পশ্চিমবঙ্গের বিরোধীদলীয় নেতা হচ্ছেন শুভেন্দু?
jugantor
পশ্চিমবঙ্গের বিরোধীদলীয় নেতা হচ্ছেন শুভেন্দু?

  অনলাইন ডেস্ক  

০৭ মে ২০২১, ২০:০২:৪১  |  অনলাইন সংস্করণ

শুভেন্দু অধিকারী

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেয়ে বিজয়ী হয়েছে তৃণমূল। আর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসন পেয়েছে বিজেপি। ফলে বিধানসভায় বিরোধী দলের মর্যাদা পাচ্ছে বিজেপি। শুক্রবার থেকে বিরোধী দলের নেতা নির্বাচন নিয়ে নানা গুঞ্জণ শুরু হয়েছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিধানসভায় বিরোধীদলের নেতা হিসেবে আপাতত এগিয়ে রয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। কারণ, প্রাথমিকভাবে তিনি ‘জায়ান্ট কিলার’। নন্দীগ্রামে হারিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। শুভেন্দুকে ‘জননেতা’ বলে মেনেও নিয়েছেন বিজেপির শীর্ষ নেতার। দলের ভেতরে কিছু লোকজন বলছেন, শুভেন্দুর ব্যক্তিত্ব এবং তার নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতাও বিবেচনায় রয়েছে।

বিধানসভায় বিপুলভাবে জিতে ক্ষমতায় আসা শাসকদলের বিরুদ্ধে তিনি লড়াই করতে পারবেন বলেই মনে করছে দলের ওই অংশ। তবে শুভেন্দুর পাশাপাশি উঠে আসছে মুকুলের নামও।

কৃষ্ণনগর উত্তর আসন থেকে জিতে বিধায়ক হয়েছেন মুকুল। যিনি এক সময় তৃণমূলের অঘোষিত দু’নম্বর ছিলেন। জীবনে এই প্রথম ভোট জিতলেও সংগঠক হিসেবে মুকুলের অভিজ্ঞতা নেহাত কম নয়। কিন্তু আইনসভার সদস্য হিসেবে তিনি কতটা কার্যকরী হবেন, তা নিয়ে বিজেপির অভ্যন্তরে একটা আলোচনাও চলছে।

এর কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, দু’টি পর্যায়ে রাজ্যসভার সদস্য থাকলেও মুকুল সেখানে বক্তা হিসেবে খুব সারা ফেলতে পারেননি।

অপরদিকে মুকুলের ঘনিষ্ঠরা বলছেন, মেঠো রাজনীতিতে শুভেন্দু অবশ্যই এগিয়ে। কিন্তু পরিষদীয় রাজনীতি করতে গেলে অভিজ্ঞতা, ধৈর্য ও রাজনৈতিক জ্ঞান থাকা জরুরি। পাঁচ বছর ধরে বিধানসভায় মমতার সঙ্গে লড়াই করার মতো ধৈর্য বর্ষীয়ান মুকুলের আছে।

আবার রাজ্য বিজেপির একটি সূত্রের দাবি— তৃণমূল থেকে আসা মুকুল-শুভেন্দু কাউকেই বিরোধী দলনেতার পদে চাইছেন না রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তিনি চান সঙ্ঘ পরিবার-ঘনিষ্ঠ কাউকে বিরোধী দলনেতা করা হোক। কিন্তু এক্ষেত্রে অন্তরায় অভিজ্ঞতা।

যে ৭৭ জন বিধায়ক হয়েছেন, তাদের মধ্যে মাত্রই হাতে-গোনা কয়েকজনের পরিষদীয় রাজনীতি করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন মাদারিহাটের বিধায়ক মনোজ টিগ্গা। ২০১৬ সালে বিজেপির যে তিনজন বিধায়ক জিতেছিলেন, তাদের একজন মনোজ। দিলীপ সংসদে চলে যাওয়ার পর বিধানসভায় দলকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তিনিই।

পরিষদীয় অভিজ্ঞতা রয়েছে চাকদহের বিধায়ক বঙ্কিম ঘোষ, জয়পুরে জয়ী নরহরি মাহাতো এবং গোঘাটের বিধায়ক বিশ্বনাথ কারকের। রয়েছেন কোচবিহারের নাটাবাড়ি থেকে জয়ী মিহির গোস্বামী। তিনি ২৩,০০০ ভোটে প্রাক্তন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষকে হারিয়েছেন।

তবে প্রাথমিক দৌড় যে শুভেন্দু এবং মুকুলের মধ্যে, তা নিয়ে গেরুয়া শিবিরে সবাই একমত। এখন দেখার, দিলীপ তার ঝুলি থেকে তৃতীয় কাউকে বার করেন কিনা। কারণ, যাদের নাম নিয়ে আলোচনা, তাদের দু’জনের সঙ্গেই দিলীপের সম্পর্ক যথেষ্ট ‘মধুর’।

সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা।

পশ্চিমবঙ্গের বিরোধীদলীয় নেতা হচ্ছেন শুভেন্দু?

 অনলাইন ডেস্ক 
০৭ মে ২০২১, ০৮:০২ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
শুভেন্দু অধিকারী
শুভেন্দু অধিকারী। ফাইল ছবি

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেয়ে বিজয়ী হয়েছে তৃণমূল। আর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসন পেয়েছে বিজেপি। ফলে বিধানসভায় বিরোধী দলের মর্যাদা পাচ্ছে বিজেপি। শুক্রবার থেকে বিরোধী দলের নেতা নির্বাচন নিয়ে নানা গুঞ্জণ শুরু হয়েছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিধানসভায় বিরোধীদলের নেতা হিসেবে আপাতত এগিয়ে রয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। কারণ, প্রাথমিকভাবে তিনি ‘জায়ান্ট কিলার’। নন্দীগ্রামে হারিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। শুভেন্দুকে ‘জননেতা’ বলে মেনেও নিয়েছেন বিজেপির শীর্ষ নেতার। দলের ভেতরে কিছু লোকজন বলছেন, শুভেন্দুর ব্যক্তিত্ব এবং তার নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতাও বিবেচনায় রয়েছে। 

বিধানসভায় বিপুলভাবে জিতে ক্ষমতায় আসা শাসকদলের বিরুদ্ধে তিনি লড়াই করতে পারবেন বলেই মনে করছে দলের ওই অংশ। তবে শুভেন্দুর পাশাপাশি উঠে আসছে মুকুলের নামও।

কৃষ্ণনগর উত্তর আসন থেকে জিতে বিধায়ক হয়েছেন মুকুল। যিনি এক সময় তৃণমূলের অঘোষিত দু’নম্বর ছিলেন। জীবনে এই প্রথম ভোট জিতলেও সংগঠক হিসেবে মুকুলের অভিজ্ঞতা নেহাত কম নয়। কিন্তু আইনসভার সদস্য হিসেবে তিনি কতটা কার্যকরী হবেন, তা নিয়ে বিজেপির অভ্যন্তরে একটা আলোচনাও চলছে। 

এর কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, দু’টি পর্যায়ে রাজ্যসভার সদস্য থাকলেও মুকুল সেখানে বক্তা হিসেবে খুব সারা ফেলতে পারেননি। 

অপরদিকে মুকুলের ঘনিষ্ঠরা বলছেন, মেঠো রাজনীতিতে শুভেন্দু অবশ্যই এগিয়ে। কিন্তু পরিষদীয় রাজনীতি করতে গেলে অভিজ্ঞতা, ধৈর্য ও রাজনৈতিক জ্ঞান থাকা জরুরি। পাঁচ বছর ধরে বিধানসভায় মমতার সঙ্গে লড়াই করার মতো ধৈর্য বর্ষীয়ান মুকুলের আছে। 

আবার রাজ্য বিজেপির একটি সূত্রের দাবি— তৃণমূল থেকে আসা মুকুল-শুভেন্দু কাউকেই বিরোধী দলনেতার পদে চাইছেন না রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তিনি চান সঙ্ঘ পরিবার-ঘনিষ্ঠ কাউকে বিরোধী দলনেতা করা হোক। কিন্তু এক্ষেত্রে অন্তরায় অভিজ্ঞতা। 

যে ৭৭ জন বিধায়ক হয়েছেন, তাদের মধ্যে মাত্রই হাতে-গোনা কয়েকজনের পরিষদীয় রাজনীতি করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন মাদারিহাটের বিধায়ক মনোজ টিগ্গা। ২০১৬ সালে বিজেপির যে তিনজন বিধায়ক জিতেছিলেন, তাদের একজন মনোজ। দিলীপ সংসদে চলে যাওয়ার পর বিধানসভায় দলকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তিনিই। 

পরিষদীয় অভিজ্ঞতা রয়েছে চাকদহের বিধায়ক বঙ্কিম ঘোষ, জয়পুরে জয়ী নরহরি মাহাতো এবং গোঘাটের বিধায়ক বিশ্বনাথ কারকের। রয়েছেন কোচবিহারের নাটাবাড়ি থেকে জয়ী মিহির গোস্বামী। তিনি ২৩,০০০ ভোটে প্রাক্তন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষকে হারিয়েছেন।

তবে প্রাথমিক দৌড় যে শুভেন্দু এবং মুকুলের মধ্যে, তা নিয়ে গেরুয়া শিবিরে সবাই একমত। এখন দেখার, দিলীপ তার ঝুলি থেকে তৃতীয় কাউকে বার করেন কিনা। কারণ, যাদের নাম নিয়ে আলোচনা, তাদের দু’জনের সঙ্গেই দিলীপের সম্পর্ক যথেষ্ট ‘মধুর’। 

সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা।
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচন ২০২১

আরও খবর