কেউ কাছে গেলেই চিৎকার করছে মা হারানো ফিলিস্তিনি শিশুটি
jugantor
কেউ কাছে গেলেই চিৎকার করছে মা হারানো ফিলিস্তিনি শিশুটি

  যুগান্তর ডেস্ক  

১১ জুন ২০২১, ১৫:৫৬:১৩  |  অনলাইন সংস্করণ

গাজায় ইসরাইলি বাহিনীর বিমান হামলায় বাড়িঘরের ধ্বংসস্তূপ থেকে টেনে বের করা হয়েছিল ছয় বছর বয়সি সুজি এশকুন্তানাকে। এ হামলায় মারা গেছেন তার মা ও চার ভাইবোন। স্বজন হারিয়ে ট্রমায় চলে যাওয়া ফিলিস্তিনি শিশুটি তাদের খোঁজা ছাড়া অন্য কোনো কথাই বলছে না।
ইসরাইলি হামলায় ঘরবাড়ি ধসে যাওয়ার পর বাবার সঙ্গে এক চাচার বাসায় থাকছে সুজি। একসময়ের প্রাণবন্ত এই শিশু এখন খায় না, ঘুমায় না ও খেলতেও চায় না। সুজির চাচা রামজি জানান, মায়ের কথা বারবারই জিজ্ঞাসা করে সুজি। উত্তরে তারা বলেন, মা বেহেশতে আছেন। খেলাধুলা করে না সুজি, তার কাছে কেউ গেলেই সে চিৎকার করে ওঠে।

মে মাসে হামাস ও ইসরাইলের ১১ দিনের রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ে আড়াইশ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এর পর থেকে গাজার তরুণ বয়সিদের অর্ধেক অর্থাৎ, প্রায় পাঁচ লাখ শিশুই হয়তো এমন ট্রমার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যাদের মানসিক সহায়তা প্রয়োজন— বলছে জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা-ইউনিসেফ।

হামাসের ব্যবহার করা সুড়ঙ্গপথ ধ্বংস করতে ইসরাইলের ছোড়া বোমার আঘাতে ধসে পড়ে ছয় বছর বয়সি সুজিদের বাড়ি। চোখের সামনে মারা যান মা ও চার ভাইবোন।

ইসরাইলি সেনারা বলে আসছে— তাদের হামলায় বেসামরিক নাগরিকদের হতাহতের সব ঘটনাই অনিচ্ছাকৃত। কিন্তু প্রায়ই দেখা যাচ্ছে— লড়াই-সংঘাত, ধ্বংসযজ্ঞের ভয়াবহতা, মৃত্যু দেখে নিরাপত্তাহীনতা আর বিষণ্নতায় ভুগে শিশুরা হয়ে পড়ছে মানসিক সমস্যাগ্রস্ত।

সুজিকে মানসিক আঘাত থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য সহায়তা করছেন মনোবিজ্ঞানীরা। রোববার তাদের সঙ্গে ছবি আঁকার এক অনুষ্ঠানে নিজের নাম লিখে তা রঙ করার সময় চুপ করে বসেছিল সুজি। নামের সঙ্গে দুটি বড় ‘হার্ট’ চিহ্ন একে তা লাল রঙ করে সে। হয়তো মা-ভাইবোন হারানো স্বজনদের কথাই বুঝাতে চেয়েছে সে।

সুজির মনোবিজ্ঞানী সামার আওয়াদ বলেন, মা এবং পরিবারের কোল থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে শিশুটিকে। তার বেঁচে থাকাটা নেহাতই অলৌকিক ঘটনা।
গাজায় প্রায় ২০ লাখ মানুষের বাস, যাদের অর্ধেকেরই বয়স ১৮ কিংবা এর কম। তাদের অনেকেই ২০০৮ সাল থেকে তিনটি ভয়াবহ যুদ্ধ দেখেছে, যা তাদের মানসিক স্বাস্থ্যর ক্ষতি করেছে, বলছেন মনোবিজ্ঞানীরা।
ফিলিস্তিনে ইউনিসেফের বিশেষ প্রতিনিধি লুসিয়া এলমি জানান, সবশেষ মে মাসের যুদ্ধের আগেও অন্তত তিনজনের মধ্যে একজন ফিলিস্তিনি শিশুর মনো-সামাজিক সহায়তার প্রয়োজন পড়েছে। এখন আরও কত শিশু এ অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ সংখ্যা পাঁচ লাখ হতে পারে।
বেশিরভাগ শিশুই বিষণ্ণতা ও নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে। এর মানে হচ্ছে— তাদের মাঝে তৈরি হয় আত্মমর্যাদার অভাব। এ রকম সময় মনে হবে আপনার কেউ কিংবা কিছু নেই। এমন অবস্থায় নিজেকে অসহায়, নিরাশ ও মূল্যহীন মনে হয়।
তিনি বলেন, হতাশায় ভোগার এ অনুভূতি দুর্বিষহ হয়ে উঠতে পারে। অনেক শিশুই প্রশ্ন করে— এর পর কবে যুদ্ধ হবে? তখন আমরা কী করব? কোথায় যাব?
গাজায় ইসরাইলি বর্বরতা এভাবেই দাগ কাটছে কোমলমতি শিশুদের হৃদয়ে।

কেউ কাছে গেলেই চিৎকার করছে মা হারানো ফিলিস্তিনি শিশুটি

 যুগান্তর ডেস্ক 
১১ জুন ২০২১, ০৩:৫৬ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

গাজায় ইসরাইলি বাহিনীর বিমান হামলায় বাড়িঘরের ধ্বংসস্তূপ থেকে টেনে বের করা হয়েছিল ছয় বছর বয়সি সুজি এশকুন্তানাকে। এ হামলায় মারা গেছেন তার মা ও চার ভাইবোন। স্বজন হারিয়ে ট্রমায় চলে যাওয়া ফিলিস্তিনি শিশুটি তাদের খোঁজা ছাড়া অন্য কোনো কথাই বলছে না।
ইসরাইলি হামলায় ঘরবাড়ি ধসে যাওয়ার পর বাবার সঙ্গে এক চাচার বাসায় থাকছে সুজি। একসময়ের প্রাণবন্ত এই শিশু এখন খায় না, ঘুমায় না ও খেলতেও চায় না। সুজির চাচা রামজি জানান, মায়ের কথা বারবারই জিজ্ঞাসা করে সুজি।  উত্তরে তারা বলেন, মা বেহেশতে আছেন। খেলাধুলা করে না সুজি, তার কাছে কেউ গেলেই সে চিৎকার করে ওঠে।

মে মাসে হামাস ও ইসরাইলের ১১ দিনের রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ে আড়াইশ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এর পর থেকে গাজার তরুণ বয়সিদের অর্ধেক অর্থাৎ, প্রায় পাঁচ লাখ শিশুই হয়তো এমন ট্রমার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যাদের মানসিক সহায়তা প্রয়োজন— বলছে জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা-ইউনিসেফ।

হামাসের ব্যবহার করা সুড়ঙ্গপথ ধ্বংস করতে ইসরাইলের ছোড়া বোমার আঘাতে ধসে পড়ে ছয় বছর বয়সি সুজিদের বাড়ি।  চোখের সামনে মারা যান মা ও চার ভাইবোন। 

ইসরাইলি সেনারা বলে আসছে— তাদের হামলায় বেসামরিক নাগরিকদের হতাহতের সব ঘটনাই অনিচ্ছাকৃত। কিন্তু প্রায়ই দেখা যাচ্ছে— লড়াই-সংঘাত, ধ্বংসযজ্ঞের ভয়াবহতা, মৃত্যু দেখে নিরাপত্তাহীনতা আর বিষণ্নতায় ভুগে শিশুরা হয়ে পড়ছে মানসিক সমস্যাগ্রস্ত।

সুজিকে মানসিক আঘাত থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য সহায়তা করছেন মনোবিজ্ঞানীরা।  রোববার তাদের সঙ্গে ছবি আঁকার এক অনুষ্ঠানে নিজের নাম লিখে তা রঙ করার সময় চুপ করে বসেছিল সুজি। নামের সঙ্গে দুটি বড় ‘হার্ট’ চিহ্ন একে তা লাল রঙ করে সে।  হয়তো মা-ভাইবোন হারানো স্বজনদের কথাই বুঝাতে চেয়েছে সে।

সুজির মনোবিজ্ঞানী সামার আওয়াদ বলেন, মা এবং পরিবারের কোল থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে শিশুটিকে। তার বেঁচে থাকাটা নেহাতই অলৌকিক ঘটনা।
গাজায় প্রায় ২০ লাখ মানুষের বাস, যাদের অর্ধেকেরই বয়স ১৮ কিংবা এর কম। তাদের অনেকেই ২০০৮ সাল থেকে তিনটি ভয়াবহ যুদ্ধ দেখেছে, যা তাদের মানসিক স্বাস্থ্যর ক্ষতি করেছে, বলছেন মনোবিজ্ঞানীরা।
ফিলিস্তিনে ইউনিসেফের বিশেষ প্রতিনিধি লুসিয়া এলমি জানান, সবশেষ মে মাসের যুদ্ধের আগেও অন্তত তিনজনের মধ্যে একজন ফিলিস্তিনি শিশুর মনো-সামাজিক সহায়তার প্রয়োজন পড়েছে।  এখন আরও কত শিশু এ অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ সংখ্যা পাঁচ লাখ হতে পারে।  
বেশিরভাগ শিশুই বিষণ্ণতা ও নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে। এর মানে হচ্ছে— তাদের মাঝে তৈরি হয় আত্মমর্যাদার অভাব। এ রকম সময় মনে হবে আপনার কেউ কিংবা কিছু নেই। এমন অবস্থায় নিজেকে অসহায়, নিরাশ ও মূল্যহীন মনে হয়। 
তিনি বলেন, হতাশায় ভোগার এ অনুভূতি দুর্বিষহ হয়ে উঠতে পারে। অনেক শিশুই প্রশ্ন করে— এর পর কবে যুদ্ধ হবে? তখন আমরা কী করব? কোথায় যাব? 
গাজায় ইসরাইলি বর্বরতা এভাবেই দাগ কাটছে কোমলমতি শিশুদের হৃদয়ে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন