পর্তুগালে অভিবাসীদের জন্য বিপদ সংকেত
jugantor
পর্তুগালে অভিবাসীদের জন্য বিপদ সংকেত

  ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারী, পর্তুগাল থেকে  

০৩ মে ২০২১, ২০:৩৬:৩৬  |  অনলাইন সংস্করণ

পর্তুগালের অদিমিরা মিউনিসিপ্যালিটির মেয়র জোসে আলবার্তো গেরেইরো করোনার সংক্রমণ সংক্রান্ত টাস্কফোর্স মিটিং শেষে সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন- এ অঞ্চলে বিশেষ করে অভিবাসী মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্যে ২০০ বর্গমিটার আয়তনের একটি সুপার মার্কেটে ৩০ থেকে ৪০ জন কর্মচারী রয়েছেন; যা আয়তন অনুযায়ী যে কোনো মানদণ্ডেই যুক্তিযুক্ত নয়।

তাছাড়া বিভিন্ন পাবলিক এরিয়াতে কিছু পানীয় বিক্রয়ের নির্ধারিত স্থান রয়েছে, সেখানে সাধারণ কর্মী সংখ্যার চেয়ে ১০ গুণ বেশি কর্মচারী কাজ করছেন।
তিনি আরও জানান এ ধরনের কোম্পানিগুলোর বেশিরভাগ অংশই সরকারের বিপুল পরিমাণ ভ্যাট ও আয়কর পরিশোধ না করে কোম্পানির মালিক নিরুদ্দেশ হয়ে যান এবং তাদের পরবর্তীতে খুঁজে পাওয়া যায় না। তবে সবচেয়ে বড় বেশি উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে- এ কোম্পানিগুলো বেশিরভাগই নগদ লেনদেন করে থাকে, যেমন- তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে প্রশ্নবোধকভাবে বলেন কী করে একটি বাড়ি একটি গাড়ি পুরোপুরি নগদ অর্থে ক্রয় করা যায়?

উক্ত টাস্কফোর্সের মিটিংয়ে আরও কিছু বিষয় উঠে আসে যে, শহরটি নির্ধারিত জনসংখ্যার তুলনায় অনেক বেশি মানুষ বসবাস করছে এবং মৌসুমি কৃষি কর্মচারীরা কর্মস্থলের সন্নিকটে বসবাস করার পরিবর্তে হিউম্যান রিসোর্স কোম্পানিগুলোর পৃষ্ঠপোষকতায় শহরের বিভিন্ন বাড়িগুলোতে অবস্থান করছেন। তাছাড়া একই স্থানে আয়তন অনুযায়ী নির্দিষ্টসংখ্যক মানুষ বসবাসের কথা থাকলেও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে দিগুণের বেশি লোক বসবাস করছেন; ফলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে এবং দুঃখজনক হলেও সত্য এদের সবাই অভিবাসী শ্রমিক।

অভিবাসীদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত কর্মচারী বিষয়টি ইতোপূর্বেও পর্তুগিজ জাতীয় সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে এবং অনেক অভিবাসী বিভিন্ন শাস্তির সম্মুখীন হয়েছেন এবং বাস্তবিকভাবেও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ব্যবসা বিলোপ সাধন করে সরকারের কর ফাঁকি দিয়ে প্রতিষ্ঠানের মালিক নিরুদ্দেশ হয়ে গেছেন; যা পর্তুগালের বিচার বিভাগের পুলিশের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে।
অদিমিরা পর্তুগালের অন্যতম কৃষিপ্রধান অঞ্চল বেজা জেলার প্রধান শহর। যেখানে বর্তমানে করোনার ব্যাপক সংক্রমণ দেখা দিয়েছে। যদিও সারা দেশে সংক্রমণ সংখ্যা খুবই কম, ফলে দেশব্যাপী লকডাউন যেখানে শিথিল হচ্ছে অথচ অদিমিরাতে নতুন করে বিধিনিষেধ প্রয়োগ করা হচ্ছে।

এ বিষয়গুলো কোনোভাবেই অভিবাসীদের জন্য সুখকর নয়; যা পরবর্তীতে অভিবাসীদের ব্যবসা-বাণিজ্য গড়ে তুলতে এবং সর্বোপরি বর্তমানের অভিবাসীবান্ধব দেশ পর্তুগালে বসবাস করার জন্য একটি অন্তরায় হয়ে দেখা দেবে।

পর্তুগালে অভিবাসীদের জন্য বিপদ সংকেত

 ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারী, পর্তুগাল থেকে 
০৩ মে ২০২১, ০৮:৩৬ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

পর্তুগালের অদিমিরা মিউনিসিপ্যালিটির মেয়র জোসে আলবার্তো গেরেইরো করোনার সংক্রমণ সংক্রান্ত টাস্কফোর্স মিটিং শেষে সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন- এ অঞ্চলে বিশেষ করে অভিবাসী মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্যে ২০০ বর্গমিটার আয়তনের একটি সুপার মার্কেটে ৩০ থেকে ৪০ জন কর্মচারী রয়েছেন; যা আয়তন অনুযায়ী যে কোনো মানদণ্ডেই যুক্তিযুক্ত নয়।

তাছাড়া বিভিন্ন পাবলিক এরিয়াতে কিছু পানীয় বিক্রয়ের নির্ধারিত স্থান রয়েছে, সেখানে সাধারণ কর্মী সংখ্যার  চেয়ে ১০ গুণ বেশি কর্মচারী কাজ করছেন।
তিনি আরও জানান এ ধরনের কোম্পানিগুলোর বেশিরভাগ অংশই সরকারের বিপুল পরিমাণ ভ্যাট ও আয়কর পরিশোধ না করে কোম্পানির মালিক নিরুদ্দেশ হয়ে যান এবং তাদের পরবর্তীতে খুঁজে পাওয়া যায় না। তবে সবচেয়ে বড় বেশি উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে- এ কোম্পানিগুলো বেশিরভাগই নগদ লেনদেন করে থাকে, যেমন- তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে প্রশ্নবোধকভাবে বলেন কী করে একটি বাড়ি একটি গাড়ি পুরোপুরি নগদ অর্থে ক্রয় করা যায়?

উক্ত টাস্কফোর্সের মিটিংয়ে আরও কিছু বিষয় উঠে আসে যে, শহরটি নির্ধারিত জনসংখ্যার তুলনায় অনেক বেশি মানুষ বসবাস করছে এবং মৌসুমি কৃষি কর্মচারীরা কর্মস্থলের সন্নিকটে বসবাস করার পরিবর্তে হিউম্যান রিসোর্স কোম্পানিগুলোর পৃষ্ঠপোষকতায় শহরের বিভিন্ন বাড়িগুলোতে অবস্থান করছেন। তাছাড়া একই স্থানে আয়তন অনুযায়ী নির্দিষ্টসংখ্যক মানুষ বসবাসের কথা থাকলেও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে দিগুণের বেশি লোক বসবাস করছেন; ফলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে এবং দুঃখজনক হলেও সত্য এদের সবাই অভিবাসী শ্রমিক।

অভিবাসীদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত কর্মচারী বিষয়টি ইতোপূর্বেও পর্তুগিজ জাতীয় সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে এবং অনেক অভিবাসী বিভিন্ন শাস্তির সম্মুখীন হয়েছেন এবং বাস্তবিকভাবেও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ব্যবসা বিলোপ সাধন করে সরকারের কর ফাঁকি দিয়ে প্রতিষ্ঠানের মালিক নিরুদ্দেশ হয়ে গেছেন; যা পর্তুগালের বিচার বিভাগের পুলিশের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে।
অদিমিরা পর্তুগালের অন্যতম কৃষিপ্রধান অঞ্চল বেজা জেলার প্রধান শহর। যেখানে বর্তমানে করোনার ব্যাপক সংক্রমণ দেখা দিয়েছে। যদিও সারা দেশে সংক্রমণ সংখ্যা খুবই কম, ফলে দেশব্যাপী লকডাউন যেখানে শিথিল হচ্ছে অথচ অদিমিরাতে নতুন করে বিধিনিষেধ প্রয়োগ করা হচ্ছে।

এ বিষয়গুলো কোনোভাবেই অভিবাসীদের জন্য সুখকর নয়; যা পরবর্তীতে অভিবাসীদের ব্যবসা-বাণিজ্য গড়ে তুলতে এবং সর্বোপরি বর্তমানের অভিবাসীবান্ধব দেশ পর্তুগালে বসবাস করার জন্য একটি অন্তরায় হয়ে দেখা দেবে।
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন