তুরস্কের সঙ্গে ফ্রান্সের সমস্যা কোথায়?
jugantor
তুরস্কের সঙ্গে ফ্রান্সের সমস্যা কোথায়?

  অনলাইন ডেস্ক  

১৪ জুন ২০২১, ১৮:৪৩:৪৮  |  অনলাইন সংস্করণ

ফ্রান্স-তুরস্ক

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগান এবং ফ্রান্স প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সোমবার ব্রাসেলসে ৫২ মিনিট সাক্ষাৎ করেছেন। দীর্ঘ এই বৈঠকে দুই নেতা বিতর্কিত বেশ কিছু বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন।

সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকটি ইস্যু নিয় তুরস্ক-ফ্রান্স দ্বন্দ্বে জড়ায়। তবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দ্বন্দ্ব ভুলে সামরিক জোট ন্যাটোর এই দুই সদস্য সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ইঙ্গিত দেয়।

ন্যাটো সামিটের পূর্বে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়ে এরদোগান বলেছিলেন, ম্যাক্রোঁর সঙ্গে তিনি পজেটিভ এবং নেগেটিভ উভয় বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন। অন্যদিকে, তুর্কি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ নিয়ে সাংবাদিকদের ম্যাক্রোঁ বলেছিলেন, মতের ভিন্নতা সত্ত্বেও এরদোগানের সঙ্গে তার আলোচনায় বসা জরুরি।

দুই দেশের দ্বন্দ্ব আসলে কোথায়?
২০১৮ সালে আঙ্কারা এবং প্যারিস দ্বন্দ্বে জড়ায়। এই দ্বন্দ্বের কারণ ছিল ফ্রান্সের সরকারি কর্মকর্তারা সিরিয়া সংশ্লিষ্ট পিকেকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তুরস্কের অভিযোগ ছিল, ফ্রান্স পিকেকের সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে তাদের বিরুদ্ধে উসকে দিচ্ছে।

এছাড়া আফ্রিকার যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ লিবিয়ায় দুই দেশ পরস্পর বিপরীত অবস্থান নেয়। আঙ্কারা সেখানে জাতিসংঘ স্বীকৃত জিএনএ সরকারকে সমর্থন দেয়। অন্যদিকে ফ্রান্স, লিবিয়ার বিদ্রোহী নেতা খলিফা হাফতারের বাহিনীকে সমর্থন দেয়। যদিও ফ্রান্সের দাবি ছিল, লিবিয়ায় তারা কোনো পক্ষকে সমর্থন করছেন না।

এছাড়া, তুরস্কের পূর্ব ভূমধ্যসাগরে ফ্রান্সের হস্তক্ষেপ নিয়ে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। এই পূর্ব ভূমধ্যসাগরে ফ্রান্সের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কোনো কিছু না থাকা সত্ত্বেও দেশটি গ্রিসের যুদ্ধজাহাজ সমর্থনে নৌবাহিনী পাঠায়। এই ঘটনায় প্যারিসের সঙ্গে আঙ্কারার উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়।

এছাড়া আজারবাইজান-আর্মেনিয়ার যুদ্ধে তুরস্ক ও ফ্রান্স দুই মেরুতে অবস্থান নিয়েছিল। যুদ্ধে আজারবাইজানের পক্ষে ছিল তুরস্ক আর আর্মেনিয়ার পক্ষে ছিল ফ্রান্স।
যুদ্ধে আজারবাইজান জয়ী হলেও ফ্রান্স বসে নেই। তারা আর্মেনিয়াদের দখল হারানো জায়গা ফিরে পাওয়ার জন্য প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। ম্যাক্রোঁ বলেছেন, আজারবাইজানের সৈন্যদেরকে ওই বিতর্কিত জায়গা ছাড়তে হবে।

ম্যাক্রোঁর ইসলাম নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য নিয়ে তুরস্কের সঙ্গে বাগযুদ্ধ

গতবছর ইসলাম নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। তিনি বলেন, ‘ইসলাম এমন একটি ধর্ম, যেটি বর্তমান বিশ্বের সব দেশে সংকটে রয়েছে। এটি কেবল আমরা আমাদের দেশে দেখছি- এমনটি নয়।

ইসলাম ধর্ম নিয়ে ফরাসি প্রেসিডেন্টের অবমাননাকর মন্তব্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগান। ফরাসি প্রেসিডেন্টের এমন মন্তব্যকে খোলাখুলি উস্কানি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এরদোগান বলেন, ইসলাম সংকটে বলে ম্যাক্রোঁ যে শুধু ধর্মকে অশ্রদ্ধা করেছেন তাই নয়, খোলাখুলি উস্কানিও দিয়েছেন। ম্যাক্রন এ কথা বলে তার ধৃষ্টতা দেখিয়েছেন। ইসলামের কাঠামো নিয়ে কথা বলার তিনি কে?

ফরাসি প্রেসিডেন্টকে পরামর্শ দিয়ে এরদোগান বলেন, ম্যাক্রোঁ যে সব বিষয়ে কিছুই জানেন না, সেসব বিষয়ে বলার আগে যেন ভালো করে বিষয়টা জেনে নেন। আমরা চাই তিনি দায়িত্বশীল প্রেসিডেন্টের মতো কাজ করুন। ঔপনিবেশিক গভর্নরের মতো নয়।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ন্যাটো বৈঠকের ফাঁকে এরদোগান এবং ম্যাক্রোঁ আরও বেশ কয়েকটি বিষয় নিয়ে আলোনা করবেন। এসবের মধ্যে রয়েছে নাগোরনো-কারাবাখ ইস্যু, রাশিয়া থেকে তুরস্কের অস্ত্র কেনা ইস্যু।

তুরস্কের সঙ্গে ফ্রান্সের সমস্যা কোথায়?

 অনলাইন ডেস্ক 
১৪ জুন ২০২১, ০৬:৪৩ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
ফ্রান্স-তুরস্ক
সিরিয়া, লিবিয়া, নাগোর্নো-কারাবাখ ও ভূমধ্যসাগরের মতো ইস্যু নিয়ে তুরস্ক ও ফ্রান্সের মধ্যে দ্বন্দ্ব রয়েছে। ছবি: আল জাজিরা

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগান এবং ফ্রান্স প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সোমবার ব্রাসেলসে ৫২ মিনিট সাক্ষাৎ করেছেন। দীর্ঘ এই বৈঠকে দুই নেতা বিতর্কিত বেশ কিছু বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন। 

সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকটি ইস্যু নিয় তুরস্ক-ফ্রান্স দ্বন্দ্বে জড়ায়। তবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দ্বন্দ্ব ভুলে সামরিক জোট ন্যাটোর এই দুই সদস্য সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ইঙ্গিত দেয়। 

ন্যাটো সামিটের পূর্বে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়ে এরদোগান বলেছিলেন, ম্যাক্রোঁর সঙ্গে তিনি পজেটিভ এবং নেগেটিভ উভয় বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন। অন্যদিকে, তুর্কি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ নিয়ে সাংবাদিকদের ম্যাক্রোঁ বলেছিলেন, মতের ভিন্নতা সত্ত্বেও এরদোগানের সঙ্গে তার আলোচনায় বসা জরুরি। 

দুই দেশের দ্বন্দ্ব আসলে কোথায়?
২০১৮ সালে আঙ্কারা এবং প্যারিস দ্বন্দ্বে জড়ায়। এই দ্বন্দ্বের কারণ ছিল ফ্রান্সের সরকারি কর্মকর্তারা সিরিয়া সংশ্লিষ্ট পিকেকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তুরস্কের অভিযোগ ছিল, ফ্রান্স পিকেকের সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে তাদের বিরুদ্ধে উসকে দিচ্ছে।   

এছাড়া আফ্রিকার যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ লিবিয়ায় দুই দেশ পরস্পর বিপরীত অবস্থান নেয়। আঙ্কারা সেখানে জাতিসংঘ স্বীকৃত জিএনএ সরকারকে সমর্থন দেয়। অন্যদিকে ফ্রান্স, লিবিয়ার বিদ্রোহী নেতা খলিফা হাফতারের বাহিনীকে সমর্থন দেয়। যদিও ফ্রান্সের দাবি ছিল, লিবিয়ায় তারা কোনো পক্ষকে সমর্থন করছেন না। 

এছাড়া, তুরস্কের পূর্ব ভূমধ্যসাগরে ফ্রান্সের হস্তক্ষেপ নিয়ে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। এই পূর্ব ভূমধ্যসাগরে ফ্রান্সের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কোনো কিছু না থাকা সত্ত্বেও দেশটি গ্রিসের যুদ্ধজাহাজ সমর্থনে নৌবাহিনী পাঠায়। এই ঘটনায় প্যারিসের সঙ্গে আঙ্কারার উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়।

এছাড়া আজারবাইজান-আর্মেনিয়ার যুদ্ধে তুরস্ক ও ফ্রান্স দুই মেরুতে অবস্থান নিয়েছিল। যুদ্ধে আজারবাইজানের পক্ষে ছিল তুরস্ক আর আর্মেনিয়ার পক্ষে ছিল ফ্রান্স। 
যুদ্ধে আজারবাইজান জয়ী হলেও ফ্রান্স বসে নেই। তারা আর্মেনিয়াদের দখল হারানো জায়গা ফিরে পাওয়ার জন্য প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। ম্যাক্রোঁ বলেছেন, আজারবাইজানের সৈন্যদেরকে ওই বিতর্কিত জায়গা ছাড়তে হবে। 

ম্যাক্রোঁর ইসলাম নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য নিয়ে তুরস্কের সঙ্গে বাগযুদ্ধ

গতবছর ইসলাম নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। তিনি বলেন, ‘ইসলাম এমন একটি ধর্ম, যেটি বর্তমান বিশ্বের সব দেশে সংকটে রয়েছে। এটি কেবল আমরা আমাদের দেশে দেখছি- এমনটি নয়।

ইসলাম ধর্ম নিয়ে ফরাসি প্রেসিডেন্টের অবমাননাকর মন্তব্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগান। ফরাসি প্রেসিডেন্টের এমন মন্তব্যকে খোলাখুলি উস্কানি বলে মন্তব্য করেন তিনি। 

এরদোগান বলেন, ইসলাম সংকটে বলে ম্যাক্রোঁ যে শুধু ধর্মকে অশ্রদ্ধা করেছেন তাই নয়, খোলাখুলি উস্কানিও দিয়েছেন। ম্যাক্রন এ কথা বলে তার ধৃষ্টতা দেখিয়েছেন। ইসলামের কাঠামো নিয়ে কথা বলার তিনি কে?

ফরাসি প্রেসিডেন্টকে পরামর্শ দিয়ে এরদোগান বলেন, ম্যাক্রোঁ যে সব বিষয়ে কিছুই জানেন না, সেসব বিষয়ে বলার আগে যেন ভালো করে বিষয়টা জেনে নেন। আমরা চাই তিনি দায়িত্বশীল প্রেসিডেন্টের মতো কাজ করুন। ঔপনিবেশিক গভর্নরের মতো নয়।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ন্যাটো বৈঠকের ফাঁকে এরদোগান এবং ম্যাক্রোঁ আরও বেশ কয়েকটি বিষয় নিয়ে আলোনা করবেন। এসবের মধ্যে রয়েছে নাগোরনো-কারাবাখ ইস্যু, রাশিয়া থেকে তুরস্কের অস্ত্র কেনা ইস্যু।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন