বাইডেনের 'আর্মেনীয় গণহত্যা’র স্বীকৃতি, কী করবেন এরদোগান?
jugantor
বাইডেনের 'আর্মেনীয় গণহত্যা’র স্বীকৃতি, কী করবেন এরদোগান?

  সরোয়ার আলম, আঙ্কারা, তুরস্ক থেকে  

২৭ এপ্রিল ২০২১, ২২:১৫:৫৯  |  অনলাইন সংস্করণ

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় ১৯১৫ সালে উসমানীয় তুরস্কের পূর্বাঞ্চলে রাশিয়া এবং তাদের মদদপুষ্ট সশস্ত্র আর্মেনীয়দের তাণ্ডবে যখন ওই এলাকার সাধারণ মানুষ একেবারে দিশেহারা তখন কয়েখ লাখ আর্মেনিয়ানকে স্থানান্তরিত করার সিদ্ধান্ত নেয় উসমানীয় সরকার। সে সময় তুর্কি, কুর্দি, আর্মেনীয়সহ মারা যায় অনেক লোক।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এই ঘটনাকে ‘আর্মেনীয় গণহত্যা’ বলে স্বীকৃতি দেন গত সপ্তাহে। অথচ ইতিহাস বলে ভিন্ন কথা। ওই সময় আর্মেনীয়দের চেয়েও বেশি হত্যা করা হয়েছিল উসমানীয় সম্রাজ্যের প্রতি অনুগত তুর্কি, কুর্দি এবং ইহুদিদেরকে।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধে উসমানীয়রা যখন প্রায় প্রতিটি রণাঙ্গনেই পরাজয় বরণ করার উপক্রম তখন সম্রাজ্যের মধ্যে বসবাসকারী আর্মেনীয়রা রাশিয়ানদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে বিদ্রোহ শুরু করে সম্রাজ্যের বিরুদ্ধে।

বিদ্রোহে তুর্কি, কুর্দি এবং আর্মেনীয় ৩০ লাখ লোক নিহত হয়। এতে উসমানীয় তুর্কি এবং কুর্দিদের সংখ্যা ছিল প্রায় ২৪ লাখ আর আর্মেনীয়দের সংখ্যা ছিল ৬ লাখের মত।

কিন্তু এই ইতিহাসকে অস্বীকার করে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ১৯১৫ সালের এই ঘটনাকে ‘আর্মেনীয় গণহত্যা’ বলে স্বীকৃতি দিয়েছেন। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে আর্মেনীয় লবির কাছে পরাজিত হল ঐতিহাসিক সত্য। যুক্তরাষ্ট্রে আর্মেনীয় লবি বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী লবিগুলোর একটি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং তার ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হারিস গত বছর তাদের নির্বাচনী প্রচারণায় এই তথাকথিত "আর্মেনীয় গণহত্যা"কে স্বীকৃতি দেবেন বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন। এবার তিনি সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করলেন। আর বিপরীতে তুরস্কের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ মিত্র এবং ন্যাটো সদস্যকে শত্রুর কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিলেন।

যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশে আর্মেনীয় ডায়াস্পোরা অনেক বছর ধরেই এই বিষয়ে লবি করে আসছিল। যদিও ঘটনাটি উসমানীয় খেলাফতের সময়ে ঘটা এবং এর পক্ষে ঐতিহাসিক দলিল প্রমাণও নেই আর্মেনীয়দের কাছে কিন্তু তারা তুরস্কের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য তাদের এই ক্যাম্পেইন চলিয়েই এসেছিল। আর তাদের এই ক্যাম্পেইনে রাজনৈতিক সহমত পোষণ করে পশ্চিমা অনেক দেশ।

অন্যদিকে আজারবাইজানে আর্মেনীয়দের গণহত্যা এবং অবৈধ দখলদারিত্বকে ফোকাসের অন্তরালে রাখার চেষ্টাও করা হয় তথাকথিত এই গণহত্যার বিষয়টিকে সামনে আনার মাধ্যমে।

বাইডেন কেন এমন সিদ্ধান্ত নিলেন?

আসলে গত কয়েক বছর ধরেই চলছে তুরস্কের সঙ্গে আমেরিকার বৈরী সম্পর্ক।
আমেরিকা বিভিন্ন ভাবে তুরস্কের ক্ষতি করার চেষ্টায় ব্যস্ত। তুরস্কের উত্থানকে রুখে দিতে সব প্রচেষ্টাই চালিয়ে আসছে মার্কিন প্রশাসন।

তুরস্ককে ভেঙে একটি কুর্দি রাষ্ট্র গঠন, আমেরিকায় বসবাসকারী বিশাল এক সংগঠনের মূল হোতা ফেতুল্লাহ গুলেনকে দিয়ে তুরস্কে সরকার পরিবর্তনের চেষ্টা, সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে এরদোগান সরকারকে উৎখাত করা, তুরস্ক-সিরিয়ার সীমান্তধরে কুর্দি সশস্ত্রবাহিনী গঠনের মাধ্যমে তুরস্ককে খণ্ড বিখন্ড করার প্রচেষ্টাসহ আরও অনেক পদক্ষেপ নিয়েছিল আমেরিকা। কিন্তু কোনো পদক্ষেপই যখন তুরস্ককে বাগে আনতে পারছে না তখন মার্কিন প্রশাসন আরও বেশি ক্ষিপ্ত হয়ে পরে আঙ্কারার ওপর। যে কোনো ঠুনকো অজুহাতে তুরস্ককে চাপে ফেলার চেষ্টা করে। যেমন, তুরস্কের কাছে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বিক্রি না করা, তুরস্কের সামরিক শিল্পের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা, তুরস্কের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক যুদ্ধ পরিচালনা করা। এগুলোর পেছনে কিন্তু আসলে শক্তিশালী কোন কারণ দাঁড় করাতে পারেনি।

এছাড়াও ২০১৯ সালে মার্কিন সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদ তড়িঘড়ি করেই আর্মেনিয়ার গণহত্যাকে স্বীকৃতি দেওয়া নিয়ে একটা বিল পাস করে।

২০২০ সালের শেষ দিকে তখনকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতা ছাড়ার আগে তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্পের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে।

এদিকে বাইডেন ক্ষমতায় আসার পরে তিন মাস পার হয়ে গেলেও তিনি এরদোগানকে ফোন করেননি। অথচ স্বাভাবিক নিয়মে মার্কিন কোন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পরে প্রথম যে দশটি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে কথা বলেন তুরস্ক তাদের মধ্যে অন্যতম। কিন্তু বাইডেন সে রেওয়াজও ভঙ্গ করলেন।

নির্বাচনের আগেও তিনি তুরস্কের সরকারকে ভেতর থেকে ভেঙে ফেলে দূর্বল করে এদেশের বিরোধী দলকে সহযোগিতা দিয়ে তাদেরকে ক্ষমতায় আনার পরিকল্পনা করেন। যা পরবর্তীতে মার্কিন গণমাধ্যমে প্রচার হয়।

অবশেষে তিনি ক্ষমতায় আসার তিন মাস পরে এরদোগানের সঙ্গে ফোনালাপ করেন কিন্তু সেটা কোনো সৌজন্যমূলক আলাপচারিতা ছিল না। সেটা ছিল আসলে এরদোগানের সঙ্গে দরকষাকষির।

তিনি এই বিষয়টিকে একটি টোপ হিসেবে ব্যবহার করে এরদোগানের সঙ্গে কয়েকটি বিষয়ে দর কষাকষির চেষ্টা করছিলেন।

এগুলোর মধ্যে ছিল, রাশিয়া এবং চীনের বলয় থেকে তুরস্কের পুরোপুরি বেড়িয়ে যাওয়া, সিরিয়া থেকে তুরস্কের সৈন্য সীমান্ত উঠিয়ে নিয়ে আসা এবং তুরস্কের সীমান্তবর্তী এলাকাতে একটি কুর্দি রাষ্ট্র গঠনে তুরস্কের কোনো ধরণের আপত্তি না করা, লিবায়া থেকে সৈন্য ফেরত আনা, আজারবাইজান ও কারাবাখের বিষয়ে নাক না গলানো, সন্ত্রাসের মদদদানের অভিযোগে গ্রেফতারকৃত কুর্দি রাজনীতিবিদের ছেড়ে দেওয়া ইত্যাদি। কিন্তু এরদোগান এগুলোর কোনটিই গ্রহণ করেনি। ফলে যা হবার তাই হয়েছে।

বাইডেন ১৯১৫ সালের ঘটনাটিকে গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃতি দিলেন। অথচ তার উচিত ছিল তুরস্ক এবং আর্মেনিয়াকে এক টেবিলে বসিয়ে বিভিন্ন দেশের বিখ্যাত ইতিহাসবিদদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা। যে কমিটি উসমানীয়, ব্রিটেন এবং রাশিয়ার আর্কাইভ ঘেঁটে সঠিক সত্যটা বের করে নিয়ে আসবেন।

তথাকথিত এই আর্মেনীয় গণহত্যার বিষয়টি আমেরিকাতে প্রথম আলোচনায় নিয়ে আসেন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার।

১৯৭৮ সালের ১৬ মে তিনি আমেরিকায় বসবাসকারী আর্মেনীয়দের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে বিষয়টি প্রথম জনসম্মুখে নিয়ে আসেন।

এরপর ১৯৮১ সালে প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রেগান ঘটনাটিকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে উল্লেখ করেন। কিন্তু তার পরে আমেরিকাতে যত প্রেসিডেন্ট এসেছেন কেউই বিষয়টিকে ‘গণহত্যা’ বলেননি।

প্রতিবছর এ দিবসটি পালনকালে তারা সবাই এটিকে ‘মহা বিপর্যয়’ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন এবং এই বিষয়টিকে রাজনীতিকরণ থেকে দূরে থেকেছেন।

ইতিহাসবিদদের মধ্যে এ নিয়ে পরস্পর বিরোধী যুক্তি থাকার কথাও তারা স্বীকার করেন। তারা জানতেন এ নিয়ে অযথা রাজনৈতিক বাড়াবাড়ি করলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ন্যাটো মিত্র তুরস্কের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হতে পারে।

এখন প্রশ্ন আসতেই পারে, তাহলে বাইডেন নতুন কী তথ্য প্রমাণ পেলেন যার ফলে তিনি ১০৫ বছর পরে এসে এটাকে গণহত্যা বলতে উদ্যত হলেন।

আসলে তিনি নতুন কোনো প্রমাণই পাননি; বরং তুরস্ককে শাস্তি দেওয়ার চেষ্টা করছেন মাত্র।

বাইডেনের মতে এই স্বীকৃতির পেছনে মূল উদ্দেশ্য, বিশ্বের অন্য কোথাও যেন গণহত্যা না ঘটে সেটা নিশ্চিত করা। তাহলে কি প্রশ্ন আসে না যে আমেরিকা এবং তার দোসররা কাশ্মীরে, ফিলিস্তিনে, সিরিয়াতে, লিবিয়াতে, ইয়েমেনে, আরাকানে, আফগানিস্তানে যে গণহত্যা চলাচ্ছে তা অনতিবিলম্বে বন্ধ করার জন্য তিনি কী টু শব্দটি পর্যন্ত করেছেন?

তিনি আরও বলেন, এই স্বীকৃতির মাধ্যমে তিনি মানবাধিকারের প্রতি কতটা সচেতন তা প্রমাণ করলেন। অথচ সারা বিশ্বের চোখের সামনে যে মানবাধিকার ধুলিস্যাত হচ্ছে তা রোধ করতে তিনি কি কোন পদক্ষেপ নিয়েছেন? আর আমেরিকার কৃষ্ণাঙ্গদের ওপর অত্যাচার, রেড ইন্ডিয়ানদের গণহত্যা, হিরোশিমা-নাগাসাকিতে পারমাণবিক হামলাসহ বিশ্বের প্রান্তে প্রান্তে যে মানবাধিকার লঙ্ঘন আমেরিকা করেছে এবং এখনও করছে সে বিষয়গুলো না হয় না-ই বা বললাম।

এই স্বীকৃতি তুরস্কের ওপর কি প্রভাব ফেলবে?

আসলে বিশ্বের দরবারে তুরস্কের ভাবমূর্তি নষ্ট করাই এই স্বীকৃতির প্রধান লক্ষ্য। কারণ, একটি জাতিকে দমিয়ে রাখার জন্য প্রথমে সে জাতির ভাবমূর্তিতে আঘাত করবেন তারপরে তাকে মানসিকভাবে পরাজিত করবেন। এছাড়াও তিনি এই স্বীকৃতির মাধ্যমে মূলত কয়েকমাস আগে আজারবাইজানের কারাবাখে তুর্কিদের হাতে শোচনীয় ভাবে পরাজিত আর্মেনিয়ানদের একটু মানসিক সান্ত্বনাও দিলেন। তবে অন্য যেসকল দেশ জোড়াল আর্মেনীয় লবি সত্ত্বেও তথাকথিত এই গণহত্যার স্বীকৃতি দিতে গড়িমসি করছিল বাইডেনের এই পদক্ষেপ সে সব দেশকে সাহস জোগাবে।

বাইডেনের এই ঘোষণাকে পুঁজি করে আর্মেনীয়রা আমেরিকার বিভিন্ন কোর্টে তুরস্কের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ মামলা করতে পারে। যদিও এর আগেও আমেরিকাতে এবং ইউরোপে আর্মেনীয়রা এধরনের অনেকগুলো মামলা করেছিল কিন্তু সবগুলো খারিজ করে দেওয়া হয়। কারণ, আন্তর্জাতিক গণহত্যা কনভেনশন অনুযায়ী গণহত্যা হলো একটি রাষ্ট্র যদি কোন একটি জাতিগোষ্ঠীকে সমূলে ধ্বংস করে দেওয়ার জন্য সুপরিকল্পিত হত্যাযজ্ঞ চালায়। কিন্তু ১৯১৫ সালে মূলত জাতিগত দাঙ্গা বাঁধে এবং ফলশ্রুতিতে একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক আর্মেনীয়দেরকে শুধু মাত্র নির্দিষ্ট সময়ের জন্য স্থানান্তর করা হয়।

যুদ্ধ শেষ হলে তাদেরকে আবার ফেরত আসার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হোয়। এবং অনেকে ফেরত এসেছিল। এছাড়াও, সে সময়ে তুরস্কে প্রায় আরও ২৫ থেকে ৩০ লাখের মত আর্মেনীয় ছিল যাদেরকে স্থানান্তর করা হয়নি, বা যাদের উপর কোন ধরণের অত্যাচার নির্যাতনের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তারা তুরস্কে শান্তিতে বসবাস করেছিল এবং অনেকে এখনও তুরস্কে বসবাস করছে। সুতরাং, আন্তর্জাতিক গণহত্যা কনভেনশন অনুযায়ী এটি কোন গণহত্যা না।

আর পশ্চিমারা যদিও কোন ভাবে এটিকে গণহত্যা প্রমাণ করেও তাহলেও সেটা ১৯৪৮ সালে স্বাক্ষরিত এই গণহত্যা কনভেনশনের আওতায় আসবে না কারণ ঘটনাটি ঘটেছিল এই কনভেনশন স্বাক্ষরের অনেক বছর আগে। তদুপরি ঘটনাটি ঘটেছে উসমানীয় শাসনামলে, বর্তমান তুরস্ককে সে কারণে দোষী করা যাবে না।

তবে জোর যার মুলুক তার অবস্থা চলছে বর্তমান বিশ্বে। আইন, কানুন, নিয়ম, নীতির তোয়াক্কা করছে না পরাশক্তিগুলো। সুতরাং এরকম বিশ্বে পরাশক্তিগুলো যেখানে আইনের কাছে হেরে যায় সেখানে তার প্রতিপক্ষকে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সামরিক শক্তি দিয়ে ঘায়েলের চেষ্টা করে। হয়তো এই তথাকথিত গণহত্যার অজুহাত দিয়ে তুরস্ককে নতুন কোন চাপে ফেলার চেষ্টা করবে।

তুরস্ক এখন কী পদক্ষেপ নেবে?

এর আগেও বিশ্বের প্রায় ৩০টির মতো দেশের পার্লামেন্টে এই তথাকথিত আর্মেনীয় গণহত্যার স্বীকৃতি দিয়ে আইন পাস করা হয়েছে। তাদের মধ্যে আছে জার্মানি, ফ্রান্সসহ ইউরোপের অন্যান্য দেশ।

এমনকি লিবিয়াও আছে তাদের মধ্যে। অথচ এ দেশগুলোর সঙ্গে কিন্তু সম্পর্ক ছিন্ন করেনি তুরস্ক। এমনকি অনেক দেশের সঙ্গে সম্পর্ক সুসংহত হয়েছে। সুতরাং আঙ্কারা, আমেরিকার ক্ষেত্রেও বিষয়টিকে হজম করার চেষ্টা করবে। আমেরিকার সঙ্গে সুসম্পর্ক ধরে রাখার চেষ্টা করবে। তবে এর প্রতিশোধ হিসেবে সিরিয়া এবং ইরাকে আমেরিকা-সমর্থিত কুর্দি সন্ত্রাসী সংগঠনটির ওপর আক্রমণের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিবে তুরস্ক।

আবার যেহেতু বিষয়টি নিয়ে খুব একটি উচ্চবাচ্য করেনি তুরস্ক। অর্থাৎ আমেরিকা থেকে তুরস্কের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে পাঠায়নি। বা আমেরিকার বিরুদ্ধে খুব শক্তিশালী কোন বিবৃতিও আসেনি। সুতরাং এটাও হত্যে পারে যে তুরস্ক বিষয়টি নিয়ে চুপ থেকে আমেরিকার কাছ থেকে অন্য কিছু বাগিয়ে নিতে চাইবে। সবকিছু স্পষ্ট হতে আরও কিছুদিন সময় লাগবে।

আগামী জুন মাসে এরদোগান এবং বাইডেনের মধ্যে সরাসরি বৈঠকের পরে বোঝা যাবে এই ঘটনায় তুরস্ক কতটুকু কী আদায় করতে পারলো।

বাইডেনের 'আর্মেনীয় গণহত্যা’র স্বীকৃতি, কী করবেন এরদোগান?

 সরোয়ার আলম, আঙ্কারা, তুরস্ক থেকে 
২৭ এপ্রিল ২০২১, ১০:১৫ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় ১৯১৫ সালে উসমানীয় তুরস্কের পূর্বাঞ্চলে রাশিয়া এবং তাদের মদদপুষ্ট সশস্ত্র আর্মেনীয়দের তাণ্ডবে যখন ওই এলাকার সাধারণ মানুষ একেবারে দিশেহারা তখন কয়েখ লাখ আর্মেনিয়ানকে  স্থানান্তরিত করার সিদ্ধান্ত নেয় উসমানীয় সরকার।  সে সময় তুর্কি, কুর্দি, আর্মেনীয়সহ মারা যায় অনেক লোক।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এই ঘটনাকে ‘আর্মেনীয় গণহত্যা’ বলে স্বীকৃতি দেন গত সপ্তাহে।  অথচ ইতিহাস বলে ভিন্ন কথা।  ওই সময় আর্মেনীয়দের চেয়েও বেশি হত্যা করা হয়েছিল উসমানীয় সম্রাজ্যের প্রতি অনুগত তুর্কি, কুর্দি এবং ইহুদিদেরকে।  

প্রথম বিশ্বযুদ্ধে উসমানীয়রা যখন প্রায় প্রতিটি রণাঙ্গনেই পরাজয় বরণ করার উপক্রম তখন সম্রাজ্যের মধ্যে বসবাসকারী আর্মেনীয়রা রাশিয়ানদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে বিদ্রোহ শুরু করে সম্রাজ্যের বিরুদ্ধে।

বিদ্রোহে তুর্কি, কুর্দি এবং আর্মেনীয় ৩০ লাখ লোক নিহত হয়। এতে উসমানীয় তুর্কি এবং কুর্দিদের সংখ্যা ছিল প্রায় ২৪ লাখ আর আর্মেনীয়দের সংখ্যা ছিল ৬ লাখের মত।

কিন্তু এই ইতিহাসকে অস্বীকার করে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ১৯১৫ সালের এই ঘটনাকে ‘আর্মেনীয় গণহত্যা’ বলে স্বীকৃতি দিয়েছেন। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে আর্মেনীয় লবির কাছে পরাজিত হল ঐতিহাসিক সত্য। যুক্তরাষ্ট্রে আর্মেনীয় লবি বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী লবিগুলোর একটি।  

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং তার ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হারিস গত বছর তাদের নির্বাচনী প্রচারণায় এই তথাকথিত "আর্মেনীয় গণহত্যা"কে স্বীকৃতি দেবেন বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন।  এবার তিনি সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করলেন।  আর বিপরীতে তুরস্কের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ মিত্র এবং ন্যাটো সদস্যকে শত্রুর কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিলেন।

যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশে আর্মেনীয় ডায়াস্পোরা অনেক বছর ধরেই এই বিষয়ে লবি করে আসছিল। যদিও ঘটনাটি উসমানীয় খেলাফতের সময়ে ঘটা এবং এর পক্ষে ঐতিহাসিক দলিল প্রমাণও নেই আর্মেনীয়দের কাছে কিন্তু তারা তুরস্কের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য তাদের এই ক্যাম্পেইন চলিয়েই এসেছিল। আর তাদের এই ক্যাম্পেইনে রাজনৈতিক সহমত পোষণ করে পশ্চিমা অনেক দেশ।

অন্যদিকে আজারবাইজানে আর্মেনীয়দের গণহত্যা এবং অবৈধ দখলদারিত্বকে ফোকাসের অন্তরালে রাখার চেষ্টাও করা হয় তথাকথিত এই গণহত্যার বিষয়টিকে সামনে আনার মাধ্যমে।

বাইডেন কেন এমন সিদ্ধান্ত নিলেন?

আসলে গত কয়েক বছর ধরেই চলছে তুরস্কের সঙ্গে আমেরিকার বৈরী সম্পর্ক।
আমেরিকা বিভিন্ন ভাবে তুরস্কের ক্ষতি করার চেষ্টায় ব্যস্ত।  তুরস্কের উত্থানকে রুখে দিতে সব প্রচেষ্টাই চালিয়ে আসছে মার্কিন প্রশাসন।

তুরস্ককে ভেঙে একটি কুর্দি রাষ্ট্র গঠন, আমেরিকায় বসবাসকারী বিশাল এক সংগঠনের মূল হোতা ফেতুল্লাহ গুলেনকে দিয়ে তুরস্কে সরকার পরিবর্তনের চেষ্টা, সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে এরদোগান সরকারকে উৎখাত করা, তুরস্ক-সিরিয়ার সীমান্তধরে কুর্দি সশস্ত্রবাহিনী গঠনের মাধ্যমে তুরস্ককে খণ্ড বিখন্ড করার প্রচেষ্টাসহ আরও অনেক পদক্ষেপ নিয়েছিল আমেরিকা।  কিন্তু কোনো পদক্ষেপই যখন তুরস্ককে বাগে আনতে পারছে না তখন মার্কিন প্রশাসন আরও বেশি ক্ষিপ্ত হয়ে পরে আঙ্কারার ওপর।  যে কোনো ঠুনকো অজুহাতে তুরস্ককে চাপে ফেলার চেষ্টা করে।  যেমন, তুরস্কের কাছে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বিক্রি না করা, তুরস্কের সামরিক শিল্পের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা, তুরস্কের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক যুদ্ধ পরিচালনা করা।  এগুলোর পেছনে কিন্তু আসলে শক্তিশালী কোন কারণ দাঁড় করাতে পারেনি।

এছাড়াও ২০১৯ সালে মার্কিন সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদ তড়িঘড়ি করেই আর্মেনিয়ার গণহত্যাকে স্বীকৃতি দেওয়া নিয়ে একটা বিল পাস করে।

২০২০ সালের শেষ দিকে তখনকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতা ছাড়ার আগে তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্পের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে।

এদিকে বাইডেন ক্ষমতায় আসার পরে তিন মাস পার হয়ে গেলেও তিনি এরদোগানকে ফোন করেননি।  অথচ স্বাভাবিক নিয়মে মার্কিন কোন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পরে প্রথম যে দশটি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে কথা বলেন তুরস্ক তাদের মধ্যে অন্যতম।  কিন্তু বাইডেন সে রেওয়াজও ভঙ্গ করলেন।

নির্বাচনের আগেও তিনি তুরস্কের সরকারকে ভেতর থেকে ভেঙে ফেলে দূর্বল করে এদেশের বিরোধী দলকে সহযোগিতা দিয়ে তাদেরকে ক্ষমতায় আনার পরিকল্পনা করেন।  যা পরবর্তীতে মার্কিন গণমাধ্যমে প্রচার হয়।

অবশেষে তিনি ক্ষমতায় আসার তিন মাস পরে এরদোগানের সঙ্গে ফোনালাপ করেন কিন্তু সেটা কোনো সৌজন্যমূলক আলাপচারিতা ছিল না।  সেটা ছিল আসলে এরদোগানের সঙ্গে দরকষাকষির।

তিনি এই বিষয়টিকে একটি টোপ হিসেবে ব্যবহার করে এরদোগানের সঙ্গে কয়েকটি বিষয়ে দর কষাকষির চেষ্টা করছিলেন।

এগুলোর মধ্যে ছিল, রাশিয়া এবং চীনের বলয় থেকে তুরস্কের পুরোপুরি বেড়িয়ে যাওয়া, সিরিয়া থেকে তুরস্কের সৈন্য সীমান্ত উঠিয়ে নিয়ে আসা এবং তুরস্কের সীমান্তবর্তী এলাকাতে একটি কুর্দি রাষ্ট্র গঠনে তুরস্কের কোনো ধরণের আপত্তি না করা, লিবায়া থেকে সৈন্য ফেরত আনা, আজারবাইজান ও কারাবাখের বিষয়ে নাক না গলানো, সন্ত্রাসের মদদদানের অভিযোগে গ্রেফতারকৃত কুর্দি রাজনীতিবিদের ছেড়ে দেওয়া ইত্যাদি। কিন্তু এরদোগান এগুলোর কোনটিই গ্রহণ করেনি। ফলে যা হবার তাই হয়েছে।

বাইডেন ১৯১৫ সালের ঘটনাটিকে গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃতি দিলেন।  অথচ তার উচিত ছিল তুরস্ক এবং আর্মেনিয়াকে এক টেবিলে বসিয়ে বিভিন্ন দেশের বিখ্যাত ইতিহাসবিদদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা।  যে কমিটি উসমানীয়, ব্রিটেন এবং রাশিয়ার আর্কাইভ ঘেঁটে সঠিক সত্যটা বের করে নিয়ে আসবেন।

তথাকথিত এই আর্মেনীয় গণহত্যার বিষয়টি আমেরিকাতে প্রথম আলোচনায় নিয়ে আসেন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার।

১৯৭৮ সালের ১৬ মে তিনি আমেরিকায় বসবাসকারী আর্মেনীয়দের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে বিষয়টি প্রথম জনসম্মুখে নিয়ে আসেন।

এরপর ১৯৮১ সালে প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রেগান ঘটনাটিকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে উল্লেখ করেন।  কিন্তু তার পরে আমেরিকাতে যত প্রেসিডেন্ট এসেছেন কেউই বিষয়টিকে ‘গণহত্যা’ বলেননি।

প্রতিবছর এ দিবসটি পালনকালে তারা সবাই এটিকে ‘মহা বিপর্যয়’ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন এবং এই বিষয়টিকে রাজনীতিকরণ থেকে দূরে থেকেছেন।

ইতিহাসবিদদের মধ্যে এ  নিয়ে পরস্পর বিরোধী যুক্তি থাকার কথাও তারা স্বীকার করেন। তারা জানতেন এ নিয়ে অযথা রাজনৈতিক বাড়াবাড়ি করলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ন্যাটো মিত্র তুরস্কের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হতে পারে।

এখন প্রশ্ন আসতেই পারে, তাহলে বাইডেন নতুন কী তথ্য প্রমাণ পেলেন যার ফলে তিনি ১০৫ বছর পরে এসে এটাকে গণহত্যা বলতে উদ্যত হলেন।

আসলে তিনি নতুন কোনো প্রমাণই পাননি; বরং তুরস্ককে শাস্তি দেওয়ার চেষ্টা করছেন মাত্র।

বাইডেনের মতে এই স্বীকৃতির পেছনে মূল উদ্দেশ্য, বিশ্বের অন্য কোথাও যেন গণহত্যা না ঘটে সেটা নিশ্চিত করা।  তাহলে কি প্রশ্ন আসে না যে আমেরিকা এবং তার দোসররা কাশ্মীরে, ফিলিস্তিনে, সিরিয়াতে, লিবিয়াতে, ইয়েমেনে, আরাকানে, আফগানিস্তানে যে গণহত্যা চলাচ্ছে তা অনতিবিলম্বে বন্ধ করার জন্য তিনি কী টু শব্দটি পর্যন্ত করেছেন?  

তিনি আরও বলেন, এই স্বীকৃতির মাধ্যমে তিনি মানবাধিকারের প্রতি কতটা সচেতন তা প্রমাণ করলেন।  অথচ সারা বিশ্বের চোখের সামনে যে মানবাধিকার ধুলিস্যাত হচ্ছে তা রোধ করতে তিনি কি কোন পদক্ষেপ নিয়েছেন? আর আমেরিকার কৃষ্ণাঙ্গদের ওপর অত্যাচার, রেড ইন্ডিয়ানদের গণহত্যা, হিরোশিমা-নাগাসাকিতে পারমাণবিক হামলাসহ বিশ্বের প্রান্তে প্রান্তে যে মানবাধিকার লঙ্ঘন আমেরিকা করেছে এবং এখনও করছে সে বিষয়গুলো না হয় না-ই বা বললাম।

 এই স্বীকৃতি তুরস্কের ওপর কি প্রভাব ফেলবে?

আসলে বিশ্বের দরবারে তুরস্কের ভাবমূর্তি নষ্ট করাই এই স্বীকৃতির প্রধান লক্ষ্য।  কারণ, একটি জাতিকে দমিয়ে রাখার জন্য প্রথমে সে জাতির ভাবমূর্তিতে আঘাত করবেন তারপরে তাকে মানসিকভাবে পরাজিত করবেন। এছাড়াও তিনি এই স্বীকৃতির মাধ্যমে মূলত কয়েকমাস আগে আজারবাইজানের কারাবাখে তুর্কিদের হাতে শোচনীয় ভাবে পরাজিত আর্মেনিয়ানদের একটু মানসিক সান্ত্বনাও দিলেন। তবে অন্য যেসকল দেশ জোড়াল আর্মেনীয় লবি সত্ত্বেও তথাকথিত এই গণহত্যার স্বীকৃতি দিতে গড়িমসি করছিল বাইডেনের এই পদক্ষেপ সে সব দেশকে সাহস জোগাবে।

বাইডেনের এই ঘোষণাকে পুঁজি করে আর্মেনীয়রা আমেরিকার বিভিন্ন কোর্টে তুরস্কের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ মামলা করতে পারে। যদিও এর আগেও আমেরিকাতে এবং ইউরোপে আর্মেনীয়রা এধরনের অনেকগুলো মামলা করেছিল কিন্তু সবগুলো খারিজ করে দেওয়া হয়।  কারণ, আন্তর্জাতিক গণহত্যা কনভেনশন অনুযায়ী গণহত্যা হলো একটি রাষ্ট্র যদি কোন একটি জাতিগোষ্ঠীকে সমূলে ধ্বংস করে দেওয়ার জন্য সুপরিকল্পিত হত্যাযজ্ঞ চালায়।  কিন্তু ১৯১৫ সালে মূলত জাতিগত দাঙ্গা বাঁধে এবং ফলশ্রুতিতে একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক আর্মেনীয়দেরকে শুধু মাত্র নির্দিষ্ট সময়ের জন্য স্থানান্তর করা হয়।

যুদ্ধ শেষ হলে তাদেরকে আবার ফেরত আসার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হোয়। এবং অনেকে ফেরত এসেছিল।  এছাড়াও, সে সময়ে তুরস্কে প্রায় আরও ২৫ থেকে ৩০ লাখের মত আর্মেনীয় ছিল যাদেরকে স্থানান্তর করা হয়নি, বা যাদের উপর কোন ধরণের অত্যাচার নির্যাতনের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তারা তুরস্কে শান্তিতে বসবাস করেছিল এবং অনেকে এখনও তুরস্কে বসবাস করছে। সুতরাং, আন্তর্জাতিক গণহত্যা কনভেনশন অনুযায়ী এটি কোন গণহত্যা না।

আর পশ্চিমারা যদিও কোন ভাবে এটিকে গণহত্যা প্রমাণ করেও তাহলেও সেটা ১৯৪৮ সালে স্বাক্ষরিত এই গণহত্যা কনভেনশনের আওতায় আসবে না কারণ ঘটনাটি ঘটেছিল এই কনভেনশন স্বাক্ষরের অনেক বছর আগে। তদুপরি ঘটনাটি ঘটেছে উসমানীয় শাসনামলে, বর্তমান তুরস্ককে সে কারণে দোষী করা যাবে না।

তবে জোর যার মুলুক তার অবস্থা চলছে বর্তমান বিশ্বে। আইন, কানুন, নিয়ম, নীতির তোয়াক্কা করছে না পরাশক্তিগুলো।  সুতরাং এরকম বিশ্বে পরাশক্তিগুলো যেখানে আইনের কাছে হেরে যায় সেখানে তার প্রতিপক্ষকে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সামরিক শক্তি দিয়ে ঘায়েলের চেষ্টা করে। হয়তো এই তথাকথিত গণহত্যার অজুহাত দিয়ে তুরস্ককে নতুন কোন চাপে ফেলার চেষ্টা করবে।

তুরস্ক এখন কী পদক্ষেপ নেবে?

এর আগেও বিশ্বের প্রায় ৩০টির মতো দেশের পার্লামেন্টে এই তথাকথিত আর্মেনীয় গণহত্যার স্বীকৃতি দিয়ে আইন পাস করা হয়েছে। তাদের মধ্যে আছে জার্মানি, ফ্রান্সসহ ইউরোপের অন্যান্য দেশ।

এমনকি লিবিয়াও আছে তাদের মধ্যে। অথচ এ দেশগুলোর সঙ্গে কিন্তু সম্পর্ক ছিন্ন করেনি তুরস্ক। এমনকি অনেক দেশের সঙ্গে সম্পর্ক সুসংহত হয়েছে। সুতরাং আঙ্কারা, আমেরিকার ক্ষেত্রেও বিষয়টিকে হজম করার চেষ্টা করবে। আমেরিকার সঙ্গে সুসম্পর্ক ধরে রাখার চেষ্টা করবে। তবে এর প্রতিশোধ হিসেবে সিরিয়া এবং ইরাকে আমেরিকা-সমর্থিত কুর্দি সন্ত্রাসী সংগঠনটির ওপর আক্রমণের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিবে তুরস্ক।

আবার যেহেতু বিষয়টি নিয়ে খুব একটি উচ্চবাচ্য করেনি তুরস্ক। অর্থাৎ আমেরিকা থেকে তুরস্কের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে পাঠায়নি। বা আমেরিকার বিরুদ্ধে খুব শক্তিশালী কোন বিবৃতিও আসেনি।  সুতরাং এটাও হত্যে পারে যে তুরস্ক বিষয়টি নিয়ে চুপ থেকে আমেরিকার কাছ থেকে অন্য কিছু বাগিয়ে নিতে চাইবে।  সবকিছু স্পষ্ট হতে আরও কিছুদিন সময় লাগবে।

আগামী জুন মাসে এরদোগান এবং বাইডেনের মধ্যে সরাসরি বৈঠকের পরে বোঝা যাবে এই ঘটনায় তুরস্ক কতটুকু কী আদায় করতে পারলো।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : যুক্তরাষ্ট্র-তুরস্ক সঙ্কট

২৬ নভেম্বর, ২০২০