চলচ্চিত্রে মুসলমানদের নেতিবাচক উপস্থাপন, অভিনব প্রতিবাদ ব্রিটিশ অভিনেতার
jugantor
চলচ্চিত্রে মুসলমানদের নেতিবাচক উপস্থাপন, অভিনব প্রতিবাদ ব্রিটিশ অভিনেতার

  যুগান্তর ডেস্ক  

১৩ জুন ২০২১, ১৪:২৬:৪৭  |  অনলাইন সংস্করণ

চলচ্চিত্রে মুসলমানদের কোণঠাসার অভিনব প্রতিবাদ ব্রিটিশ অভিনেতার

পশ্চিমা চলচ্চিত্রে মুসলমানদের নেতিবাচকভাবে উপস্থাপনের প্রতিবাদ জানিয়েছেন অস্কার মনোনীত ব্রিটিশ অভিনেতা রিজ আহমেদ।

এ প্রবণতা কমিয়ে আনতে উদ্যোগ তরুণ মুসলমান নির্মাতা ও শিল্পীদের জন্য ফেলোশিপের ব্যবস্থা করেছেন তিনি। খবর বিবিসি ও আল জাজিরার।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক দ্য অ্যানেনবার্গ ইনক্লুশন ইনিশিয়েটিভের এক গবেষণায় দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের জনপ্রিয় ছবিগুলোতে মুসলিম চরিত্র নেই বললেই চলে। যদিও সামান্য কিছু থাকে, তার বেশির ভাগই চরিত্র নেতিবাচক।

এই বৈষম্য ও বিকৃতির প্রতিবাদ জানিয়ে টুইটারে একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন রিজ আহমেদ।

এতে তিনি বলেন, চলচ্চিত্রে মুসলমানদের ভুলভাবে উপস্থাপনের বিষয়টা কোনোভাবেই এড়িয়ে যাওয়া যায় না। একা আমি এটা সমাধানও করতে পারব না। এই কাজে সংশ্লিষ্ট মুসলমানদের সাহায্য ছাড়া সমাধান করতে পারব না।

চলচ্চিত্রে মুসলমান চরিত্র ও অংশগ্রহণ বাড়াতে তরুণ মুসলমান নির্মাতা ও শিল্পীদের জন্য একটি ফেলোশিপের ব্যবস্থা করেছেন অস্কার মনোনীত ব্রিটিশ এ অভিনেতা।

রিজ আহমেদ টুইটারে একটি ইনফোগ্রাফিকস দিয়েছেন। যেটির শিরোনাম হল ‘জনপ্রিয় সিনেমা থেকে মুসলমান চরিত্র উধাও’।

এরমধ্যে ২০০ সিনেমার মধ্যে ১৮১টিতে কোনো মুসলমান চরিত্রই পাওয়া যায়নি। অস্ট্রেলিয়ার ৩২টি ছবির মধ্যে ৮৪ শতাংশে, যুক্তরাষ্ট্রের ১০০ ছবির মধ্যে ৯১ শতাংশে, যুক্তরাজ্যের ৬৩টি ছবির মধ্যে ৯২ শতাংশে এবং নিউজিল্যান্ডের শতভাগ ছবিতে মুসলমান চরিত্র পাওয়া যায়নি।

দ্য অ্যানেনবার্গ ইনক্লুশন ইনিশিয়েটিভের ওই গবেষণায় দেখা গেছে, ৮ হাজার ৯৬৫টি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রের মধ্যে মাত্র ১ দশমিক ৬ শতাংশ গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র মুসলমান। যদিও পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার ২৪ ভাগ মুসলিম।

রিজ আহমেদ মনে করেন, বেশির ভাগ চরিত্র চিত্রায়ণের সময়ই কাজ করেছে ‘সম্পূর্ণ বর্ণবাদী’ মানসিকতা। একটি বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘এসব ডেটা মিথ্যা বলেনি। এই গবেষণা আমাদের দেখিয়েছে, জনপ্রিয় ছবিগুলোর সমস্যা কোথায়।’

গবেষণাটি বলছে, চলচ্চিত্রে মুসলমানদের বহিরাগত, হুমকিস্বরূপ, পরাধীন হিসেবে দেখানো হয়েছে। এক-তৃতীয়াংশই সহিংসতার জন্য দায়ী। অর্ধেকেরও বেশি সহিংসতার শিকার।

অস্কারে মনোনয়ন কিংবা যেসব মুসলিম শিল্পী পরিচিত, তাদের দিয়ে তরুণ নির্মাতা ও অভিনয়শিল্পীদের জন্য একটি ফেলোশিপেরও উদ্যোগ নিয়েছেন রিজ আহমেদ।

এখানে তহবিল গঠন করে তরুণদের সাহায্য করবেন। একটি উপদেষ্টা কমিটির মাধ্যমে তরুণ মুসলমান শিল্পীদের ফেলোশিপ হিসেবে ২৫ হাজার ডলার করে দেওয়া হবে। এই কমিটির মধ্যে থাকবেন মাহেরশালা আলি, রামি ইউসেফ ও হাসান মিনহাজের মতো অভিনেতা ও কমেডিয়ান।

টুইটারে রিজ আহমেদ এই আহ্বানে সবাইকে সাড়া দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। ফেলোশিপের উপদেষ্টাদের ছবিসহ একটি পোস্টও দিয়েছেন। ফেলোশিপের বিষয়টি সবার মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।


চলচ্চিত্রে মুসলমানদের নেতিবাচক উপস্থাপন, অভিনব প্রতিবাদ ব্রিটিশ অভিনেতার

 যুগান্তর ডেস্ক 
১৩ জুন ২০২১, ০২:২৬ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
চলচ্চিত্রে মুসলমানদের কোণঠাসার অভিনব প্রতিবাদ ব্রিটিশ অভিনেতার
ছবি: রয়টার্স

পশ্চিমা চলচ্চিত্রে মুসলমানদের নেতিবাচকভাবে উপস্থাপনের প্রতিবাদ জানিয়েছেন অস্কার মনোনীত ব্রিটিশ অভিনেতা রিজ আহমেদ। 

এ প্রবণতা কমিয়ে আনতে উদ্যোগ তরুণ মুসলমান নির্মাতা ও শিল্পীদের জন্য ফেলোশিপের ব্যবস্থা করেছেন তিনি। খবর বিবিসি ও আল জাজিরার। 

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক দ্য অ্যানেনবার্গ ইনক্লুশন ইনিশিয়েটিভের এক গবেষণায় দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের জনপ্রিয় ছবিগুলোতে মুসলিম চরিত্র নেই বললেই চলে। যদিও সামান্য কিছু থাকে, তার বেশির ভাগই চরিত্র নেতিবাচক।

এই বৈষম্য ও বিকৃতির প্রতিবাদ জানিয়ে টুইটারে একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন রিজ আহমেদ।  

এতে তিনি বলেন, চলচ্চিত্রে মুসলমানদের ভুলভাবে উপস্থাপনের বিষয়টা কোনোভাবেই এড়িয়ে যাওয়া যায় না। একা আমি এটা সমাধানও করতে পারব না। এই কাজে সংশ্লিষ্ট মুসলমানদের সাহায্য ছাড়া সমাধান করতে পারব না।

চলচ্চিত্রে মুসলমান চরিত্র ও অংশগ্রহণ বাড়াতে তরুণ মুসলমান নির্মাতা ও শিল্পীদের জন্য একটি ফেলোশিপের ব্যবস্থা করেছেন অস্কার মনোনীত ব্রিটিশ এ অভিনেতা। 

রিজ আহমেদ টুইটারে একটি ইনফোগ্রাফিকস দিয়েছেন। যেটির শিরোনাম হল ‘জনপ্রিয় সিনেমা থেকে মুসলমান চরিত্র উধাও’। 

এরমধ্যে ২০০ সিনেমার মধ্যে ১৮১টিতে কোনো মুসলমান চরিত্রই পাওয়া যায়নি। অস্ট্রেলিয়ার ৩২টি ছবির মধ্যে ৮৪ শতাংশে, যুক্তরাষ্ট্রের ১০০ ছবির মধ্যে ৯১ শতাংশে, যুক্তরাজ্যের ৬৩টি ছবির মধ্যে ৯২ শতাংশে এবং নিউজিল্যান্ডের শতভাগ ছবিতে মুসলমান চরিত্র পাওয়া যায়নি।

দ্য অ্যানেনবার্গ ইনক্লুশন ইনিশিয়েটিভের ওই গবেষণায় দেখা গেছে, ৮ হাজার ৯৬৫টি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রের মধ্যে মাত্র ১ দশমিক ৬ শতাংশ গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র মুসলমান। যদিও পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার ২৪ ভাগ মুসলিম। 

রিজ আহমেদ মনে করেন, বেশির ভাগ চরিত্র চিত্রায়ণের সময়ই কাজ করেছে ‘সম্পূর্ণ বর্ণবাদী’ মানসিকতা। একটি বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘এসব ডেটা মিথ্যা বলেনি। এই গবেষণা আমাদের দেখিয়েছে, জনপ্রিয় ছবিগুলোর সমস্যা কোথায়।’

গবেষণাটি বলছে, চলচ্চিত্রে মুসলমানদের বহিরাগত, হুমকিস্বরূপ, পরাধীন হিসেবে দেখানো হয়েছে। এক-তৃতীয়াংশই সহিংসতার জন্য দায়ী। অর্ধেকেরও বেশি সহিংসতার শিকার।

অস্কারে মনোনয়ন কিংবা যেসব মুসলিম শিল্পী পরিচিত, তাদের দিয়ে তরুণ নির্মাতা ও অভিনয়শিল্পীদের জন্য একটি ফেলোশিপেরও উদ্যোগ নিয়েছেন রিজ আহমেদ। 

এখানে তহবিল গঠন করে তরুণদের সাহায্য করবেন। একটি উপদেষ্টা কমিটির মাধ্যমে তরুণ মুসলমান শিল্পীদের ফেলোশিপ হিসেবে ২৫ হাজার ডলার করে দেওয়া হবে। এই কমিটির মধ্যে থাকবেন মাহেরশালা আলি, রামি ইউসেফ ও হাসান মিনহাজের মতো অভিনেতা ও কমেডিয়ান।

টুইটারে রিজ আহমেদ এই আহ্বানে সবাইকে সাড়া দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। ফেলোশিপের উপদেষ্টাদের ছবিসহ একটি পোস্টও দিয়েছেন। ফেলোশিপের বিষয়টি সবার মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।


 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন