পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি জিতলে আমার কোনও লাভ নেই: অমিত শাহ
jugantor
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি জিতলে আমার কোনও লাভ নেই: অমিত শাহ

  অনলাইন ডেস্ক  

১৩ এপ্রিল ২০২১, ১০:৩২:৩৮  |  অনলাইন সংস্করণ

অমিত শাহ। ফাইল ছবি

ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি জিতলে আমার কোনও লাভ নেই। দেশের লাভই আমার লাভ।
আনন্দবাজারকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি একথা বলেন।

সাক্ষাৎকারটি যুগান্তর পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো-

প্রশ্ন: এখন থেকে পাঁচ বছর পর অমিত শাহ নিজেকে কোথায় দেখেন?

অমিত শাহ: আমি তো নিজেকে বিজেপিতেই দেখি। দেখুন, দলই আমাদের ভূমিকা তৈরি করে দেয়। ব্যক্তিগত ভাবে কিছু ভাবার ভূমিকা আমার আছে বলে অন্তত আমি মনে করি না।

প্রশ্ন: পশ্চিমবঙ্গের প্রতি আপনার নজর কবে থেকে পড়ল? আপনি ২০১৬ থেকে পশ্চিমবঙ্গে আসছেন। কবে আপনার মনে হল, পশ্চিমবঙ্গে কিছু হচ্ছে না?

অমিত শাহ: এর দুটো ভাগ আছে। প্রথমত, আমি দলের সভাপতি ছিলাম। ফলে আমার কাজই ছিল, দেশের প্রতিটি বুথে যাতে আমার দল পৌঁছে যেতে পারে। সেটা তো আমার কর্তব্য। ফলে আমি চেয়েছিলাম, পশ্চিমবঙ্গেরও প্রতিটি কোনায় আমার দল পৌঁছক। সেটা কীভাবে পৌঁছনো যায়? বিশদে পড়াশোনা করলে। সেটা আমার টিম করেছিল। তখনই এই খামতিগুলো নজরে এসেছিল। দ্বিতীয়, অগ্রাধিকারের তালিকা তৈরি করা। নিরাপত্তার দিক দিয়ে কোন রাজ্যে সরকার হলে লাভ হবে। উন্নয়নের নিরিখে কোন রাজ্যে সরকার হলে লাভ হবে। শিক্ষার নিরিখে কোন রাজ্যে সরকার হলে লাভ হবে। কোথায় সম্ভাবনা আছে। স্বাভাবিক জবাব— পশ্চিমবঙ্গ।

আপনি বাংলার জন্য যে সময় বিনিয়োগ করেছেন, তা অন্য কোনও রাজ্যের জন্য করেননি।

দেখুন, আমার হাতে প্রচুর সময়। এই পৃথিবীতে সবচেয়ে ফ্রি মানুষ আমিই (হাসি)। আমার কাছে প্রচুর সময় আছে। বয়স ৫৬ বছর। এখনও প্রচুর সময়।

প্রশ্ন:পশ্চিমবঙ্গ জিতে গেলে তো আর জীবনে চ্যালেঞ্জ থাকবে না। অমিত শাহের পরের চ্যালেঞ্জ কী হবে?

অমিত শাহ: না-না। প্রচুর চ্যালেঞ্জ আছে। ওড়িশা বাকি আছে। তেলঙ্গানা, অন্ধ্রপ্রদেশ, তামিলনাড়ু, কেরল বাকি আছে। বিন্ধ্য পর্বতমালার ওপারে অনেক রাজ্য বাকি আছে। প্রচুর কাজ।

ভোটের অনেক বিষয় আছে। আমি বিনয়ের সঙ্গে বলতে চাই, এই বিষয়গুলোতে বাংলার মানুষের বিজেপিকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। কিন্তু বাংলার মানুষের কাছে আমি আরও কয়েকটা বিষয় বলতে চাই।

আমার মতে, পশ্চিমবঙ্গের সবচেয়ে বড় সমস্যা অনুপ্রবেশ। পশ্চিমবঙ্গ ভারতের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সীমান্তবর্তী রাজ্য। উত্তর-পূর্বের সঙ্গে সংযোগকারী রাজ্য। আবার উত্তর-পূর্বাঞ্চল সাতটি দেশের সঙ্গে আমাদের দেশের সংযোগকারী এলাকা। পশ্চিমবঙ্গে যেভাবে রাজনৈতিক কায়েমি স্বার্থের কারণে প্রথমে কমিউনিস্ট এবং তার পরে তৃণমূল অনুপ্রবেশকে মদত দিয়েছে, তাকে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে রুখতে হবে। বাংলার ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা শুধু পশ্চিমবঙ্গে নয়, গোটা দেশের জন্য চিন্তার।

আগামী ১০ বছর পর কলকাতার নাগরিকও অনুপ্রবেশ থেকে বাঁচতে পারবে না।

একটা কথা বলা হয় যে, বিএসএফ ভারত সরকারের সংস্থা। কিন্তু এত বড় একটা সীমান্ত, যেখানে নদী-নালা, জঙ্গল-পাহাড় এবং সমতলভূমি রয়েছে, সেখানে যত ক্ষণ না আপনি একটা বাস্তুতন্ত্র তৈরি করছেন, তত ক্ষণ অনুপ্রবেশ বন্ধ করা যাবে না। বাস্তুতন্ত্র বলতে সীমান্তে বেড়া দিতে হবে, থানাগুলো এবং জেলাশাসককে সতর্ক থাকতে হবে। কেউ সীমান্ত পেরিয়ে এলে কোথায় থাকে? কারা তাদের আশ্রয় দেয়? বিএসএফ সীমান্তে নজরদারি করে। কিন্তু যদি কেউ ভিতরে ঢুকে পড়ে, তা হলে কে দেখবে?
গরু পাচার কেন বন্ধ করা যাচ্ছে না? আমরা অসমে এই বাস্তুতন্ত্রটা হাতেকলমে করেছি। বেড়ার ওপর ক্যামেরা লাগিয়েছি। তার সংযোগ পুলিশ থানায় দিয়েছি। জেলাশাসক, বিএসএফ এবং থানা— তিন পক্ষের ওপরেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ক্যামেরার ফুটেজ দেখার জন্য। সেই কারণেই অনুপ্রবেশ কমে ১০ শতাংশ হয়ে গিয়েছে। এটা প্রমাণিত তথ্য। পশ্চিমবঙ্গেও এটা করতে হবে। এটা কমিউনিস্ট, কংগ্রেস বা তৃণমূল— কেউই করতে পারবে না। কারণ, তিনটি দলই অনুপ্রবেশকারীদের নিজেদের ভোট ব্যাংক বানিয়েছে। শুধু বিজেপি করতে পারবে।

প্রশ্ন: শরণার্থী?

অমিত শাহ: হ্যাঁ। এখানে অনেক মানুষ শরণার্থী হয়ে এসে বেআইনি ভাবে বসবাস করছেন। আমরা এখানে ক্ষমতায় এসে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের মাধ্যমে তাঁদের সম্মানজনক ভাবে বাঁচার অধিকার দেব। এর ফলে বাংলার জীবনযাত্রারও অনেক পরিবর্তন হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও ভাল হবে বলে আমি মনে করি। দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন চালাব। সবচেয়ে বড় কথা, অনুপ্রবেশকে এত কঠোর হাতে নিয়ন্ত্রণ করব যে, পরিষ্কার বার্তা যাবে, বাংলায় এখন অনুপ্রবেশ করা সহজ নয়। আমি মনে করি, বাংলার মানুষের উচিত দিদিকে প্রশ্ন করা যে, আগামী পাঁচ বছর আপনি কী করবেন। সিআরপিএফ, অমিত শাহ, প্রধানমন্ত্রীকে গালাগাল দেওয়া, কেন্দ্রীয় সরকারের বিরোধিতা করা ছাড়া বাংলার গঠনমূলক উন্নতির জন্য কী করবেন? আমি তো ওঁর ভাষণ শুনছি। পুরো ভাষণই সিআরপিএফ-কে গালি দিয়ে!

প্রশ্ন:গত ১০-১৫ বছরে বাংলাদেশের তো আর্থিক উন্নয়ন হয়েছে। তা-ও কেন লোকে পশ্চিমবঙ্গে অনুপ্রবেশ করছে?

অমিত শাহ:এর দুটো কারণ আছে। এক, বাংলাদেশের উন্নয়ন সীমান্ত এলাকায় নিচুতলায় পৌঁছয়নি। যে কোনও পিছিয়ে-পড়া দেশে উন্নয়ন হতে শুরু করলে সেটা প্রথম কেন্দ্রে হয়। আর তার সুফল প্রথমে বড়লোকদের কাছে পৌঁছয়। গরিবদের কাছে নয়। এখন বাংলাদেশে সেই প্রক্রিয়া চলছে। ফলে গরিব মানুষ এখনও খেতে পাচ্ছে না। সে কারণেই অনুপ্রবেশ চলছে।

আর যারা অনুপ্রবেশকারী, তারা যে শুধু পশ্চিমবঙ্গেইথাকছে, তা নয়। তারা তো ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে পড়ছে। জম্মু-কাশ্মীর পর্যন্ত পৌঁছে যাচ্ছে। দ্বিতীয়, আমি মনে করি এটা প্রশাসনিক সমস্যা। প্রশাসনিক ভাবেই এর মোকাবিলা করতে হবে। সেটা পশ্চিমবঙ্গের সরকার করেনি।

পরিশেষে পশ্চিমবঙ্গেরমানুষকে জোড়হাতে বলতে চাই, আপনারা বহু দিন কংগ্রেসকে শাসন করার সুযোগ দিয়েছেন। তিন দশক কমিউনিস্টদের শাসন করার সুযোগ দিয়েছেন। এক দশক মমতাদিকে শাসন করার সুযোগ দিয়েছেন। কিন্তু বাংলার অনুন্নয়নই হয়েছে। একবার আপনারা নরেন্দ্র মোদীকে সুযোগ দিন। বিজেপিকে সুযোগ দিন।

পাঁচ বছরে আমরা যে সংশোধন করব, তাতে বাংলা আবার ‘সোনার বাংলা’ হওয়ার অভিমুখে এগোবে। এটা আমি সত্যিই বিশ্বাস করি। বিশেষত, কলকাতার ভাই-বোন-নাগরিকদের বলছি, কলকাতায় পরিবর্তন না হলে বাংলাতেও পরিবর্তন হবে না। বাংলাকে আবার দেশে তার পুরোন গৌরবের জায়গাটা ফিরিয়ে দিতে হলে সবচেয়ে আগে কলকাতাবাসীকে পরিবর্তন করতে হবে। কলকাতার নাগরিকেরা সেই উদ্যোগ নিন।

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি জিতলে আমার কোনও লাভ নেই: অমিত শাহ

 অনলাইন ডেস্ক 
১৩ এপ্রিল ২০২১, ১০:৩২ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ
অমিত শাহ। ফাইল ছবি
অমিত শাহ। ফাইল ছবি

ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি জিতলে আমার কোনও লাভ নেই। দেশের লাভই আমার লাভ।  
আনন্দবাজারকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি একথা বলেন।

সাক্ষাৎকারটি যুগান্তর পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো-

প্রশ্ন: এখন থেকে পাঁচ বছর পর অমিত শাহ নিজেকে কোথায় দেখেন?

অমিত শাহ: আমি তো নিজেকে বিজেপিতেই দেখি। দেখুন, দলই আমাদের ভূমিকা তৈরি করে দেয়। ব্যক্তিগত ভাবে কিছু ভাবার ভূমিকা আমার আছে বলে অন্তত আমি মনে করি না।

প্রশ্ন: পশ্চিমবঙ্গের প্রতি আপনার নজর কবে থেকে পড়ল? আপনি ২০১৬ থেকে পশ্চিমবঙ্গে আসছেন। কবে আপনার মনে হল, পশ্চিমবঙ্গে কিছু হচ্ছে না?

অমিত শাহ: এর দুটো ভাগ আছে। প্রথমত, আমি দলের সভাপতি ছিলাম। ফলে আমার কাজই ছিল, দেশের প্রতিটি বুথে যাতে আমার দল পৌঁছে যেতে পারে। সেটা তো আমার কর্তব্য। ফলে আমি চেয়েছিলাম, পশ্চিমবঙ্গেরও প্রতিটি কোনায় আমার দল পৌঁছক।  সেটা কীভাবে পৌঁছনো যায়? বিশদে পড়াশোনা করলে। সেটা আমার টিম করেছিল। তখনই এই খামতিগুলো নজরে এসেছিল।  দ্বিতীয়, অগ্রাধিকারের তালিকা তৈরি করা।  নিরাপত্তার দিক দিয়ে কোন রাজ্যে সরকার হলে লাভ হবে। উন্নয়নের নিরিখে কোন রাজ্যে সরকার হলে লাভ হবে। শিক্ষার নিরিখে কোন রাজ্যে সরকার হলে লাভ হবে। কোথায় সম্ভাবনা আছে।  স্বাভাবিক জবাব— পশ্চিমবঙ্গ।

আপনি বাংলার জন্য যে সময় বিনিয়োগ করেছেন, তা অন্য কোনও রাজ্যের জন্য করেননি।

দেখুন, আমার হাতে প্রচুর সময়। এই পৃথিবীতে সবচেয়ে ফ্রি মানুষ আমিই (হাসি)। আমার কাছে প্রচুর সময় আছে। বয়স ৫৬ বছর। এখনও প্রচুর সময়।

প্রশ্ন: পশ্চিমবঙ্গ জিতে গেলে তো আর জীবনে চ্যালেঞ্জ থাকবে না। অমিত শাহের পরের চ্যালেঞ্জ কী হবে?

অমিত শাহ: না-না। প্রচুর চ্যালেঞ্জ আছে। ওড়িশা বাকি আছে। তেলঙ্গানা, অন্ধ্রপ্রদেশ, তামিলনাড়ু, কেরল বাকি আছে। বিন্ধ্য পর্বতমালার ওপারে অনেক রাজ্য বাকি আছে। প্রচুর কাজ।

ভোটের অনেক বিষয় আছে।  আমি বিনয়ের সঙ্গে বলতে চাই, এই বিষয়গুলোতে বাংলার মানুষের বিজেপিকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। কিন্তু বাংলার মানুষের কাছে আমি আরও কয়েকটা বিষয় বলতে চাই। 

আমার মতে, পশ্চিমবঙ্গের সবচেয়ে বড় সমস্যা অনুপ্রবেশ।  পশ্চিমবঙ্গ ভারতের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সীমান্তবর্তী রাজ্য। উত্তর-পূর্বের সঙ্গে সংযোগকারী রাজ্য। আবার উত্তর-পূর্বাঞ্চল সাতটি দেশের সঙ্গে আমাদের দেশের সংযোগকারী এলাকা। পশ্চিমবঙ্গে যেভাবে রাজনৈতিক কায়েমি স্বার্থের কারণে প্রথমে কমিউনিস্ট এবং তার পরে তৃণমূল অনুপ্রবেশকে মদত দিয়েছে, তাকে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে রুখতে হবে। বাংলার ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা শুধু পশ্চিমবঙ্গে নয়, গোটা দেশের জন্য চিন্তার। 

আগামী ১০ বছর পর কলকাতার নাগরিকও অনুপ্রবেশ থেকে বাঁচতে পারবে না। 

একটা কথা বলা হয় যে, বিএসএফ ভারত সরকারের সংস্থা। কিন্তু এত বড় একটা সীমান্ত, যেখানে নদী-নালা, জঙ্গল-পাহাড় এবং সমতলভূমি রয়েছে, সেখানে যত ক্ষণ না আপনি একটা বাস্তুতন্ত্র তৈরি করছেন, তত ক্ষণ অনুপ্রবেশ বন্ধ করা যাবে না।  বাস্তুতন্ত্র বলতে সীমান্তে বেড়া দিতে হবে, থানাগুলো এবং জেলাশাসককে সতর্ক থাকতে হবে। কেউ সীমান্ত পেরিয়ে এলে কোথায় থাকে? কারা তাদের আশ্রয় দেয়? বিএসএফ সীমান্তে নজরদারি করে। কিন্তু যদি কেউ ভিতরে ঢুকে পড়ে, তা হলে কে দেখবে? 
গরু পাচার কেন বন্ধ করা যাচ্ছে না? আমরা অসমে এই বাস্তুতন্ত্রটা হাতেকলমে করেছি।  বেড়ার ওপর ক্যামেরা লাগিয়েছি।  তার সংযোগ পুলিশ থানায় দিয়েছি। জেলাশাসক, বিএসএফ এবং থানা— তিন পক্ষের ওপরেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ক্যামেরার ফুটেজ দেখার জন্য।  সেই কারণেই অনুপ্রবেশ কমে ১০ শতাংশ হয়ে গিয়েছে। এটা প্রমাণিত তথ্য। পশ্চিমবঙ্গেও এটা করতে হবে। এটা কমিউনিস্ট, কংগ্রেস বা তৃণমূল— কেউই করতে পারবে না।  কারণ, তিনটি দলই অনুপ্রবেশকারীদের নিজেদের ভোট ব্যাংক বানিয়েছে।  শুধু বিজেপি করতে পারবে।

প্রশ্ন: শরণার্থী?

অমিত শাহ: হ্যাঁ। এখানে অনেক মানুষ শরণার্থী হয়ে এসে বেআইনি ভাবে বসবাস করছেন। আমরা এখানে ক্ষমতায় এসে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের মাধ্যমে তাঁদের সম্মানজনক ভাবে বাঁচার অধিকার দেব। এর ফলে বাংলার জীবনযাত্রারও অনেক পরিবর্তন হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও ভাল হবে বলে আমি মনে করি। দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন চালাব। সবচেয়ে বড় কথা, অনুপ্রবেশকে এত কঠোর হাতে নিয়ন্ত্রণ করব যে, পরিষ্কার বার্তা যাবে, বাংলায় এখন অনুপ্রবেশ করা সহজ নয়। আমি মনে করি, বাংলার মানুষের উচিত দিদিকে প্রশ্ন করা যে, আগামী পাঁচ বছর আপনি কী করবেন। সিআরপিএফ, অমিত শাহ, প্রধানমন্ত্রীকে গালাগাল দেওয়া, কেন্দ্রীয় সরকারের বিরোধিতা করা ছাড়া বাংলার গঠনমূলক উন্নতির জন্য কী করবেন? আমি তো ওঁর ভাষণ শুনছি। পুরো ভাষণই সিআরপিএফ-কে গালি দিয়ে!

প্রশ্ন: গত ১০-১৫ বছরে বাংলাদেশের তো আর্থিক উন্নয়ন হয়েছে। তা-ও কেন লোকে পশ্চিমবঙ্গে অনুপ্রবেশ করছে?

অমিত শাহ:এর দুটো কারণ আছে। এক, বাংলাদেশের উন্নয়ন সীমান্ত এলাকায় নিচুতলায় পৌঁছয়নি। যে কোনও পিছিয়ে-পড়া দেশে উন্নয়ন হতে শুরু করলে সেটা প্রথম কেন্দ্রে হয়। আর তার সুফল প্রথমে বড়লোকদের কাছে পৌঁছয়। গরিবদের কাছে নয়। এখন বাংলাদেশে সেই প্রক্রিয়া চলছে। ফলে গরিব মানুষ এখনও খেতে পাচ্ছে না। সে কারণেই অনুপ্রবেশ চলছে।

আর যারা অনুপ্রবেশকারী, তারা যে শুধু পশ্চিমবঙ্গেই থাকছে, তা নয়। তারা তো ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে পড়ছে। জম্মু-কাশ্মীর পর্যন্ত পৌঁছে যাচ্ছে। দ্বিতীয়, আমি মনে করি এটা প্রশাসনিক সমস্যা। প্রশাসনিক ভাবেই এর মোকাবিলা করতে হবে। সেটা পশ্চিমবঙ্গের সরকার করেনি।

পরিশেষে পশ্চিমবঙ্গের মানুষকে জোড়হাতে বলতে চাই, আপনারা বহু দিন কংগ্রেসকে শাসন করার সুযোগ দিয়েছেন। তিন দশক কমিউনিস্টদের শাসন করার সুযোগ দিয়েছেন। এক দশক মমতাদিকে শাসন করার সুযোগ দিয়েছেন। কিন্তু বাংলার অনুন্নয়নই হয়েছে। একবার আপনারা নরেন্দ্র মোদীকে সুযোগ দিন। বিজেপিকে সুযোগ দিন।

পাঁচ বছরে আমরা যে সংশোধন করব, তাতে বাংলা আবার ‘সোনার বাংলা’ হওয়ার অভিমুখে এগোবে। এটা আমি সত্যিই বিশ্বাস করি। বিশেষত, কলকাতার ভাই-বোন-নাগরিকদের বলছি, কলকাতায় পরিবর্তন না হলে বাংলাতেও পরিবর্তন হবে না। বাংলাকে আবার দেশে তার পুরোন গৌরবের জায়গাটা ফিরিয়ে দিতে হলে সবচেয়ে আগে কলকাতাবাসীকে পরিবর্তন করতে হবে। কলকাতার নাগরিকেরা সেই উদ্যোগ নিন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচন ২০২১

আরও খবর