চিকিৎসক হতে চেয়েছিলেন মরিয়ম নওয়াজ
jugantor
চিকিৎসক হতে চেয়েছিলেন মরিয়ম নওয়াজ

  যুগান্তর ডেস্ক  

২২ এপ্রিল ২০২১, ২২:৫৮:৪৩  |  অনলাইন সংস্করণ

পাকিস্তানে ইমরান খান সরকারের ভিত কাপিয়ে দেওয়া রাজনীতিবিদ মরিয়ম নওয়াজ। সারা বিশ্বে পরিচিত এই রাজনীতিবিদ সম্পর্কে বহু তথ্য এখনও অজানা অনেকেরই।

পাকিস্তানের রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, মরিয়ম নওয়াজ রাজনৈতিক ভাষা শিখেছেন পিপিপির প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বেনজীর ভুট্টোর কাছ থেকে। তুখোড় সেই রাজনৈতিক ভাষা ব্যবহার করে ইমরান সরকারের ভিত নাড়িয়ে দিচ্ছেন সুদর্শনী এই রাজনীতিবিদ।

মরিয়ম নওয়াজের জন্ম ১৯৭৩ সালের ২৮ অক্টোবর। বর্তমানে তার ৪৮ বছর চলছে। ১৯ বছর বয়সে তিনি মোহাম্মদ সফদর আওয়ানকে জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নেন। মরিয়মের দুই কন্যা সন্তান এবং এক ছেলে সন্তান আছে। তিনি নানিও হয়েছেন সম্প্রতি।

তিনি স্কুল জীবন কাটান লাহোরের নামকরা স্কুল 'কনভেন্ট অব জেসাস এন্ড ম্যারি স্কুলে। চিকিৎসক হতে চেয়েছিলেন মরিয়ম। তাই তিনি লাহোরের কিং এডওয়ার্ড মেডিকেল কলেজে ভর্তি হয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে তার মন টেকেনি; পড়াশোনা ছেড়ে দিয়েছিলেন তিনি।

১৯৯২ সালে মরিয়মের বয়স যখন ১৯ তখন তার পিতা নওয়াজ শরীফ তাকে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন সফদর আওয়ানের সঙ্গে বিয়ে দেন, বিয়ের পরে সফদর সামরিক চাকরি ছেড়ে দেন। মরিয়ম পরে পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়, লাহোর থেকে অনিয়মিত ছাত্রী হিসেবে পড়াশোনা করে ২০১২ সালে ডিগ্রি নেন।

২০১৩ সালে মরিয়ম তার বাবার দল পাকিস্তান মুসলিম লীগে (এন) যোগ দেন। ২০১৩ সালের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনে তার বাবা নওয়াজ শরীফের পক্ষে প্রচার চালিয়েছিলেন মরিয়ম। তিনি এখন মুসলিম লিগের ডেপুটি লিডার।

১৯৯৯ সালে সেনাপ্রধান পারভেজ মোশাররফ নওয়াজ শরীফের কাছ থেকে ক্ষমতা দখল করলে মরিয়মকে গৃহবন্দি করা হয়। চার বছর ঘরবন্দি থেকে মরিয়মকে সপরিবারে সেৌদি আরবে পাঠিয়ে দেয় পারভেজ মোশাররফের সামরিক সরকার।

এরপর মরিয়ম ২০১০ সালের দিকে দেশে ফিরে এসে ফের রাজনীতিতে সক্রিয় হয়। ২০১৩ সালের জাতীয় নির্বাচনে নওয়াজ শরীফের পক্ষে প্রচার প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন। ওই সময়টায় তিনি নিজের জাত চেনান। পাকিস্তানের ভবিষ্যত নেতা হিসেবে গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেন। ওই নির্বাচনে নওয়াজ শরীর জয়ী হন। ৩৪২ আসনের মধ্যে ১৬৬ আসন পেয়ে সরকার গঠন করে মুসলিম লিগ। তৃতীয় বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হন নওয়াজ শরীফ। পরিবারের পক্ষ থেকে নওয়াজ বাবাকে রাজনীতিতে সর্বোচ্চ সমর্থন দিয়ে আসছেন।

পানামা পেপারস কেলেংকারিতে নাম আসায় ২০১৮ সালে হাইকোর্টের নির্দেশে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন নওয়াজ শরীফ। এ সময় নওয়াজের পাশাপাশি মরিয়মকেও সাজা দেওয়া হয়।

চিকিৎসক হতে চেয়েছিলেন মরিয়ম নওয়াজ

 যুগান্তর ডেস্ক 
২২ এপ্রিল ২০২১, ১০:৫৮ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

পাকিস্তানে ইমরান খান সরকারের ভিত কাপিয়ে দেওয়া রাজনীতিবিদ মরিয়ম নওয়াজ। সারা বিশ্বে পরিচিত এই রাজনীতিবিদ সম্পর্কে বহু তথ্য এখনও অজানা অনেকেরই।

পাকিস্তানের রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, মরিয়ম নওয়াজ রাজনৈতিক ভাষা শিখেছেন পিপিপির প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বেনজীর ভুট্টোর কাছ থেকে।  তুখোড় সেই রাজনৈতিক ভাষা ব্যবহার করে ইমরান সরকারের ভিত নাড়িয়ে দিচ্ছেন সুদর্শনী এই রাজনীতিবিদ। 

মরিয়ম নওয়াজের জন্ম ১৯৭৩ সালের ২৮ অক্টোবর। বর্তমানে তার ৪৮ বছর চলছে।  ১৯ বছর বয়সে তিনি মোহাম্মদ সফদর আওয়ানকে জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নেন। মরিয়মের দুই কন্যা সন্তান এবং এক ছেলে সন্তান আছে। তিনি নানিও হয়েছেন সম্প্রতি।

তিনি স্কুল জীবন কাটান লাহোরের নামকরা স্কুল 'কনভেন্ট অব জেসাস এন্ড ম্যারি স্কুলে। চিকিৎসক হতে চেয়েছিলেন মরিয়ম। তাই তিনি লাহোরের কিং এডওয়ার্ড মেডিকেল কলেজে ভর্তি হয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে তার মন টেকেনি; পড়াশোনা ছেড়ে দিয়েছিলেন তিনি। 

১৯৯২ সালে মরিয়মের বয়স যখন ১৯ তখন তার পিতা নওয়াজ শরীফ তাকে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন সফদর আওয়ানের সঙ্গে বিয়ে দেন, বিয়ের পরে সফদর সামরিক চাকরি ছেড়ে দেন। মরিয়ম পরে পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়, লাহোর থেকে অনিয়মিত ছাত্রী হিসেবে পড়াশোনা করে ২০১২ সালে ডিগ্রি নেন। 

২০১৩ সালে মরিয়ম তার বাবার দল পাকিস্তান মুসলিম লীগে (এন) যোগ দেন। ২০১৩ সালের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনে তার বাবা নওয়াজ শরীফের পক্ষে প্রচার চালিয়েছিলেন মরিয়ম। তিনি এখন মুসলিম লিগের ডেপুটি লিডার।

১৯৯৯ সালে সেনাপ্রধান পারভেজ মোশাররফ নওয়াজ শরীফের কাছ থেকে ক্ষমতা দখল করলে মরিয়মকে গৃহবন্দি করা হয়।  চার বছর ঘরবন্দি থেকে মরিয়মকে সপরিবারে সেৌদি আরবে পাঠিয়ে দেয় পারভেজ মোশাররফের সামরিক সরকার।

এরপর মরিয়ম ২০১০ সালের দিকে দেশে ফিরে এসে ফের রাজনীতিতে সক্রিয় হয়। ২০১৩ সালের জাতীয় নির্বাচনে নওয়াজ শরীফের পক্ষে প্রচার প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন। ওই সময়টায় তিনি নিজের জাত চেনান।  পাকিস্তানের ভবিষ্যত নেতা হিসেবে গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেন।  ওই নির্বাচনে নওয়াজ শরীর জয়ী হন। ৩৪২ আসনের মধ্যে ১৬৬ আসন পেয়ে সরকার গঠন করে মুসলিম লিগ।  তৃতীয় বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হন নওয়াজ শরীফ।  পরিবারের পক্ষ থেকে নওয়াজ বাবাকে রাজনীতিতে সর্বোচ্চ সমর্থন দিয়ে আসছেন।

পানামা পেপারস কেলেংকারিতে নাম আসায় ২০১৮ সালে হাইকোর্টের নির্দেশে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন নওয়াজ শরীফ।  এ সময় নওয়াজের পাশাপাশি মরিয়মকেও সাজা দেওয়া হয়।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন