স্মৃতির কথা ও আড্ডা
jugantor
স্মৃতির কথা ও আড্ডা

  মোহাম্মদ হানিফ, দক্ষিণ কোরিয়া থেকে  

২৬ এপ্রিল ২০২১, ২২:৫০:৫৭  |  অনলাইন সংস্করণ

শৈশব-কৈশোরের দিনগুলো কেটেছে নিজ গ্রাম বেতুয়াতে। বাড়ির পাশেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। সেই প্রতিষ্ঠানে টানা দশটি বছর অতিবাহিত পর ঢাকা তিতুমীর কলেজ। কলেজ জীবন শেষ করে কর্মজীবনে পা। এখন দীর্ঘ তিনটি বছর কাটছে দক্ষিণ কোরিয়াতে। চোখের পলকে মধ্যে যে সময় কিভাবে চলে যায় তা কখনো অনুভব করা যায় না।

এখন ‘শৈশব-কৈশোর’ শব্দটা শুনলেই কেমন যেন একটা ধূসর গল্পের জগৎ সামনে চলে আসে। শৈশব-কৈশোরের স্মৃতি ভিজিয়ে দেয় চোখ নির্ভার, চিন্তাহীন একটা সময়। কত কীই–না করেছি আমরা সে সময়! কত গল্প, কত দুষ্টুমি আর কত খেলা আর কত ঘোরাঘুরি। মনে পড়ে আমাদের বন্ধুদের মধ্যে আমি, মীর আর রাসেল- যাই কিছু করতাম এ তিনজন এক সাথে। যেমনি আমরা শিক্ষকের খুবই প্রিয় ছাত্র ছিলাম ঠিক তেমনি সমাজে ভালো কিছু করার প্রচেষ্টা আর ন্যায়নীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকার কারণে এলাকার মুরুব্বিদের কাছেও প্রিয় ছিলাম। কিছু দিনের মধ্যে সিনিয়র এবং জুনিয়র মিলে এই বন্ধুত্বের পাল্লা ভারী হতে থকে। কারণ বন্ধুত্বের ক্ষেত্রে নো সিনিয়র-জুনিয়র। তৈরি হয় আমাদের স্টাডি সার্কেল।

সিনিয়র বন্ধু থাকলে অনেক সুবিধা আছে। যেমন ছোটদের কাছে যা কঠিন বড়দের কাছে তা অনেক সহজ। ছোটদের কাছে যা অসম্ভব বড়দের কাছে তা সম্ভব। তাই সিনিয়র কোনো বন্ধু থাকলে অনেক কিছু খুব সহজে করা সম্ভব। তা ছাড়া তারা অনেক কিছু জানেন। তাই ছোটরা তাদের সিনিয়র বন্ধুদের কাছ থেকে না-জানা অনেক কিছু জানতে পারে। যে কোনো সমস্যা হলে সিনিয়র বন্ধুদের সাহায্য নিতে পারে। তার পর দীর্ঘ সময় পথ চলা একঝাঁক স্টাডি সার্কেল বন্ধুদের নিয়ে আনন্দের দিনগুলোর। বদলে গেছে সময়, বাস্তবতা বদলে দিয়েছে অনেক কিছুই। এখন শুধুই ফিরে দেখা। কর্মজীবনে সেই স্টাডি সার্কেলের আজ কেউবা দেশে কেউবা প্রবাসে। অনেক বছর করো সঙ্গেকরো সরাসরি দেখা হয় না। একসঙ্গেআর আড্ডা হয় না কফি হাউজে।

সেই বেতুয়া গ্রামের প্রতিটি পরতে পরতে আমাদের স্মৃতি লুকিয়ে আছে যেখানে আবার ফিরে যেতে ইচ্ছে করে। কিন্তু সবাইকে নিয়ে আর ফেরা তো সম্ভব নয় তাই কিছু সময় স্মৃতিগুলো উসকে তোলার জন্য প্রযুক্তির বদৌলতে সবাই একসাথে। হঠাৎ আয়োজন স্মৃতির কথা ও আড্ডা অনুষ্ঠান। সকল বন্ধু আর কিছু সিনয়র ভাইদের নিয়ে রোববারবাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ১০টায় জুমে ‘স্মৃতির কথা ও আড্ডা’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। যেখানে সবার ছোটবেলার পুরোনা স্মৃতি সমাহায় ঘটে। ক্ষনিকের জন্য সবাই ফিরে গিয়েছি সেই স্বপ্নের দিনগুলোতে। জীবন-জীবিকার তাগিদে বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সবাই একসাথে। সবারই আবেগ অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে এই অনুষ্ঠানে।

টানা কয়েক ঘন্টা চলা গল্প আর আড্ডার মাঝে শিল্পী মাহমুদ ফয়সালের সঙ্গীতে সত্যিই মুগ্ধকর একটি পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছিলো। আমজাদ হোসেন ও কামাল উদ্দিনের পরিচালনায় স্মৃতির কথা ও আড্ডার অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, মওলানা কামরুল আহসান, গাজী ছালেহ উদ্দিন, ইমাম উদ্দিন, আনোয়ার হোসেন, কামাল উদ্দিন, আবু সাঈদ কামারুজ্জামান, আব্দুল হালিম, তারেক মাহমুদ, মাসুদুর রহমান, নূর নবী, মীর হোসাইন, মোহাম্মদ হানিফ, মাহমুদ ফয়সাল, শেখ ফরিদ, শাখাওয়াত হোসেন, হাসানুর রশীদ, দেলোয়ার হোসেন, মোহাম্মদ ইস্রাফিল, আবুল কালাম আজদ, নিজাম উদ্দিন, আশরাফুল ইসলাম, মাজহারুল ইসলাম, কাজী মোস্তাফিজ, আলমগীর কবীর, নরুল আফসার, মুন্জুর আলম, ফিরোজ আহমেদ, মাহবুবুল হক, আবু তৈয়ব শিমুল প্রমুখ।

পুরোনো বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ। কষ্টের কথা আপনজনকে প্রকাশ করলে নিজেকে হালকা মনে হয় এবং কাছের মানুষের ভালবাসা আস্থা ও বিশ্বাস জোগায়। ভালো মানুষের সঙ্গে সংযোগ যে কাউকে নতুন পথ এবং সম্ভাবনার নতুন আলো দেখাতে সাহায্য করে।

করোনার নিস্তব্ধ পৃথিবী। অসহায় মানুষের আর্তনাদ, বেঁচে থাকার আকুল আবেদন, স্বজন হারানোর হাহাকার। চারিদিকে শুধু মৃত্যুর মিছিল। নি:শ্বাস ভারি তাই আজ প্রকৃতির রুগ্ন রূপ। মহামারির এই পরিস্থিতিকে মহান আল্লাহ যেন শান্ত করে দেন সেজন্য বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

স্টাডি সার্কেল শিক্ষামূলক কর্মকাণ্ড শিক্ষা সফর, উপস্থিত বক্তব্য ও কুইজ প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডেও উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে, ব্লাড গ্রুপিং: ২০২১ সালে ২৬শে মার্চে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষ্যে ব্লাড গ্রুপিংয়ের আয়োজন করা হয়েছিলো। এতে দেড় শতাধিক মানুষ অংশগ্রহণ করেন। করোনায় অসহায় মানুষদের মাঝে ফুড প্যাকেজ উপহার বিতরণ করা হয় আমাদের এই স্টাডি সার্কেলের পক্ষ থেকে। প্রাণঘাতী এই ভাইরাস থেকে নিরাপদে থাকতে নিরাপদ দূরত্বে থাকার পরামর্শসহ সমাজের সকল মসজিদে সাবান দিয়ে হাত ধোয়া কর্মসূচিও পালন করেছিলো স্টাডি সার্কেল।

স্মৃতির কথা ও আড্ডা

 মোহাম্মদ হানিফ, দক্ষিণ কোরিয়া থেকে 
২৬ এপ্রিল ২০২১, ১০:৫০ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

শৈশব-কৈশোরের দিনগুলো কেটেছে নিজ গ্রাম বেতুয়াতে। বাড়ির পাশেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। সেই প্রতিষ্ঠানে টানা দশটি বছর অতিবাহিত পর ঢাকা তিতুমীর কলেজ। কলেজ জীবন শেষ করে কর্মজীবনে পা। এখন দীর্ঘ তিনটি বছর কাটছে দক্ষিণ কোরিয়াতে। চোখের পলকে মধ্যে যে সময় কিভাবে চলে যায় তা কখনো অনুভব করা যায় না।

এখন ‘শৈশব-কৈশোর’ শব্দটা শুনলেই কেমন যেন একটা ধূসর গল্পের জগৎ সামনে চলে আসে। শৈশব-কৈশোরের স্মৃতি ভিজিয়ে দেয় চোখ নির্ভার, চিন্তাহীন একটা সময়। কত কীই–না করেছি আমরা সে সময়! কত গল্প, কত দুষ্টুমি আর কত খেলা আর কত ঘোরাঘুরি। মনে পড়ে আমাদের বন্ধুদের মধ্যে আমি, মীর আর রাসেল- যাই কিছু করতাম এ তিনজন এক সাথে। যেমনি আমরা শিক্ষকের খুবই প্রিয় ছাত্র ছিলাম ঠিক তেমনি সমাজে ভালো কিছু করার প্রচেষ্টা আর ন্যায়নীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকার কারণে এলাকার মুরুব্বিদের কাছেও প্রিয় ছিলাম। কিছু দিনের মধ্যে সিনিয়র এবং জুনিয়র মিলে এই বন্ধুত্বের পাল্লা ভারী হতে থকে। কারণ বন্ধুত্বের ক্ষেত্রে নো সিনিয়র-জুনিয়র। তৈরি হয় আমাদের স্টাডি সার্কেল।

সিনিয়র বন্ধু থাকলে অনেক সুবিধা আছে। যেমন ছোটদের কাছে যা কঠিন বড়দের কাছে তা অনেক সহজ। ছোটদের কাছে যা অসম্ভব বড়দের কাছে তা সম্ভব। তাই সিনিয়র কোনো বন্ধু থাকলে অনেক কিছু খুব সহজে করা সম্ভব। তা ছাড়া তারা অনেক কিছু জানেন। তাই ছোটরা তাদের সিনিয়র বন্ধুদের কাছ থেকে না-জানা অনেক কিছু জানতে পারে। যে কোনো সমস্যা হলে সিনিয়র বন্ধুদের সাহায্য নিতে পারে। তার পর দীর্ঘ সময় পথ চলা একঝাঁক স্টাডি সার্কেল বন্ধুদের নিয়ে আনন্দের দিনগুলোর। বদলে গেছে সময়, বাস্তবতা বদলে দিয়েছে অনেক কিছুই। এখন শুধুই ফিরে দেখা। কর্মজীবনে সেই স্টাডি সার্কেলের আজ কেউবা দেশে কেউবা প্রবাসে। অনেক বছর করো সঙ্গে করো সরাসরি দেখা হয় না। একসঙ্গে আর আড্ডা হয় না কফি হাউজে।

সেই বেতুয়া গ্রামের প্রতিটি পরতে পরতে আমাদের স্মৃতি লুকিয়ে আছে যেখানে আবার ফিরে যেতে ইচ্ছে করে। কিন্তু সবাইকে নিয়ে আর ফেরা তো সম্ভব নয় তাই কিছু সময় স্মৃতিগুলো উসকে তোলার জন্য প্রযুক্তির বদৌলতে সবাই একসাথে। হঠাৎ আয়োজন স্মৃতির কথা ও আড্ডা অনুষ্ঠান। সকল বন্ধু আর কিছু সিনয়র ভাইদের নিয়ে রোববার বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ১০টায়  জুমে ‘স্মৃতির কথা ও আড্ডা’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। যেখানে সবার ছোটবেলার পুরোনা স্মৃতি সমাহায় ঘটে। ক্ষনিকের জন্য সবাই ফিরে গিয়েছি সেই স্বপ্নের দিনগুলোতে। জীবন-জীবিকার তাগিদে বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সবাই একসাথে। সবারই আবেগ অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে এই অনুষ্ঠানে।

টানা কয়েক ঘন্টা চলা গল্প আর আড্ডার মাঝে শিল্পী মাহমুদ ফয়সালের সঙ্গীতে সত্যিই মুগ্ধকর একটি পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছিলো। আমজাদ হোসেন ও কামাল উদ্দিনের পরিচালনায় স্মৃতির কথা ও আড্ডার অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, মওলানা কামরুল আহসান, গাজী ছালেহ উদ্দিন, ইমাম উদ্দিন, আনোয়ার হোসেন, কামাল উদ্দিন, আবু সাঈদ কামারুজ্জামান, আব্দুল হালিম, তারেক মাহমুদ, মাসুদুর রহমান, নূর নবী, মীর হোসাইন, মোহাম্মদ হানিফ, মাহমুদ ফয়সাল, শেখ ফরিদ, শাখাওয়াত হোসেন, হাসানুর রশীদ, দেলোয়ার হোসেন, মোহাম্মদ ইস্রাফিল, আবুল কালাম আজদ, নিজাম উদ্দিন, আশরাফুল ইসলাম, মাজহারুল ইসলাম, কাজী মোস্তাফিজ, আলমগীর কবীর, নরুল আফসার, মুন্জুর আলম, ফিরোজ আহমেদ, মাহবুবুল হক, আবু তৈয়ব শিমুল প্রমুখ।

পুরোনো বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ। কষ্টের কথা আপনজনকে প্রকাশ করলে নিজেকে হালকা মনে হয় এবং কাছের মানুষের ভালবাসা আস্থা ও বিশ্বাস জোগায়। ভালো মানুষের সঙ্গে সংযোগ যে কাউকে নতুন পথ এবং সম্ভাবনার নতুন আলো দেখাতে সাহায্য করে।

করোনার নিস্তব্ধ পৃথিবী। অসহায় মানুষের আর্তনাদ, বেঁচে থাকার আকুল আবেদন, স্বজন হারানোর হাহাকার। চারিদিকে শুধু মৃত্যুর মিছিল। নি:শ্বাস ভারি তাই আজ প্রকৃতির রুগ্ন রূপ। মহামারির এই পরিস্থিতিকে মহান আল্লাহ যেন শান্ত করে দেন সেজন্য বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

স্টাডি সার্কেল শিক্ষামূলক কর্মকাণ্ড শিক্ষা সফর, উপস্থিত বক্তব্য ও কুইজ প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডেও উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে, ব্লাড গ্রুপিং: ২০২১ সালে ২৬শে মার্চে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষ্যে ব্লাড গ্রুপিংয়ের আয়োজন করা হয়েছিলো। এতে দেড় শতাধিক মানুষ অংশগ্রহণ করেন। করোনায় অসহায় মানুষদের মাঝে ফুড প্যাকেজ উপহার বিতরণ করা হয় আমাদের এই স্টাডি সার্কেলের পক্ষ থেকে। প্রাণঘাতী এই ভাইরাস থেকে নিরাপদে থাকতে নিরাপদ দূরত্বে থাকার পরামর্শসহ সমাজের সকল মসজিদে সাবান দিয়ে হাত ধোয়া কর্মসূচিও পালন করেছিলো স্টাডি সার্কেল।
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন