বিরোধী দলের সব মুখ্যমন্ত্রীকে একজোট হওয়ার ডাক দিলেন মমতা
jugantor
বিরোধী দলের সব মুখ্যমন্ত্রীকে একজোট হওয়ার ডাক দিলেন মমতা

  অনলাইন ডেস্ক  

৩১ মে ২০২১, ১৯:৩৯:৩৭  |  অনলাইন সংস্করণ

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফাইল ছবি

বিরোধী দলের সব মুখ্যমন্ত্রীকে একজোট হওয়ার ডাক দিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

তিনি বলেন, দেশের সবক’টি রাজ্যের এককাট্টা হয়ে এর বিরুদ্ধে সরব হওয়া উচিত। বিরোধী দলগুলির মুখ্যমন্ত্রীদেরও একজোট হওয়া উচিত। বিজেপি সরকার, কোভিড, অর্থনীতি—সব সামলাতেই ব্যর্থ। বিজেপি স্বৈরাচারীর মতো ব্যবহার করছে। ওরা হিটলার, স্ট্যালিনের মতো ব্যবহার করছে।

সোমবার বিকালে তিনি নবান্নে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন।

বিজেপি সরকারের তীব্র সমালোচনা করেপশ্চিমবঙ্গ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়বলেন,এমন নির্দয় প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আগে দেখিনি। প্রতিহিংসাপরায়ণ রাজনীতি। ওরা রাজ্যের সঙ্গে কোনও আলোচনাই করেননি।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিবকে বদলির সমালোচনা করে মমতা বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা। বিজেপি হেরেছে। এই জন্য ওরা এসব করছেন। ওরা ভোট পরবর্তী সহিংসতা বলে চিৎকার করছেন। ওরা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে গিয়েছে। কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল পাঠিয়েছে। আমরা তো কোনও ভোট পরবর্তী সহিংসতা দেখতে পাইনি। আমরা জনসেবার জন্য, ইয়াস এবং করোনা পরিস্থিতিতে আলাপনের মেয়াদ বৃদ্ধি করেছিলাম। তাতে কেন্দ্র সিলমোহরও দিয়েছিল।

মমতা বলেন, বিজেপির আমলে আমলারা অসহায়। তাদের সম্পর্কে আমার উচ্চধারণা আছে। যা বলা হবে, তা তারা করতে বাধ্য নন। অনেক হয়েছে, আমি আমলাদের পাশে রয়েছি। এটা আমলাদের অপমান। ওরা খালি ভাষণ দিচ্ছেন, আর আমলারা রেশন সরবরাহ করবেন।

পশ্চিমবঙ্গ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বাংলা হারতে জানে না। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এখনও আমার চিঠির উত্তর দিতে পারেননি। আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় আজ অবসর নিয়েছেন। আমলাতন্ত্রকে বাঁচিয়ে দিয়েছেন। এটা হওয়া উচিত নয়। এই জন্য সংবিধানে লক্ষ্মণরেখা টানা আছে। আলোচনা ছাড়া এটা সম্ভব নয়। সুপ্রিম কোর্টেরও নির্দেশ আছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গে টানা তৃতীয়বারের মতো মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন বিরোধীজোটের রাজনীতিতেও সক্রিয় হবেন। তিনি বাম ও দক্ষিণপন্থী শক্তিকে পরাজিত করেছেন, কোনো পারিবারিক সাহায্য ছাড়া নিজের চেষ্টায় উঠে এসেছেন। প্রায় ৫০ বছর ধরে রাজনীতি করা মমতাকে সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে বিজেপি তার গোটা রাষ্ট্রযন্ত্র, প্রযুক্তি, পর্যাপ্ত অর্থ ব্যয় করেও হারাতে পারেনি। বরং, ভূমিধস জয় পেয়ে পশ্চিমবঙ্গের মসনদে বসেছেন তিনি। এখানেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শক্তি।

হয়তো এই কারণেই নির্বাচনে জেতার অনেক আগে গত মার্চ মাসে মমতা বলেছিলেন, ‘আমরা তোমাদের (বিজেপিকে) পরিবর্তন করব দিল্লিতে, বাংলা জিতলেই দিল্লিতে ঝাঁপাব। বিজেপিকে হারাব, একেবারে দিল্লি ছাড়া করব।’ মমতা যে নিজেকে এই সম্ভাব্য জাতীয় জোটের প্রধান হিসেবে দেখবেন তা বলা বাহুল্য।

এবার সব বিরোধী মুখ্যমন্ত্রীদের একজোট হওয়ার ডাকে কোনো ইঙ্গিত আছে কিনা তা আগামী দিনের রাজনীতিতেই সবকিছু পরিষ্কার হবে।

বিরোধী দলের সব মুখ্যমন্ত্রীকে একজোট হওয়ার ডাক দিলেন মমতা

 অনলাইন ডেস্ক 
৩১ মে ২০২১, ০৭:৩৯ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফাইল ছবি
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফাইল ছবি

বিরোধী দলের সব মুখ্যমন্ত্রীকে একজোট হওয়ার ডাক দিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। 

তিনি বলেন, দেশের সবক’টি রাজ্যের এককাট্টা হয়ে এর বিরুদ্ধে সরব হওয়া উচিত। বিরোধী দলগুলির মুখ্যমন্ত্রীদেরও একজোট হওয়া উচিত। বিজেপি সরকার, কোভিড, অর্থনীতি—সব সামলাতেই ব্যর্থ। বিজেপি স্বৈরাচারীর মতো ব্যবহার করছে। ওরা হিটলার, স্ট্যালিনের মতো ব্যবহার করছে।

সোমবার বিকালে তিনি নবান্নে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন। 

বিজেপি সরকারের তীব্র সমালোচনা করে পশ্চিমবঙ্গ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, এমন নির্দয় প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আগে দেখিনি। প্রতিহিংসাপরায়ণ রাজনীতি। ওরা রাজ্যের সঙ্গে কোনও আলোচনাই করেননি।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিবকে বদলির সমালোচনা করে মমতা বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা। বিজেপি হেরেছে। এই জন্য ওরা এসব করছেন। ওরা ভোট পরবর্তী সহিংসতা বলে চিৎকার করছেন। ওরা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে গিয়েছে। কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল পাঠিয়েছে। আমরা তো কোনও ভোট পরবর্তী সহিংসতা দেখতে পাইনি। আমরা জনসেবার জন্য, ইয়াস এবং করোনা পরিস্থিতিতে আলাপনের মেয়াদ বৃদ্ধি করেছিলাম। তাতে কেন্দ্র সিলমোহরও দিয়েছিল।

মমতা বলেন, বিজেপির আমলে আমলারা অসহায়। তাদের সম্পর্কে আমার উচ্চধারণা আছে। যা বলা হবে, তা তারা করতে বাধ্য নন। অনেক হয়েছে, আমি আমলাদের পাশে রয়েছি। এটা আমলাদের অপমান। ওরা খালি ভাষণ দিচ্ছেন, আর আমলারা রেশন সরবরাহ করবেন।

পশ্চিমবঙ্গ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বাংলা হারতে জানে না। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এখনও আমার চিঠির উত্তর দিতে পারেননি। আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় আজ অবসর নিয়েছেন। আমলাতন্ত্রকে বাঁচিয়ে দিয়েছেন। এটা হওয়া উচিত নয়। এই জন্য সংবিধানে লক্ষ্মণরেখা টানা আছে। আলোচনা ছাড়া এটা সম্ভব নয়। সুপ্রিম কোর্টেরও নির্দেশ আছে।  

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গে টানা তৃতীয়বারের মতো মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন বিরোধীজোটের রাজনীতিতেও সক্রিয় হবেন। তিনি বাম ও দক্ষিণপন্থী শক্তিকে পরাজিত করেছেন, কোনো পারিবারিক সাহায্য ছাড়া নিজের চেষ্টায় উঠে এসেছেন। প্রায় ৫০ বছর ধরে রাজনীতি করা মমতাকে সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে বিজেপি তার গোটা রাষ্ট্রযন্ত্র, প্রযুক্তি, পর্যাপ্ত অর্থ ব্যয় করেও হারাতে পারেনি। বরং, ভূমিধস জয় পেয়ে পশ্চিমবঙ্গের মসনদে বসেছেন তিনি। এখানেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শক্তি। 

হয়তো এই কারণেই নির্বাচনে জেতার অনেক আগে গত মার্চ মাসে মমতা বলেছিলেন, ‘আমরা তোমাদের (বিজেপিকে) পরিবর্তন করব দিল্লিতে, বাংলা জিতলেই দিল্লিতে ঝাঁপাব। বিজেপিকে হারাব, একেবারে দিল্লি ছাড়া করব।’ মমতা যে নিজেকে এই সম্ভাব্য জাতীয় জোটের প্রধান হিসেবে দেখবেন তা বলা বাহুল্য।

এবার সব বিরোধী মুখ্যমন্ত্রীদের একজোট হওয়ার ডাকে কোনো ইঙ্গিত আছে কিনা তা আগামী দিনের রাজনীতিতেই সবকিছু পরিষ্কার হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন