ করেছে দেশটি।

শুক্রবার রাতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাঈদ খাতিবজাদে এক বিবৃতিতে এ হামলার নিন্দা জানান।

তিনি বলেন, এমন এক প্রেক্ষাপট যুক্তরাষ্ট্র এই হামলা চালালো যখন মার্কিন বাহিনী সিরিয়ার বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ দখলদারিত্ব কায়েম করে রেখেছে এবং তেলসহ নানা রকম প্রাকৃতিক সম্পদ লুট করছে।

ইহুদিবাদী ইসরাইল যেভাবে আরব দেশটিতে আগ্রাসন চালিয়ে আসছে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে চালানো হামলা প্রকৃতপক্ষে তারই ধারাবহিকতা।

সিরিয়ার অবৈধ মার্কিন ঘাঁটি থেকে সন্ত্রাসীদের প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে এবং তাদেরকে ঢাল হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ব্যবহার করছে বলেও অভিযোগ করেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এ মুখপাত্র।

প্রেসিডেন্ট হিসেবে জো বাইডেন ক্ষমতা গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো গত বৃহস্পতিবার বিকালে সিরিয়ায় ইরানপন্থী সেনাঘাঁটিতে হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী।

এতে কমপক্ষে ১৭ সেনা নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হয়। ইরানসমর্থিত এসব বাহিনীর ব্যবহৃত অবকাঠামোগুলোর ওপর কয়েক দফা বিমান হামলা চালানো হয়েছে।

ইরাকে মার্কিন সেনাদের অবস্থানে সাম্প্রতিক রকেট হামলার জবাবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

হামলার কথা স্বীকার করে পেন্টাগনের মুখপাত্র জন কিরবি বলেন, প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের নির্দেশনায় মার্কিন সামরিক বাহিনী সিরিয়ায় ইরানসমর্থিত মিলিশিয়াদের ব্যবহৃত স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে।

তিনি বলেন, ইরাকে যুক্তরাষ্ট্র ও এর নেতৃত্বাধীন মিত্র বাহিনীর সেনাদের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক হামলার জবাব হিসেবে এই বিমান হামলার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

পেন্টাগনের তথ্যানুসারে, সাতটি লক্ষ্যবস্তুতে সাতটি ৫০০-এলবি জয়েন্ট ডাইরেক্ট অ্যাটাক মিউনিশন-গাইডেড বোমা নিক্ষেপ করা হয়েছে। সীমান্ত দিয়ে অস্ত্র পাচারে সশস্ত্র গোষ্ঠীর ব্যবহৃত একটি সংযোগস্থলও হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে রয়েছে।

কিরবি বলেন, কাতায়েব হিজবুল্লাহ ও খাতিব সাইয়িদ আল শুহাদাসহ ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়া গোষ্ঠীর ব্যবহৃত সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ পয়েন্টের বিভিন্ন স্থাপনা ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।

আর একডজনের বেশি ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়া নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস। যদিও এ নিয়ে পেন্টাগনের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সংস্থাটির প্রধান রামি আবদুল রহমান বলেন, গোলাবারুদবাহী তিনটি ট্রাক ধ্বংস হয়েছে। ব্যাপক হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে।

তিনি বলেন, প্রাথমিক তথ্য বলছে– অন্তত ১৭ যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। তারা সবাই পপুলার মবিলাইজেশন ফোর্সের সদস্য। এ ছাড়া হাশেদ আল শাবির সদস্যরাও নিহত হয়েছেন।

এক বিবৃতিতে পেন্টাগন জানায়, মার্কিন হামলা ছিল সমানুপাতিক। কূটনৈতিক পদক্ষেপের সঙ্গে সমন্বয় করে এই বিমান হামলা। জোটমিত্রদের সঙ্গেও আলাপ করা হয়েছে।

সিরিয়ার সেনাঘাঁটিতে মার্কিন হামলার তীব্র নিন্দা ইরানের

 যুগান্তর ডেস্ক 
২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০৪:৩৫ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
সিরিয়ার সেনাঘাঁটিতে মার্কিন হামলার তীব্র নিন্দা ইরানের
ছবি: সংগৃহীত

সিরিয়ার পূর্বাঞ্চলের দেইর আয-জাওয়ার প্রদেশে যুক্তরাষ্ট্রের চালানো বিমান হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইরান।  মার্কিন এ হামলাকে সিরিয়ায় ইসরাইলি আগ্রাসনের ধারাবাহিকতা বলে উল্লেখ করেছে দেশটি। 

শুক্রবার রাতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাঈদ খাতিবজাদে এক বিবৃতিতে এ হামলার নিন্দা জানান।  

তিনি বলেন, এমন এক প্রেক্ষাপট যুক্তরাষ্ট্র এই হামলা চালালো যখন মার্কিন বাহিনী সিরিয়ার বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ দখলদারিত্ব কায়েম করে রেখেছে এবং তেলসহ নানা রকম প্রাকৃতিক সম্পদ লুট করছে।    

ইহুদিবাদী ইসরাইল যেভাবে আরব দেশটিতে আগ্রাসন চালিয়ে আসছে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে চালানো হামলা প্রকৃতপক্ষে তারই ধারাবহিকতা। 

সিরিয়ার অবৈধ মার্কিন ঘাঁটি থেকে সন্ত্রাসীদের প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে এবং তাদেরকে ঢাল হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ব্যবহার করছে বলেও অভিযোগ করেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এ মুখপাত্র।   

প্রেসিডেন্ট হিসেবে জো বাইডেন ক্ষমতা গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো গত বৃহস্পতিবার বিকালে সিরিয়ায় ইরানপন্থী সেনাঘাঁটিতে হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী।

এতে কমপক্ষে ১৭ সেনা নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হয়। ইরানসমর্থিত এসব বাহিনীর ব্যবহৃত অবকাঠামোগুলোর ওপর কয়েক দফা বিমান হামলা চালানো হয়েছে।    

ইরাকে মার্কিন সেনাদের অবস্থানে সাম্প্রতিক রকেট হামলার জবাবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। 

হামলার কথা স্বীকার করে পেন্টাগনের মুখপাত্র জন কিরবি বলেন, প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের নির্দেশনায় মার্কিন সামরিক বাহিনী সিরিয়ায় ইরানসমর্থিত মিলিশিয়াদের ব্যবহৃত স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে।

তিনি বলেন, ইরাকে যুক্তরাষ্ট্র ও এর নেতৃত্বাধীন মিত্র বাহিনীর সেনাদের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক হামলার জবাব হিসেবে এই বিমান হামলার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

পেন্টাগনের তথ্যানুসারে, সাতটি লক্ষ্যবস্তুতে সাতটি ৫০০-এলবি জয়েন্ট ডাইরেক্ট অ্যাটাক মিউনিশন-গাইডেড বোমা নিক্ষেপ করা হয়েছে। সীমান্ত দিয়ে অস্ত্র পাচারে সশস্ত্র গোষ্ঠীর ব্যবহৃত একটি সংযোগস্থলও হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে রয়েছে।

কিরবি বলেন, কাতায়েব হিজবুল্লাহ ও খাতিব সাইয়িদ আল শুহাদাসহ ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়া গোষ্ঠীর ব্যবহৃত সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ পয়েন্টের বিভিন্ন স্থাপনা ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। 

আর একডজনের বেশি ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়া নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস। যদিও এ নিয়ে পেন্টাগনের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সংস্থাটির প্রধান রামি আবদুল রহমান বলেন, গোলাবারুদবাহী তিনটি ট্রাক ধ্বংস হয়েছে। ব্যাপক হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে।

তিনি বলেন, প্রাথমিক তথ্য বলছে– অন্তত ১৭ যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। তারা সবাই পপুলার মবিলাইজেশন ফোর্সের সদস্য। এ ছাড়া হাশেদ আল শাবির সদস্যরাও নিহত হয়েছেন।

এক বিবৃতিতে পেন্টাগন জানায়, মার্কিন হামলা ছিল সমানুপাতিক। কূটনৈতিক পদক্ষেপের সঙ্গে সমন্বয় করে এই বিমান হামলা। জোটমিত্রদের সঙ্গেও আলাপ করা হয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : মার্কিন-ইরান সংকট