মিশিগানে করোনার সংক্রমণ কমেছে, বাড়ছে বাংলাদেশিদের মধ্যে
jugantor
মিশিগানে করোনার সংক্রমণ কমেছে, বাড়ছে বাংলাদেশিদের মধ্যে

  তোফায়েল রেজা সোহেল, মিশিগান (যুক্তরাষ্ট্র) থেকে  

১৭ মে ২০২১, ১৪:২৯:২৯  |  অনলাইন সংস্করণ

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান রাজ্যে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা কমলেও এর উল্টো চিত্র চোখে পড়ছে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে।

করোনার প্রকোপে কাঁপছেন এখানকার বাংলাদেশিরা। ইদানীং কমিউনিটিতে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে করোনাভাইরাস সংক্রমণ। টিকা নিতে চরম গাফলতির পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা না করে বেপরোয়া চলাফেরা করার কারণে সংক্রমণের হার বেড়েছে বলে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন।

কমিউনিটির সদস্যরা জানান, নিউইর্য়কের পরেই সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশির বসবাস মিশিগানে। এ রাজ্যে গত সপ্তাহে মাওলানা আবদুল বাছিত ও ব্যবসায়ী মুজিবুর রহমানসহ পাঁচ বাংলাদেশি করোনায় মারা গেছেন।

অন্য মৃতদের পরিচয় প্রকাশ করেনি পরিবার। এ ছাড়া হেমট্রামিক, ডেট্রয়েট, ওয়ারেন, স্টাইলিং হাইটস ও ট্রয় সিটির হাজারও বাংলাদেশি কোভিড-১৯ রোগে ভুগছেন। জটিলভাবে আক্রান্তরা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে অন্তত ৩০ জন ভেন্টিলেটর ও লাইফসাপোর্টে রয়েছেন। সংক্রমিত অনেকে বাসায় থেকেও চিকিৎসা নিচ্ছেন।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, মিশিগানে এখন করোনায় মৃতের সংখ্যা ২০২০ সালের এপ্রিলের থেকেও কম। সংক্রমণও কমেছে। এ ছাড়া এক সপ্তাহ আগে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল দুই হাজার ২০৩ জন। সংক্রমণে মারা গেছেন ৬১ জন।

এর পরের সপ্তাহে কমে দুই হাজার চারজন আক্রান্ত হন। মারা গেছেন ৩২ জন। মিশিগান রাজ্যে এ পর্যন্ত আট লাখ ৭৪ হাজার ৬২৪ জন আক্রান্ত হয়েছেন। সংক্রমণ হয়ে মারা গেছেন ১৮ হাজার ৬০৭ জন।

এ রিপোর্ট লেখার সময় পর্যন্ত মিশিগানে ৫৫ শতাংশ মানুষ এক ডোজ টিকা নিয়েছেন। দুই ডোজ নিয়েছেন ৪৪ শতাংশ মানুষ। গত বৃহস্পতিবার আমেরিকার সেন্টার ফর ডিজিস কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) বলেছে, ভ্যাকসিন কাজ করছে। টিকার দুই ডোজ নেওয়া শেষ হলে মাস্ক পরার দরকার নেই। যারা এখনও টিকা নেননি, তারা যেন মাস্ক পরেন।

এদিকে মিশিগানের বাঙালিপাড়ার চারদিকে মহামারি আর স্বজন হারানোর শোক বিরাজ করছে। এর পেছনে টিকা না নেওয়ার ক্ষেত্রে চরম অবহেলার চিত্র ফুটে উঠেছে।

একটি ম্যানোফেকচারিং কোম্পানিতে কাজ করেন ফরিদ মজুমদার ও সাইদুল ইসলাম। তারা জানান, সহকর্মী ১৫ বাংলাদেশির মধ্যে টিকা নিয়েছেন মাত্র পাঁচজন। তাদের এক সহকর্মী ইতোমধ্যে করোনায় আক্রান্ত হয়ে ঘরে আছেন।

সেলভি টাউনশিপে একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন এনামুল হক। তিনি জানালেন, একই শিফটে ২৪ বাংলাদেশি কাজ করেন। এখন পর্যন্ত ভ্যাকসিন নিয়েছেন ১৩ জন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্টাইলিং হাইটসের একজন বাসিন্দা জানান, তার শ্বশুরের ছয় সদস্যের পরিবারের পাঁচজনই এখন করোনায় আক্রান্ত। ভ্যাকসিন নেওয়ায় শুধু তার শ্বশুর আক্রান্ত হননি।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রেজিস্ট্রার নার্স শারমিন আক্তার সূচি যুগান্তরকে বলেন, কমিউনিটির একশ্রেণির মানুষ করোনাকে পাত্তা দেননি। সরকারি বিধান মেনে মাস্ক লাগান ঠিকই; কিন্তু নাক খোলা রাখেন। এ ছাড়া টিকা না নিয়েই স্বাভাবিক চলাফেরা শুরু করেছেন। এই অবহেলা বা অসতর্কতাই এখন তাদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই মহামারি থেকে উত্তরণে অবশ্যই দ্রুত টিকা নিতে হবে।

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত একাধিক চিকিৎসক বলেছেন, এমনিতেই জাতিগতভাবে আমাদের ইউমিন সিস্টেম দুর্বল। করোনায় আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কা থাকে। সুতরাং অবহেলা না করে দ্রুত টিকা নিতে চিকিৎসকরা পরার্মশ দিয়েছেন।

মিশিগানে করোনার সংক্রমণ কমেছে, বাড়ছে বাংলাদেশিদের মধ্যে

 তোফায়েল রেজা সোহেল, মিশিগান (যুক্তরাষ্ট্র) থেকে 
১৭ মে ২০২১, ০২:২৯ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান রাজ্যে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা কমলেও এর উল্টো চিত্র চোখে পড়ছে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে।

করোনার প্রকোপে কাঁপছেন এখানকার বাংলাদেশিরা। ইদানীং কমিউনিটিতে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে করোনাভাইরাস সংক্রমণ। টিকা নিতে চরম গাফলতির পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা না করে বেপরোয়া চলাফেরা করার কারণে সংক্রমণের হার বেড়েছে বলে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন।    

কমিউনিটির সদস্যরা জানান, নিউইর্য়কের পরেই সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশির বসবাস মিশিগানে। এ রাজ্যে গত সপ্তাহে মাওলানা আবদুল বাছিত ও ব্যবসায়ী মুজিবুর রহমানসহ পাঁচ বাংলাদেশি করোনায় মারা গেছেন।

অন্য মৃতদের পরিচয় প্রকাশ করেনি পরিবার। এ ছাড়া হেমট্রামিক, ডেট্রয়েট, ওয়ারেন, স্টাইলিং হাইটস ও ট্রয় সিটির হাজারও বাংলাদেশি কোভিড-১৯ রোগে ভুগছেন। জটিলভাবে আক্রান্তরা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে অন্তত ৩০ জন ভেন্টিলেটর ও লাইফসাপোর্টে রয়েছেন। সংক্রমিত অনেকে বাসায় থেকেও চিকিৎসা নিচ্ছেন।  

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, মিশিগানে এখন করোনায় মৃতের সংখ্যা ২০২০ সালের এপ্রিলের থেকেও কম। সংক্রমণও কমেছে। এ ছাড়া এক সপ্তাহ আগে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল দুই হাজার ২০৩ জন। সংক্রমণে মারা গেছেন ৬১ জন।

এর পরের সপ্তাহে কমে দুই হাজার চারজন আক্রান্ত হন।  মারা গেছেন ৩২ জন। মিশিগান রাজ্যে এ পর্যন্ত আট লাখ ৭৪ হাজার ৬২৪ জন আক্রান্ত হয়েছেন। সংক্রমণ হয়ে মারা গেছেন ১৮ হাজার ৬০৭ জন।

এ রিপোর্ট লেখার সময় পর্যন্ত মিশিগানে ৫৫ শতাংশ মানুষ এক ডোজ টিকা নিয়েছেন। দুই ডোজ নিয়েছেন ৪৪ শতাংশ মানুষ। গত বৃহস্পতিবার আমেরিকার সেন্টার ফর ডিজিস কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) বলেছে, ভ্যাকসিন কাজ করছে। টিকার দুই ডোজ নেওয়া শেষ হলে মাস্ক পরার দরকার নেই। যারা এখনও টিকা নেননি, তারা যেন মাস্ক পরেন।

এদিকে মিশিগানের বাঙালিপাড়ার চারদিকে মহামারি আর স্বজন হারানোর শোক বিরাজ করছে। এর পেছনে টিকা না নেওয়ার ক্ষেত্রে চরম অবহেলার চিত্র ফুটে উঠেছে।

একটি ম্যানোফেকচারিং কোম্পানিতে কাজ করেন ফরিদ মজুমদার ও সাইদুল ইসলাম। তারা জানান, সহকর্মী ১৫ বাংলাদেশির মধ্যে টিকা নিয়েছেন মাত্র পাঁচজন। তাদের এক সহকর্মী ইতোমধ্যে করোনায় আক্রান্ত হয়ে ঘরে আছেন।

সেলভি টাউনশিপে একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন এনামুল হক। তিনি জানালেন, একই শিফটে ২৪ বাংলাদেশি কাজ করেন। এখন পর্যন্ত ভ্যাকসিন নিয়েছেন ১৩ জন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্টাইলিং হাইটসের একজন বাসিন্দা জানান, তার শ্বশুরের ছয় সদস্যের পরিবারের পাঁচজনই এখন করোনায় আক্রান্ত।  ভ্যাকসিন নেওয়ায় শুধু তার শ্বশুর আক্রান্ত হননি।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রেজিস্ট্রার নার্স শারমিন আক্তার সূচি যুগান্তরকে বলেন, কমিউনিটির একশ্রেণির মানুষ করোনাকে পাত্তা দেননি। সরকারি বিধান মেনে মাস্ক লাগান ঠিকই; কিন্তু নাক খোলা রাখেন। এ ছাড়া টিকা না নিয়েই স্বাভাবিক চলাফেরা শুরু করেছেন। এই অবহেলা বা অসতর্কতাই এখন তাদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই মহামারি থেকে উত্তরণে অবশ্যই দ্রুত টিকা নিতে হবে।    

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত একাধিক চিকিৎসক বলেছেন, এমনিতেই জাতিগতভাবে আমাদের ইউমিন সিস্টেম দুর্বল।  করোনায় আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কা থাকে। সুতরাং অবহেলা না করে দ্রুত টিকা নিতে চিকিৎসকরা পরার্মশ দিয়েছেন।         

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস