ইতিহাস সৃষ্টি করলেন সাদিক খান
jugantor
ইতিহাস সৃষ্টি করলেন সাদিক খান

  এম এম সালাহউদ্দিন  

০৯ মে ২০২১, ১০:০০:২৬  |  অনলাইন সংস্করণ

রেকর্ড ২০ জন প্রার্থীর নির্বাচনী লড়াইয়ে বিপুল ভোটে দ্বিতীয় বারের মতো ব্রিটেনের রাজধানী লন্ডনের মেয়র নির্বাচিত হয়েইতিহাস সৃষ্টি করলেন পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত সাদিক খান।

এর মধ্যে দিয়ে ইউরোপের কোনো দেশে মুসলিম জনপ্রতিনিধি হিসেবে টানা দ্বিতীয় বারের মতো মেয়র নির্বাচিত হলেন লেবার পার্টির এ নেতা।

২০১৬ সালে তিনি প্রথম বারের মতো লন্ডনের মেয়র নির্বাচিত হন। ইউরোপের ইতিহাসে তিনি সর্ব প্রথম মুসলিম মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

এবারের নির্বাচনে তিনি মোট ভোটের ৫২ শতাংশ পেয়েছেন। লন্ডনের মেয়র হিসেবে তিনি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছেন। তার প্রাপ্ত ভোট সংখ্যা ১২ লাখ ৬ হাজার ৩৪টি, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কনজারভেটিভ পার্টির শন বেলি পেয়েছেন ৯ লাখ ৭৭ হাজার ৬০১ ভোট।

নির্বাচনে তৃতীয় হয়েছেন গ্রিন পার্টির সিয়ান বেরি এবং চতুর্থ হয়েছেন লিবারেল ডেমোক্র্যাট দলের লইসা পরিট। লিবারেল ডেমোক্র্যাট দলের লইসা পরিটসহ অন্য ১৬ প্রার্থীই তাদের জামানত হারান এ নির্বাচনে।কারণ নির্বাচনে চতুর্থ স্থান থেকে ২০তম স্থান পর্যন্ত কোনো প্রার্থীই মোট ভোটের ৫ শতাংশ পাননি।

করোনা মহামারির কারণে জরুরি ভিত্তিতে করোনাভাইরাস অ্যাক্ট ২০২০-এর অধীনে ইংল্যান্ডজুড়ে স্থানীয় সব নির্বাচন স্থগিত ছিল এক বছর। এর ফলে ক্ষমতার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরও সাদিক খান বাড়তি এক বছর মেয়াদ ভোগ করছেন।

৬০ লাখ নিবন্ধিত ভোটার তাদের এবার লন্ডনের মেয়র নির্বাচনে ভোট দেন। এর আগে ২০১৬ সালে সর্বাধিক সংখ্যক ১২ জন প্রার্থী লন্ডনের মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তাই স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে রাত ১০টায় শেষ হয়।শনিবার ফল ঘোষণা করা হয়।

উল্লেখ্য, এই নির্বাচনের মাধ্যমে লন্ডনবাসী তাদের নতুন মেয়র নির্বাচনের পাশাপাশি টাওয়ার হ্যামলেটসের মেয়র পদ্ধতি কী হবে তা নিয়ে ‘হা’ ‘না’ ভোট দেন। সাধারণত প্রতি চার বছর পর পর দেশটিতে মেয়র নির্বাচন হয়। কিন্তু করোনার কারণে মেয়াদ শেষ হওয়ার পর এক বছর ক্ষমতায় ছিলেন সাদিক খান।

বহু প্রত্যাশিত এই নির্বাচন নিয়ে মানুষের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ দেখা গেছে। বিশেষ করে বাঙালিদের মাঝে আগ্রহ একটু বেশিই। এবারে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করন প্রধান বিরোধী দল লেবার পার্টির প্রার্থী বর্তমান মেয়র সাদিক খান, করজারভেটিভ (টোরি) দলের শাউন বেইলি, গ্রিন পার্টির সায়ান বেরি, লিবডেমের লুইসা পোরিট, রিক্লেইম পার্টির অভিনেতা লরেন্স ফক্স, উইমেনস ইক্যুয়ালিটি পার্টির মান্ডু রিড, ইউকিপ-এর পিটার গ্যামনস, বানিং পিস্ক-এর ভ্যালেরি ব্রাউন, রিজিওন ইইউ-এর রিচার্ড, এনিম্যাল ওয়েলফেয়ার পার্টির ভেনেসা হাডনস, সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টির স্টিভ কেলহির, লন্ডন রিয়েল পার্টির ব্রায়ান রোজ ও হেরিটেজ পার্টির ডেভিট কাটেন।

এছাড়াও প্রার্থী হয়েছেন সাবেক লেবার নেতা জেরেমি করবিনের ভাই পিয়েরস করবিন, স্বতন্ত্র ম্যাস্ক ফশ, স্বতন্ত্র ফারাহ, নিমস ওবুং, নিকো ওমিলানা।

উল্লেখ্য, লন্ডনের মেয়র সাদিক খান এর আগে টটিং থেকে নির্বাচিত সাবেক এমপি ছিলেন এবং তিনি একজন মানবাধিকার বিষয়ক আইনজীবী।

এ ছাড়া ৫০ বছর বয়সী সাদিক খান ব্রিটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউনের অধীনে একজন মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া ব্রিটেনের মন্ত্রিপরিষদে প্রথম মুসলিম হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

ইতিহাস সৃষ্টি করলেন সাদিক খান

 এম এম সালাহউদ্দিন 
০৯ মে ২০২১, ১০:০০ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

রেকর্ড ২০ জন প্রার্থীর নির্বাচনী লড়াইয়ে বিপুল ভোটে দ্বিতীয় বারের মতো ব্রিটেনের রাজধানী লন্ডনের মেয়র নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করলেন পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত সাদিক খান।

এর মধ্যে দিয়ে ইউরোপের কোনো দেশে মুসলিম জনপ্রতিনিধি হিসেবে টানা দ্বিতীয় বারের মতো মেয়র নির্বাচিত হলেন লেবার পার্টির এ নেতা।

২০১৬ সালে তিনি প্রথম বারের মতো লন্ডনের মেয়র নির্বাচিত হন। ইউরোপের ইতিহাসে তিনি সর্ব প্রথম মুসলিম মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

এবারের নির্বাচনে তিনি মোট ভোটের ৫২ শতাংশ পেয়েছেন। লন্ডনের মেয়র হিসেবে তিনি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছেন। তার প্রাপ্ত ভোট সংখ্যা ১২ লাখ ৬ হাজার ৩৪টি, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কনজারভেটিভ পার্টির শন বেলি পেয়েছেন ৯ লাখ ৭৭ হাজার ৬০১ ভোট।

নির্বাচনে তৃতীয় হয়েছেন গ্রিন পার্টির সিয়ান বেরি এবং চতুর্থ হয়েছেন লিবারেল ডেমোক্র্যাট দলের লইসা পরিট। লিবারেল ডেমোক্র্যাট দলের লইসা পরিটসহ অন্য ১৬ প্রার্থীই তাদের জামানত হারান এ নির্বাচনে।কারণ নির্বাচনে চতুর্থ স্থান থেকে ২০তম স্থান পর্যন্ত কোনো প্রার্থীই মোট ভোটের ৫ শতাংশ পাননি।

করোনা মহামারির কারণে জরুরি ভিত্তিতে করোনাভাইরাস অ্যাক্ট ২০২০-এর অধীনে ইংল্যান্ডজুড়ে স্থানীয় সব নির্বাচন স্থগিত ছিল এক বছর। এর ফলে ক্ষমতার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরও সাদিক খান বাড়তি এক বছর মেয়াদ ভোগ করছেন।

৬০ লাখ নিবন্ধিত ভোটার তাদের এবার লন্ডনের মেয়র নির্বাচনে ভোট দেন। এর আগে ২০১৬ সালে সর্বাধিক সংখ্যক ১২ জন প্রার্থী লন্ডনের মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তাই স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে রাত ১০টায় শেষ হয়।শনিবার ফল ঘোষণা করা হয়।

উল্লেখ্য, এই নির্বাচনের মাধ্যমে লন্ডনবাসী তাদের নতুন মেয়র নির্বাচনের পাশাপাশি টাওয়ার হ্যামলেটসের মেয়র পদ্ধতি কী হবে তা নিয়ে ‘হা’ ‘না’ ভোট দেন। সাধারণত প্রতি চার বছর পর পর দেশটিতে মেয়র নির্বাচন হয়। কিন্তু করোনার কারণে মেয়াদ শেষ হওয়ার পর এক বছর  ক্ষমতায় ছিলেন সাদিক খান।

বহু প্রত্যাশিত এই নির্বাচন নিয়ে মানুষের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ দেখা গেছে। বিশেষ করে বাঙালিদের মাঝে আগ্রহ একটু বেশিই। এবারে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করন প্রধান বিরোধী দল লেবার পার্টির প্রার্থী বর্তমান মেয়র সাদিক খান, করজারভেটিভ (টোরি) দলের শাউন বেইলি, গ্রিন পার্টির সায়ান বেরি, লিবডেমের লুইসা পোরিট, রিক্লেইম পার্টির অভিনেতা লরেন্স ফক্স, উইমেনস ইক্যুয়ালিটি পার্টির মান্ডু রিড, ইউকিপ-এর পিটার গ্যামনস, বানিং পিস্ক-এর ভ্যালেরি ব্রাউন, রিজিওন ইইউ-এর রিচার্ড, এনিম্যাল ওয়েলফেয়ার পার্টির ভেনেসা হাডনস, সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টির স্টিভ কেলহির, লন্ডন রিয়েল পার্টির ব্রায়ান রোজ ও হেরিটেজ পার্টির ডেভিট কাটেন।

এছাড়াও প্রার্থী হয়েছেন সাবেক লেবার নেতা জেরেমি করবিনের ভাই পিয়েরস করবিন, স্বতন্ত্র ম্যাস্ক ফশ, স্বতন্ত্র ফারাহ, নিমস ওবুং, নিকো ওমিলানা।

উল্লেখ্য, লন্ডনের মেয়র সাদিক খান এর আগে টটিং থেকে নির্বাচিত সাবেক এমপি ছিলেন এবং তিনি একজন মানবাধিকার বিষয়ক আইনজীবী।

এ ছাড়া ৫০ বছর বয়সী সাদিক খান ব্রিটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউনের অধীনে একজন মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া ব্রিটেনের মন্ত্রিপরিষদে প্রথম মুসলিম হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন