ফিলিস্তিন নিয়ে নাফতালি বেনেটের দৃষ্টিভঙ্গি কী?
jugantor
ফিলিস্তিন নিয়ে নাফতালি বেনেটের দৃষ্টিভঙ্গি কী?

  অনলাইন ডেস্ক  

১৪ জুন ২০২১, ০৯:৪৯:৩৩  |  অনলাইন সংস্করণ

দীর্ঘ এক যুগ পর রোববার ইসরাইলে ক্ষমতার পটপরিবর্তন হলো।

বিশেষ কথিত 'কিং অব ইসরাইল' বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ক্ষমতা হারিয়েছেন। নতুন প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন আরেক কট্টর ইহুদি জাতীয়তাবাদী রাজনীতিক নাফতালি বেনেট। খবর বিবিসির।

ডান-বাম এবং মধ্যপন্থি সাতটি দলের সমন্বয়ে গঠিত নতুন একটি কোয়ালিশন সরকার রোববার বিকালে ৬০-৫৯ ভোটে ইসরাইলের পার্লামেন্ট নেসেটের অনুমোদন পেয়েছে। প্রায় চার ঘণ্টা ধরে এ অধিবেশন চলে।

কোয়ালিশন শরিকদের মধ্যে শুক্রবার সই হওয়া চুক্তি অনুযায়ী আগামী দুই বছর অর্থাৎ ২০২৩ সালের আগস্ট পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী থাকবেন কট্টর জাতীয়তাবাদী দল ইয়ামিনার নেতা নাফতালি বেনেট। তার পর তাকে ক্ষমতা তুলে দিতে হবে মধ্যপন্থি রাজনীতিক ইয়ার লাপিডের হাতে, যিনি নতুন এই কোয়ালিশন তৈরির মূল হোতা ছিলেন।

বেনেট প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর পরই মার্কিন জো বাইডেন তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। নেতানিয়াহু এখন হবেন বিরোধীদলীয় নেতা।

ইসরাইলের ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর এখন দুটো প্রশ্ন সামনে চলে আসছে— নানা মত ও পথের সমন্বয়ে এই কোয়ালিশন আদৌ কতদিন টিকবে এবং ইসরাইল-ফিলিস্তিনি সংকট নিয়ে নতুন এই সরকারের অবস্থান কী হবে?

নাফতালি বেনেটের রাজনৈতিক আদর্শ, তার বিশ্বাস, ফিলিস্তিন সংকট নিয়ে তার অতীতের বক্তব্য-বিবৃতি বিবেচনা করলে ফিলিস্তিনিদের পক্ষে আশাবাদী হওয়ার কোনো কারণ আপাতদৃষ্টিতে নেই।

৪৯ বছরের নাফতালি বেনেট একসময় নেতানিয়াহুর খুব ঘনিষ্ঠ ছিলেন। ২০০৬ সাল থেকে দুবছর তিনি নেতানিয়াহুর চিফ অব স্টাফ হিসেবে কাজ করেছেন। ২০০৮ সালে অবশ্য তার সঙ্গে নেতানিয়াহুর মনোমালিন্য তৈরি হয় এবং লিকুদ পার্টি থেকে বেরিয়ে তিনি কট্টর ইহুদি দল 'জিউয়িশ হোম' পার্টিতে যোগ দেন এবং ২০১৩ সালে প্রথম এমপি হিসাবে নির্বাচিত হন।

কট্টর ডানপন্থি আদর্শ নিয়ে তার কোনো রাখঢাক নেই। বিভিন্ন সময় বড়াই করে তিনি বলেছেন নেতানিয়াহুর চেয়েও তিনি বেশি ডানপন্থি। অতিধার্মিক ইহুদিদের মতো অধিকাংশ সময়ে মাথায় কিপা (এক ধরনের টুপি) পরে থাকেন। উদারপন্থি ইহুদিদের সুযোগ পেলেই উপহাস করেন।

বলতে গেলে বেনেট ইহুদি জাতীয়তাবাদ এবং জাত্যভিমানের এক প্রতীক।

যে সাতটি দলের কোয়ালিশনে শরিক হিসেবে প্রধানমন্ত্রী হলেন বেনেট সেখানে ইসলামপন্থি একটি আরব দল ছাড়াও মেরেতজের মতো বামপন্থি দল রয়েছে, যারা পশ্চিমতীরে ইহুদি দখলদারিত্বে ঘোরবিরোধী।

কীভাবে নাফতালি বেনেটের মতো একজন কট্টর ডানপন্থি রাজনীতিক এমন শরিকদের সঙ্গে হাত মেলালেন, তা নিয়ে বিস্ময় এখনও কাটেনি। তার দলের ভেতরেও এ নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। তার বহু সমর্থক ক্ষুব্ধ।

ক্ষমতায় গিয়ে কি বেনেট তার এতদিনের আদর্শের সঙ্গে আপস করবেন? ভিন্ন পথে হাঁটবেন?

অনেকে মনে করেন, দুটি ভীতির কারণে এই কোয়ালিশন হয়তো টিকে থাকতে পারে এবং বেনেটকে অনেক বিষয়ে নমনীয় হতে দেখা যেতে পারে।

প্রথম কথা বেনেট ও শরিকরা জানেন তাদের ভেতর মত-পার্থক্য চরমে গেলে নেতানিয়াহু ক্ষমতায় ফিরে আসবেন। দ্বিতীয়ত এই শরিকে যোগ দিয়ে বেনেট নিজে বিরাট ঝুঁকি নিয়েছেন। তার সমর্থকরা ক্ষুব্ধ।

সুতরাং এই সরকার যদি ব্যর্থ হয়, তা হলে ইসরাইলের রাজনীতি থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতে পারেন বেনেট। ফলে সে ভয়েই তিনি আপস করবেন বলে আমার ধারণা। আপস তাকে করতেই হবে।

ফিলিস্তিন নিয়ে নাফতালি বেনেটের দৃষ্টিভঙ্গি কী?

 অনলাইন ডেস্ক 
১৪ জুন ২০২১, ০৯:৪৯ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

দীর্ঘ এক যুগ পর রোববার ইসরাইলে ক্ষমতার পটপরিবর্তন হলো।

বিশেষ কথিত 'কিং অব ইসরাইল' বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ক্ষমতা হারিয়েছেন। নতুন প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন আরেক কট্টর ইহুদি জাতীয়তাবাদী রাজনীতিক নাফতালি বেনেট। খবর বিবিসির।

ডান-বাম এবং মধ্যপন্থি সাতটি দলের সমন্বয়ে গঠিত নতুন একটি কোয়ালিশন সরকার রোববার বিকালে ৬০-৫৯ ভোটে ইসরাইলের পার্লামেন্ট নেসেটের অনুমোদন পেয়েছে। প্রায় চার ঘণ্টা ধরে এ অধিবেশন চলে।

কোয়ালিশন শরিকদের মধ্যে শুক্রবার সই হওয়া চুক্তি অনুযায়ী আগামী দুই বছর অর্থাৎ ২০২৩ সালের আগস্ট পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী থাকবেন কট্টর জাতীয়তাবাদী দল ইয়ামিনার নেতা নাফতালি বেনেট। তার পর তাকে ক্ষমতা তুলে দিতে হবে মধ্যপন্থি রাজনীতিক ইয়ার লাপিডের হাতে, যিনি নতুন এই কোয়ালিশন তৈরির মূল হোতা ছিলেন।

বেনেট প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর পরই মার্কিন জো বাইডেন তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। নেতানিয়াহু এখন হবেন বিরোধীদলীয় নেতা।

ইসরাইলের ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর এখন দুটো প্রশ্ন সামনে চলে আসছে— নানা মত ও পথের সমন্বয়ে এই কোয়ালিশন আদৌ কতদিন টিকবে এবং ইসরাইল-ফিলিস্তিনি সংকট নিয়ে নতুন এই সরকারের অবস্থান কী হবে?

নাফতালি বেনেটের রাজনৈতিক আদর্শ, তার বিশ্বাস, ফিলিস্তিন সংকট নিয়ে তার অতীতের বক্তব্য-বিবৃতি বিবেচনা করলে ফিলিস্তিনিদের পক্ষে আশাবাদী হওয়ার কোনো কারণ আপাতদৃষ্টিতে নেই।

৪৯ বছরের নাফতালি বেনেট একসময় নেতানিয়াহুর খুব ঘনিষ্ঠ ছিলেন। ২০০৬ সাল থেকে দুবছর তিনি নেতানিয়াহুর চিফ অব স্টাফ হিসেবে কাজ করেছেন। ২০০৮ সালে অবশ্য তার সঙ্গে নেতানিয়াহুর মনোমালিন্য তৈরি হয় এবং লিকুদ পার্টি থেকে বেরিয়ে তিনি কট্টর ইহুদি দল 'জিউয়িশ হোম' পার্টিতে যোগ দেন এবং ২০১৩ সালে প্রথম এমপি হিসাবে নির্বাচিত হন।

কট্টর ডানপন্থি আদর্শ নিয়ে তার কোনো রাখঢাক নেই। বিভিন্ন সময় বড়াই করে তিনি বলেছেন নেতানিয়াহুর চেয়েও তিনি বেশি ডানপন্থি। অতিধার্মিক ইহুদিদের মতো অধিকাংশ সময়ে মাথায় কিপা (এক ধরনের টুপি) পরে থাকেন। উদারপন্থি ইহুদিদের সুযোগ পেলেই উপহাস করেন।

বলতে গেলে বেনেট ইহুদি জাতীয়তাবাদ এবং জাত্যভিমানের এক প্রতীক।

যে সাতটি দলের কোয়ালিশনে শরিক হিসেবে প্রধানমন্ত্রী হলেন বেনেট সেখানে ইসলামপন্থি একটি আরব দল ছাড়াও মেরেতজের মতো বামপন্থি দল রয়েছে, যারা পশ্চিমতীরে ইহুদি দখলদারিত্বে ঘোরবিরোধী।

কীভাবে নাফতালি বেনেটের মতো একজন কট্টর ডানপন্থি রাজনীতিক এমন শরিকদের সঙ্গে হাত মেলালেন, তা নিয়ে বিস্ময় এখনও কাটেনি। তার দলের ভেতরেও এ নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। তার বহু সমর্থক ক্ষুব্ধ।

 ক্ষমতায় গিয়ে কি বেনেট তার এতদিনের আদর্শের সঙ্গে আপস করবেন? ভিন্ন পথে হাঁটবেন?

অনেকে মনে করেন, দুটি ভীতির কারণে এই কোয়ালিশন হয়তো টিকে থাকতে পারে এবং বেনেটকে অনেক বিষয়ে নমনীয় হতে দেখা যেতে পারে।

প্রথম কথা বেনেট ও শরিকরা জানেন তাদের ভেতর মত-পার্থক্য চরমে গেলে নেতানিয়াহু ক্ষমতায় ফিরে আসবেন। দ্বিতীয়ত এই শরিকে যোগ দিয়ে বেনেট নিজে বিরাট ঝুঁকি নিয়েছেন। তার সমর্থকরা ক্ষুব্ধ।

সুতরাং এই সরকার যদি ব্যর্থ হয়, তা হলে ইসরাইলের রাজনীতি থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতে পারেন বেনেট। ফলে সে ভয়েই তিনি আপস করবেন বলে আমার ধারণা। আপস তাকে করতেই হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : ফিলিস্তিনিদের ঘরে ফেরার বিক্ষোভ