হামাসের জনপ্রিয়তা বাড়িয়েছে গাজায় সাম্প্রতিক যুদ্ধ
jugantor
হামাসের জনপ্রিয়তা বাড়িয়েছে গাজায় সাম্প্রতিক যুদ্ধ

  অনলাইন ডেস্ক  

১৬ জুন ২০২১, ১৫:২০:১৯  |  অনলাইন সংস্করণ

গাজায় সাম্প্রতিক যুদ্ধের পর থেকে নাটকীয়ভাবে হামাসের জনপ্রিয়তা বেড়ে গেছে। অন্যদিকে কমেছে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের নেতৃত্বাধীন ফাতাহর জনপ্রিয়তা।

মঙ্গলবার প্রকাশিত জনমত জরিপের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানায় জেরুজালেম পোস্ট।

খবরে বলা হয়, অধিকাংশ ফিলিস্তিনি বিশ্বাস করতে শুরু করেছেন যে, হামাস ফিলিস্তিনিদের প্রতিনিধিত্ব করা এবং নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে বেশি যোগ্য। অন্যদিকে সামান্য অংশ বিশ্বাস করেন যে, ফিলিস্তিনিদের নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্য হচ্ছে ফাতাহ।

রামাল্লাভিত্তিক প্যালেস্টিনিয়ান সেন্টার ফর পলিসি অ্যান্ড সার্ভে রিসার্চ এ জরিপ চালায়।

এতে অংশ নেওয়া ৭৭ শতাংশ ফিলিস্তিনি মনে করেন, সর্বশেষ যুদ্ধে হামাস ইসরাইলের সঙ্গে জিতেছে। আর ৬৫ শতাংশ ফিলিস্তিনি মনে করেন, এ যুদ্ধে হামাস তাদের লক্ষ্য পূরণ করতে পেরেছে। লক্ষ্যগুলোর অন্যতম— শেখ জারাহ থেকে ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুতি ঠেকিয়ে দেওয়া এবং ইসরাইলের অভ্যন্তরে সফলভাবে রকেট হামলা। একই সঙ্গে আল-আকসা মসজিদে ফিলিস্তিনিদের প্রবেশে ইসরাইলি ‘নিষেধাজ্ঞা’-এর অবসান ঘটিয়েছে হামাস।

৯ জুন থেকে ১২ জুনের মধ্যে এ জরিপ চালানো হয়। এতে অংশ নেন প্রায় ১২০০ ফিলিস্তিনি।

জরিপে ৭২ শতাংশ মনে করেন, হামাস ইসরাইলে রকেট হামলা চালিয়েছে জেরুজালেম এবং আল-আকসা মসজিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে। ৯ শতাংশ মনে করেন, ফিলিস্তিনের সাধারণ নির্বাচন বাতিল হওয়ার কারণে এ সংঘাত হয়।

জরিপের তথ্য অনুযায়ী, এখন যদি ফিলিস্তিনে নির্বাচন হয়, তবে হামাস নেতা ইসমাইল হানিয়া ৫৯ শতাংশ ভোট পাবেন। বিপরীতে আব্বাস পাবেন ২৭ শতাংশ।

অপরদিকে যদি প্রতিযোগিতা জেলে থাকা ফাতাহ নেতা মারওয়ান বারগুতি এবং হানিয়ার মধ্যে হয় তবে বারগুতি পাবেন ৫১ শতাংশ মানুষের সমর্থন আর হানিয়া পাবেন ২৬ শতাংশের সমর্থন।

জরিপে দেখা গেছে, নির্বাচন অনুষ্ঠিতহলে এতেহামাস জিতবে।

জরিপে ৪০ শতাংশ জানিয়েছেন তারা হামাসকে ভোট দেবেন। আর ৩০ শতাংশ জানিয়েছেন, তারা বেছে নেবেন ফাতাহকে।

দুই-তৃতীয়াংশ মনে করেন আব্বাস পরাজয়ের ভয়েই সাধারণ নির্বাচন এবং প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আয়োজনে দেরি করছেন। অপরদিকে ২৫ শতাংশ মনে করেন, পূর্ব জেরুজালেমে ইসরাইল ভোট করতে দেবে না বলে হুমকি দেওয়ায় আব্বাস ভোট স্থগিত করেছেন।

জরিপে অংশ নেওয়া ৬৫ শতাংশ ফিলিস্তিনি আব্বাসের এ সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট।

জরিপে ৫৮ শতাংশ দুই-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের বিরোধিতা করেন।

জরিপে অংশ নেওয়া ৪০ শতাংশ ফিলিস্তিনি ইসরাইলের বিরুদ্ধে ‘সশস্ত্র সংগ্রাম’ অব্যাহত রাখার পক্ষে। ২৭ শতাংশ মনে করেন, ইসরাইলের সঙ্গে শান্তিচুক্তিতে পৌঁছানো প্রয়োজন।

জরিপে অংশ নেওয়া ৬৯ শতাংশ ফিলিস্তিনি বেনেটের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার নিয়ে মোটেও আশাবাদী নন।

সাম্প্রতিক গাজা যুদ্ধে ইসরাইলি হামলায় বহু ফিলিস্তিনির মৃত্যু হয়। ইসরাইলের ক্ষতিও কম হয়নি। বিশ্বজুড়ে ইসরাইলবিরোধী বিক্ষোভ-নিন্দার ঝড়কে সবচেয়ে বড় ক্ষতি হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

হামাসের জনপ্রিয়তা বাড়িয়েছে গাজায় সাম্প্রতিক যুদ্ধ

 অনলাইন ডেস্ক 
১৬ জুন ২০২১, ০৩:২০ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

গাজায় সাম্প্রতিক যুদ্ধের পর থেকে নাটকীয়ভাবে হামাসের জনপ্রিয়তা বেড়ে গেছে। অন্যদিকে কমেছে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের নেতৃত্বাধীন ফাতাহর জনপ্রিয়তা।

মঙ্গলবার প্রকাশিত জনমত জরিপের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানায় জেরুজালেম পোস্ট।

খবরে বলা হয়, অধিকাংশ ফিলিস্তিনি বিশ্বাস করতে শুরু করেছেন যে, হামাস ফিলিস্তিনিদের প্রতিনিধিত্ব করা এবং নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে বেশি যোগ্য। অন্যদিকে সামান্য অংশ বিশ্বাস করেন যে, ফিলিস্তিনিদের নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্য হচ্ছে ফাতাহ।

রামাল্লাভিত্তিক প্যালেস্টিনিয়ান সেন্টার ফর পলিসি অ্যান্ড সার্ভে রিসার্চ এ জরিপ চালায়। 

এতে অংশ নেওয়া ৭৭ শতাংশ ফিলিস্তিনি মনে করেন, সর্বশেষ যুদ্ধে হামাস ইসরাইলের সঙ্গে জিতেছে। আর ৬৫ শতাংশ ফিলিস্তিনি মনে করেন, এ যুদ্ধে হামাস তাদের লক্ষ্য পূরণ করতে পেরেছে। লক্ষ্যগুলোর অন্যতম— শেখ জারাহ থেকে ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুতি ঠেকিয়ে দেওয়া এবং ইসরাইলের অভ্যন্তরে সফলভাবে রকেট হামলা। একই সঙ্গে আল-আকসা মসজিদে ফিলিস্তিনিদের প্রবেশে ইসরাইলি ‘নিষেধাজ্ঞা’-এর অবসান ঘটিয়েছে হামাস।

৯ জুন থেকে ১২ জুনের মধ্যে এ জরিপ চালানো হয়। এতে অংশ নেন প্রায় ১২০০ ফিলিস্তিনি।

জরিপে ৭২ শতাংশ মনে করেন, হামাস ইসরাইলে রকেট হামলা চালিয়েছে জেরুজালেম এবং আল-আকসা মসজিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে। ৯ শতাংশ মনে করেন, ফিলিস্তিনের সাধারণ নির্বাচন বাতিল হওয়ার কারণে এ সংঘাত হয়।

জরিপের তথ্য অনুযায়ী, এখন যদি ফিলিস্তিনে নির্বাচন হয়, তবে হামাস নেতা ইসমাইল হানিয়া ৫৯ শতাংশ ভোট পাবেন। বিপরীতে আব্বাস পাবেন ২৭ শতাংশ।

অপরদিকে যদি প্রতিযোগিতা জেলে থাকা ফাতাহ নেতা মারওয়ান বারগুতি এবং হানিয়ার মধ্যে হয় তবে বারগুতি পাবেন ৫১ শতাংশ মানুষের সমর্থন আর হানিয়া পাবেন ২৬ শতাংশের সমর্থন।

জরিপে দেখা গেছে, নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে এতে হামাস জিতবে।

জরিপে ৪০ শতাংশ জানিয়েছেন তারা হামাসকে ভোট দেবেন। আর ৩০ শতাংশ জানিয়েছেন, তারা বেছে নেবেন ফাতাহকে।

দুই-তৃতীয়াংশ মনে করেন আব্বাস পরাজয়ের ভয়েই সাধারণ নির্বাচন এবং প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আয়োজনে দেরি করছেন। অপরদিকে ২৫ শতাংশ মনে করেন, পূর্ব জেরুজালেমে ইসরাইল ভোট করতে দেবে না বলে হুমকি দেওয়ায় আব্বাস ভোট স্থগিত করেছেন।

জরিপে অংশ নেওয়া ৬৫ শতাংশ ফিলিস্তিনি আব্বাসের এ সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট।

জরিপে ৫৮ শতাংশ দুই-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের বিরোধিতা করেন।

জরিপে অংশ নেওয়া ৪০ শতাংশ ফিলিস্তিনি ইসরাইলের বিরুদ্ধে ‘সশস্ত্র সংগ্রাম’ অব্যাহত রাখার পক্ষে। ২৭ শতাংশ মনে করেন, ইসরাইলের সঙ্গে শান্তিচুক্তিতে পৌঁছানো প্রয়োজন।

জরিপে অংশ নেওয়া ৬৯ শতাংশ ফিলিস্তিনি বেনেটের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার নিয়ে মোটেও আশাবাদী নন।

সাম্প্রতিক গাজা যুদ্ধে ইসরাইলি হামলায় বহু ফিলিস্তিনির মৃত্যু হয়। ইসরাইলের ক্ষতিও কম হয়নি। বিশ্বজুড়ে ইসরাইলবিরোধী বিক্ষোভ-নিন্দার ঝড়কে সবচেয়ে বড় ক্ষতি হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : ফিলিস্তিনিদের ঘরে ফেরার বিক্ষোভ