মোদিকে মমতার ৫ পাতার চিঠি
jugantor
মোদিকে মমতার ৫ পাতার চিঠি

  অনলাইন ডেস্ক  

৩১ মে ২০২১, ১৭:৫১:৪৮  |  অনলাইন সংস্করণ

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফাইল ছবি

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

সোমবার দুপুরে মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে কেন্দ্র-রাজ্যের সংঘাতকে একেবারে ‘নরম’ ভাবেই সামলে নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। খবর হিন্দুস্তান টাইমস।

সোমবার সকালে মোদীকে পাঁচ পাতার চিঠিতে মুখ্যসচিব আলাপনকে তলব সংক্রান্ত নির্দেশ কেন্দ্রীয় সরকারকের প্রত্যাহার করার আহ্বান জানান মমতা।

কেন এখন আলাপনবাবুকে ছাড়া হচ্ছে না, তাও ব্যাখ্যা করেন। বাংলার মানুষের স্বার্থে আলাপনকে আরও তিনমাস মুখ্যসচিব পদে থাকতে দেওয়ার আবেদন জানান। পুরো বিষয়টিতে মোদীর হস্তক্ষেপের দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী।

একইসঙ্গে কড়া ভাষায় মুখ্যমন্ত্রী জানান, আলাপনবাবুর বদলির নির্দেশে তিনি হতবাক হয়ে গিয়েছেন। রাজ্যের সঙ্গে কোনও আলোচনা না করেই একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তোয়াক্কা করা হয়নি ১৯৫৪ সালের আইএএস আইনেরও।

সেই চিঠির রেশ ধরে জানতে চাওয়া হয়, মুখ্যমন্ত্রীর অনুরোধ মতো কি আলাপনবাবু আগামী তিন মাস বাংলার মুখ্যসচিব থাকবেন? প্রত্যুত্তরে মমতা বলেন, ‘আমি আপনাকে এই প্রশ্নের উত্তর দেব না। সঠিক সময় উত্তর দেব। তবে আমি এটা বলতে পারি, আমরা ভারত সরকারের থেকে প্রথমে চিঠি পেয়েছি। তাই আমরা উত্তর পেয়েছি। এটা কেন্দ্র ও রাজ্যের দায়িত্ব। উন্নয়নমূলক কাজ, সংবিধানের নিয়মনীতি-সহ অন্যান্য কাজের জন্য কেন্দ্র ও রাজ্য সর্বদা যোগাযোগ বজায় রেখে চলে।’ সঙ্গে যোগ করেন, ‘এটা নিয়ে আর কিছু বলতে পারব না। কারণ আমার হাতে কিছু নেই। আমায় কিছু বিস্তারিতভাবে জানানো হলে আপনাদের জানানো হবে। ’

কী আছে সেই চিঠিতে?

হিন্দুস্তান টাইমসের খবরে বলা হয়,আলাপনের বদলি সংক্রান্ত নির্দেশ কেন্দ্রকে ফিরিয়ে নেওয়ার আবেদনজানান মমতা। দাবি, অনুরোধ, সমালোচনা মিলি মিশিয়ে লেখা এই পাঁচ পাতার চিঠিতে মমতা জানান, কেন এই মুহূর্তে মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে ছাড়পত্র দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ম

মতার আবেদন, বাংলার মানুষের স্বার্থে যাতে আলাপনকে আরও তিনমাস মুখ্যসচিব পদে থাকতে দেওয়া হয়। এই প্রসঙ্গে যাতে প্রধানমন্ত্রী মোদী নিজে হস্তক্ষেপ করেন, সেই অনুরোধও করেছেন মমতা।

চিঠিতে মমতা লেখেন, নির্বাচন চলাকালীন সময় থেকে রাজ্যে করোনা মোকাবিলার কাজ একা হাতে সামলেছেন মুখ্যসচিব। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতেই আরও তিন মাস মুখ্যসচিবের মেয়াদ বাড়ানোর জন্য আবেদন জানায় রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন তুলেছেন, গত ২৪ মে রাজ্যকে অনুমতি দেওয়ার পর কী এমন হল যে, ২৮ মে সেই অনুমতি প্রত্যাহার করতে হল।

চিঠিতে তিনি আরও লেখেন, আপনার বৈঠকে আপনার দলের স্থানীয় বিধায়ককে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। আমার দীর্ঘ ৪০ বছরের অভিজ্ঞতায় যতদূর জানি মুখ্যমন্ত্রী-প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে তার থাকার কোনও এখতিয়ার নেই।

এর আগে কেন্দ্রের এই পদক্ষেপকে প্রতিহিংসামূলক আখ্যা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলের বহু নেতাও এই বদলির সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে তোপ দাগেন মোদী-শাহের নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রের সরকারকে। তাদের প্রশ্ন, হঠাৎ মুখ্যসচিবকে সরে যেতে হবে, এটা কে এবং কেন ঠিক করল? রাজ্যের সঙ্গে কেউ কি কোনও আলোচনা করেছিল এই প্রসঙ্গে?

মোদিকে মমতার ৫ পাতার চিঠি

 অনলাইন ডেস্ক 
৩১ মে ২০২১, ০৫:৫১ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফাইল ছবি
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফাইল ছবি

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। 

সোমবার দুপুরে মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে কেন্দ্র-রাজ্যের সংঘাতকে একেবারে ‘নরম’ ভাবেই সামলে নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। খবর হিন্দুস্তান টাইমস। 

সোমবার সকালে মোদীকে পাঁচ পাতার চিঠিতে মুখ্যসচিব আলাপনকে তলব সংক্রান্ত নির্দেশ কেন্দ্রীয় সরকারকের প্রত্যাহার করার আহ্বান জানান মমতা। 

কেন এখন আলাপনবাবুকে ছাড়া হচ্ছে না, তাও ব্যাখ্যা করেন। বাংলার মানুষের স্বার্থে আলাপনকে আরও তিনমাস মুখ্যসচিব পদে থাকতে দেওয়ার আবেদন জানান। পুরো বিষয়টিতে মোদীর হস্তক্ষেপের দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। 

একইসঙ্গে কড়া ভাষায় মুখ্যমন্ত্রী জানান, আলাপনবাবুর বদলির নির্দেশে তিনি হতবাক হয়ে গিয়েছেন। রাজ্যের সঙ্গে কোনও আলোচনা না করেই একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তোয়াক্কা করা হয়নি ১৯৫৪ সালের আইএএস আইনেরও।

সেই চিঠির রেশ ধরে জানতে চাওয়া হয়, মুখ্যমন্ত্রীর অনুরোধ মতো কি আলাপনবাবু আগামী তিন মাস বাংলার মুখ্যসচিব থাকবেন? প্রত্যুত্তরে মমতা বলেন, ‘আমি আপনাকে এই প্রশ্নের উত্তর দেব না। সঠিক সময় উত্তর দেব। তবে আমি এটা বলতে পারি, আমরা ভারত সরকারের থেকে প্রথমে চিঠি পেয়েছি। তাই আমরা উত্তর পেয়েছি। এটা কেন্দ্র ও রাজ্যের দায়িত্ব। উন্নয়নমূলক কাজ, সংবিধানের নিয়মনীতি-সহ অন্যান্য কাজের জন্য কেন্দ্র ও রাজ্য সর্বদা যোগাযোগ বজায় রেখে চলে।’ সঙ্গে যোগ করেন, ‘এটা নিয়ে আর কিছু বলতে পারব না। কারণ আমার হাতে কিছু নেই। আমায় কিছু বিস্তারিতভাবে জানানো হলে আপনাদের জানানো হবে। ’

কী আছে সেই চিঠিতে?

হিন্দুস্তান টাইমসের খবরে বলা হয়, আলাপনের বদলি সংক্রান্ত নির্দেশ কেন্দ্রকে ফিরিয়ে নেওয়ার আবেদন জানান মমতা। দাবি, অনুরোধ, সমালোচনা মিলি মিশিয়ে লেখা এই পাঁচ পাতার চিঠিতে মমতা জানান, কেন এই মুহূর্তে মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে ছাড়পত্র দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ম

মতার আবেদন, বাংলার মানুষের স্বার্থে যাতে আলাপনকে আরও তিনমাস মুখ্যসচিব পদে থাকতে দেওয়া হয়। এই প্রসঙ্গে যাতে প্রধানমন্ত্রী মোদী নিজে হস্তক্ষেপ করেন, সেই অনুরোধও করেছেন মমতা।  

চিঠিতে মমতা লেখেন, নির্বাচন চলাকালীন সময় থেকে রাজ্যে করোনা মোকাবিলার কাজ একা হাতে সামলেছেন মুখ্যসচিব। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতেই আরও তিন মাস মুখ্যসচিবের মেয়াদ বাড়ানোর জন্য আবেদন জানায় রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন তুলেছেন, গত ২৪ মে রাজ্যকে অনুমতি দেওয়ার পর কী এমন হল যে, ২৮ মে সেই অনুমতি প্রত্যাহার করতে হল।

চিঠিতে তিনি আরও লেখেন, আপনার বৈঠকে আপনার দলের স্থানীয় বিধায়ককে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। আমার দীর্ঘ ৪০ বছরের অভিজ্ঞতায় যতদূর জানি মুখ্যমন্ত্রী-প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে তার থাকার কোনও এখতিয়ার নেই।

এর আগে কেন্দ্রের এই পদক্ষেপকে প্রতিহিংসামূলক আখ্যা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলের বহু নেতাও এই বদলির সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে তোপ দাগেন মোদী-শাহের নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রের সরকারকে। তাদের প্রশ্ন, হঠাৎ মুখ্যসচিবকে সরে যেতে হবে, এটা কে এবং কেন ঠিক করল? রাজ্যের সঙ্গে কেউ কি কোনও আলোচনা করেছিল এই প্রসঙ্গে?

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন